24 April 2017

ঘাসফুলেদের সাথে

তুমি সারাক্ষন খুঁজে গেছো দুপুর সন্ধ্যে বেলায়,
সময় দাওনি ঘাস ফুলেদের।

লিলুয়া বাতাস হয়ে
ছুয়ে গেছো দূর আরো দূর বেপাড়ায়…

ফিরে গেছে সে নদী
কিছু না বলেই,
তারপর ঝরে গেছে
বেজন্মা কবিতায়।।

তুই কবে আসবি রংপেনসিল,বিকেল নিয়ে?

আমি চোখ বুজে বুজে ভাবতে থাকি -
একটা মাঠের কথা,একসার দেবদারু গাছের
কথা,দূর্বাঝোঁপের কথা।একটা বিকেলের
কথা,একটা রংধনুর কথা আর এক
ঝাঁপি সিঁদুরে রোদের কথা।সেই বিকেলের
মাঠে বসে তোর হাতে ঢেলে দেবো আমার
অবসন্ন ফুসফুস।তোর নখে,আঙুলে,তর্জনী-
মধ্যমা-অনামিকায়,কিংবা চোখ-চুল-
কপালে ছুঁইয়ে,ছড়িয়ে,মাখিয়ে দেবো আমার জমাট
বাঁধা অভিমানের শব্দ,বাক্য,অনুচ্ছেদ।
তুই কবে আসবি রংপেনসিল,বিকেল নিয়ে?

22 April 2017

বড় হয়ে যাই তারপর

ইচ্ছে করছে তোমাকে স্বপ্নের কথা বলি। কাল
অথবা কাল ও কেটে গেছে যেসব স্বপ্ন বিচ্ছিন্ন
দিবসে। লাল নীল হলুদ কত রকমের রং।

আজ খুব
অস্থিরতা ছিলো শহরে।

 নীল অপরাজিতায় গাছ
ভর্তি করে ছোট ছোট ফুল এসেছে। বার পূজায়
লাগে এই নীল ফুল। নারায়ন পূজায়।

 সেই ফুলের
কাছে বেশরমের মত দু তিনটে কাঁদুনে গ্যাসের
গোলা এসে পড়লো। খুব কাঁদলো গাছগুলো!

লম্বা করিডোর কত কিছু যে জোছোনার মত
নীলচে ধোঁয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। পথে পথে এখন
কত রকমের মিছিল। শাদা শার্টগুলো ইঁটের
টুকরো দিয়ে কেনাকাটা করে দাবি আদায়ের ইচ্ছে।

কাঁটাতারের ওপার
থেকে টুকি দিয়ে দেখে এপাশে তার দর্শক
আছে কিনা! ছোট ছোট কোমল শাদা শার্ট।

কখনো তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করে চোখের
আমি স্বপ্নকে বলে রেখেছি সুযোগ পেলেই যেন
টিকিট কেটে রাখে।

কি হয়েছে জানো আজ সকাল
থেকেই শুরু হল বৃষ্টি। এ
বৃষ্টিতে ককটেলগুলো জমে গেল ঠান্ডায়।
মোটা পেট টা নিয়ে উড়ে এসেও ঠিক
পড়ে রইলো জলে।

 ফিরতি টিকিট
কাটা হয়নি এখনো।

 তোমাকে কখন দেখবো?

21 April 2017

বিষ্টু দা

বিষ্টু দা বিষ্টু দাকে খুব মনে পড়ে আজকাল। ঢোলা পাজামা, খদ্দরের পাঞ্জাবী , পায়ে টায়ারের চ্চপ্পল, কাঁধে কাপড়ের ব্যাগ। পঁয়ষট্টি সাল , সবে কলেজে ঢুকেছি সেই সময় । হলধরের চায়ের দোকানে আসতেন বিষ্টু দা ।আমাদের বোঝাতেন বুর্জোয়া, পেটি- বুর্জোয়া, সাম্রাজ্যবাদ এর বিপদ, কেন সমাজবাদ দরকার আমাদের। কর্পোরেশন এ চাকরী করতেন। আমরা চারজন ওঁর খুব কাছের ছেলে ছিলাম। বাড়িতেও গেছি । স্ত্রী, এক ছেলে, এই নিয়ে ছিলো ওঁর এক ঘরের বাসাবাড়ি। চা , লেড়ো বিস্কুট আর বিড়ি ছাড়া আর কিছু ওঁকে খেতে দেখিনি কোনদিন।স্ত্রীকে বলতেন- দেখে রাখ, , একদিন এরাই দেশে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব আনবে। কিন্তু কিছু দিন পর আরো তাড়াতাড়ি বিপ্লব আনতে বিষ্টু দা নাম লেখালেন নতুন দলে ঊনসত্তরে, না , আমাদের একবারের জন্যেও বলেন নি সেই দলে যোগ দিতে। ওই ঊনসত্তরেই আমরা চারজন পাশ করলাম , কলেজ এর সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হোল, এবার গন্তব্য ইউনিভারসিটি। কিন্তু পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেল সেই উত্তাল সময়ে। কিছুই করিনা। বাহাত্তরে একদিন খবর পেলাম বিস্টু দা খুন হয়েছেন । কিভাবে যেন চারজনই খবর পেলাম। যাব কিনা ভাবছিলাম। আশিস বললো- চল, দেখি ই না গিয়ে ।বিষ্টু দার স্ত্রী ঘরে ঢুকতে দিলেন না কাউকেই, অনেকেই এসেছিলেন, বের করে দিলেন প্রায়। সাধের লাল-পতাকায় ঢাকতেও দিলেন না বিষ্টু দার লাশ। বাইরে রাখা মড়ার খাটে বিষ্টু দাকে যখন তোলা হলো, তখন বিষ্টু দার গায়ে নামাবলী। "হরিধ্বনি" দিতে দিতে পাড়ার মোড় পেরিয়ে গেল শ্মশানযাত্রীরা। কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে ছিলাম । দেখলাম বিষ্টু দার স্ত্রী ঘর থেকে ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলছেন অনেক কিছু। তার মধ্যে মাও আর লেনিনের দুটি ছবি।একটা রেডবুক শুধু চোখে পড়েছিল আমাদের। খই আর খুচরো পয়সার সঙ্গে রাজপথে পড়ে আছে । এরও কিছুদিন পর ওই পাড়া দিয়ে যাবার সময় দেখলাম কারা যেন বেশ কিছু দেওয়ালে কাঠ-কয়লা দিয়ে লিখেছে " কমরেড বিষ্টু মুখারজী অমর রহে', " কমরেড বিষ্টু মুখারজী লাল সেলাম। বিষ্টু দা , আমিও বুড়ো হয়ে গেলাম। সত্যি বলছি, খুব মনে পড়ে তোমাকে আজকাল।

চিঠিকে খোলা চিঠি

প্রিয় চিঠি,

“..তুমি আমি পুতুল খেলব। নকশালদের ডেরা খুঁজবো। নকশালবাজি করব। ছায়াপথে হাত ধরে হাঁটব। তুমি রাজি তো? …”

সেই কবে কেউ লিখেছিল। লাল কালিতে। সে পাতার বয়স হয়েছে। তবু যত্নে রাখা বইয়ের ফাঁকে। আজও। সে নেই, চিঠিটা আছে। এখনও।

ইনল্যান্ড লেটারের আকাশি রঙে কেউ নীল কালিতে লিখেছিল কবে,

আমার বাড়ি এলে তোকে আমি অমলতাস ফুল দেখাব। সন্ধ্যেবেলা বড় ছাদটা সুপুরি গাছের ছায়ায় ভারী সুন্দর লাগে, দেখতে পাবি। স্বর্ণচাঁপা গাছে, শিউলি গাছে, মাধবীলতা গাছে জ্যোৎস্না আটকে থাকে, দেখবি…”

সে বাড়িতে আর যাওয়া হয় না। তবু চিঠি থেকে গেছে।

চিঠি, এভাবেই তোকে আমি রেখে দিয়েছি আমার লুকোনো বাক্সে। যত্নে, আড়ালে। তোর বাক্সে আর ভিড় বাড়ে না। আর কেউ চিঠি লেখে না আমায়। আমারও লেখা হয় না কাউকে। চিঠি, তোকে আদর করতে ভুলে গেছি বহুদিন।

