দুষ্প্রাপ্য মৌনতা এবং

গহন কিছু ইচ্ছে করে -
এক সমুদ্র জংলা ঘাসের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে এক সমুদ্র অন্ধকারে
ঝলসে নেবো যে সম্পর্ক, তার কি কোন নাম দেওয়া যায় অর্থবহ
খাতায় লিখে?

এক শালিখে আটকে গেছি। অন্যটাকেও দেখতে পাবো খানিক পরে
তেমনটা আর হচ্ছে কোথায়? 

শিকড় এত আলগা হল - ভালই বোধ হয়...

ভরসা রাখা অস্থাবরে... এই বাজারে..




আমার ছোট্ট কলার ভেলাটি জলে কোন আলোড়ন না তুলেই চলছিল দূর কোন দেশে। আর মানুষটা ভেলার পাশ ঘেষে ভাসছিল। সেও কি আমার মতো নিরুদ্দেশ যাত্রায় বেরিয়েছে। উছলে পড়া আলোর সমুদ্দুরে খুব আরাম করে হাত-পা ছড়িয়ে আছে। একবার মনে হলো মৎস্য কন্যা। আবার মনে হচ্ছিল পাখি। এই বুঝি হয়ে ডানা মেলে আকাশে উড়াল দেবে। গায়ে তার লাল জামা। টুকটুকে লাল।

আমার খুব চেনা মানুষ। বুবু। আমি ডাকি, বুবু, বুবুরে। বুবু আমার উত্তরহীন। সে কি পণ করেছে জলের মৌনতা ভাঙ্গবে না। ভয় নয়, শংকা নয় এমনকি কোন প্রশ্ন নয়, শুধু ব্যাকুল হয়ে ডাকতে ইচ্ছে করে। কিন্তু গলা বেয়ে শব্দ গড়িয়ে নামে না। কি যেন একটা বুকের মাঝে জমাট বেধে গেছে। ইচ্ছেরা ভাষা খুজে পায় না। কে একজন ফিসফিসিয়ে বার বার বলছিল, খোকন, ও খোকন মৌনতা ভাঙ্গিস না। ভর দুপুরের মৌনতা ভাঙ্গতে নেই। মাছরাঙাটা উড়াল দিয়ে আবার এসে ভেলায় বসে। বুড়ো আম গাছে কয়েকটা কাক কা-কা-কা শোরগোল তোলে। আজ কাকদের কি হয়েছে কে জানে। প্রতিদিনকার মত লজ্জা না পেয়ে ডেকেই যাচ্ছে। কাক, মাছরাঙা, জল সবাই কি জানত আজকের দুপুরটা অন্যদিনের চেয়ে আলাদা। হয়ত জানত, শুধু আমাকে জানতে দেয়নি। নিজেদের মাঝে গোপন করে রেখেছিল। এখন আর কিছুই গোপন নাই। আমি আর বুবু ভাসছি পাশাপাশি।




Powered by Blogger.