আমি সেই পবিত্র পরিখা

March 25, 2018

আমার আত্মা  ঝরে গেলো কতবার
আমি লিখে রাখিনি, কেউ লিখে রাখেনি; গাছও...
প্রতিদিনই তো ফেরেন
একদিন না হয় ভুলে গেলেন বাড়ি ফেরার পথ
প্রাতিষ্ঠানিক দরোজার বাইরে রোদের উৎসব, শৈশবের বাঁশি
কতোদিন বাড়ি ফিরি না আমি!
০১
তোমাকে ভালোবাসি বললেই তুমি কসাই হয়ে ওঠো। সবজীবাজারের নিয়ম ভঙ্গ করে তুমি ছানবিন করো পবিত্র পরিখা। কোনো একদিন অনন্ত অন্ধকারের নিচে দাঁড়িয়ে একমুঠো খই ছড়িয়েছিলো আমার দাদীমা। সেই থেকে অন্ধ নক্ষত্রগুলো জ্বলে যাচ্ছে আপন নিয়মে। দ্যাখো, আমাদের ডাইনিং টেবিলে হেসে উঠছে পার্সলেলীফ; কচি কচি প্রজাপতি।
পরমাঙ্কের ভাঁজ হতে বেরিয়ে এসো প্রিয় শূকর আমার। মহাকালের পাকে চলো আরো একবার আকণ্ঠ ডুবে যাই।
তুমি মোটেও আমার অন্যসব প্রেমিকাদের মতো নও। তোমার শরীর থেকে সোঁদা মাটির গন্ধ ভেসে আসে কেন বলোতো! গর্ভবতী নারীদের মতো তখন আমার মাটি খাওয়ার ইচ্ছে জাগে।
০২
এমন মাগুরগুঁড়িয়ানা দিনে তোমার শ্বাসকষ্ট হয়
তোমার শ্বাসকষ্ট হয় বলে আমাদের তাবৎ যুদ্ধবিমানের মন খারাপ হয়। তারা ঠিকমতো চক্কর দিতে পারে না। নগর নারায়ণগঞ্জের দেহরক্ষীরা ছটফট করে। তারা তোমায় একমুহূর্ত চোখের আড়াল করতে চায় না। তুমি এসব কিছুই দেখতে পাও না। তুমি মগ্ন তোমার নিউজরুমে। একটা ব্রেকিং তোমার দরকার। অথচ আমি ব্রেকিং নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি তো আছিই।  সরকারী সদনের নৈশ প্রহরী তিন তিনটি শিশুকে ধর্ষণ করেছে। মামলা হয়নি বলে তোমার কাছে তা গুরুত্ব পায় না। সিঙ্গেল কলাম ছেপে দাও। শিশুগুলোর মা বাবা নেই বলে কি তাদের ধর্ষক বেঁচে যাবে, তীর্থঙ্কর!
কতো আজেবাজে বিষয়কে ইস্যু করো তোমরা। তোমাদের ইশারায় সব টালমাটাল হয়ে যায়
ওই অনাথ শিশুগুলোর কী দোষ তীর্থঙ্কর! কেন কেঁপে ওঠে না তোমার আকাশ!
তুমি ডাকো, বাইরে এসো।
জানি, মফস্বল সংবাদদাতা বলে আমি কোনোদিনই তোমার নিউজরুমে ঢুকতে পারবো না।
০৩
জ্যোৎস্নার ভেতর কর্তিত প্রজ্ঞার পতন। কোথাও কোনো দর্শন-চিহ্ন নেই। তার ভ্রমণবিলাসী কণ্ঠস্বর আমায় বিহ্বল করে। ঘুমাতে যাওয়ার আগেও তার অনির্বাণ কথামালা ডেকেছিল। ডেকেছিল বৃক্ষের পাণ্ডুলিপি হাওয়ায় হাওয়ায়। অথচ হৃৎকৌটায় রোগমুক্তির শল্যবিদ্যা গোপন রাখে সে। কোথাও কিছু অবশিষ্ট নেই। তবু, একবার বিন্যস্ত হতে চাই।বিপরীত অন্তর ধুয়ে ফিরে এসো। তুমিই তো সেই প্রজ্ঞাবান পাখি। উঁচু হতে নেমে এসো মর্ত্যে পুনর্বার। অতঃপর জেনে রাখো, কুয়াশা পাঠচক্রে সব বৃক্ষের ডাকে সাড়া জাগে না।