কারোর মনে একরাশ অভিমান ছিল। জমতে জমতে বোঝা হয়ে যাওয়ার আগে লিখে ফেলেছিল তোর বুকে। বিদেশ বিভুঁইয়ে পড়ে থাকা কেউ একদিন, আলস দুপুরে পেয়েছিল কারোর মৃত্যু সংবাদ। অথবা কেউ তোকে পড়তে পড়তেই জেনে গিয়েছিল এই দেশটা পচা হয়ে যাচ্ছে আরও। কেউ আর ভাল থাকে না। কেউ আর ভাল থাকবে না। চিঠি, জানি তুইও আজ ভাল নেই।

সেই কবে রেডিও-তে শুনতাম ‘কোথায় হারিয়ে গেলে’। চিঠি আসত সেখানে। বন্ধু, বন্ধুনী, ভালবাসার মানুষ কিংবা নেহাতই পাড়াতুতো পরিচিতি। বহু বছর পর তাদের খোঁজ চলত চিঠি দিয়ে। আমিও ভেবেছিলাম তোকে পাঠাব। সেই স্কুলে পড়ার সময় অন্বেষাকে মনে আছে? যার বাড়ির সামনে দিয়ে রোজ বিকেলে সাইকেল করে যেতাম আর ভাবতাম, একবার যদি দেখা যেত। অন্বেষাকে কোনওদিনও বলতে পারিনি, কতটা ভালবাসতাম ওকে। চিঠিও পাঠানো হয়নি কোনও দিন। রেজিওতে পাঠাবার কথা ছিল। অন্বেষাকে আমি খুঁজে পাইনি। এখন এসএমএস করে লোকে। পিং করে হোয়্যাটসঅ্যাপে। এখন কারোর কাউকে খুঁজতে হয় না। কেউ হারিয়ে যায় না। সবাই থাকে অলীক জগতে। তবু আমি আজও অন্বেষাকে পাইনি। কিংবা পত্রমিতালীর সেই দিনগুলো। ছোটো বেলায় কত করে ভাবতাম, অন্বেষাও যদি আমার চিঠিবন্ধু হত..!

এখনও বেশ মনে আছে আমার প্রথম চিঠির কথা। পারমিতা পাঠিয়েছিল লাইন টানা ছেঁড়া কাগজে।

“তুমি অর্পিতার হাত দিয়ে চিঠি পাঠিও”।

আমার এখনও মনে আছে। কিন্তু মনে করতে পারি না প্রথম অর্কুটের মেসেজ। প্রথম ফেসবুকের পিং। অথবা প্রথম হোয়্যাটসঅ্যাপে ‘হাই’ কাকে লিখেছিলাম। চিঠি, তোমার সঙ্গে এটাই বোধহয় এদের পার্থক্য।

“টুকিটাকি হয়তো হারিয়ে গেছে, কিছু হয়তো পাওনি খুঁজে

সেইসব চুপচাপ কোনো দুপুরবেলার গল্প

খুব মেঘ করে এলে কখনও কখনও বড়ো একা লাগে, তাই লিখো

করুণা করেও হলে চিঠি দিও, মিথ্যা করেও হলে বলো, ভালোবাসি”।

-মহাদেব সাহা

এখন করুণা করেও কেউ চিঠি লেখে না। হারিয়ে যাচ্ছে আদরিয়া এই শিল্প। চিঠি, তুই কবিতাতেই থাক। থাক গানে, গল্পে, সিনেমায়।

রবী ঠাকুরের মতো খুব কম লোকই চিঠিকে আদর করতে পেরেছে। পাঁচ হাজারেরও বেশি চিঠি লিখেছিলেন পাঁচশো জনেরও বেশি মানুষকে। ভালবাসা এতটাই ছিল, যে বাবাকে লেখা প্রথম চিঠিখানাও তাঁর বেশ মনে ছিল।

 ‘বেশ মনে আছে, আমাদের ছেলেবেলায় কোনো এক সময় গবরমেন্টের চিরন্তন জুজু রাশিয়া কর্তৃক ভারত আক্রমণের আশঙ্কা লোকের মুখে আলোচিত হইতেছিল। … এইজন্য মার মনে অত্যন্ত উদ্বেগ উপস্থিত হইয়াছিল। বাড়ির লোকেরা নিশ্চয়ই কেহ তাঁহার এই উৎকণ্ঠা সমর্থন করেন নাই। মা সেই কারণে পরিণত বয়স্ক দলের সহায়তা লাভের চেষ্টায় হতাশ হইয়া শেষকালে এই বালকের আশ্রয় করিলেন। আমাকে বলিলেন, ‘রাশিয়ানদের খবর দিয়া কর্তাকে একখানা চিঠি লেখো তো’। মাতার উদ্বেগ বহন করিয়া পিতার কাছে সেই আমার প্রথম চিঠি। কেমন করিয়া পাঠ লিখিতে হয়, কী করিতে হয় কিছুই জানি না। দফতর খানায় মহানন্দ মুনশির শরণাপন্ন হইলাম। … এই চিঠির উত্তর পাইয়াছিলাম। তাহাতে পিতা লিখিয়াছেন, ভয় করিবার কোনো কারণ নাই, রাশিয়ানকে তিনি স্বয়ং তাড়াইয়া দিবেন।’

রবীন্দ্রনাথের শেষ চিঠি তাঁর পুত্রবধূ প্রতিমা দেবীকে। মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে সেই চিঠিতে ছিল মাত্র ৭টি বাক্য। তারমধ্যে একটি,

‘তোমাকে নিজের হাতে কিছু লিখতে পারিনে বলে কিছুতে লিখতে রুচি হয় না।’ চিঠি, সুনীল-শক্তিও হারিয়ে গিয়েছে কোথায়। বুদ্ধ গুহবাবুরও বয়স হয়েছে অনেক। তোকে আর রাখবে কে?
“ডিয়ার আসমা চোধুরী জয়িতা…” বিশ্বাস কর ন্যাবারও আর চিঠি লেখার সময় নেই। ইউটিউবেই এখন যেরকম ‘প্রিয় বন্ধু’ চাইলেই শোনা যায়, যেরকম ক্যাসেটের পর সিডিদের অপমৃত্যু, তার তালিকাতেও তুই, ‘চিঠি’। তবে এখনও তুই আসিস বটে। হুমকি চিঠি/ এখনও আসে/ হঠাৎ করে/ রাত দুপুরে। অনাহূত/ খুন করে যায়/ ঘাড়ের কাছে/ একটা কোপে। মুক্তমনা/ প্রশ্ন করে? ‘নিষেধ আছে’, সেই কারণে/ রক্ত ঝড়ে! চিঠি ভালবাসার যেমন, ভয়েরও তেমন। আগেকার দিনে মনে নেই? ডাকাত আসত হা রে রে রে করে? রীতিমতো চিঠি দিয়েই তারা আসত। এখন হুমকি ফোন আসে। ফেসবুকে আলাপ জমায় সাইকো ভিলেন। খুন করে প্রেমিকাকে সিমেন্টের বেদির তলায় পুঁতে রাখে। চিঠি, তুই থাকলে হয়ত মেয়েগুলোর চোখে-মুখের স্বপ্ন ওত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যেত না। তুই নেই বলেই কাছে আসাটা বড় তাড়াতাড়ি। চিঠি, তোর মধ্যে দিয়েই আগে, মনের আনাচকানাচ ঘুরতে হত সবাইকে। শরীর আরও পরে। এখন পরেটাই আগে আসে, তাই সুক্ষতাও জলে ভাসে চটজলদি। এখন ভালবাসা নয়, লোকে প্রেম করে। আত্মহত্যার আগে শেষ চিঠি লেখাটাও এখন কমিয়ে দিচ্ছে সবাই- মৃত্যুর আগে পোস্ট, গুড বাই…! মার্কিন ঔপন্যাসিক হান্টার এস থম্পসন শেষ চিঠিটি দিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রীকে। লিখেছিলেন,

