কোথাও কোনো স্বপ্ন নেই!






রাত্রির প্রথম প্রহর। কোথায় চলেছি আমি? কোথায়? এই যে সমু্দ্রতট ধরে হাঁটছি আমি, একা, একলা মানুষ! পাশেই, একটু দূরে ওই যে পাহাড়। সেও কি একলা? আমার চারদিকটা এতটা স্তব্ধ কেন! নিথর! দূরে, একটা বাতিঘর। আরও দূরে, বিস্তৃত আকাশ। মেঘাচ্ছন্ন, অন্ধকার গাঢ় হতে হতে আরও গাঢ় হয়ে শুধুই নিঃসীম আকাশে মিশে গেছে। কে যেন আকাশের গায়ে কালি লেপটে দিয়েছে। সেই তখন থেকে হাঁটছি আমি, পায়ে পায়ে। সমুদ্রের পাশেই যে পাহাড়, মনে হচ্ছে সেখানেই উঠে পড়ি। কিন্তু কতদূর উঠতে পারে মানুষ? মানুষের স্বপ্ন কী আকাশ অব্দি পৌঁছুতে পারে? অথচ আমি, আমি তো আকাশ অব্দি পৌঁছুতে চাই। কিন্তু পাহাড়ে উঠলেই আমার শূন্যে ঝাঁপ দিতে ইচ্ছে করে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, এই অন্ধকারের খাঁজ কেটে কেটে একটা সিঁড়ি বানিয়ে ফেলি। অন্ধকারই হোক-না একটা সিঁড়ি। এক-পা, দু-পা, অন্ধকারের সিঁড়ি বেয়ে উঠছি আমি। যতই উপরে উঠছি ততই নির্ভার লাগছে। উপরে, আরও উপরে, ঊর্ধ্বলোকে। সিড়িগুলি কী মসৃণ, হালকা। পা দেয়ার আগে সিঁড়িই এগিয়ে আসছে। সিঁড়ি এগিয়ে এলে পা-ও এগিয়ে যায়! উঠছি আমি...উঠছি। পাশেই মেঘপুঞ্জ আর নক্ষত্ররাজি। রাত্রি দু’পহর। শূন্য থেকে মহাশূন্যের দিকে মনে হয় চলেছি আমি। এখন পা-এর দূরত্বও ঘুঁচে গেছে। এক-পা মানেই একলক্ষ আলোকবর্ষের দূরত্ব পেরিয়ে যাওয়া। নেই, কিচ্ছু নেই। এখন সবই জ্যোতির্ময়। চারিদিকে জ্যোতির্বলয়। অগ্নিকুণ্ড। অন্ধকার পেরিয়ে এ আমি কোথায় পৌঁছুলাম! এই অগ্নি, এই কুণ্ড! দেহকুঠুরিতে যে হৃদয়টা ছিল, তাও তো মনে হয় ভরহীন হয়ে গেছে। কোনো দিকেই কোনো আকর্ষণ নেই। মাধ্যাকর্ষণের টানে মাটিপৃথিবীতে একজন রমণীকে আমি হৃদয় দিয়েছিলাম। হৃদয় দিলে তো দিনরাত স্বপ্নের চাষবাসও হয়! কিন্তু সেই স্বপ্নের ভূমিটা ছিল নিষ্করুণ, উষর, মরুময়। স্বপ্নভুক মানুষ আমি, তাই টলতে টলতে কখন যে পথে বেরিয়ে, সমুদ্রতট ধরে হাঁটা শুরু করেছিলাম, আরও এক স্বপ্নের খোঁজে। কিন্তু এখন তো এই জ্যোতির্বলয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে ভরহীন, আকর্ষণহীন হৃদয় কোনো দিকেই টান অনুভব করছে না। যে-হৃদয়হীনার জন্যে শুরু হয়েছিল আমার সমুদ্রবিহার, কোথায় আমাকে পৌঁছে দিল! এখন তো একটু একটু করে এগিয়ে আসা আগুন আমার হৃদয় ভস্মকরা ছাই বিশ্বময় ছড়িয়ে দেবে। কোটি আলোকবর্ষ পরে আবার হয়তো আমি কোনো এক বর্ষার অজস্র জলধারার মধ্যে তোমার বাড়ির পাশেই বিষকাটালির ঝোঁপ হয়ে জেগে উঠবো।



Powered by Blogger.