বিষাদ,– তোমাকে আমি লিওনার্দো কোহেনের গানে চিনি

আমি ভিজলে আমিই ভিজি কিন্তু তুমি ভিজলে শহর ভিজে যায়।।



বিষাদ,– তোমাকে আমি লিওনার্দো কোহেনের গানে চিনি, আমি দেখি
শান্ত বাড়ি ফিরে যাওয়া মেয়েটির মুখ, একভিড় বাসের মধ্যে একা মুখে শতাব্দীর বেদনা
একটি শান্ত রাস্তা বেঁকে গেছে, মুখ নয়, মুখের ছায়ায় দেখছি ভারতবর্ষ
মৃত্যু নয়, জীবনের মধ্যে দেখছি সাবধানী চোখের সন্ত্রাসের কান্না
রাস্তার উপরে পড়ে থাকা একটি বাচ্চা, তাকে টপকে যাচ্ছে আশাবাদ
আগুনের উপর দিয়ে, চুনমাখা মুখে
ভবিষ্যতের দিকে লাফ মারছে আমাদের ধর্ম
ঘরের দেওয়ালে দেওয়ালে আলপনা, ছেঁড়া জামা, স্বাধীনতার বিষাদ
আমাদের শহুরে গাড়ির ভিতর দিয়ে আমরা
লালমাটির গন্ধের কাছে শুঁকে দেখছি:
হাসির সবুজ রং, নীল রং, আর বেগুনী দুঃখের ভারে নুয়ে থাকা শালুক ফুল
আকাশের দিকে সর্বস্ব দিয়ে জলের উপর অপেক্ষা করছে পদ্মপাতা
আমি শীতের বিকেলে গঙ্গার ঘাটের দিকে চলে যাই
কী এর রহস্য নিয়ে নেমে গেছে আশ্চর্য সিঁড়ি
জলের উপর নেমে গেছে আমাদের জীবন
আমরা ফিরে আসছি, ফিরে আসতে আসতে ভুলে যাচ্ছি সেই সব হাসি
সেই সব আশ্চর্য বাচ্চারা, — যারা আমাদের দিকে এগিয়ে দিয়েছিল
কয়েকশো, কয়েকলক্ষ বছরের দীর্ঘনিঃশ্বাস



আমরা ফিরে আসছি, ফিরে আসতে আসতে জড়িয়ে ধরছি আমাদের মৃত্যুভয়
চাকার ধুলোয় সর্বাঙ্গ ভরে গেছে আমাদের স্মৃতির
বিষাদ,– তোমাকে আমি লিওনার্দো কোহেনের গানে চিনি, — আমি জানি সুজান
আমি জানি তার সঙ্গে অন্ধের বিশ্বাস নিয়ে ছুটে যেতে হবে
জানি কোথাও শান্তি অপেক্ষা করে আছে আমাদের জন্য
আর ভুলে যাচ্ছি আমাদের কথা ছিল অন্যকিছু
রেললাইনের ওপারে আমাদের ঘর,- আমরা জলের উপর দিয়ে
হাঁটতে পারি না, আমরা নৌকা নিয়ে ভেসে পড়তে পারি না ।যীশুর কাছে
আমাদের একটি আঙুল আগুন, একটি বিষ, একটিতে অবিশ্বাস
আর আমাদের শহর, — আমাদের থমথমে টেবল, মেপে নেওয়া মুখ
কথার ভিতর দিয়ে কথার দিকে এগিয়ে দেওয়া ছুরি
ছুরির ভিতর অসংখ্য গলিপথ
মৃত্যুর ভিতরেও জমে থাকা আমাদের নগরকীর্তন
— শান্ত হচ্ছে না কোনওকিছুই, –নিভে যাচ্ছে না কোনও মোমবাতি
আমাদের বিশ্বাসগুলো ভাঙা বাল্বের মতো ছড়িয়ে পড়েছে
নার্সিংহোমের ভিতর ছোট ছোট বাচ্চাদের মুখ
হাসপাতালের ভিতর দিয়ে ছুট্টে ছুট্টে যাওয়া মৃতের স্ট্রেচারের পাশে
সন্ধ্যার আলোর ভিতরে জন্ম নিচ্ছে ছোট ছোট বাচ্চাদের মুখ
ছুরি কাঁচির উপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আমরা ক্রমশ ভালোবাসতে শিখছি
ওহ কোহেন ভালোবাসার শেষের দিকে আমাদের নাচ
কালু ডোমের ঘাট থেকে ভাসিয়ে দিয়েছি আমাদের প্রদীপ
পুড়তে থাকা চিতার গন্ধ নিয়ে সেই সব প্রদীপ
তোমার দিকে যাচ্ছে না সুজান
তোমার দিকে যাচ্ছে না পুরুলিয়া
আমাদের প্রার্থনা
নোনা সমুদ্রের কাছে আরও নোনা শব্দে শুনছি পাড় ভেঙে এগিয়ে আসছে
অচেনা নৌকো, যার আরোহীর মুখের রঙ শীত




Powered by Blogger.