যে লেখাটা লেখা হল না আজও…


এই রাত আর এই অন্ধকার তুমি তার মুখোমুখি একা
শান্ত একটা হাওয়া আর রেডিয়ো চালিয়ে কেউ ঘুমিয়ে
পড়েছে।
যে জীবন পেলে তুমি কেমন লাগছে সে জীবন?
কষ্টকর? খুব একা? খুব বেশি একা?
যেখানে পায়ের ছাপ পড়ে দেখি সেখানেই রক্ত ফুটে
ওঠে।




একটা লেখা অনেকদিন ধরেই লেখার কথা।। লিখবো লিখবো করেও লেখা হয়ে উঠছে না কেবলই। যত দিন যাচ্ছে তত বেশি করে সেই লেখাটা এসে পিছু টানছে। আজকাল যখনই একা হই, কাজের মাঝে ফাঁকি দি, অবসর খুঁজে বসি অমনি সেই লেখাটা এসে উঁকি মেরে হাত টেনে ধরে। সে লেখাটা নিজেকে মেলে আমার সামনেই থাকে তবু আমি তাকে ধরে নিতে পারিনে। আর পারিনা বলেই
বোধহয় দিন দিন বড় বেশি অসহনীয় হয়ে উঠছি। নিজেকেই আর নিজের পছন্দ হচ্ছে না (যদিও আমি আমার নিজের অপছেন্দের লিস্টিতে পয়লা নম্বরেই আছি চিরকাল)।

আজ বই বাঁধাইএর দোকানে বসেছিলাম। যতক্ষনে দোকানদার আমার বই বাঁধাচ্ছিল, আমি বসে বসে গান শুনছিলাম, sms করছিলাম বন্ধুদের, আর অবাক হয়ে আশেপাশের পথচলতি লোকেদের দেখছিলাম। দোকানটা এশহরের খুব সুন্দর ছিমছাম নিরিবিলি পাড়াতে। তাকিয়ে তাকিয়ে প্রত্যেকটা বাড়ির আর্কিটেকচার দেখছিলাম, গাছেদের পাতার রং গুনছিলাম, দোকানের সামনের ফুটপাথটা ভাঙ্গা চিনেমাটির প্লেটের টুকরো দিয়ে বানানো, দোকানদার নিজেই বানিয়েছেন বললেন, কি সুন্দর লাগছিল, তাকিয়ে তাকিয়ে প্রত্যেকটা টুকরোর ডিজাইন চিনছিলাম। দিব্যি কাটছিল সময়। এতোটাই তলিয়েছিলাম সেসব দেখতে যে আমার বেশ কিছু বন্ধু একে একে জড়ো হয়েছিল সেখানে কোন ফাঁকে সেটা দেখতেই পাইনি, চমক ভাঙল তাদের একজনের তুড়িতে। তাকিয়ে তাদেরকে সামনে দেখে খানিকটা ভেবলেই গেলাম। তারাও বেশ মস্করা করে নিলে আমাকে বাগে পেয়ে।




তারা চলে যেতে আবার নিঝুম হল চারধার। আর তখনি সেই লেখাটা ফিরে এসে ঠিক আমার পাশটাতে গা ঘেঁষে বসল। কত কি বলে গেল, কত ছবি দেখাল, কত মুখ চেনাল। আমি শুনলাম, দেখলাম চিনেও চিনলাম না। আর ঠিক যখনই এরকমটা হয় আমার বোধবুদ্ধিগুলো কিরম যেন গুলিয়ে যায়। কতক্ষন হয়ে গেল বই বাঁধানো শেষ, বই নিয়ে ফিরতি পথ ধরলাম। আধখানা আমি আমায় পথ চিনিয়ে ফিরিয়ে আনল, বাকি আধখানা সে লেখাটার হাত ধরে কোথায় যেন চলে গেল। ফিরে এসে খেয়ে দেয়ে দিব্যি একটা ঘুম দিয়ে উঠে কত কাজ সেরে ফেল্লাম।

এখন সেই কতক্ষণ জানলা খুলে বসে আছি যদি সে বাকি আদ্ধেক আমি সে লেখাটাকে নিয়ে ফিরে আসে…



Powered by Blogger.