নিরর্থক

শোন তোর ওই হাতটা
যেটা লাল ছাপা মেহেন্দিতে রাঙানো।
সেদিন দেখি জঙ্গলে বাঘের থাবায়
গুছিয়ে রাখ
আমাকে বাড়িয়ে দিস না।
আমি চাই না তোর স্বপ্নে কবিতা আসুক
শুধু কবিতারা আসুক তোর মতো আমার স্বপ্নে।

আমার বুকের পাহাড়ে সূর্যোদয় হয়
সূর্যের তেজে  তোর কপাল ছুঁয়ে ঘাম।
গড়িয়ে চলে তোর নরম আদুরে শরীর
সরিয়ে রাখ
আমাকে করিস না উত্তাল তাপে।
আমি চাই না সুনামি আসুক তোর বুকে ধ্বংস নিয়ে
শুধু আসুক ধ্বংস সাদাপাতায় কবিতা হয়ে।

শোন তোর ওই চেলিটা
যেটা লাল রক্তের বিশ্বাসে ভেজানো।
সেদিন দেখি বিড়ালের চোখে লাগানো
চোখে রাখ
আমাকে ফলো করিস না।
আমি চাই না তোর জীবনে মুক্তি আসুক
শুধু কবিতারা মুক্তি হয়ে আসুক আমার খাঁচায়।

তুই তেমনি এক উঠোন হয়ে যা……

মোম-রঙ আলোর শেষটুকু ওর মুখের ওপর চুঁয়ে পড়লে
আমি সন্ধে উঠোনের দিকে চেয়ে থাকি
ছুঁয়ে দেখি বুড়ির হাতে কাঁপা মাটির প্রদীপ যেটুকু আদরে
তারই মত ইতিউতি নোয়ানো আলপনা চুল গাল বেয়ে শুয়ে

যেমন ধুয়ে যাওয়া খি-রিষ ফল,ঘুম নেই অলস ঝিনুক...

অথচ আমার প্রিয় উঠোন সোনা গোবর নিকোয় ভোর আজান
তারই শ্যামলা চোখে আতপ খুঁটে খাই প্রতিদিন 
অনেকটা ভেঙে ওঠা আঁশটে চুবড়ির মত 
মাঝ পুকুরে ভেসে যায় তিরতির মুখ ও আমার প্রিয় উঠোন।

এ ভাবে ফিরে আসিস আবার বৈকালি চন্দন বাটার শব্দে
আজ তেমনই এক পোড়ো মন্দির রঙা পায়রার ঠোঁটে ভুঁই-খর তুই 

দেখে যা জমানো নারকেল পাতায় আর
ভোরের চা ফোটায় না আমার চাঁদ মামা

ঘাস আঁচল খুঁটে বাঁধা কাঁচা আদার গন্ধে
ম ম রূপ দেয়ালে এখন সিঁধেল কাটির ঘুম

আমার উত্তর উঠোন তুই সন্তান ফুল গেঁথে নে এই শেষ নিম রাতে

কাল যেন হারিয়ে ফেলিস বাসি পিয়ারা ফুল শাদার গন্ধ,
অথচ ওইটুকু পেয়ে জাম কিশোরী প্রথম মাটি-ঘাসই এঁকেছিল তো।


তবু উঠোন নিকিয়ে চলবে সত্তরের প্রবাসী বুড়ি, যদিও তা নেই

যেমন ভোঁতা ঝাঁটার শব্দ গেঁথে চলবে এক একটা জল অক্ষর
যেমন দুধ দুইতে আসা লক্ষ্মী-পিসি ফিরে পাবে ফাঁকা গোয়াল

তুই তেমনই এক উঠোন হয়ে যা...

কলগার্ল

ক্লান্ত শরীর নোনতা জীবন জিভ চেটে নেয় ধর্মতলা
আকাশ জুড়ে যখন তখন মনখারাপি কাব্য নামে
ভালবাসার চুল্লি সাজে শহর জুড়ে বিকেলবেলা
তুমি তখন আগুন জ্বাল ভাসাও শরীর গোপন স্নানে

গ্লসি মোড়ক ঠোঁটের ফাঁকে হজম করে নিষিদ্ধতা
সিফন আঁচল আড়াল খোঁজে বস্তাপচা নখের দাগে
ঘুমের চোখে কাঁপন তোলে পেটের খিদেয় বিশুদ্ধতা
তখন তুমি কাজল ঢাল চোখের পাতায় ভীষণ রাগে

মধ্যরাতে তুলায় ওঠে জ্বরের তাপে অসাড় যোনি
শহর আমার শিমুল তুলোয় নরম প্রেমের পদ্য লেখে
তুমি তখন চাঁদ হয়ে যাও গা গুলিয়ে জ্যোৎস্না বমি
অদম্য সব ইচ্ছেগুলো রেলিং ছুঁয়ে কাঁদতে শেখে ...

সাক্ষী থাকুক

সাক্ষী থাকুক

রিক্সা করে ফিরছিলি তুই সন্ধ্যেবেলা
বললি ফোনে বই কিনেছিস; পড়তে দিবি
শহর জোড়া ক্যাকাফোনি সাক্ষী ছিল
চৈত্র সেলের রূপোর হারে স্বর্গ ছুঁবি।

রাত গভীরে আধখোলা বই টেবিল জুড়ে
পেপারওয়েট সাক্ষী ছিল অন্ধকারে
চাপা গলায় বকছি তখন ইচ্ছে মতন
ল্যাম্পপোস্ট আর নির্জনতা মাতাল করে।

চুলের ক্লিপটা দাঁতে চেপে বললি ফোনে
বই কিনেছি শুধু তোর জন্যেই, বিশ্বাস কর
সাক্ষী ছিল দেওয়াল ঘড়ির সেকেন্ড কাঁটা
মনে তখন উথাল পাথাল ভাইরাল জ্বর!

