আজ তোমার মেঘে মেঘে রংধনু

মানবীয় জীবন-যাপন;

এরকম কিছুই না,
শুধুই গালে হাত দিয়ে ভাবছিলাম-
উড়ছে যখন রেণু; উড়ছে তার শপিং ব্যাগ
উড়তে থাকা সুতোয় বাঁধা চিঠিতে লিখি-

-আসন্ন শীতে ওর পরিচিত গন্ধটা আমার চাই-





সব ফিরে ফিরে আসে। শুধু ভিন্ন মানুষে, ভিন্ন সময়ে , সেই পুরানো স্বাদ নিয়ে বার বার ফিরে আসে।
আপনি থেকে তুমি-তুই'য়ে, ভালোলাগা,নতুন সম্পর্ক, তুমি-আমি মিলে আমাদের 'আমরা' হয়ে যাওয়া, বন্ধুত্ব।
আমাদের গুটুর গুটুর সন্ধ্যা পেড়িয়ে রাত-ভোর। ভুল বানানে বকবকানি, পরিষ্কার করে গলাটারে গ্রাম্যতা কাটিয়ে একটু সুন্দর করে আরও একটা ভয়েজ মেসেজ পাঠানোর চেষ্টা, না দেখা কটা ছবি, পছন্দের গান ,খাবারের গল্পে হতাশা আর অতীতের কান্নাতে সব ফিরে আসে, নতুন কারো কোলে চেপে আবার ফিরে আসে।
শুধু একটা কৈ জানি "কিন্তু" রয়ে যায়। নতুন করে হারিয়ে ফেলার ভয়ে, পুরানো স্মৃতি, চেনা মুখ, ফ্ল্যাশব্যাক কিছুটা বিষণ্ণ করে দেওয়ার সাথে সাথে কি কাঁদিয়েও যায় না কচি শীতের বরফ গলা বৃষ্টি মতো ? আমি কি কেঁপে উঠি না অতশত ভেবে? কত ঠুনকো হচ্ছে অনুভূতি গুলো,নিজেও জানছি না!
হুট-হাট ভেঙে যাই,কেউ জানি ছিঁড়ে দিয়ে যায় কলিজা খানি। তখনই আবার নেচে উঠি, আনন্দে কাঁপি, সেই ফিরে আসা, সব ফিরে আসে। নতুন করে,নতুন মুখে খুব যত্নে বুকে আগলে পুরানো সবেরে নিয়ে সে ফিরে আসে।

 এক এক দিনের রঙ এক এক রকম। এক এক দিনের ঘ্রাণ এক এক রকম। এক এক দিনের স্পর্শ এক এক রকম। জীবন যদি হয় নানারকম দিনের মালা, তবে তার থেকে আমি বাদ দেব সমস্ত ছাই-রঙা ফুল... দেব কি? ধূসর যে বড় প্রিয়, পরিচিত মনখারাপের রঙ। তার ঘ্রাণ, প্রথম বৃষ্টিতে ভেজা মাটির। তার স্পর্শ, যে আমাকে চিরদিন ছুঁতে চেয়েছে, তার চোখের। তার চাইতে বরং জীবন হোক ধূসর আর আগুন-রঙা চকমকি পাথরের হার। আসুক এক আধারে স্থবিরতা এবং স্ফুলিঙ্গ।  

