Birdman or (The Unexpected Virtue of Ignorance)



মানুষ নাটক/ মুভি কেন দেখে?

– মজা পেতে।

মুভি মানেই কি ধুমধারাক্কা কাহিনি, থ্রিলিং আর টুইস্ট?

– না। A movie is beyond that.  মুভি মানেই কোনো থ্রিলার থাকা লাগবে, একাধিক টোন থাকা লাগবে, টুইস্ট থাকা লাগবে, এমন না। অনেক কিছু মিলিয়ে একটা মুভি হয়। কাহিনি, পরিচালনা, প্রেজেন্টেসন, স্ক্রিনপ্লে, সিনেমাটোগ্রাফি, মিউজিক, প্রোডাকশন; অনেক কিছু।



কথা দুইটা বলার কারণ আছে। Birdman মুভিটা বের হওয়ার পর দ্বিতীয় প্রশ্নটাই সবচেয়ে বেশি শোনা গেছে। “কেনো এতো ভালো মুভি বলে সবাই?”

তাদের প্রতি সমবেদনা।



অনেকে মুভি বলতেই বুঝেন ঐরকম।  অনেক প্যাঁচানো কাহিনি থাকা লাগবে, নাহলে একশন থাকা লাগবে। কিন্তু সত্যিই ই কি তাই?

মুভির ক্ষেত্রে আমরা অনেকেই একটা কথা বলে থাকি, “মাস্টারপিস”। কখন বলি? যখন মুভির প্রতিটা ক্ষেত্রে সবকিছু পারফেক্ট থাকে। এই মুভিতে কি ছিল না!

কাহিনি অনেক কিছু নিয়েই হতে পারে। এটাও সেরকমই একটা নরমাল কাহিনি, কিন্তু স্ক্রিপ্টরাইটিং ও পরিচালনায় যা জাদুর কাঠির ছোঁয়া পেয়েছে। এবং বলতেই হয়, দুটো কাজই একজন মানুষেরই, আলেক্সান্দার গঞ্জালেস ইনারিতু।



একজন মানুষের জীবনে অনেক কিছু ঘটে। আমাদের দেখা অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও তার বাইরে নন। তাদের জীবনেও ওঠা-নামা আছে। এবং তার বেশিরভাগই নির্ভর করে দর্শকদের হাতে! হ্যাঁ, একজন অভিনেতার অভিনয় একটু খারাপ হলেই আমরা ধুঁয়ে দিই। অথচ তার অভিনয় দেখা আগে আনন্দ পাওার কথা আমরা এক নিমিষে ভুলে যাই। এমনই এক চরিত্র রিগান থমসনকে নিয়েই আমাদের Birdman এর গল্প।



রিগান (মাইকেল কিটন) একজন সাবেক হলিউড অভিনেতা। যে কিনা বিখ্যাত  ছিল তা “Birdman” নামক সুপারহিরো মুভি নিয়ে। কিন্তু এতোদিন পরও সে তার “Birdman” অবসেশন থেকে বের হতে পারে নি। সে মনে করে সে ওড়ার ক্ষমতার অধিকারি বাস্তব জীবনেও। সে এখন চেষ্টা করে যচ্ছে ব্রডওয়ে বা মঞ্চনাটকে রাইটার, পরিচালক ও অভিনেতা হিসেবে নাম করার। কিন্তু তার “Birdman” কি এক্ষেত্রে তাকে সাহায্য করবে? নাকি করবে না?



একজন মানুষের জীবনে কত উঁচু-নিচু সময় যায়, নিচের জাত চেনাতে না পারলে কত কষ্টে থাকা লাগে, এবং স্পেশালি, একজন অভিনেতা যখন দেখে, তার আগের সব কৃতিত্ব মানুষ ভুলে গেছে, মানুষ নতুন প্রমাণ চায়, তখন কতটা মানসিক অশান্তিতে থাকতে হয়।



কাহিনি আসলে অভিনেতাদের নিয়ে। আমরা ভাবি তারা অভিনয় করেই যায়, আমরা যেভাবে চাইব, সে সেভাবে দেবে। কিন্তু সবসময় কি সম্ভব হয়? হয় না।



মাইকেল কিটনকে সাধারণত আমরা বড় কোনো চরিত্রে দেখতে পাইনি অনেক বছর যাবত। ক্যারিয়ারের গোধূলিতে এই মুভিতে অভিনয় করেই তাই হয়তো বুঝিয়ে দিলেন, “I wasn’t finished, like Riggan!” রিগান চরিত্রটার মতোই  জনপ্রিয় সুপারহিরো  চরিত্র Batman এর নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন একসময় , প্রথম দু’টি পর্বে। ঐ সিরিজের দ্বিতীয় পর্ব রিলিজ হয় ১৯৯২ সালে; Birdman মুভিতে, রিগানের শেষ বার্ডম্যান রিলিজ হয় ১৯৯২ সালে। কিটন আর রিগান দু’জনেই একটা মেসেজই দেন “I wasn’t finished.” খুব মিল, তাই না?



কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ তিনটি চরিত্র মাইক শিনার (এডওয়ার্ড নর্টন), রিগানের  সামান্থা স্যাম থমসন (এমা স্টোন) এবং লেসলি ট্রুম্যান (নাওমি ওয়াটস)।

একজন অভিনেতা, যে তার অভিনয় ক্যারিয়ার ছাড়া কিছু বোঝে না, একজন মেয়ে যে তার বাবার জন্য চিন্তিত, আর একজন অভিনেত্রী যে কিনা সকল অস্বস্তিকর অবস্থার মুখোমুখি হয়ে পড়ে।

images


নর্টনের ক্যারিয়ার শুরু থিয়েটার থেকেই। মুভির মতোই তার থিয়েটারের লাইফে সে ছিল এরোগেন্ট, স্বার্থপর। মুভিতে অল্প সময়ই কি যে দুর্দান্ত অভিনয় করেছে, বলে বুঝানো সম্ভব না। মুভির ডার্ক কমেডির পার্টটা আসলে নর্টনের কারণেই হয়েছে। এমা স্টোন তার রিকভারিং ড্রাগ এডিক্ট চরিত্রে দারুণ অভিনয় করেছেন। নাওমি ওয়াটস খুবই অল্প সময় ছিল স্ক্রিনে।  নাওমি ওয়াটস আর নর্টন আগে একসাথে অভিনয় করেছিলেন “The Painted Vail” নামক মুভিতে, যেখানে তারা এক সমস্যা জর্জরিত দম্পতির রোল প্লে করে। এখানেও দেখানো হয়, তাদের আগে সম্পর্ক ছিল, এবং নাটকটাতেও তদের কিছু ইতিহাস আছে।



এত মিল কি কাকতালীয়? কিটন-রিগান? মাইক-নর্টন? নর্টন-ওয়াটস আর মুভির মাইক-লেসলি? সূক্ষ্মভাবেই হয়তো এতো ইতিহাস টেনেছেন মাস্টার ইনারিতু।



একজন পরিচালক যে কি জিনিস, সেটা আমরা খালি মাথায় টের পাই না। তাকে যে কত ভাবে ভাবতে হয়, সেটা আমাদের চিন্তার বাইরে ঐ তিন ইঞ্চি ভিউফাইন্ডার দিয়ে ১০০ ইঞ্চি ছবি ক্যাপচার করার ক্ষমতা চাট্টিখানি কথা না। একই কথা যায় স্ক্রিপ্টরাইটারে ক্ষেত্রেও, ক্যজালিটি সম্পর্কে তাবত জ্ঞান ও চিন্তা মাথায় রেখে স্ক্রিপ্ত লেখা, এবং কাহিনির প্রেজেন্টেশন বানান এত সোজা না। তারা পারেন বলেই তারা বানাতে পারেন। আমরা তাই শুধু দেখতে পারি। আমাদের সৌভাগ্য এই মুভিতে স্ক্রিপ্টরাইটার ও পরিচালক, একজনই।



এবং যেটা মুভির আসল আকর্ষণ; ক্যামেরার কাজ। আমি আগে কখনোই এমন কাজ দেখি নাই। পুরোটা একটা লং শটের সিঙ্গেল শট মনে হচ্ছিল। কিন্তু অবশ্যই এটা এক শট না। কারণ, কাহিনি আবর্তিত হয় কয়েকদিন যাবত।  সিনেমটোগ্রাফার ইমানুয়েল লুবেজকি পরপর দুইবার তাই অস্কার পেলেন সিনেমাটোগ্রাফির জন্য (গ্রাভিটি  ও বার্ডম্যান)। এই এক লং শট বানানোর জন্যই মুভিটা পেয়েছে আলাদা মাত্রা।  মনে হচ্ছিল আমি একজন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, তার পারস্পেক্টিভে দেখছি। এই অসাধারন কাজটার  জন্যই মুভিটা মাস্টারপিসের পূর্ণতা পেয়েছে।



মুভির ফিনিশিং নিয়ে অনেকের অনেক মতামত আছে। আমারও আছে।  কিন্তু এখানে বলব না। স্পয়লার  করে কি লাভ!

মুভির প্রোডাকশন সেট আর মিউজিক ছিল কাহিনির সাথে অসাধারণ মিল করা।  শুধু মাত্র ড্রাম এ বাদ্য দিয়েই এতো সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দেওয়া

সম্ভব, কে জানত! আর থিয়েটারের সাথে সেই বাদ্য যেন মিলে এক শিল্পীর তুলি আঁচড়।



মুভিটা ড্রামা বলেই অনেকের ভালো লাগে নি, অনেকের ভালো লাগেনি সুপারহিরো মুভি ভেবে দেখতে বসেছিলেন বলে।



But trust me, you liked it or not, you have watched a master class film.



Birdman or (The Unexpected Virtue of Ignorance) (2014)

Directed & Screenplay by: Alejandro González Iñárritu

Cast: Michael Keaton, Edward Norton, Emma Stone, Naomi Watts, Zach Galifianakis
Genre: “Dramatic” Drama, Comedy

87 Academy Award winning: Best Picture, Best Director, Best Scrennplay (Original), Best Cinematography



Powered by Blogger.