নীল শাড়িটা; ওটা দক্ষিণাপণে কিনলি তো তুই!
তোকে আমি ছুঁতেও পারি অনেক রাতের অতল
মাপে
পাশে বসিস গল্প করিস; ছ'তারিখের সিঁড়ির মত।
সাক্ষী থাকে সেই গিটারিস্ট নীচের ধাপে।
অতো রাতেই হিসেব করি; তিনশ নেবে
বাক্সে দুশো, একশ আরো কুলিয়ে যাবে।

এই মাসে নয় পড়তে গিয়ে ফিরব হেঁটে
সাক্ষী তখন থাকবে কে বল! চুল দাড়িটা ফেললে
ছেঁটে!
বলিনি যেন! দেখি তোকে গভীর রাতে
দেখতে পেলাম.. একটু দেরীতে আসলি যখন
কেরালা কটন আঁচল ঢেকে বইদুটো কে
সাক্ষী ছিল, ঠোঁটের পাশের ছোট্ট ব্রণ।

হিসেব টাকায় কলেজ থেকে কলেজস্ট্রীটে
দু'নম্বরটা কিনেই নিলাম রোদ দুপুরে
লস্যি আর আমপোড়া রা সাক্ষী ছিল
ট্রাম লাইনে রোদমাখা দিন তুষার ঝরে।

আমি জানি, বইদুটো তোর পাশেই রাখা..
এইটা তোর রিপিট হবে জেনেও, দিতে ইচ্ছে
নাম লিখিনি। জানি এটা গিফ্ট হবে ফের
ঝড়া চুল আর ইয়ারফোনের ‌যত্ন প্যাঁচে।

এখন আমার ইচ্ছে জোড়া টেবিল আলো
মনখারাপের হিস্টোলজি তোর অজানা
কন্ঠ শোনার ইচ্ছে সেদিন সাক্ষী ছিল,
ফোনটা দেখি ফোন করেছিস! রিংটোনটা
ততক্ষণে মিলেছে ডানা।

সদন স্টেশন। চারটে নাগাদ সেই বিকেলে
রাস্তা পাশে সাক্ষী তখন সুখের ধোঁয়ায়
গরম বিকেল ঠান্ডা হবে আঁচল নদী
পা মেলাবো, সুযোগ যদি আঙুল ছোঁয়ায়। 

আমাকে একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে দে

দিব্য আছি এখন

অমৃত আর বিষের পাত্র রাখা,
বেছে নিতে হবে আমায়…
একটা আমার আর একটা তোর জন্য।
বড় দোটানায় পড়েছি...
বিষের পাত্রটা তুলে নিতেই পারি,
কিন্তু অমৃত যে বিষবৎ হবে তোর কাছে।

তোকে শাস্তি দেব কি করে?
নিয়ম ভেঙে দুটোই গলায় ধেলে দিলাম।
প্লাস মাইনাসে মাইনাস…
দিব্য আছি এখন।
তুই ও দিব্য আছিস ।।



আমাকে একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে দে

নাই বা শব্দ করলি আর
কয়েকদিন ধরেই তুই আবারও আমার স্বপ্নে হেটে বেড়াচ্ছিস,
মন খারাপ এর রাতে নিস্তব্ধতা কে চুরমার করছে তোর পায়ের শব্দ।
লীন হওয়া তোর অস্থি-মজ্জা এখন ও কিছু বলতে চায়!
কাক ডাকা ভোরটা তুই আমার জন্য ছেড়ে দে ।

সেদিন ও ঠিক এমন ভাবেই এসেছিলি বিদায় নেওয়ার আগে।
নাই বা শব্দ করলি আর –আমাকে একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে দে ।।


 লেখাটা এখানেও পাবেন
আমাকে একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে দে

নীল শীতের চুমুরা (যেখানে যতটুকু ফেলে এসেছি নিজেকে)


উত্তরের জানলার হাওয়া কাউকে জানিয়ে দিয়েছে শীত আসছে। আমি বুঝেছি, স্টেশনে বসে, কিছু ট্রেন ধরতে আসা মানুষের মুখ দেখে। কীভাবে, জানি না। কিন্তু তাঁদের এক একটা মুখ দেখিয়ে দিয়ে গেলো শীত আসছে। মাঝে একটা কালীপূজো আছে যদিও। আরও একটা ভাইফোঁটা। লম্বা কতগুলো দীর্ঘ আলো। উৎসব, আলো, অনেক, বিরক্তিকর শব্দ-বাজি। তারপর বারান্দায় শীতের পোশাক জড়ো করে রোদ পোহানো। সকালবেলা উঠতে আরও খানিক দেরি করে উঠতে চাওয়া। একটা নিজস্ব ছাদ বেছে নিয়ে পাশের বাড়ির পুরনো মুখকে হটাত চিনে নিলে কি জীবন কি সুন্দর হয়ে যায় আরও একটু? আরেকটা নতুন চায়ের সস্তা দোকান খুঁজে নিলে কি ভালো-থাকা বেড়ে যায়? কি জানি? ‘’মায়া, মায়া। ওসব মিথ্যে। বাস্তবে ফেরো।’’- কেউ একটা বলেছিল। বদলে বলতে পারিনি আমরা যে গল্পতেই খুব ভালো থাকি। সারাজীবন ধরে কেবল গল্প খুঁজি গোগ্রাসে। তারপর নিজস্ব একটা পছন্দের গল্পে নিজেকে ‘ফিট ইন’ করেনি। তারপর শুরু হয় কথা বলা। ফ্যানেদের সারাবছরের কাজ কিছু কমে এসেছে, এখন তার একটু বিশ্রাম নেওয়ার সময়। তবে সারাবছরের পরিচিত বন্ধুকে মিস করতে করতে যখন কান পাতি, তখন দেখি এই ফ্যানের শব্দ অনেক শব্দকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল। দূর থেকে ভেসে আসা শব্দ। যেমন হঠাত্‍ খুব তীব্র প্রেমে পড়লে সহজেই ভুলে যাওয়া যায় কাছের অনেক মানুষকে।


চরম এক অরাজকতা মাথায় চাপলে মাঝে মাঝে খুব করে ঘুরে বেড়াতে ইচ্ছে করে আকাশ-পাতাল। ছোটবেলার বন্ধু বাড়িতে নেমন্তন্ন করতে আসলে বুঝি দূরত্ব বাড়ছে, খুব করে, নেমন্তন্ন করতে হয়। আগের বছর এসময় কেমন ঠাণ্ডা ছিল জানিনা, কেবল জানি আমার দু-চাকার বাহনটি পাঁচ বছর পূর্ণ করবে এই শীতেই। বড় হচ্ছে, অনেক পুরনো গোপন কথা তো ওই জানে। সমু বাইরে থাকে, ঘুরতে আসে মাঝে সাঝে বাড়িতে। চাকরি হয় সমুর, মন পড়ে থাকে মিউজিকে। সমু বলে একদিন মিউজিক করবে, করবে আমি জানি। একদিন করবেই। শুধু আলাদা করে কোনওদিন শুরু করা হবেনা, কারণ ওকে বুকে টেনে নিয়েছে মুদ্রা রাক্ষস। ও বড় জটিল বন্ধন, সে বড় জটিল পোষ্য। আমি জানি শঙ্খ খুব একা থাকে, কারণ শঙ্খের সমস্ত ভাল-থাকা কেড়ে নিয়েছে একা বাঁচার এক সাময়িক লোভ। আজ বয়সটা একটু বেড়ে গ্যালে শঙ্খ বোঝে ভাল-থাকা কেবল কতগুলো চেনা-মুখ ছাড়া কিচ্ছু নয়। তর্কের বাইরে, অনেক বেশি অন্ধ ভালো থাকা। শঙ্খ জানে আজ আর খাটের তলায় একটা খুব অন্ধকার কোণে একটা ঝুল ভরা ক্যাম্বিস বল নেই। থাকলেও নেই সেই বল ধরার মতন হাতের পরিমাপ। ভালো থাকা একটা ঝুল ভরা ক্যাম্বিস বল ছাড়া কিচ্ছু নয়।