০৪
কতোকাল প্রতীক্ষায় আছি। প্রাণটুকু ধরে আছি হাতের মুঠোয়। মনোবিকলন কেন্দ্রের পথটুকু চিনে নাও। গলার রশিটা ক্রমশ গেঁথে যাচ্ছে তীর্থঙ্কর! তুমি ছুঁয়ে দিলেই তো নিশ্চিন্তে মরে যাই…

০৫
কাশিমপুর কারাগারে দমবন্ধ হয়ে আসছে। শুনলাম আগামীমাসে চালু হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড়ো কারাগার। ভাবছি কেরানিগঞ্জেই শিফট হয়ে যাবো। সেখানে উন্নতজাতের গোলাপ ফোটাবো। অথচ তুমি বলো, কোথাও যেতে হবে না, আমাদের প্রতিটি বাড়ি একেকটি কারাগার হয়ে উঠছে।

০৬
পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দময় স্মৃতি :
বাবা টিউবওয়েলের জল ঘটিতে ভরে গায়ে ঢালছেন। আর সাত বছরের আমি  জড়িয়ে আছি। আমার গায়ে শান্তির ধারা গড়িয়ে পড়ছে।
তুমি কি জানো, আমার বাবার ছিল উজ্জ্বল নীরবতা!
তিনি জানতেন, কী করে ভালোবেসে নীরব থাকতে হয়।
০৭

একেকটা পথ পরিক্রমণ শেষে, পথের শেষে এসে দাঁড়াই। অতঃপর পাঠ করি তোমার বাণী। হে আমার প্রিয়তম, আমি তোমার একান্ত দর্শন প্রত্যাশী। হায় , ক্যাসিনো ঘড়ি ও আমাদের রেড লিফ সময় …

০৮.

লবণ-অভিযানে যাবেন তীর্থঙ্কর!
ফেটে পড়ছে সৌর-মৃত্তিকা…
০৯

আমার কক্ষ থেকে বের হলাম, ড্রয়িং রুমের প্যাসেজে আমার কন্যার বন্ধু বান্ধবীরা। সবাই পরিচ্ছন্ন পোশাকে। একজন বয়স্ক ব্যক্তি ঘর থেকে বের হলো। ঘাড়ের পেছনে ক্ষত। রক্ত জমাট বেঁধে আছে। দরোাজা খোলা। দরোজার পাশে একটি খাটিয়া। সুন্দর একটি চাদর দিয়ে ঢাকা। আমাকে দেখে সবাই বলে উঠল, আপনি হাঁটাহাঁটি করছেন কেন? বললাম, খাটিয়াটি সুন্দর। কেউ একজন বলে : ওটা আপনার জন্যই। একটু পর ওতে করে আপনাকে নিয়ে যাবো। এ দৃশ্যে সমস্ত পৃথিবী দাড়িয়ে পড়ে। চন্দ্রগ্রহণ হয়।

মনে পড়ে, তুমিই তো বলেছিলে যতোদিন তোমার কর্পোরেট ভ্যালু আছে, ততদিন তোমার মৃত্যু মহাপ্রয়াণ।

অতঃপর

১. শাঁওলি সুমন একশটি রক্তজবা জন্ম দিয়েছিল
২. সে জেনেছিল পিতার মৃত্যুদিনে সঙ্গম নিষিদ্ধ
৩. অথচ আমার জননী চাইতেন আমি যেন সব ভুলে যাই
৪. সে পিতলের গেলাসে জল পান করেছিল, তখন চ্ন্দ্রগ্রহণ হয়
৫. পাওয়ার শিফটিং থ্রু সেক্স
৬. মনসা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মতো দেবী হতে চেয়েছিলেন
৭. নিমের আখরে কারো নাম
কিংবা
প্যারামাকনে ভুল গদ্য লেখা হয়ে যায়!
দৃশ্যান্তরে, দাঁড়িয়ে থাকে নিঃসঙ্গ ছাতিম…

You Might Also Like

0 comments

Popular Posts