“আর কোন খেলা নেই। আর কোন বোমা নেই। চলতে থাকা নেই। কোন মজা নেই। সাঁতার কাটা নেই। ৬৭। ৫০ এর পরেও ১৭ টি বছর। আমার চাওয়ার অথবা দরকারের চাইতেও ১৭টি বাড়তি বছর। বিরক্তিকর। আমি সবসময়েই উদ্দাম। কারো জন্যে কোনও আনন্দ নেই। ৬৭। তুমি লোভী হয়ে যাচ্ছ। বুড়োমি দেখাও। শান্ত হও- এটা ব্যথা দেবে না।”
এর দিন চারেক পরেই নিজেকে গুলি করেন থম্পসন। স্ত্রীর সাথে টেলিফোনে কথা বলছিলেন, কথা বলতে বলতেই গুলি..। এখন ফেসবুক লাইভেও আত্মহত্যা করেছেন অনেকে। চিঠি, সেখানে অকিঞ্চিৎকর। মৃত্যুতেও এখন ব্রাত্য, চিঠি।

অথচ একসময় তোর শক্তিতেই প্রবাহিত হয়েছিল নীল নদ। আবু বকরের মৃত্যুর পর ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হন হযরত ওমর(রা.)। মিশরে সেবার খরা। নীল নদ শুষ্ক। দেশের সবাই দ্বারস্থ হলেন ওমরের কাছে। ওমর নীল নদকে চিঠি লিখলেন।

 ‘আল্লাহর বান্দা আমীরুল মুমিনীন ওমর-এর পক্ষ থেকে মিশরের নীলনদের প্রতি…, যদি তুমি নিজে নিজেই প্রবাহিত হয়ে থাক, তবে প্রবাহিত হয়ো না। আর যদি একক সত্তা, মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তোমাকে প্রবাহিত করান, তবে আমরা আল্লাহর নিকটে প্রার্থনা করছি, যেন তিনি তোমাকে প্রবাহিত করেন।’
খলিফার সে চিঠি ফেলে দেওয়া হয়েছিল শুষ্ক নীল নদের বুকে। আল্লাহ নীল নদকে পরিপূর্ণ করলেন। এতটাই পরিপূর্ণ, যে আজও নীলনদের জল কখনও শুকিয়ে যায় না। কিন্তু চিঠি, তোর জন্য কোনও ইচ্ছে নেই, কারোর সময়ও নেই।

আমার এক বন্ধুনী আমাকে শেষবার লিখেছিল,‘তোমাকে স্বাধীন-শর্তহীন ভাবে, মন থেকে চেয়েছিলাম। উচিৎ-অনুচিৎ-ঠিক-ভুল-আগে-পরে হিসেব করা হয়নি। মনে হয়েছিল, তুমি যদি হও প্রকাণ্ড বিপ্লব, আমি তোমার ভিতরের দাবী দাওয়ার উচ্চাকাঙ্খী স্লোগান..চাল-ডাল-তেল-নুনের হিসেবে বাঁধা সম্পর্কের বাইরে এমন একটা স্পন্দন, যেখানে বিনা দ্বিধায়-বিনা বাধায় পাঁজরের কারাগারে যাবজ্জীবন চাওয়া যায়..যেখানে ঘর করা হয় না, ঘর গড়া যায়’। শুনেছিলাম, বন্ধুনীটির ভাই এখন ভাঙড়বাসীদের হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি মামলাও ঠুকেছে। অন্যের ঘর রক্ষায় সে নিজের ঘর ছেড়েছে। আমার ঘরও গড়া হল না, বন্ধুনীটির চিঠির উত্তরও দেওয়া হল না। ফেসবুক-হোয়্যাটসঅ্যাপ-এসএমএস-এর হট্টগোলে চিঠি, তোকেও আর পাওয়া হল না। জানি, আর হয়ত পাওয়া হবেই না কোনও দিন। অতঃপর, পুরোনে চিঠিতেই রাখলাম গোলাপ। প্রিয় চিঠি, হারিয়ে যাওয়া চিঠি, ভাল থাকিস…।



“আমি আজকাল ভাল আছি

তোকে ছাড়া রাতগুলো আলো, হয়ে আছে..

…শোন অভ্যেস বলে কিছু হয় না এ পৃথিবীতে

পালটে ফেলাই বেঁচে থাকা

আর একশো বছর আমি বাঁচবোই জেনে রাখ

হোক না এ পথঘাট ফাঁকা…”। – অনুপম
                                                                                                         -ইতি, চিঠি

19 April 2017

এবার নূতন বছরে একটু তোমায় চাই মা

জীবনের কিছু কিছু মুহূর্তে হয়ত সবকিছু থমকে যায়। ট্রেনের জানলা দিয়ে দূরের বাড়ির ছাদ দেখতে দেখতে মনটা হটাৎ এই খেয়ালেই থমকে গেলো- আচ্ছা ঐ ছাদের তলায় কেমন গোছানো একটা
সংসার আছে? কেমন ভাবে তারা কোনও এক শীতের রাতে গল্প করে একসঙ্গে লেপ মুড়ি দিয়ে? তাদের কোনও ফাঁকা জানলা দিয়ে কি হু হু করে ঢোকে ঠাণ্ডা হাওয়া এবং তাতে করে জুড়িয়ে যায় তাদের
গরম চা? গরম চপগুলি?

কোনও কোনও রাতে বৃষ্টি হলে চুপচাপ আলো নিভিয়ে শুনতে ইচ্ছে করে তাদের অবারিত পতন। হয়ত নতুন কোনও ভাষা রপ্ত করে ফেলেছে তারা ইতিমধ্যে। মাঝে মাঝে
আমার সাধের বারান্দা থেকে যখন দূরে চলে যাওয়া কোনও রেলগাড়ির অস্ফুট ডাক শুনি কেন জানিনা খুব কস্ট হয়। খুব।



আজও মনে পড়ে স্কুলের টিফিনের সময় সকলে যখন খেলাধুলা করত আমি একমনে বসে থাকতাম গাছতলায়।মন খারাপ। কেন? কেউ জানতো না।কলেজে ভর্তি হওয়ার সময় খুব জেদ ছিল কিছুতেই
কলকাতার কলেজে পড়ব না। কাছাকাছির মধ্যে যা হোক একটা ...কিন্তু সেই আশাও পূরণ হয়নি। পূরণ হয়নি।কিচ্ছু পূরণ হয়নি। 

মফঃস্বল সেজেছে শহুরে সাজে আর প্রানের বন্ধুরা একে একে পাড়ি
দিয়েছে দেশে বিদেশে। তাদের তো স্বপ্নপুরন করতে হবে,।আরো বড়ো হতে হবে, বাড়াতে হবে নাম, খ্যাতি, সাম্রাজ্য।

আমি থমকে গেছি, থমকে গেছি এক অচেনা আর্তনাদে। আমার সেই ছোটবেলার
স্টেশন কেমন যেন পর করে দিয়েছে আমায়।একে একে যে মানুষ নামে রেলগাড়ি থেকে তাদের কাউকেই ঠিক চিনে উঠতে পারি না। মাঝে মাঝে সেই ট্রেনকেই বলি, ওরে এবার তুই আমায় অচেনা করে দে। 

রাত বাড়ে ক্রমাগত বেড়েই চলে। আমার ঘুম আসেনি কোনদিন।
আজকাল ঘুমনোর অভিনয়টাও ছেড়ে দিয়েছি। আলো নেভালেই দুটো চোখ কেবলই ভয় দেখায় আর ক্রমাগত মৃত্যুর ভয় পাই আমি। ক্রমাগত জাগরণকে যখন আশ্বস্ত করে ভোরের পাখিরা তখন
আর জাগতে পারিনা।ঘুম আসে।জীবনের কিছু মুহূর্ত হয়ত সব থমকে দেয়। নিরন্তর বিবাদের মাঝে তখন চুপ করে দেখে যেতে ইচ্ছে করে প্রেমিকার ক্লান্ত খুব সুন্দর মুখটা, কোনও তীব্র গ্রীষ্মে এক
টুকরো ছায়াতলকে ইচ্ছে করে বুকের অনেক গভীরে জড়িয়ে নিতে। কিছু ইচ্ছে রোদ হয়ে আলো করে দেয় সদ্য ঝাট দেওয়া উঠোন আর রাত্রির গল্পেরা ফিরে পেতে চায় সেই কালি পড়া শুঁকনো
হ্যারিকেনের গন্ধ।