আমি জানি সে খুব ধীরে কথা বলে। তবে আমার কাছে একা যখন থাকে তখন তার কথা খুব দ্রুত হয়, জোরেও হয়। আমি জানি আমরা কেউ কাউকে ভালবাসি না, কেবল একসাথে একটা পথ চলতে চাই, একটা জার্নি, একটা ট্রিপ। জানি এই একটা বিন্দুতে দাঁড়িয়ে একে অপরকে ঘিরেই আমাদের বেঁচে থাকা বিন্দুগুলো প্রকাশিত হবে। আমার লেখা, আর ওর ক্যানভাস। সেই ক্যানভাসে মাঝে মাঝে শুয়ে থাকি আমি, মাঝে মাঝে রঙ মেখে নষ্ট করে ফেলি ওর যেকোনো একটা ছবি। তারপর কোনদিন খুব কাছে বসে থেকে ভোরের আলো ফুটে ওঠা দেখি, ভাবি আমাদের পুরনো কাছের মানুষেরা কীভাবে ঘুম থেকে উঠত। তাঁদের ঘুমিয়ে থাকা আমরা কীভাবে দেখতাম খুব কাছ থেকে। তারপর একদিন এভাবেই বেরিয়ে আসি। আসতে হয়। আমরা জানি বেরিয়ে আসতে হয়। আমি জানি চারিদিকে যুদ্ধের আবহে, হিংসার আবহে ডিলান নোবেল পান, যেন সমুদ্রের গায়ে একটা ছোটো ফ্ল্যাগ ভাসানোর চেষ্টা, এখনও অভিষিক্তাদের বাড়ির লক্ষ্মীপুজোর নেমন্তন্ন পেতে ঘুরে বেড়াই বার কয়েক। ভালোবাসা সে কোনো বৃহৎ চমৎকার জানোয়ার নয়, রকমারি উৎসব নয়, কেবল প্রতিদিন সে সমস্ত আরও সুন্দর করে বলতে চাওয়া যা জানি বহুবার, বহুরকম করে। আমি তার তলপেটে শুয়ে সিগারেট মুখে ভেবে ফেলি এ সবকিছু। আমার প্রতিটা দাড়ি বয়স চিনিয়ে দেয়, বলে আর ক্যানো? এবার তো বেরোও নিজের গর্ত থেকে, নিজেকে সামনে রাখো, নেতৃত্ব দাও, পথ চেনাও, লিখে ফেলো সেসমস্ত কিছু যা লেখা হয়নি এতদিন। বেঁধে ফেলো সেসমস্ত সুর যা শুনিয়ে তুমি শান্ত রাখতে পারো দশ মিনিট যুদ্ধ, অথবা ভেস্তে দিতে পারো কয়েকটা পারমাণবিক বোমা। অথবা শুধু পথ ধরে চলে চাও অনেক দূর, অনেক দূর, অনেক দূর, এই পৃথিবীর জন্য শান্তি আনতে। আমি জানি সে অবিচলিত, কয়েকটা চুমু খেয়ে সে চালু করেছিল তার পুরনো বাইক। তৃতীয়বারে। তারপর আমাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল মাঝরাতে। আমি চোখ বন্ধ করে ছিলাম, ভাবছিলাম কখন ভোর হবে। আমরা কখনই কি একে অপরকে ভালবাসিনি?


শঙ্খের মতো আমিও হয়ত অনেক একা হয়ে গেছি। একা হয়ে গেছে অমিত, আকাশ, পারমিতারা। কেউ বিয়ে করে সুখে আছে হয়ত, বা মরে গেছে। কেউ চাকরি করে বাড়ি ফিরে শুয়ে পড়ে হঠাত্‍ , একটিও কথা না বলে, বলতে পারে না কারো সাথে। এরকম কারো বন্ধুরা কোনদিন হয়ত একটা মানুষ খুন করে ফেলেছিল। তারপর অনেক অন্ধকারে তলিয়ে গিয়ে আর আলো খুঁজে পায়নি। কারো বন্ধুরা হয়ত রাস্ট্রের অত্যাচারের ভয়ে জঙ্গি হয়ে মানুষ মারার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। নিজেদের উড়িয়ে দেওয়ার আগে তাঁদের কি নিজের প্রাণের মানুষের কথা মনে পড়েনি? অথবা যে মানুষটি আমাদের প্রাণের রক্ষা করে নিজের বিনিময়ে, তাঁদের মধ্যে এত সাহস, দেশের প্রতি এত ভালোবাসা কীভাবে আসে? আমি বিস্মিত হই, ভাবি কত ক্ষুদ্র আমি, কত ক্ষুদ্র আমার এই বেঁচে থাকা, কত নিরাপদ। তারপর ভাবি কই? আমারও তো একটা পথ আছে। সেটুকুর জন্য বেঁচে থাকা, সেটুকুই আসল উদযাপন, আসল উৎসব। না আলো নয়, বাজি নয়, সেইসব মানুষের মুখে একটুকরো আলো ফোটানো যাদের জীবনে সত্যি আলোর খুব অভাব।যারা ভালবাসতে, ভালো থাকতে ভুলে গেছে। এক জটিল গোপন অভিশাপ তাঁদের ঘিরে ধরেছে। সে উৎসব তো চিরন্তন। নিঃশব্দ। আদতে আমাদের সকলের জীবনেই সেই ক্ষুদ্র আলো জ্বলে। জন্মগত আলো। ব্যক্তিগত সাফল্য আসলে সেই আলোকে আরও তীব্র করে, আমরা উজ্জ্বল হই, চোখ ধাধিয়ে যায় আশেপাশের মানুষের। কিন্তু সাফল্য সেই উদযাপন করে যে নিজের হাতের মোমবাতি থেকে জ্বালিয়ে দেয় আরও হাজারটা মোমবাতি।তারপর নিজে চলে যায় খুব অন্ধকার কোন গলিতে, সাফল্য, খ্যাতি, পরিচিতিকে তোয়াক্কা না করে। তাঁদের ওই চেষ্টায় আলো হয়ে ওঠে সমগ্র জগত। এই ছোটো ‘হোপ’ নিয়েই আমি প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠি, প্রতিটা শব্দ লিখি, তারপর অপেক্ষা, নিরন্তর।হিমের পরশ গায়ে লাগে। সেসমস্ত মানুষের কথা ভাবি যারা খুব ঘেন্না করেছিল, তারাই তো শিখিয়ে গেছে অনেক কিছু নিজের ছোটো কুয়ো থেকে জগতের পথিক হতে দিয়েছে, অজান্তে। বেড়াজাল ভেঙ্গে বিশ্ব নাগরিক হওয়ার এই উৎসবে আমি হাওয়ায় ভাসিয়ে দি নিজেকে, কখনও জড়িয়ে থাকি তাকে,বাইকের পেছনে।সে ক্লান্তিহীন চলে। তারপর কখন ভোর হয়ে যায়…অন্য গানের ভোর। আমার ঘুম ঘুম চোখে দেখি এখনও অনেকটা পথ বাকি… অনেকটা চলা বাকি। তার সঙ্গে, তার জন্য। ভালোবাসা একটা ভোরের পুরনো চাদর ছাড়া কিছু নয় ।

