হারানো চিঠি

একটা অসময়ের খুব দরকার,

যখন চুল এলোমেলো করা হাওয়া
সময়ের হিসেব রাখবেনা।

পুরোনো আড্ডা সবই ভেঙ্গে গেছে। বাইরের পৃথিবীটা আর আগের মত নেই। বড্ড পর হয়ে গেছে সব। বেলা গড়িয়ে যায়। রৌদ্রতপ্ত ঘাসে নিবিড় গাছপালায় বনের গন্ধ ঘনিয়ে ওঠে। তাপ মরে আসে। ঘামে ভেজা শরীরে শীতের বাতাস এসে লাগে। বুঝতে পারি ফেরার সময় হল।

হারিয়ে যাব? হঠাত আমাকে ঘিরে নিস্তব্ধতা নেমে আসে। নিজেকেই প্রশ্ন করি, হারিয়ে যাব? মুন্নি পিছিয়ে পড়ে। তার জুতোয় কাঁকর ঢুকেছে। জুতো খুলে কাঁকরটা বের করছে সে। আমি একটু এগিয়ে গিয়ে দাঁড়াই। পিছু ফিরে দেখি, শূন্য রাস্তার মাঝখানে আমার শিশু মেয়ে একা। ঝাঁকরা চুল মুখের উপর ফেলে উবু হয়ে বসে জুতো পরিষ্কার করছে। দৃশ্যটা থেকে চোখ ফেরাতে পারিনা।
নিশুতিরাতে এসেছিল এক ডাকপিয়ন। আমার সারাজীবনের সব স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়ে গেছে। বোধহয় আমার আর কোনো চিঠি আসবে না। আমি যেন মোহানার কাছে পৌঁছানো এক নদী, যার স্রোতের আর কোনো ঢল নেই। সামনে মহা সমুদ্র।
আমি মুন্নির জন্য অপেক্ষা করি। কিন্তু আমার দিকে তার কোনো মনোযোগ নেই। আমি একটু হাসি, তারপর এগিয়ে যেতে থাকি। মুন্নি একা আসতে পারবে। আমি যখন থাকবোনা, তখনওতো মুন্নিকে একাই হাঁটতে হবে।


দিনগুলি কেটে যায়। কিন্তু কিভাবে যায় কেউ কি তা জানে? বুকের মাঝে উড়ন্ত প্রজাপতির মত একটুখানি সুখ বা ছোট্ট কাঁটার মত একটুখানি দুঃখ-এ তো থাকবেই। তবু দিন যায়। কথাগুলো থেকেই যায়।
অলক্ষ্যে হাওয়া বন্দুক নামিয়ে পরাজিত এক অচেনা পুরুষ ফিরে যায়। তার লক্ষ্যভেদ হয় না। কোনওদিন আবার সেই বন্দুকবাজ ফিরে আসবে। লক্ষ্যভেদ করার চেষ্টা করবে বারবার। হয়তো লক্ষ্যভেদ করবেও সে। ততদিন পর্যন্ত পৃথিবীর এই রঙ্গীন মেলায় আনন্দিত বাতাস বয়ে যাক এই কথা বলে-ঠিক আছে, সব ঠিক আছে। 
Powered by Blogger.