স্বপন বিষয়ক দু-একটি কথা, যা আমি ঠিকমতো জানি না

January 14, 2018








স্বপ্নবিজ্ঞান, স্বপ্নরহস্য কিনবা দে জা ভ্যুর মত কিছু দিয়েই আমি স্বপ্ন কে চিনি নি,জানি নি। অনেককিছু প্রিয়'র মতই আমার একাধিক প্রিয় স্বপ্ন ছিল।আর মা একদিন বলেছিলো, সকালের চোখের পিচুটি গুলো হলো,জমে থাকা স্বপ্ন। প্রিয় স্বপ্নের দিন কিছুতেই চোখ ধুতে ইচ্ছা করতো না। ধুলেই তো,কাল আমার দিকে বাড়িয়ে দেওয়া ব্যারাটোর থ্রু টা ধুয়ে যাবে।ঘুম থেকে উঠে দেখতাম,হাঁটুতে কাদা লেগে আছে নাকি। কিনবা ক্লাস টেনের দীপা আমাকে কি ভীষণ চুমু খাচ্ছিলো।কোনদিন ব্রাশ করতে গিয়ে অন্যরকম লালার গন্ধ পাইনি। পিচুটি জমে থাকতে থাকতে শক্ত হয়ে গিয়ে, চোখের কোণা কড়কড় করতো।বুঝতাম,স্বপ্ন বয়ে বেড়াতে নেই। কত খারাপ স্বপ্ন আমরা কত অচেনা জলকে বলেছি। সকালের সমস্ত ভালো স্বপ্ন সত্যি আর খারাপ স্বপ্নরা মিথ্যে হোক,চেয়েছি।তারপর সারাটা দিন ভয়ে বা আনন্দে থেকেছি,এই সত্যি হলো সত্যি হলো বলে। সেই দিনগুলো অমুক অমুক স্বপ্নের ছিল।আমরা খালি দখল হচ্ছে কিনা সেই নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম পরের ঘুম অব্ধি।

যেবার চোখের মধ্যে ওড়নার খুঁট ঢুকিয়ে আমার তখনকার প্রেমিকা কাঁকড় বার করে দিয়েছিলো,আমি সেদিন রাতে বেশ একটা কড়কড়ে স্বপ্ন দেখেছিলাম। এখনও বিশ্বাস করি,চোখের পাতার ঠিক নিচেই স্বপ্ন থাকে। আমরা চোখ বোজালে সেসব চালু হয়ে যায়। যার স্ক্রিপ্ট থেকে শুরু করে আলো,সবটাই অন্য আমি'র হাতে। একটা আমি'র কাছে অন্য আরেকটা আমি দর্শক।কাল সকালে উঠে যার রিভিউ লিখতে বসবো।




এরপর পর পর তিনটে স্বপ্নের কথা লিখবো,যার বৈজ্ঞানিক কোন ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই-

ক। অনেক টা জলের মধ্যে সে ভেসে থাকতো। দীর্ঘ দিন।একই ভাবে। একদিন সে আবিষ্কার করেছিলো, সে গর্ভে ভাসছে

খ। আয়ুরেখা গড়াতে গড়াতে কনুই অব্ধি এসেছিলো ভোরের দিকে

গ। ছোটকাকিমার আচার খাওয়ার টকাস টকাস শব্দে তার প্রথম স্বপ্ন দোষ হয়

ঘ। তার পোষা ভিন্ন ভিন্ন সময়ের সমস্ত মৃত কুকুরগুলো একে ওপরের সাথে খেলা করতো

অসংখ্য বোকা বোকা স্বপ্ন জমাতাম একসময়। কালু যেমন টানা তিন মাস দেখেছিলো,ওর কালো ব্যাগটা থেকে কিছুতেই টাকা ফুরিয়ে যাচ্ছে না। সে কত কি কিনেছিলো।কত কি করেছিলো। বেশ মজার স্বপ্ন।কিন্তু খুব খারাপ দিকে চলে যাচ্ছিলো স্বপ্নটা। খুচরো সমস্যা। ব্যাগ থেকে যা বেড়চ্ছিলো সব ৫০০ টাকা। এক টাকা দু টাকার জিনিস কিনলে,কেউ ভাঙিয়ে দিচ্ছিলো না। ফলে স্বপ্নেই কালু কে অনেকটা অনেকটা করে কিনতে হচ্ছিলো। সে কি বিচ্ছিরি অবস্থা।একবার রূপা গাঙ্গুলীর সাথেও নাকি করেছিলো স্বপ্নে। করার পর ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়েছিলো বলে কালুর মারাত্মক মনখারাপ হয়েছিলো।

আমাদের সেই বয়সের স্বপ্নদোষ,ভালো স্বপ্ন, খারাপ স্বপ্ন।।আমাদের আর কিছুই মনে নেই। আমরা সেসবের সাথে সখ্যতা চুকিয়েছি। অথচ আমাদের পিঠে কে ছুরি মারলো,তার মুখ টা না দেখেই আমাদের সববার ঘুম ভেঙে গেছে। কিনবা আমরা অনেক উঁচু থেকে পড়ে যাচ্ছি।ঘুমের মধ্যেই পা কেঁপে যাচ্ছে। ব্যাস। তারপর? উঠে বাথরুম গিয়ে হিসু করে মুখে চোখে জল দিয়ে,সিগারেট ধরিয়ে ব্যালকনি তে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছি। আরেকটু দেখলে কি হতো? আমাদের ডানা হতো? বিলকুল উড়তে পারতাম? কিনবা আছড়ে পড়তাম কোথাও। কত স্বপ্নের শেষ দেখিনি।কিনবা হয়তো বা একটা গ্রান্ড পিয়ানোর ওপর আমাদের লাশ আছাড় খেতো। তখন,ঠিক সেই মুহূর্তে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিষাদটুকু বাজছিলো। যার গায়ে আমাদের ভুল নোটেশন লেগে যেত।

আর একটা স্বপ্নের কথা শুনেছিলাম। একটা বাড়ি। গঙ্গার খুব কাছে।আহিরীটোলার আশেপাশেই কোথাও হবে বোধহয়। ভদ্র বাড়িটার নিখুঁত বর্ণনা দিতো। অনেকে খুঁজেছিলো।কেউ পায় নি। অথচ ভদ্র খুব নিপুণ ভাবেই বলতো,বাড়িটা কেমন দেখতে।কে কে থাকে। ভদ্রের বাড়িটার কাছে যাওয়ার ছিলোই,এটা আমরা এক সময় বুঝতেও শুরু করেছিলাম।একদিন ভদ্র চলেও গেছিলো। রাইগার মর্টিস লেগে যাওয়া ভদ্র কে কবিতার শেষ লাইন মনে হচ্ছিলো সেদিন।



You Might Also Like

0 comments

Popular Posts