লেকাটা এখানে প্রথম লিখেছিলাম
নীল শীতের চুমুরা (যেখানে যতটুকু ফেলে এসেছি নিজেকে)

বোহেমিয়া' য় একদিন

"বোহেমিয়া" শব্দটার সাথে আমার প্রথম আলাপ শার্লক হোমস পড়ে।তখন আমি ক্লাস সিক্স কি সেভেনে পড়ি।"এ স্ক্যান্ডাল ইন বোহেমিয়া" নামের একটা গল্প ছিল!এরপর আরেকটু বড় হয়ে "বোহেমিয়ান লাইফ" নামের একটা টার্ম শুনলাম।কলেজে ওঠার পর থেকে বাবা প্রায়ই বলতেন,"তোমার এই বোহেমিয়ান লাইফস্টাইল না পাল্টালে কপালে অশেষ দুঃখ আছে।"
তো,সেদিন আর থাকতে পারলাম না।হোয়াট দ্যা হেল ইস দিস বোহেমিয়ান কালচার!আমি এত কিছু ছেড়ে বোহেমিয়ান কেন হতে যাবো?বোহেমিয়া জায়গাটা এগজ্যাক্টলি কোথায়?এমন অদ্ভুত সব প্রশ্নেরা আমায় ঘিরে কোলাহল শুরু করল।অগত্যা ফোন করলাম আমার ফ্রেন্ড-ফিলোসফার-গাইড পানকুকে,
"হ্যালো"
"আমি তোপসে বলছি,বাবার ফোন থেকে,আমারটায় ব্যালেন্স নেই-"
"সে আর কবে থাকে?বল।"
"কাল ফ্রি আছিস?বোহেমিয়া যাবো।"
"মানে! কখন?"
"তুই দুপুর দুপুর তাম্রলিপ্ত চলে আয়।"
"উম...ওকে"

দুপুর দেড়টা,বারাসাত স্টেশন।

আমি আর পানকু প্ল্যাটফর্মে রোদের মধ্যে গাধার মত দাঁড়িয়ে আছি।পানকু বলল,
"এবার?"
"আমি কি জানি?"
"আমি কি জানি মানে!বোহেমিয়া যাওয়ার প্ল্যান তোর,আমার নয়!"
আমি অল্প থতমত খেলাম।সত্যিই তো,বাওয়াল দিয়ে তো বেরিয়ে গেলাম,এরপর কি?ওদিকে রোদে গা পুড়ে যাচ্ছে,পানকু খচে যাচ্ছে বুঝতে পারছি।একটু পরে বুদ্ধি খুলল।আমি প্ল্যাটফর্মের এক চা ওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম,
"দাদা,এই প্ল্যাটফর্ম দিয়ে নেক্সট ট্রেন কি যাবে?"
চা ওয়ালা আমার দিকে নিষ্পলক নয়নে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বলল,"হাসনাবাদ।"

হাসনাবাদ লোকাল।চামারের মত ভিড় ট্রেনে আমি আর পানকু চিপকে দাঁড়িয়ে আছি।সামনে বসা এক ভদ্রলোককে বললাম,
"দাদা,কোন স্টেশন আসছে?"
লোকটার বোধহয় মুড খিঁচড়ে ছিল,গম্ভীর গলায় বলল,
"কাজিপাড়া"
"তারপর?"
"কদম্বগাছি"
"তারপর?"
"কালিবাড়ি"
"তারপর?"
ভদ্রলোকের মুখ এবার দেখার মত হল।পরিষ্কার বুঝতে পারলাম কাকা মনে মনে আমায় হুল্লাট খিস্তি দিচ্ছে।কিন্তু মনের ভাব মনের মধ্যে রেখে,অসম্ভব সংযমের পরিচয় দিয়ে কাকা আমাদের জিজ্ঞেস করল,
"তোমরা নাববে কোথায়?"
পানকুটা বলদ।দুম করে বলে বসল,"জানিনা" আর এই কথাটার সঙ্গে সঙ্গেই দেখলাম ট্রেনের প্রায় দশটা মাথা আমাদের দিকে ড্যাবড্যাব করে চেয়ে আছে!একজনের তো মনে হয় স্পষ্ট ধারণা হল আমরা মাওবাদী!সে বলল,
"জানিনা মানে! ইয়ার্কি?"
আমি কোনোমতে ব্যাপারটা সামাল দেওয়ার জন্য বললাম,"আসলে আমরা একটা টেলিফিল্ম শুট করার জন্যে স্পট খুঁজছি।একটু কাশফুল থাকবে,একটা নদী থাকবে..."
সিনেমা শূনে মাওবাদী অল্প ঠান্ডা হল,"তা নদী তো হেই হাসনাবাদে পাবা।ইছামতী।তবে ওখানে কাশফুল তো হবেনা।"
আমি "ও আচ্ছা" বলে চুপ করে গেলাম।পাশে পানকুর দোদুল্যমান ভুঁড়ি দেখে বুঝলাম ব্যাটা প্রাণপণে হাসি চাপার চেষ্টা করছে আর সেই চেষ্টায় বিফল হয়ে ঝালমুড়ির ঠোঙ্গার মত দুলছে।ট্রেন ষন্ডালিয়া ছাড়ালে (এখন আর মুডি কাকুকে জ্বালাচ্ছি না,নিজেরাই দেখছি) আমরা বসার জায়গা পেলাম।