কিছু বিশ্বাস কোনদিন মরে না। আমার নাম না জানা দীঘির জলে পা ডুবিয়ে একদিন হয়ত আবার পড়তে পারব স্কুলের ইউনিফর্ম। হয়ত বা কাঁচপোকা হয়ে ভেসে বেড়াব পক্ষীরাজের বাচ্চা ঘোড়ার
সাথে। 

কেউ কোনদিন বোঝেনি এই শহরের বুকেই আমার শান্তি। কোন টানে আমি বারবার রেলগাড়ি ফাঁকি দিয়ে ফিরে এসেছি বাড়িতে? কেন কেন কেন এই শহর সাজা মফঃস্বল আর আধুনিকতা
সাজা অশান্তিগুলি কুরে করে খাচ্ছে আমায়। কোনদিন বড়ো হওয়া হলনা আমার।


কেন এসব লিখতে পারি মা তা নিশ্চয়ই তুমিই জানো। তুমিই জানো আমি কখনই আলাদা ছিলাম না সকলের থেকে, শুধু আমি তোমায় ছেড়ে কোথাও যেতে পারি না। আমার ভয় হয় মা, আমার ভয়
হয়। সব হারানোর ভয়। 

এবার  নুতন বছরে তাই আমার কোনও উপহার চাই না, চাই না হন্যে হয়ে ঘুরে সাধের সেলফি তুলতে, এবছর একটু তোমায় চাই মা। একটু তোমার কোলে শুতে চাই।

আচ্ছা তোমার সেই ঘুম পাড়ানোর গানটা মনে আছে ? 

স্মৃতি, আজোও দুপুরে ভালো থাকুক সেই জন

ভাঙা ইটের টুকরোর পোড়া দাগের ঘর,
এক্কাদোক্কা খেলা বাড়ির উঠানে ।


কাল রাতে রঙিন কাগজ কেটে
তোর পায়ের নূপুর বানিয়েছি ,
তোর এক পায়ে লাফানো
সুযোগ বুঝে ছিঁড়ে ফেলি
এই নে ! 

দু হাত শূন্য কাগজের টুকরোরা রঙিন।
মুছে যায় এক্কাদোক্কার ঘর ,
উঠোন জুড়ে ব্যাঙের ছাতার উচিয়ে ওঠা মাথা
হাতের শূন্যে শূন্য ঘোরে
মুঠোয় বন্ধ ছেলেবেলা। 

জানিস তো -
এখনো দুপুর কাটে
স্তরের উপর স্তর; সময়ের
ঠিক ঠাক মাপের নয়
তবুও খুঁজি ঘর গুলি।
নূপুর পরাই উঠোনের শেষে
প্রতিদিন রাগ করে এক পাশ মুখ রেখে দাড়াতিস যেখানে। 

" কাল একটা ঘর বানিয়ে দিবি ? তবেই কথা
নইলে আড়ি; ওই শেষ বকটি আমার। " 

এক ঝাঁক পানকৌড়ি পঁচা শামুক ঠোঁটে
অন্ধকার নামিয়ে শেষে আলটুকু নিয়ে যায় ।


" নইলে যে কাল ভোর হবে অন্ধকার ।
হারিয়ে যাবো আমারাও ! "

কন্যা তোর শাড়ির আচলের কলঙ্ক যে বড্ড মায়া

আগমনী চাঁদের বদনাম,
আমি নাকি কন্যা তোর শাঁড়ির আচলের কলঙ্ক,
কি সর্বনাশ, কি সর্বনাশ,
আমিতো তোর নীলাম্বরীরর আঁচল ভালো বেসে
ফেলেছি।
কি অদ্ভূত,
তোতে আমাতে কথা হলোনা,
সব জানা হয়ে গেলো...
কন্যা তোর শাড়ির আচলের কলঙ্ক যে বড্ড মায়া মায়া।

13 April 2017

Three movies must watch before you Die

1. The Shawshank Redemption :

A man imprisoned for a crime he has not committed. This movie is one must watch. The patience and perserverance and never giving up attitude (which is really the difficult thing one can do). Brilliant movie.

Never say Never!


2. Gravity :

This movie scared me to the core. ' Lost in Space ' this idea itself gives shivers.

Sandra has done fantastic work. To stay alive and for this she has to take a risk and leave her comfort zone following her faith to return back on Earth( Similarly shown in The Martian).

Definitely must watch.


3. The pursuit of happiness :

One of the motivational movie. If you have a desire; desire to be someone or to achieve it no matter what the circumstances are no matter how difficult it seems just get it. Achieve it.

Dialogue from movie ' Don’t ever let somebody tell you you can’t do something, not even me. Alright? You got a dream, you gotta protect it. People can’t do something themselves, they wanna tell you you can’t do it. If you want something, go get it, period.'

Brilliant movie.


4. Bucket list :

One of the greatest movie. Two strangers in their 70's both develop cancer and their journey together. The climax made me cry.

The journey of life is short and unpredictable and yes fragile. You never know how much time you have.

So, count your blessings.

Don't keep any regrets.

Money is of no worth if you don't have love.

Do what you want to. Do what you desire to.

You are blessed with people you love then love them too.

What would you do ? If you have only three months to live??

Life is very beautiful. Let's live life to the fullest.


5. P.S. I Love You :

One of my favorites.

Love is the most beautiful gift from nature. Luckily we humans can speak about it.

If you have people around you (mother, father, sister, brother, friend, husband, wife and in various forms through various people) who love you care for you stick to you in your thick and thin unconditionally. Cherish and live each moment of this love. Love them as much as you can.

Love can bring dead back to life. Love can create miracles.

One of the letter of Gerry to Holly -

Dear Holly, I don’t have much time. I don’t mean literally, I mean you’re out buying ice cream and you’ll be home soon. But I have a feeling this is the last letter, because there is only one thing left to tell you. It isn’t to go down memory lane or make you buy a lamp, you can take care of yourself without any help from me. It’s to tell you how much you move me, how you changed me. You made me a man, by loving me Holly. And for that, I am eternally grateful… literally. If you can promise me anything, promise me that whenever you’re sad, or unsure, or you lose complete faith, that you’ll try to see yourself through my eyes. Thank you for the honor of being my wife. I’m a man with no regrets. How lucky am I. You made my life, Holly. But I’m just one chapter in yours. There’ll be more. I promise. So here it comes, the big one. Don’t be afraid to fall in love again. Watch out for that signal, when life as you know it ends.

P.S. I will always love you.


6. Peaceful warrior :


This movie is must must watch.

Warriors act and fools react.

We all are born with purpose everything has purpose. We have to find it and is upto us to find it.

Remove the word ' IF ' from your life.

People who are hardest to love need love the most.

Knowledge is knowing and wisdom is doing.

Watch it; you will find list of reasons why to watch this movie.

Enjoy!!

9 April 2017

মধ্যরাতের স্বপ্নেরা বেঁচে থাকুক ...!


যে ছেলেটা রোজ বিকেলে একতাড়া গোলাপ ফুল নিয়ে মাথা নিচু করে পার্কের ওই শেষ বেঞ্চিটাতে বসে থাকত চুপচাপ, আনমনে চিন্তা করত, কিভাবে মেয়েটাকে বলবে ওর ভালোবাসার কথা, কোন উপায় খুঁজে না পেয়ে সদ্য কেনা তাজা গোলাপগুলোকে আলগোছে রেখে যেত বেঞ্চির উপরে, পার্কের ওই শেষ বেঞ্চিটাতে এখন আর কেউ বসে না,কেউ না!

যে মেয়েটা বৃষ্টির শব্দ শুনলেই নিজেকে আর দমিয়ে রাখতে পারতো না রুমের ভেতর, দৌড়ে ছাদে গিয়ে বৃষ্টি ভেজা আকাশের দিকে তাকিয়ে উদ্দাম বৃষ্টির ঝাপটায় ভিজিয়ে নিতো চুল! বৃষ্টির শব্দ শুনলে সেই মেয়েটার চোখে আজ চিকচিক করে ওঠা অশ্রু জমে ওঠে বেদনায়, বর্ষাজলের আওয়াজে সেই নিঃশব্দ কান্নার আওয়াজ হারিয়ে যায় ওই দূরে!

