ভেতরে, অনতিদূর

March 25, 2018

আর কখনোই মন খারাপ করবো না ভেবে আমি প্রতিটি সন্ধ্যে অনেক দূর পর্যন্ত হাঁটি; যে ধূলো এবং বাতাস আমি পার করে যাই, এবং অজস্র মানুষের আশ্চর্য ইচ্ছুক মুখমন্ডল, এর সাথে বিমর্ষ পুরাতন বালকের মতো মেঘসুদ্ধু আকাশ - এইসব কিছুই আমি মনে রাখব না বলে আমার মন খারাপ হয় না আর। খুব কাতর স্বরে রুগ্ন বৃদ্ধ পথের একপাশে ঘুমিয়ে আছে দেখে আমি সত্যিই মন খারাপ করি না, বরঞ্চ একধরণের স্তিমিত হাসি কৌতুকের মতো ঝুলে থাকে আমার মুখখানিতে, ... আমি বুঝতে পারি ঠিক সেই মুহূর্তে আমি কিছু একটা মেলানোর চেষ্টা করি, সেটা যে কি... যে তরুণী বা রমনীদের অদ্ভুত সুন্দর ভেবে এসেছি বহুকাল, আমার বন্ধুদের সেলফোনে সেই মানবীর প্রেমার্ত রূপ দেখে বেশ খানিকটা বিস্মিত হই আজ, বুঝতে পারি সেই বিস্ময়ে একধরণের মোহভঙ্গ মিশে আছে, কিন্তু মন খারাপ করি না, সত্যিই...

গভীর রাতে কতকাল ধরে একইরকম নাফ নদীর রূপোলী স্রোত, আমার মতো আরো অনেকের নির্বুদ্ধিতায় অবাক একটি শিশুর মৃত্যময় মুখ, দিনের হল্‌দে উজ্জ্বল আলোয় খুব সংকুচিত হয়ে থাকা অসংখ্য নারীর লজ্জিত মুখের সাথে পৃথিবীর সমস্ত মুদ্রিত অক্ষর এখন কেমন নির্মোহ চেয়ে আছে, এসবের সাথেই আরও অনেক কিছু ভুলে যেতে যেতে সন্ধ্যেগুলো পার করে ফিরে আসি কোথাও... ঠিক সেই সময় ওপরে, আকাশের অন্ধকারের দিকে তাকালে আমি যেন দেখতে পাই এর পরের আকাশটুকুও, এরও পরে ... অথচ, আসলে, ওভাবে কিছুই দেখা যায় না, নিজে থেকেই তৈরি করা ভ্রমের মতো আবারও আমি কিছু একটা মেলানোর চেষ্টা করি, কেন, কি - জানা হয়না, হয়তো ইচ্ছে করেও না, তবুও, আমার একটু মন খারাপ হয়ে যায়...


You Might Also Like

0 comments

Popular Posts