বাকি ট্রেন জার্নিতে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু হয়নি।শূধু ভ্যাবলা হল্টে যখন ট্রেন ঢুকছে,একজন লোক কেন জানিনা প্রচন্ড জোরে চেঁচিয়ে বলল,"হুরি বোকাসুদা!"
অবশ্য এটাকে কোনোভাবেই ঘটনা বলা যায়না।

দুপুর পৌনে তিনটে,হাসনাবাদ স্টেশান।

জায়গাটা বেশ শান্ত।শ্মশানের মত ফাঁকা নয়,তবে চুপচাপ।আমরা সামনের একটা চায়ের দোকানে ঢুকে চা খেলাম।মনে ছিল মাওবাদী বলেছে হাসনাবাদে ইছামতী নদী আছে।তাই কথায় কথায় দোকানদার কে বললাম,"দাদা,এখান থেকে ইছামতী কদ্দুর?"
"ইসামতী?হে তো হাডাপথে পাস মিনিট,হেয়ান দিয়া সোজা বেরায়ে যাও।"
চায়ের দাম মিটিয়ে যখন ইছামতীর উদ্দেশ্যে হাঁটছি,পানকু গর্বের সাথে ঘোষণা করল,চাওয়ালার জয় বাংলা হয়েছিল,আমি খেয়াল করিনি।

ইছামতীর তীরে এসে চরম হতাশ হলাম।ভেবেছিলাম ঘাটে বসে দুই বন্ধুতে সুখ-দুঃখ নিয়ে গভীর আলোচনা করব...ওমা!এসে দেখি মেলা বসেছে!ঘাটের ওপাড়ে যাওয়ার জন্য ভিড় গিজগিজ করছে।একজনকে জিজ্ঞেস করে জানলাম নৌকায় চড়ার আগে ঘাটের গেটে আট আনা আর নৌকায় ওঠার পর দু টাকা দিতে হবে।এত কম খরচ দেখে বেশ অবাক হলাম!যাই হোক,একটু পরে আমাদের নৌকো এল।সাঁতার জানিনা বলে আমার বরাবর জলে ভয়,তারপর গোদের উপর বিষফোড়ার মত জানলাম এই নৌকাগুলোয় দাঁড়িয়ে যেতে হয়।ওদিকে নৌকায় ওঠার পর থেকেই আমার পা ঠকঠক করে কাঁপছে।তাই দেখে মাঝির বোধহয় আমার ওপর মায়া হল।লোকটা আমাদের বলল,"তোমরা দুজন বসে পড়।"
নৌকা ছাড়ল।নদীর সৌন্দর্য,রোদের চিকচিক...এসব নিয়ে পাবলিক প্রচুর লিখেছে বলে আর হ্যাজাচ্ছি না।শুধু একটা ঘটনা বলে আমার এই নৌযাত্রার ইতি টানবো।আমাদের নৌকা যখন মাঝ নদীতে,দেখলাম ওপারে আবার নৌকা বোঝাই হচ্ছে-একটা নৌকায় এবার দুটো বাছুর আর একটা মোটর সাইকেল উঠল!

ঘাটের ওপারে তো গেলাম,তারপর?শরীর যখন জবাব দেয়,তখন সমস্ত আঁতলামি,ছেলেমানুষি,বাওয়াল ফুস করে উবে যায়।পানকু বলল,"শালা খিদে পাচ্ছে..."
খিদে আমারও পেয়েছিল,বেশ ভালোই পেয়েছিল,কিন্তু কাছে পিঠে কোনো খাবারের দোকান না থাকায় সে খিদে চেপেই রাখতে হল।ততক্ষনে ধুলো মেখে,ক্লান্তিতে আমাদের জোকারের মত চেহারা হয়েছে।আরেকটু এগোনোর পর একটা বাস ডিপো চোখে পড়ল।বাপ রে বাপ!বাস তো নয়,যেন মুরগির খাঁচা!বাসের ছাদ,জানলা,গেট-কোথায় প্যাসেঞ্জার নেই?
ঠিক হল ওই বাসে উঠে যদ্দুর যাওয়া যায়,যাবো।এই "যদ্দুর" ডিপেন্ড করছে সময়ের ওপর।বিকেল হয়েছে,আলো কমে আসছে,বাড়ি ফিরতে হবে।

সে যাই হোক,কোনমতে ঠেসেঠুসে ড্রাইভারের পাশে একটু দাঁড়ানোর যায়গা পেলাম।বাস ছাড়লো,আর আমরা প্রাণ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।রাস্তার যা দশা,হাসনাবাদ কম,খাইবার পাস বেশী লাগছিল।

আমি আমার অনেক বন্ধুকে দেখেছি খিদে পেলেই ভাট বকে।ভিড় বাস,পেটে ডাইনোসর ডন দিচ্ছে,এর মধ্যে শুরু হল পানকুর রককীর্তন।
"বসিরহাটে ফসিলস শো করতে এসেছিল জানিস?"
"আসতেই পারে,তো?"
"না...মানে কয়েকটা লুঙ্গি পড়া লোক একলা ঘর শুনতে শুনতে মাথা নাচাচ্ছে-এটা ভাবতে খুব কষ্ট হচ্ছে না?"
"আরে,আমাদের বয়েসি ছেলেপিলে তো সব জায়গায় থাকে,তারা রক শোনে।"
"বাল শোনে।সবাই হুলিয়ে হিন্দিগান শোনে আর ব্যান্ডের গান ম্যাক্সিমাম হলে ওই আদাত।"
"হুম,হতে পারে।"
"অবশ্য বুবুনের বাড়ি বসিরহাটে।"
"বুবুনটা আবার কে!"
"রক ব্যান্ডের ভোকালিস্ট হয়েছো,বুবুনকে চেনোনা শূওর!ফসিলসের ড্রামার।"
"হতে পারে,গরমের মধ্যে ভালো লাগছে না,কান খাওয়া বন্ধ কর।"


একটু পরে দূর থেকে একটা ইয়াব্বড়ো ব্রিজ দেখতে পেলাম।পানকুকে বললাম,"চ,নামি।আর এগোলে ফিরতে চাপ হবে।"
বাস আমাদের ব্রিজের মুখে নামিয়ে ভ্যানিশ হয়ে গেল।সামনেই সিগারেটের দোকান।আমি একটা ফ্লেক কিনে দোকানদার কে জিজ্ঞেস করলাম,"দাদা,এটা কোন জায়গা?"
"কাটাখালি"
পাশ থেকে পানকু বলল,"গোটা ব্রিজ জুড়ে যে রেটে এয়ারটেলের অ্যাড দেখছি,এয়ারটেল খালি নাম হওয়া উচিত ছিল।"
দোকানদার বেশ রসিক,সে পানকুর কথায় এক গাল হেসে বলল,"এয়ারটেল খালি নাম হলে এয়ারটেলের অ্যাড থাকত না যে!"

