মায়ের চোখের গভীরে যে চৈত্রমাস ছিল

January 26, 2018

পুরোনো ভিখিরিরা আজ আর আসেনা দুয়ারে,
বৈশাখের খর রৌদ্রে লাউতম্বা বাজিয়ে কাকদ্বিপের ইস্টিমার পেটুয়াঘাটের কাছে ফেরি করে যেত
নৌকাডুবীর গল্প।
মা, খুড়িদের সাথে আমরা কেঁদে উঠতাম,
বেতের কুঁচোভরতি চাল, আর বাগানের ফল সবজি দিয়ে ''আবার আসবেন'' বলে বিদায় জানাতাম।
এখন ভিখিরী আসে, ফিলমি গানের ঢংগে কথা কয়, নোট চায়, ভোট চায়, আরও কিছু চায়;
ইড়া ও পিঙ্গলা ছুঁয়ে আরক্তিম হয়ে উঠি ভ্রু-মধ্যরেখায়।।





আমার জন্মের পর যারা শাঁখ বাজিয়ে ছিলেন, তারা কেউ আজ
আর বেঁচে নেই। অথচ রোজ
ক্যানভাস থেকে উড়ে যায় সাতঝাঁক পাখি।
 মায়ের চোখের গভীরে যে চৈত্রমাস ছিল, তার এক প্যারা অনুবাদ আমি।
আজো জন্মের বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালে ঘুমের মত ভেসে উঠে
প্রথম দেখা মায়ের মুখ-কেমন খুশি খুশি জাফরান কন্যা।

আমি যখন প্রথম কেঁদেছিলাম, দাদি দিদারা তখন খুব হেসেছিলেন।
বড় হতে হতে সেইসব নারীদের আর দেখিনি।
তবু তাদের জন্য এক সাঁওতাল নদী বুকের ভেতর রোজ বড় হয়।

আজও জন্মের পরে পৃথিবীর কোথাও কোথাও কেউ হেঁসে ওঠে,
আমি তার একজনকে চিনি।। 



You Might Also Like

0 comments

Popular Posts