যে অভিমানের কোন সুনির্দিষ্ট কারন থাকে না--

আজও বিকেল নামে আমার চিলেকোঠায়,
পাখিরা তোমার নামের খরকুটো নিয়ে ফিরে যায়,
নীড়ের খরকুটো কত স্মৃতিময়…
ছোট্ট নীড়, কত স্নেহ, কত কবিতা,
অচেনা চোখের কোনে জল;

বকুল,
আমার এই কবিতা তোমার থেকেও বড়… 




আমি মাঝেই মাঝেই একটা স্বপ্ন

ঘুরে ফিরে দেখি।



স্বপ্নের দৃশ্যপটে হয়ত সামান্য অদল-বদল হয়।

কিন্তু মোটের উপর স্বপ্নটা প্রায় একই রকম

থাকে।

স্বপ্নটা দেখতে শুরু করলেই

চেনা মানুষকে ভীড়ের মাঝে খুঁজে পাবার মতন
আনন্দ হয়। কিন্তু একই সাথে কোথাও যেন
একটু দুঃখ ফুলের পাপড়ির ওপর
জমে থাকা শিশিরের মত টলমল করতে থাকে।

আমি দেখি একটা ছোট্ট মেঠো পথ।
সময়টা হল বিকেলবেলা। স্বপনে আমি সূর্য
দেখিনা কখনোই। বরং দেখি একটা ছোট
কুড়ে ঘরের শনের ছাতে ঝিলমিল
করতে থাকা স্বর্ণাভ আলো। আলোটা খুব
মিঠে মিঠে। বেশ বুঝতে পারি এইটা হয়ত আমার
দেশের হেমন্ত কালের কোন বিকেল বেলা। সরু
যে পথটা দেখেছিলাম, একটু পরেই
দেখি সেইটে একটা বিশাল সবুজ ধানের মাঠের
মধ্যে দিয়ে এক ছুটে চলে গেছে দূরে। হঠাৎ
করে দেখলে মনে হয় যেন একমাথা সবুজ চুলের
কারোর মাথার হয়ত সিঁথি এই পথটা। আমার
স্বপ্নে আমি এই পথ ধরে হাঁটতে থাকি। কোন
কোন দিন, মাঠের ধানের ঘ্রাণটা পর্যন্ত পাই ।
আমি দেখি-- আমি খালি পায়ে হাঁটছি এই
মেঠো পথে। দু'পায়ে অলস মায়ায়
জড়িয়ে আছে ধুলো, হঠাৎ
আসা একটা দমকা হাওয়ায় পরনের
পাঞ্জাবীটা পত পত শব্দ করতে করতে নৌকার
পালের মতন ফুলে ফেঁপে উঠতে চায়।

আমি হাঁটতে থাকি--হাঁটতে থাকি--
হাঁটতে থাকি---

আমি অলস পায়ে হাঁটি--আমি বুঝতে পারি,
আমার এই হাঁটার উদ্দেশ্য কোথাও
পৌঁছানো নয়--আমি কোন গন্তব্যে যাচ্ছি না--
আমার ফেরার কোন টান নেই--আমার
আছে কেবল পথ হাঁটা---দু'পাশে ভীষন সবুজ
অবুঝ ধানের ক্ষেত,
মাঝে দিয়ে চলে যাওয়া ধুলোময় ছোট্ট পথ---
আর সেই পথের অলস পথিক আমি--

স্বপ্নটার এই জায়গাটাতে এসে প্রতিবার কেন
জানি চোখটা জলে ভরে আসে।
জানিনা কী কারণে একটা অবুঝ শিশুর মত
অভিমান হতে থাকে--কোন কারণ ছাড়াই।
ছোটবেলার মত অভিমান হয়--যে অভিমানের
কোন সুনির্দিষ্ট কারন থাকে না--থাকে শুধু
আকাশ সমান উঁচু অভিমান---






Powered by Blogger.