কাটাখালি ব্রিজের ঠিক মধ্যিখানে যখন এসে দাঁড়ালাম,তখন সুর্য ডুববো ডুববো করছে।আমার নীচে এখন ইছামতী,নদীতে দু-একটা মাছ ধরার নৌকা দাঁড়িয়ে আছে দেখলাম।দূরে একটা বিরাট বাঁক,সেখানে সবজে ধানখেত,দু একটা গরুও দেখলাম মনে হল।ব্রিজের ওপর তিন চারটে বাচ্চা খেলা করছিল।তাদের মধ্যে একজনকে ডেকে পানকু জিজ্ঞেস করল,"ভাই ওই দূরে ওটা কোন যায়গা?"
"উডা?উখানে তো বাঙলাদেশ বডার..."

এরপর আমরা ফিরে এসেছিলাম।একই রুট ধরে,একই ভাবে।জীবনের প্রত্যেকটা ফেরা যেমন হয়,আমাদের ফেরাও তেমন হল-ক্লান্তিকর,একঘেয়ে।
এককালে আমি সবাইকে বলে বেড়াতাম,"জীবনে সব করেছি-সব।"
সেদিন ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে প্রথম মনে হল,কিস্যু করিনি।আমি হাজার চেষ্টা করলেও কোনোদিন ওই নোম্যানস ল্যান্ডে যেতে পারবো না।সেই একটা গান আছে না,

"গেরুয়া পড়েছি
আমি বাউল হতে পারলাম কৈ?"

সত্যি কথা।আমি যতই ওড়ার চেষ্টা করি,রোজ রাত্রে খাটের তলা থেকে কিছু যান্ত্রিক তার বেরিয়ে আমায় ঠিক চেপে ধরবে,আষ্টে পৃষ্টে গিঁট মেরে ফেলে দেবে বিছানায়।আমি গল্প লিখব,কবিতা লিখব...তারপর তাদের ছিঁড়ে,নষ্ট করে ফেলে দেব-এই অবধি আমি বাউল।কিন্তু যখনই সেগুলো সবাইকে বলে পাগল সাজব,আমার একতারা আমাকে থাপ্পড় মেরে বসিয়ে দেবে।
আসল গেরুয়া সেই নৌকোটা ছিল।ডুবন্ত সুর্যের আলোয় চ্যাটচ্যাটে ভেজা একটা নৌকা।সে পারে নোম্যানস ল্যান্ডে যেতে,আমি না।আমি নৌকা নই,আর সে জন্যেই আমার গল্পেরা কোনোদিন শেকড় বাকড়ের গিঁট থেকে বেরোতে পারবে না।দু টাকা দিয়ে শুধু যাতায়াত বেচা শিখেছি,এঘাট থেকে ওঘাট।সে তো ঘাটকাজ,গল্প বেচতে শিখলাম কোথায়?
আমার গল্পেরা তাই আমার মতই অপদার্থ।আর এভাবেই,তাই,আমার গল্পের সাহিত্যমুল্য একদিন শুন্য হতে হতে সংসারী হয়ে যাবে,আমি জানি।

জীবনের প্রত্যেক জার্নি মানুষকে কিছু শিখিয়ে যায়।আমি সেদিন শিখেছিলাম,ইচ্ছামতীর খারাপ গতিপথের জন্য আমার আর কোনোদিন বোহেমিয়া যাওয়া হবেনা...

লেখাটা এখানে প্রথম লিখেছিলাম...
বোহেমিয়া' য় একদিন  

DEPARTURES-2008 একটি অসাধারন মুভি



“ …that death... is a gateway. Death doesn't mean the end, but leaving the present, heading for the next stage. Truly a gateway."


”মানুষ মাত্রই মরণশীল। আর একটি মানুষের মৃত্যুর পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয় সেই মৃতদেহের সৎকার এর ব্যবস্থা করা। আপনি পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন এই নিয়মের ব্যতিক্রম হবে না। আর অঞ্চল ও ধর্ম ভেদে সৎকার কিংবা দাফন-কাফন করার নিয়মও আলাদা। তবে সবনিয়মের মাঝে সাধারন মিল হচ্ছে সবাই যার যার রীতি অনুযায়ী মৃতকে যথাপোযুক্ত সম্মানের সহিত আনুষ্ঠানিক ভাবে বিদায় জানায়।জাপানের মানুষদের সব ব্যাপারেই নিজস্ব কিছু রীতি-নীতি আছে। আর মৃত্যুর পড়ে শেষ বিদায়েরও কিছু নিয়ম প্রচলিত আছে। তাদের কেউ মারা গেলে “Encoffineer” নামক একজন এসে মৃতের পরিবারের সামনে বসে যথাযথ সম্মান, মর্যাদা ও যত্নের সহিত মৃত দেহকে পরিস্কার পরিছন্ন করে সাজিয়ে গুজিয়ে সুন্দর করে কফিনে শুইয়ে শান্তিময় বিদায়ের জন্য প্রস্তুত করে দেয়।জি ঠিকই ধরেছেন এই মুভি মৃত মানুশ ও তার সৎকার এবং সৎকারের জন্য মৃতদেহকে প্রস্তুতকারী এক “Encoffineer” এর জীবন নিয়ে।


তবে এর বাইরেও জীবন মৃত্যু আর এর মাঝেই বিদ্যমান বহু উপাদান রয়েছে মুভিটিতে। মুভি দেখতে দেখতে চিন্তা করতে এবং মুভি দেখা শেষ করে যারা ভাবনার রাজ্যে ভাসতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এতি অতি আবশ্যিক এক মুভি।“Departures” (original title: Okuribito)২০০৮ সালে মুক্তি প্রাপ্ত Yōjirō Takita পরিচালিত জাপানিজ ভাষার জাপানি চলচ্চিত্র।

২০০৯ সালে ৮১ তম অস্কারের আসরে শ্রেষ্ঠ বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে অস্কার বিজয়ি মুভি এটি।মুভির রেটিং: IMBD-8.1/10, Rotten tomatoes- 81% fresh, 88% liked it, Average rating: 4/5.