ওইযে ফাঁকা রাস্তাটা দেখতে পাচ্ছেন? রোজ মধ্যরাতে নীল শার্ট পড়া এক যুবক সেখানে বসে হাসিমুখে কার সাথে যেন কথা বলতো! আজকাল যুবকটিকে আজ হাসতে দেখা যায় না। হয়তো কোনদিন দেখবেন, অযত্নে ফেলে রাখা শত ভাজ পড়া কোন শার্ট গায়ে দিয়ে রাস্তার পাশে বসে সিগারেটের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন করে রেখেছে চারপাশ, নির্লিপ্ত চোখে, স্মৃতিগুলো ভুলে থাকার অসম্ভব চেষ্টায়!

এই নগরীর এই মাঝরাতে এমন কতশত স্বপ্ন হারিয়ে যায় সবার অগোচরে, কেউ তো জানে না তা! হয়তো প্রিয়জনের সাথে ফিসফিস করে বানানো ছোট ছোট স্বপ্নগুলো ঝাপসা হয়ে ওঠে চোখের জলে,বিরহের তীব্র বেদনায় বুক মুচড়ে ওঠা ব্যাথার ছলে, দুজনের কেউই জানতে পারে না কখনো। তাইতো কেউ খুব মাঝরাতে, ঘুটঘুটে অন্ধকারে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়, প্রিয়জনের প্রিয় মুখটির সন্ধানে, ওই বুঝি ফিরো এলো আবার!

কেউবা আশায় বুক বাধে, কেউবা জীর্ণ হয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলো মুছে দিতে চায় অকাতরে, টুপটুপ শব্দ করে ফেলা চোখের জলের মধ্য দিয়ে, ভুলে থাকার অবিরাম চেষ্টায়!

মধ্যরাতের স্বপ্নগুলো ভালো থাকুক! বেঁচে উঠুক নতুন করে, আবার!

5 April 2017

বৃষ্টি তোকেই

বৃষ্টি তোর ফোন নম্বর দিস…
যেসব চিঠি উঁকি ঝুঁকি দিত বুক পকেটের ছেঁড়া জানলায়,
তারা ভিজে গেছে।
লেখা আবছায়া তোর ওড়নার এক ঝাপটায়
না বলা কথারা দরজা দিয়েছে, জানলাটা তবু খোলেনি..
কথা ছিল তোর ভিজিয়ে দেওয়ার, আজকেও তারা ভোলেনি...

বৃষ্টি তোর ফোন নম্বর দিস…
যেদিন রাতে ছাদের ঘরের জানলায় তুই এলি,
তোর গায়ের গন্ধে কি যে ছিল!
ফাঁকা বাসস্ট্যান্ড–ভেজা জামা দুটো জানে,
আর জানে, যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল।


বৃষ্টি তোর ফোন নম্বর দিস…
কলেজ-ফেরত, তখন বিকেল;
ভিজলাম খালি গায়ে,কাদা মাঠের উন্মত্ততা মেখে।
শুকনো শহরে তোকে খুঁজেছিলাম,
আকাশের কোনে...মেঘ করে এল দেখে।

বৃষ্টি না হয় ঠিকানাই দিস...
মেঘের খামে তোকে কিছু জিনিস পাঠিয়ে
দেব খন,
কাগজের নৌকো, তোকে লেখা চিঠিগুলো-
আমার মন।

বৃষ্টি বাড়ি আছো

বৃষ্টি বাড়ি আছো ?
তুমি তখন বল
তারা আছে, পরে এসো…
যখন বলি,
যাবখন তোমার বাড়ির ছাদের পরে,
দেখছ না গাছেরা রয়েছে অনাদরে।
আমি বললাম তাই…
এসো একদিন সময় করে,
এনো কিছু আমারও তরে।

4 April 2017

অন্যমনস্ক পাতার আড়ালে

কতকাল ধরে ডাকছি, ডাকছি তোমাকেই হারানো নাম। কতকাল ধরে হেমন্তের হাওয়ায় সে নাম উড়ছে, পুড়ছে বুকের ভেতর। একটা শূন্য রেলস্টেশন থেকে, অচেনা কোনো গাছের শরীর থেকে, ম্লান জানালার কিনার থেকে ডাকছি তোমাকে।

নাম হারিয়ে যায় সংসার থেকে। বুকের ভেতর থেকে যায় কি? সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় মানুষ। হেমন্তের সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে জ্বলে থাকা কোনো নক্ষত্র তো আলো পাঠাতে ভুল করে না এই পৃথিবীতে! তবুও মানুষ ভুলে যায়। এই সংযোগহীনতার আরেক নাম তো মৃত্যু, হয়তো বিচ্ছিন্নতা। মাঝে মাঝে মনে হয় মানুষের জীবন কতকগুলো বিচ্ছিন্নতার যোগফল। আয়ুষ্কালে কেবল বিচ্ছেদ, কেবল বিয়োগ। হারিয়ে যাওয়া নামের ভিড়। কিন্তু সব নাম কি ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যাবার মতো? অন্যমনস্ক মনের প্রান্তরে খসে পড়া কোনো পাতা, উল্টে যাওয়া বইয়ের পৃষ্ঠা? জীবনে কোনো কোনো নাম আছে যা অবচেতনে ডাকতে ডাকতে অভিমানী বালকের মতো মন এই জীবন অতিক্রম করে। অতিক্রম করে তার আয়ুষ্কাল।


সেই নামের কথা লিখতে বসে ভোরবেলা যেন ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি এলো, আলো ফুটল না আকাশে, গলির মুখে কোনো বাড়ির ছায়ায় একা বসে থাকল নিঃসঙ্গ কুকুরটা। এ রকম হয় মাঝে মাঝে। নাম ফিরে আসে হারিয়ে যাওয়া গন্ধ নিয়ে, স্মৃতি নিয়ে, মৌন পাহাড়ের অনুভূতি নিয়ে। ফিরে আসে কতকাল আগের সব ছবি, ভুলে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কারও ছায়া।

ভুলে যাওয়া সম্ভব তাকে? সেই নাম, সেইসব মিলিত অক্ষর কি অর্থ বহন করে আজও? কিছু একটা অর্থ বহন তো করে নিশ্চয়ই। তা না হলে এই কাহিনীর অবতারণা কেন? তার কথা বলতে শুরু করি, না হলে অবতারণার চক্করেই সব ফুরিয়ে যাবে।

হেমন্তের বিকেল বড্ড স্বল্পায়ু। শুরু হয়েই ফুরিয়ে যেতে চায়। এইসব বিষণ্ন বিকেল কি সন্ধ্যার অন্ধকারে আত্মহত্যা করতে যায় কি-না কে জানে? তবে স্মৃতি যে আত্মহত্যা করতে চায় আজকাল বুঝতে পারি। হয়তো স্মৃতিরাও ভাবে, কী লাভ এই মনে পড়ার খেলা খেলে? ভুলে যাওয়া নাম তো কবেই হারিয়ে গেছে রাতের বেলা কোনো ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে পড়া প্রাচীন জোনাকির মতো। কিন্তু তারপরেও মনে পড়ে। মনে পড়তেই হয়। সেই ভুলে যাওয়া নামের সঙ্গে কবে দেখা হয়েছিল আজ স্মৃতি হাতড়ে ঠিক মনেও করতে পারি না। কিন্তু দেখা হয়েছিল আমাদের কোনো এক বসন্তকালে। কথাটা অনেকটা পুরনো রোমান্টিক গল্পের মতো শোনাল। সত্যি সত্যি তখন সময়টা বসন্তকালের সূচনা ছিল। এই শহরে তখন ফুল ফুটত, ঝরা পাতায় পথ ছেয়ে থাকত, সন্ধ্যা হলে তারার মতো নির্জনতা ফুটে উঠত। বলছি এখন থেকে তিরিশ বছর আগের কথা। ভুলে যাওয়া সেই নামের সঙ্গে দেখা হয়েছিল আমার।