এই তীব্র স্থিতির মাঝেগতিটাকেই কেমন বেখাপ্পা লাগে। ভেবে দ্যাখো, আমার শব্দগুলোও কি বেখাপ্পা আর অদ্ভুত? আমার শত-সহস্র বাক্যগুলো, অনুভূতিদের ছড়িয়ে থাকা কত! তবু আমার গভীরতম কথা নাকি প্রকাশিত হয় না। আমার আবেগের গহীনতম শব্দগুলো নাকি অর্থ বয়ে নেয় না।
ছোট্ট এই জীবনের যেখানেই হাত বাড়াই, আমি হেরে যাই। এই তো কতবার বদলেছি দেখার বাতায়ন,
বদলেছি দৃশ্যপট, অথচ কেন বারবার লজ্জায় নুয়ে পড়তে বাধ্য হই অসহায় হয়ে? অদৃশ্য পিঞ্জরের এপাশে আমার একলা বসবাস অহর্নিশ। জানি এই ফেলে যাওয়া দুপুর আর কোনদিন আসবে না।
জানি এই কার্তিকের সন্ধ্যার বিষাদের কবর এখানেই। জীবন খুবই ক্ষুদ্র, যে যায়, যারা যায়; চিরতরেই
যায়।
হাজারবার ভেবেছি জীবনে এই তো শেষ, এই তো! এই মহাকাব্যের যেন শেষ নেই। প্রতিটি শব্দ
বয়ে যায় তপ্ত অশ্রুধারা আর বক্ষপিঞ্জরের ভেতরে অগ্ন্যুৎপাতের পর। এ আমার অনুভূতিমালা, আমার নিঃশব্দ বচন, নিশ্চুপ কোলাহল। বলো তো, বছরের পর বছর ধরে বলা আমার শব্দগুলো
কেমন করে এতটা অর্থহীন বোধ হতে পারে? কী গভীর যন্ত্রণা সে প্রতিটি শৃঙ্খলাবদ্ধ আবেগের প্রকাশে
তার হিসেব হবে কোন খাতায়? কবে, কোথায়, কেমন করে?

শূণ্য দিয়ে পূর্ণ করি আমার রিক্ততার ডালা। অঘ্রাণে সেই মেঠো পথের গন্ধে আমার জীবনটা,
পরাবাস্তব জগতের স্বপ্নগুলো, তিক্ত আর কটু স্বাদ; অনবরত মুচড়ে ওঠা বুক, হেসে ভুলে যাওয়া, এমনি করে ভুলে যেতে যেতে ক্লান্ত হই, তবু উন্মত্ত হতে পারিনা। হাসিমুখ পথ চলি, কিছুমিছু জোগাড় করার ন্যুনতম প্রচেষ্টা। আমি রিক্ত ছিলাম, আছি, থাকবো হয়ত।
আমার রিক্ততা আমাকে করেছে পড়ে থাকা মেরুদন্ডহীন কেঁচোর মতন।
হয়ত একদিন মানুষ হবো, একজন সত্যিকার মানুষ। ক্ষতবিক্ষত দেহ-প্রাণের আমি নই, সেই শৈশবের আমি। মেঠোপথে ভেজা শিশিরে পা গলিয়ে ধনেপাতার ক্ষেতে পাশে মায়ের  আঙ্গুল ধরে আনন্দে কেঁদে ফেলা সেই আমার মতন কেউ…

হয়ত সে কেবলই স্মৃতি, অথবা বিভ্রম? অথবা আমি নই! সে হয়ত অন্য কেউ…

যদি কোনদিন মনে হয় আমাকে ভালবাসা তোর খুব উচিত ছিলো ,তবে সেদিন একদম কাঁদিস না,
তুই কাঁদলে যে আমি ভালো থাকিনা। বহুদিন তুমি জানতে চাওনি ,বহুদিন ! বিমর্ষ বৃক্ষেরা কতটা সবুজ, কষ্টের গোলাপগুলো কতটা লাল ! পাথরের দিন গেছে খরায়, বন্যায়, ডায়রির পৃষ্ঠা ভিজেছে অবসাদে, একটি কুয়াশার চাঁদ সরিয়ে তবুও দেখতে চাওনি কোনোদিন পড়ে আছে কী না শীতের শেফালী অনাদৃত ভোরের বাগানে ….একটা ভায়োলিন তোমার জন্য কতবার সুরে সুরে রাত্রি গড়েছে,
একটা গীটার তোমার জন্য কতবার কেঁদে কেঁদে দুপুর ছুয়েছে , জানতে চাওনি ,তবু রোদের দুপুরে বৃষ্টি নামে কী না ভেতরে হটাত; বিপুল জনারন্যে ও কেউ খুব একা হয়ে যায় কী না সাজাতে শব্দমালা কবিতায় …..





Powered by Blogger.