আমরা অনেক কিছুতেই বিফল হলে কিংবা অনেক স্বপ্ন নষ্ট হয়ে গেলে ভেবে বসি এটা বোধহয় ভাগ্যের নির্মমতা। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখি যে ভাগ্য আমাদের জন্য কি রেখেছে সামনে... এমন কিছুও তো থাকতে পারে যা কিনা আমাদের চিন্তাধারার বাইরে থেকেও আমাদের জীবনকে অসম্ভব রকম সুন্দর করে তুলতে পারে। যাদের ভাগ্য নিয়ে মনোকষ্ট আছে তারা মুভিটি দেখার চেষ্টা করবেন। আশা করি নতুন কিছু উপলব্দি আসতে পারে মনে...গল্পের শুরুতেই দেখবেন অর্কেস্টা ব্যান্ডের এক সেলো বাদক যে সদ্যই দল ভেঙ্গে দেয়াতে চরম হতাশার আঁধারে ডুবে আছে... তারপর পরিস্থিতির কারনে আজীবন লালিত স্বপ্নকে বিসর্জন দিয়ে সেই সেলো বাদকের encoffineer এর চাকরি গ্রহন... তারপর এই কাজ করতে গিয়ে বহুবিদ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হওয়া... মানুষের জীবন মরণ সম্পর্কিত অনেক ব্যাপারেই নতুন উপলব্দি হওয়া... মৃত্যু নামক এক চরম সত্যির প্রতি নানান মানুষের নানান প্রতিক্রিয়া, মৃতের প্রতি মৃতের পরিবার পরিজনের ভালোবাসার ধরন, encoffineer এর কাজের প্রতি অন্য মানুষের ধারনা সব কিছুই অনেক শান্ত স্থির কিন্তু মনকে নাড়া দেয়ার মত যথেষ্ট শক্তিশালি ভাবে তুলে ধরা হয়েছে... আর এরই মাঝে encoffineer এর নিজের মনের গোপনে কুঠিতে থাকা দুঃখকে অসাধারন সুর কম্পনে রূপান্তরিত করে মনের গভীর হতে সেলো বাজানো... আহ সে কি সুর!!! সেই সুর বড় বেশি বেদনাদায়ক... সেই সুর বড় বেশি মর্মস্পর্শী... সেই সুর বড় বেশি নিখাদ... সেই সুর বড় বেশি মূর্ছনাদায়ক... সেই সুর... আপনি নিজেও কিছুটা বুঝে নেবেন।


মুভির স্ক্রীনপ্লে, ক্যামেরা কাজ গুলো ছিল যথেষ্ট খুতহীন। আর আলাদা ভাবে বলব অভিনয়ের কথা মূল চরিত্র Masahiro Motoki সহ বাকি সকল পার্শ্বচরিত্রের অভিনয়ও যথেষ্ট প্রশংসাদায়ক... এবং পরিচালকের অসাধারন পরিচালনাতেই মূলত এরকম সাধারন কাহিনী নিয়ে করা এক মুভি শেষ পর্যন্ত বড় বেশি অসাধারনে পরিনত হয়েছে...সর্বশেষ কথা মুভি দেখে সেই মুভি নিয়ে ভাবতে এবং সাদাসিদা রকমের অসাধারন মুভি দেখতে যেসব পাগলরা পছন্দ করেন তাদের এই মুভি মিস করা উচিত হবে না...আর মুভিটি দেখে কেমন লাগলো জানাতে অবশ্যই ভুলবেন না...(ধন্যবাদ পোস্টটি কষ্ট করে পড়ার জন্য... :))মুভির নামঃ “Departures” (original title: Okuribito) (2008)http://www.imdb.com/title/tt1069238/টরেন্ট ডাউনলোড লিঙ্কঃOkuribito.Departures.2008.JPN.DVDRip.x264.AC3 1.78GBঅথবাDepartures.2008.BluRay.480p.H264 700MB

ব্যক্তিগত কথাকাব্য

শত ক্লান্তিতে আমি চোখ বন্ধ করে তোরজমিনে নিজেকে সমর্পণ করি।ক্লান্তিরআড়ালে ও যে তোর প্রতি আমার নির্ভরতা,।তোর মাটির গন্ধ শুঁকতে গিয়ে তোর সবুজচাদরটাকেও ভালোবেসে ফেলি, আনমনে।

আমি তো আছি তোর দহনে

আমার শহরখানি, বিষন্ন ভরা ল্যাম্পোস্ট,বটের নীচে চায়ের দোকান, ধোঁয়া ভরা চা খাওয়া...তোর বস্তি ঘরে হটাত শোনা পান্নালালকুটি বাবুর ছেঁড়া পুঁথি, হাওয়ায় ভাসে কলের গান,শহর ভ'রে ক্যানভাসারের বয়ে যাওয়া ক্লান্ত বোধসে সব ছিল যত প্রিয়, এখন এসব আর ছোঁবেনা।নগরের পুঁতি দালানের পাশে এখনো দাঁড়িয়ে প্রবীনঝাউ গাছ...তুমি যদি আসো দেখবে পালক ঝাপটিয়ে চলে উদাসীবালিহাঁসঘরের উঠোন ভেঙ্গে খোয়া ক্ষয়ে গেছে তবুতোমার স্মৃতিমাখা-নগরের বয়স পেরিয়েও তোমার জন্য আমার একা বসেথাকা।ছেড়েছিলে পর্ণ গৃহ, সন্ধ্যা সেঁজুতি;নিঃসঙ্গতা বয়ে বেড়ানোর যত অনুভুতিতোমাকে তাড়িয়েছে নগর থেকে নগরে;-যদি ঘুম না আসে তবে জোনাক বাতির উঠোনে,যদি আসিস, আকাশে তারার মালার আবীরেরাতের সুতো, নিসঙ্গতায় স্মৃতির জালবোনে,ঠিকই খুজে পাবি আমার মুখ,অচেনা মুখের ভিড়ে।তোর সাথে ঘোরা হয়নাই পদ্মা ব্রম্মপুত্র তিতাস…কাশবনে ফেরে কত প্রজাপতি,ঘাসের নিঃশ্বাস;সারা আকশ জুড়ে জ্বলে বর্ণীল যত নক্ষত্র দ্যুতি,দেখা হয়নাই, শুন্য কুটিরে সন্ধ্যাগাঁথা সেঁজুতি।তবুও রাত হলে তোকে দেখি, তুইও যদি তাকাস-হয়েছি তাই, চেয়েছিলি যেনো হই ঐ দূর আকাশ।।কোন দশকে নাই আমি, শতকেও না,স্মৃতিতে নাই আমি, বিস্মৃতিতেও নাচলিষ্ণু শুন্যতা সময়ের খাতায়,তোমার আঁচড় টানি চোখের পাতায়ভিতরে কেবলই পোকার আনাগোনা।।

প্রিয় শৈশব কৈশোর তারুণ্য কেউ আমাকে চিনলনা…..

চিরচেনা প্রিয় এই স্টেশনে ট্রেনটা আমাকে নামিয়ে দিল…..
মাষ্টার সোমনাথ চশমা উচিয়ে
বেড়েছে বয়স,
 মন্টুর স্টলে বয় বেয়ারা আগের কেউ আর কাছে নেই,
জানিনা কখন কিভাবে যেনহারিয়ে ফেলেছি নিজেকে….