একটু আগেই লিখছিলাম ভুলে যাবার প্রতিযোগিতার কথা। আসলেই কি মানুষের মন এ রকম প্রতিযোগিতায় নামে? মন কিন্তু সমুদ্রের মতো, কিছুই সেখানে একেবারে হারিয়ে যায় না। একদিন সব ফিরে আসে। মানুষ আসলে ভুলে থাকার চেষ্টা করে। মনের সংসার ফাঁকি দিয়ে চলে বাইরের সংসারকে। কিন্তু ভুলে যাওয়া নাম তো সত্যি সত্যি ভুলে থাকা কঠিন কাজ। সেই যে ভুলে যাওয়া নামের সঙ্গে কবে দেখা হয়েছিল। সবকিছু কি ভুলে থাকা গেল? একদিন খুব বৃষ্টি পড়েছিল, একদিন সবকিছু রৌদ্রে উদ্ভাসিত ছিল, একদিন ইমন, ভৈরবীতে টান লেগেছিল, সব তো মনের কাছেই পড়ে আছে। কখনও ভালোবাসা হয়তো এমনই, একদিন শুরু হয় মনে রাখার মন্ত্রে, আজ ভুলে যাবার মন্ত্র। ভুলে যাওয়া নাম কি কখনও ভেবেছিল সে নিজেই একদিন চলে যাবে মনের বিরূপ প্রান্তরে? জড়িয়ে যাবে মনে না রাখার কঠিন শর্তে? প্রেমে পড়ার সঙ্গে আসলে অনেক শর্ত জড়াজড়ি করে থাকে, থাকতে চায়। তারপর একদিন খেলা ভাঙে, প্রতিশ্রুতির মালা পড়ে থাকে পথের ধুলায়। দু'জন মানুষের পথ আলাদা হয়ে যায়, স্বপ্ন আলাদা হয়। কিন্তু তারপর? তারপর তো আরও খানিকটা গল্প বেঁচে থাকে। সে তো ভুলে থাকা কোনো নাম মনে পড়ে যাওয়ার গল্প।

ভুলে যাওয়া সেই নামের সঙ্গে দেখা হয়েছিল ভিড়ের ওপর ভাসতে থাকা মতিঝিলে। চারদিকে সেদিন ঝকঝক করছে রোদ, হু হু হাওয়া। মনে আছে, সে দিনটা যেন হাওয়ার ওপর ভর করেছিল। কে জানে, হয়তো হাওয়াই দু'জন মানুষকে উড়িয়ে এনেছিল নিয়তির মতো। বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার পর সেই প্রথম দেখা। ভিড়ের মধ্যে আচমকা খুলে দেওয়া খুব একটা রঙিন ছাতার মতো ছিল দৃশ্যটা। চারপাশে মানুষের কণ্ঠস্বর, বাসের অস্থির হর্নের আর্তনাদ, ফেরিওলার হাঁক- সব কেমন নিমেষে একটা গভীর নৈঃশব্দের মাঝে ঢুকে পড়ল। ভুলে যাওয়া নাম তখন কপালে একগোছা অবাধ্য চুল সরাতে ব্যস্ত। আমি ব্যস্ত অবিন্যস্ত নিজেকে গুছিয়ে নিতে। মনের মধ্যে অনেক প্রশ্ন তখন পথ খুঁজছে বের হয়ে আসার। শুধু সামান্য হাসি বিনিময় সেদিন ছিল সংযোগ সেতু। ছোট দু-একটা প্রশ্ন, দু-একটা উত্তর। তারপর ভিড়ের ভেতরে, অনন্তকালের হাওয়ার ভেতরে অনেক কথা, অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খেয়ে ফিরে গিয়েছিল। কোথাও কফি খেতে যাইনি, কোনো নির্বাচিত আড়ালও খুঁজে নিইনি। ওই ভিড়ের পথের ওপরই বিদায়, বিদায়। দু'জন মানুষ আবার মানুষের ভিড় কেটে ফিরে গিয়েছিল নিজস্ব পথে। কিন্তু আজ অনেকটা সময় পার হয়ে লিখতে বসে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে মন চাইছে। সংক্ষিপ্ত অগ্ন্যুৎপাতের মতো সেই একটি দিনে আমার মন কী দেখতে চাইছিল তা আজ বলে ফেলতে ইচ্ছে করছে। সত্যি সেদিন দেখতে চেয়েছিলাম, জানতে চেয়েছিলাম ভুলে যাওয়া নামের ভালো না থাকার জবানবন্দি। আমার বিশ্বাসঘাতক মন জেনে নিতে চেয়েছিল তার নতুন এই জীবনের বেদনা-কাব্য। অনুমান করে নিতে চেয়েছিল তার মনের মধ্যে আজও আমার জন্য জমিয়ে রাখা দীর্ঘশ্বাসের পরিমাপ। মন খুব বেশি করে বুঝে নিতে চেয়েছিল সে ভালো নেই, সে ভালো নেই।

উত্তরটা মিলেছিল সেদিন? না। তারপর হাহাকার নিয়ে ঘরে ফেরা, ফেরা সেই একই বৃত্তাবদ্ধ জীবনে। এখন মাঝে মাঝে মনে হয় ভুলে যাওয়া সেই নামও কী জানতে চেয়েছিল একই উত্তর? মন আসলে এমনই হয়তো। ফুরিয়ে যাওয়া সম্পর্ককে একটা দরজা-জানালা ছাড়া ভাঙা বাড়ির মতো করেই দেখতে চায়। শুনতে চায় সেই অস্তিত্বের মাঝে হাওয়ার একটানা আর্তনাদ। আমিও তেমনটাই চেয়েছিলাম। দেখতে চেয়েছিলাম আমি খেলতে পারিনি বলে খেলাটাই ভেঙে গেছে।

আক্ষেপ দিয়ে নতুন করে লিখতে চেয়েছি সেই ভুলে যাওয়া নামের বানান। প্রাণপণে ভুলে যেতে চেয়েছি সব। কিন্তু পেরেছি কি? আসলে ভুলে যাওয়া নাম কখনোই ভুলতে পারা যায় না। এক অভিমানী বালকের মতো মন তাকেই খুঁজতে থাকে হারানো খেলনা ভেবে। তাই এই শহরের ভিড়ের মধ্যে, রাত্রিবেলা শূন্য পথে, আলোয়, ছায়ায় খুঁজে ফেরা তাকে। ভুলে যাওয়া নাম সংসারের ছায়ার মধ্যে মরে যায়। মরে যায় পাথর চাপা ঘাসের মতো। সত্যিই কি মরে? ভুলে যেতে চাইলেই কি ভুলে যাওয়া নাম বিদায় নেয় জীবন থেকে? না, বিদায় নেয় না। কোনো বৃষ্টি আসি আসি ভোরবেলা, কোনো এক ব্যস্ত দিনে অনেক রোদের মধ্যে, হেমন্তের মরে আসা বিকেলে ভুলে যাওয়া নাম ঝাঁপ দেয় ফিরে। উল্টে যায় পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা পেছনের দিকে।

ভুলে যাওয়া নামের সঙ্গে আর কোনোদিন দেখা হয়নি। তবু নাম ধরে ডাকি, ডাকতে থাকি আড়াল থেকে। জানি, ভুলে ভরা একটা গল্পে নামটাও ভুল হয়, সংশোধনের সুযোগ থাকে না।।

2 April 2017

প্লিজ ঘুম হয়ে যাও চোখে, আমার মন খারাপের রাতে

আজ আমার মন ভাল নেই..।
কারন আর কিছুই না। আজ আমার একটা বন্ধুর খুব মন খারাপ, একটু বেশিই খারাপ।

ক'দিন হল এফবি থেকে একটু ছুটি নিয়েছি,
আর নয়তো এখন আমার স্ট্যাটাস জুড়ে থাকতো অন্যকিছু।

আজ আমার মন ভালো নেই
বসছে না মন কিছুতেই
খোলা জানালায় দাঁড়িয়ে
সুদূর আকাশ থেকে কিছু রঙ এনে দাও না
আজ আমার মন ভালো নেই
ভালো নেই ভালো নেই

নদী মরে যায় শুকোলেই
এমন তো কোনো কথা নেই
আবার শ্রাবণ এসে ভরে দিয়ে যায়
তৃষিত নদীর বুক
তেমন শ্রাবণ হয়ে তুমি আজ ভরে যাও না
আজ আমার মন ভালো নেই

আলো নেভে দিন ফুরোলেই
এমন তো কোনো কথা নেই
জোনাকি প্রদীপ হয়ে জ্বেলে দিয়ে যায়
তিমির রাতের মুখ
তেমন প্রদীপ হয়ে তুমি আজ জ্বলে যাও না
আজ আমার মন ভালো নেই
ভালো নেই ভালো নেই


আজ আমার মন ভাল নেই

কাছের বা দুরের প্রিয় কোন মানুষের মন খারাপ জানতে পারলে,
কেন জানি কিছুতেই আর মন ভাল রাখা যায় না।

বছর কয়েক আগে ভোডাফোনের একটা টিভি কমার্শিয়াল দেখা যেত খুব। কথাগুলো আমার এতটাই পছন্দ হয়েছিল যে ডাউনলোড করে মোবাইলে রেখে দিয়েছিলাম, এখনও আছে।

কথাগুলো অনেকটা এরকম-

The little things you do for me..and nobody else make me feel good.. the little things you do for me..making me smile and no one else could! that's why i like to sit next to you, and hear your mad stories, i know they're not true..and i like that we share a secret or two..together..

এখনও মাঝে মাঝেই শুনি, মন ভাল হয়ে যায়।
মনে হয়, এটাই মনে হয় বন্ধুত্ব।

খুব ইচ্ছা করছে, বন্ধুটাকে একটা ফোন দেই। কিছু কথা বলি, এটা সেটা একটা কিছু বলি।
চাই কি একটা গান -ই শুনিয়ে দেই।

বন্ধু তোমার চোখের মাঝে চিন্তা খেলা করে
বন্ধু তোমার কপাল জুড়ে চিন্তালোকের ছায়া
বন্ধু তোমার নাকের ভাজে চিন্তা নামের কায়া
বন্ধু আমার মন ভাল নেই
তোমার কি মন ভালো
বন্ধু তুমি একটু হাসো
একটু কথা বলো
বন্ধু আমার বন্ধু তুমি
বন্ধু মোরা ক’ জন
তবুও বন্ধু…… মন হলো না আপন ।।

বন্ধু আমার বুকের মাঝে বিসর্জনের ব্যথা
বন্ধু তুমি অমন করে যেও না আর একা
বন্ধু এসো স্বপ্ন আকি চারটা দেয়াল জুড়ে
বন্ধু এসো আকাশ দেখি পুরোটা চোখ খুলে
বন্ধু এসো জল এ ভাসি
বুক ভাসানোর সুখে
বন্ধু তোমার বন্ধু আমি
বন্ধু মোরা ক’ জন
তবুও বন্ধু….. ভাসিনাকো
আঁকিনাকো স্বপন ।।



বন্ধু তোমার চোখের মাঝে চিন্তা খেলা করে



তাও পারছিনা, তাই ভাল লাগছে না কিছুই।

রাওলিং এর জাদুর দুনিয়ার হ্যারি পটারের মত জাদুর ছড়ি আমারও যদি থাকতো,
এক নিমিষে 'ছু মন্তর ছু' বলে উড়িয়ে দিতাম সবার মনের আকাশ যত কালো করে আসা মন খারাপের মেঘ।
ইশ! কি দারুন-ই না হত তখন, কি ভালই না লাগতো!

আমার মাঝে মাঝে মনে হয়,
সৃষ্টিকর্তা আমাদের সকলের মাঝেই এক টুকরো ম্যাজিক দিয়ে দিয়েছেন।
আর তা হল
প্রিয় মানুষগুলোর যখন মন খারাপ থাকে
এক আধটু ভালবাসায়
তাদের মন ভাল করে দেওয়ার ক্ষমতা।

আজকাল কেন যেন মনে হয়,
আমার বরাদ্দে থাকা এই ম্যাজিকটুকু কেমন যেন ফিকে হয়ে ফুরিয়ে আসছে!
আগে, যে কারও মন ভাল হয়ে যেত আমার সাথে একটু কথা বললেই।
আর এখন,
কারও মন খারাপ শুনলে আমার নিজেরই আরও মন খারাপ হয়ে যায়!কি আজব!

ছোট থাকতে লাইফটা অনেক সহজ সরল ছিল,
কখনো কখনো কোন কারনে অভিমানে একটু আধটু মন খারাপ হত বটে-
কিন্তু অকারনে হুট করেই মন খারাপ হয়ে যাওয়ার বালাইটা ছিলই না!

মন খারাপ হলে কিছুই ভাল লাগবেনা এটাই স্বাভাবিক।
আমারও ভাল লাগেনা।

এমনিতে কোন কারনে মন খারাপ হলে, কোন ব্যাপার না। সময়ে সেরে যায়।
কিন্তু যখন কোন কারন ছাড়াই মন খারাপ হয়ে যায় আর স্মৃতির শহর থেকে সব মন খারাপের কস্তগুলো এসে জাপটে ধরে বসে, তখন সত্যি সত্যি মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।

সমস্যাই যেখানে নাই, সেখানে সমাধান আসবে কীসে?!

আগে দেখা যেত এরকম সময়গুলোতে একা একা ঘুরে বেড়াতাম সাইকেলে, অথবা একেকটা বিকেল হেটে হেটে কেটে যেত রেললাইনে।

আজকালকার নাগরিক জীবনে এভাবে হারিয়ে যাওয়ারও সুযোগ পাওয়া যায় না কোন।
তাই বুঝি অর্ণবের সাথে গেয়ে উঠা-

হারিয়ে গিয়েছি, এইতো জরুরি খবর
অবাক দুই চোখে, ছায়া কাঁপে ভয় অভিমানে
হারিয়ে যাওয়ার নিয়ম নেই এখানে
হারাবো বলে, পা টিপে এগুতে গেলে
গোটা শহর বাতি জ্বেলে সতর্ক
পায়ে পায়ে হারাবার জায়গা খুজে মরি
গোটা শহর বাতি জ্বেলে সতর্ক
পায়ে পায়ে হারাবার জায়গা খুজে মরি

কোথাও নেই ঝুমঝুম অন্ধকার
তক্ষক ডাকা নিশুতিতে
রূপকথা শুনে শিউরে উঠে না গা
স্বপ্নে আমার শরীরে কেউ ছড়ায় না শিউলি ফুল
আলোর আকাশ নুয়ে এসে ছোঁয় না কপাল
হারিয়ে যাইনি তবু এটাই জরুরি খবর
আকাঙ্ক্ষা আর হতাশায় হারিয়ে যাওয়ার কোনো মানে নেই

নিবিড় ঘরে আধোআলো বিশ্বাসে
বুকের গভীরে কার যেনও ডাক আসে
যদি কোনোদিন ঝরেঝরে যায় অন্ধকার
ভালোবাসা ধুয়ে দেয় গোটা মুখ আমার
দুচোখে স্বপ্ন ভরে দিয়ে যায় কেউ
যদি কোনোদিন অটুট বিশ্বাসে
যদি কোনোদিন যদি কোনোদিন যদি কোনোদিন যদি কোনোদিন 


হারিয়ে গিয়েছি এইতো জরুরি খবর

কখনো আবার বন্ধ ঘরে ফুল ভলিওমে অথবা গভীর রাতের অন্ধকারে,
কানে চাপা হেডফোনে ফিরে আসে চন্দ্রবিন্দু -

আমার ভিনদেশি তারা একা রাতেরই আকাশে
তুমি বাজালে একতারা আমার চিলেকোঠার পাশে
ঠিক সন্ধ্যা নামার মুখে
তোমার নাম ধরে কেউ ডাকে
মুখ লুকিয়ে কার বুকে তোমার গল্পো বলো কাকে

আমার রাত জাগা তারা তোমার অন্য পাড়ায় বাড়ি
আমার ভয় পাওয়া চেহারা আমি আদতে আনাড়ি
আমার আকাশ দেখা ঘুড়ি কিছু মিথ্যে বাহাদুরি
আমার চোখ বেধে দাও আলো দাও শান্ত শীতল পাটি
তুমি মায়ের মত ভালো আমি একলাটি পথ হাটি

আমার বিচ্ছিরি এক তারা তুমি নাও না কথা কানে
তোমার কিসের এতো তাড়া
রাস্তা পার হবে সাবধানে
তোমার গায়ে লাগেনা ধুলো
আমার দু-মুঠো চাল চুলো

রাখো শরীর হাতে যদি আর জল মাখো দুই হাতে
প্লিজ ঘুম হয়ে যাও চোখে আমার মন খারাপের রাতে
আমার রাত জাগা তারা তোমার আকাশ ছোঁয়া বাড়ি
আমি পাইনা ছুঁতে তোমায় আমার একলা লাগে ভারি 


আমার ভিনদেশী তারা একা রাতেরই আকাশে



ছোটবেলা থেকেই আমি দুষ্টের শিরোমণি।
বাসায় বড়রা বলে, আমার মাথায় নাকি সবসময়ই একটা না একটা দুষ্টুমি খেলা করে!
আমার মুখে সবসময় বত্রিশ দন্ত বিকশিত একখান হাসি ঝুলে থাকে,
বাসার সবার মেমরিতে এই বিষয়টা অটোসেভ হয়ে আছে!

আমার মায়ের সাথে আমার সাথে সম্পর্ক কখনই খুব একটা বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল বা আছে বলে মনে হয় না।
আমি সারাদিন মা'কে নানাভাবে জ্বালানোর তালে থাকি আর ব্যাপারটা একটু বেশি বেশি হলে ঝাড়ি খেয়ে ঠাণ্ডা হয়ে যাই। এ-ই চলে আর কি!
তাই মন খারাপ হলেও কাউকে তা বুঝতে দিতে ভাল লাগে না আমার, কি লাভ আর কারও মন খারাপ করে দিয়ে?

তবুও মাঝে মাঝে যখন মন খুব বেশি খারাপ হয়ে থাকে, একটু নিজের ভেতর থাকতে চেষ্টা করি।
দুষ্টামি বন, একটু চুপচাপ এই আর কি!
কিসের কি, মা ঠিকই বুঝে যায়!
একটু পর পর ঘ্যান ঘ্যান, কি হইছে? কি হইছে? কি হইছে?!
উফ! কিছু বলা হয় না। তবুও মা'য়ের উতকন্ঠা থামাইতে হইলেও দুঃখবিলাসরে টাটা দিতে হয়!

মন খারাপের দিনে আমার কথা ভেবে আর কারও চোখে জমা মেঘ,
বৃষ্টিশেষে আমার জন্য উপহার – একটুকরো রুপোলী রোদ্দুর। এ কি কিছুই না!
আমার কোন কথায় কিংবা ছোট্ট কোন কাজে যদি কারও মন খারাপের ক্ষণ একটু হলেও কমে আসে,
সেই অপার্থিব আনন্দের সত্যিই কি কোন তুলনা হয় নাকি!

কারও চোখে মৃদু একটু হাসি, হঠাৎ ফিরে তাকানোয় নিখাদ ভালবাসা।
দিনভর গান, রাতভর আড্ডা।
তীব্র খরার দিনে এক টুকরো মেঘ,
বিকেলের উদাসী হাওয়ায় বৃষ্টিভেজার স্বপ্নপ্রহর।
কনে দেখা আলোয় প্রিয় কারও সাথে চুপচাপ বসে থাকা একটা সন্ধ্যা।

এইসব ছোট ছোট মুহূর্ত নিয়েই তো আমাদের বেঁচে থাকা।
একটু এভাবে ভেবে দেখলেই হয়, তাহলেই মন ভাল হয়ে যাবে।

তখন
সহসাই বন্ধ জানালায় করা নেড়ে যাবে কেউ।
মনের ঘরের বাতাসে ভেসে বেড়াবে চন্দ্রবিন্দুর গান -

ছেড়া ঘুড়ি রঙিন বল
এইটুকুই সম্বল
আর ছিলো রোদ্দুরে পাওয়া বিকেলবেলা
বাজে বকা রাত্রি দিন
এসটিরিক্স টিনটিন
এলোমেলো কথা উড়ে যেতো হাসির ঠেলায়
সে হাসি ছুটে যেতো গোধুলী মিছিলে
সবার অলক্ষেতে তুমিও কি ছিলে
হাওয়ায় হাওয়ায়
হাওয়ায় হাওয়ায়
বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেলবেলায়
আরেকবার যদি তোমাদের দলে নাও খেলায় ।।

গল্পের মতো ইশকুল বাড়ী
জমে ওঠা ক্ষত খেলবো না আড়ি
সে খেলা কানা গলি রোদ চুপিসারে
এবং আগুন ছিলো লাস্ট কাউন্টারে
হাওয়ায় হাওয়ায়
হাওয়ায় হাওয়ায়
বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেলবেলায়
আরেকবার যদি তোমাদের দলে নাও খেলায় ।।

বইমেলা গুলো গার্গি শ্রেয়শী
চেনা মুখগুলো পরিচিত হাসি
সে হাসি রোদ ঝিকিমিকি কার্নিশে
সাহসী চুম্বন আজো পারেনি সে
হাওয়ায় হাওয়ায়
হাওয়ায় হাওয়ায়
বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেলবেলায়
আরেকবার যদি তোমাদের দলে নাও খেলায় ।।

ছেড়াছবি স্ফটিক জল
এইটুকুই সম্বল
বাদবাকী রোদ চলে যাওয়া বিকেল বেলায়
একঘেয়ে ক্লান্ত দিন
টানকুস এসপিরিন
যানজটে দেরী হয়ে গেল এ কালবেলা
মরা মাছের চোখ যায় যতদূরে
শুকানো জলছবি আজো রোদ্দুরে
হাওয়ায় হাওয়ায়
হাওয়ায় হাওয়ায়
বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেলবেলায়
আরেকবার যদি তোমাদের দলে নাও খেলায় ।। 

আর মনের কোণের বাইরে যাবার করিডোরটায় ভাল লাগার কোন একটা ছায়া এসে মন ছুঁয়ে যাবে।
হাওয়ায় হাওয়ায় প্রানে এসে ঠেকবে চেনা অচেনা প্রিয় সুর,

ঝরে ঝরে পড়ে ছিমছাম
শুকনো পাতার স্তুপ,
কবে যেন কাকে চিনতাম
ডাকবাক্সেরা চুপ।
কিছু পিছু ডাকা শার্শীতে আঁকা
চুপ করে থাকা বন্ধু,
স্বপ্নের জালে লন্ঠন জলে
গল্পেরা চলে কোনদুর।

রাস্তা ফেলে..হুহু..হুহুহু..

শুধু ফেরা পথ টুকু,
ঘেরা পথ টুকু;
সেরা পথ হয়ে থেকে যাক -

আজ বিকেলে..

দেখো কুয়াশার নেই ডাক নাম
তবু চশমার চোখে বাষ্প,
মিঠে রোদ্দুর চায় রেলিংএর সায়
একদিন নিতে আসবো।

কবে জানি না,
কবে জানি না..

দেখো হাত থেকে হাত কাচঘুম
যেন শীত চলে গেছে পড়শু,
যদি দেখা হয়ে যায় চেনা রাস্তায়
ফিরে যেতে চায় মরসুম।

কেন জানি না,
কেন জানি না..

শুধু ফেরা পথ টুকু,
ঘেরা পথ টুকু;
সেরা পথ হয়ে থেকে যাক -

আজ বিকেলে,
আজ বিকেলে.."


শুধু ফেরা পথ টুকু, ঘেরা পথ টুকু; সেরা পথ হয়ে থেকে যাক -



আনমনেই গুনগুন করে গেয়ে উঠতে হবে মনের অজান্তেই।

আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।

ঘাসফুলেদের সাথে

তুমি সারাক্ষন খুঁজে গেছো দুপুর সন্ধ্যে বেলায়, সময় দাওনি ঘাস ফুলেদের। লিলুয়া বাতাস হয়ে ছুয়ে গেছো দূর আরো দূর বেপাড়ায়… ফিরে গেছে সে নদী...