হায় চিরচেনা প্রিয় এই স্টেশনে কেউ আমাকে চিনলনা,
একটা ঘুড়ির পেছনে পুরো শৈশবকেটে গেছে এলে বেলে …..
বোতাম হারানো সেই দুপুর গুলো চিনত আমায় কাছে পেলে,
দরগার সেই বুড়ো বটগাছটা
আজো আগের মতই আছে,
তার নিচে বসে থাকা মানুষগুলোকেউ এলোনা আমার কাছে…
হায় চিরচেনা প্রিয় এই স্টেশনে কেউ আমাকে চিনলনা,
হাঁপর জ্বালানো সেই কামারশালাউঠে গেছে কখন যেন…..
পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সেই নদী
কেন যে এতো ঘুরিয়ে গেছে চৌরাস্থা থেকে,
 সেই স্কুল পালানো  বন্ধুরা....
বদলে গেছে সব কিছু নাকি আমি অনেক বদলে গেছি,
হায় প্রিয় শৈশব কৈশোর তারুণ্য কেউ আমাকে চিনলনা…..

১৫ টাকার ছূতোয় মনের মানুষের সৌন্দর্য্যও দেখে আসা যায়!

- কাকে চাই?
- আপনার মেয়েকে।

- মানে! এই ছেলে কে তুমি?

- ঠিকঠাক কোন নাম নেই। একেকজন একেক নামে ডাকে। তবে সিনথিয়া আমাকে মাঝে মাঝে গাধা, গর্দব, মূর্খ বলেও ডাকে।

- তুমি আমার মেয়ের নাম জানলে কিভাবে? তুমি কি ওর পরিচিত কেউ?

- জ্বী!

- তোমাদের মাঝে কি কোন সম্পর্ক আছে?

- জ্বী না। ঈশ্বরের সাথেও আমার সম্পর্ক নেই। সিনথিয়ার সাথে একটু দেখা করা যাবে?

- তুমি ভিতরে এসে বসো। আমি ডেকে দিচ্ছি।

এই ভদ্রমহিলা ভীষণ সন্দেহ প্রবণ। তা না হলে হঠাৎ দেখা একটা ছেলেকে, নিজের মেয়ের প্রেমিক ভেবে সন্দেহ করতেন না। ঢাকার বালুর রাস্তা দিয়ে আসতে আসতে জুতোর ফাঁকে একগাদা বালু ঢুকে গেছে। পায়ের তালুর ঘামের সাথে বালুগুলো মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। সুদৃশ্য ফ্লোরে আমি এখন একটা করে পা ফেলছি আর একটা করে সুন্দর পায়ের ছাপ তৈরি হয়ে যাচ্ছে। একদম রেডিমেট কারুকার্য। কী সুন্দর দেখাচ্ছে! নিজের পায়ের ছাপ দেখে নিজেই মুগ্ধ হচ্ছি।

- একি! আপনি আমাদের বাসায় কিভাবে এলেন! ঠিকানা কোথায় পেয়েছেন?

- সিনথিয়া তুমি সেদিন আমার কাছ থেকে ১৫ টাকা নিয়েছিলে। আমি সেটা নেওয়ার জন্য এসেছি।

- আ.প.নি! আপনি!! ১৫ টাকা..নি.তে...!!!

- হুম ১৫ টাকা আমার লাগবে।

- আপনি বসুন আমি নিয়ে আসছি।

মেয়েটার হাত থেকে টাকাটা নেওয়ার সময় দেখলাম; ওর চেহারায় বিস্ময়, রাগ আর বিরক্তি মিলেমিশে অদ্ভুত এক সৌন্দর্য্য তৈরি হয়ে আছে। কোন কবি বোধহয় এই সৌন্দর্য্য দেখেনি। দেখলে এ নিয়ে কয়েকটি কবিতা নিশ্চয়ই লিখতো। কিন্তু লিখেনি। 
আমি বাসা থেকে বের হয়ে আবার হাঁটা ধরলাম। কারো কারো চেহারা মাঝে মাঝে দেখতে খুব ইচ্ছে হয়। কোন কোন ইচ্ছে পূরণ করতে কিছু ছূতো লাগে। আমার হাতে ১৫ টাকার একটা ছূতো আছে। এই ছূতো এখন চায়ের ধোঁয়ায় আর সিগারেটের ধোঁয়ায় মিলিয়ে দেবো। ১৫ টাকায় কিন্তু চা-সিগারেট পাওয়া যায়। ১৫ টাকার ছূতোয় মনের মানুষের সৌন্দর্য্যও দেখে আসা যায়!

আমি তুমি আমারা সবাই খুব বিচিত্র

আমি, তুমি, আমরা সবাই খুব বিচিত্র ... আমরা জানি না আমরা আসলেই কখন কি চাই, কেন চাই !!

আমি বৃষ্টি চাই, কিন্তু কাদার রাস্তা পেরোতে চাই না !!

প্রচণ্ড কোলাহলে তুমি চিত্‍কার করে বলোঃ "leave me ALONE" ... একটু পরেই তুমি নিঃশব্দে নিজেকে বলোঃ "I am so LONELY" 
আমরা বলি, "একাই তো বেশ ভাল আছি" ... এই আমরাই আবার বিষাদের সুরে গেয়ে উঠিঃ "আজ শেষমেষ নেই তোর কেউ নেই"

দিন শেষে আমরা স্বর্গে যেতে চাই, কিন্তু কেউই মরতে চাই না ... একদম না !!

আমাদের "সব" আছে, কিন্তু "কী যেন" নেই ... মাঝে মাঝে এই "কী যেন"-টাই "সব" হয়ে যায় !!"

"শেষ" মানেই "শেষ"

"পৃথিবীতে সবচেয়ে নিষ্ঠুরতম সত্যি মনে হয় "মৃত্যু" ... এই যে আমি সারাদিন অনলাইন থাকি ... স্ট্যাটাস দিয়ে দিয়ে মানুষের হোমপেইজ নষ্ট করি প্রতি ঘন্টায় ... দুম করে হয়তো একদিন দেখা যাবে, এই আইডি থেকে আর কোন স্ট্যাটাস আসছে না ... ১ দিন যাবে, ২ দিন যাবে ... কেউ কেউ ইনবক্স পাঠাবে ... মেসেজগুলো কখনোই আর SEEN হবে না !!

একটা সময় মানুষ জানবে, এই আইডির মালিক এখন মৃত ... সে আর কখনোই কোন স্ট্যাটাস দিবে না ... হাসাবে না, কাঁদাবে না ... ask.fm এ মানুষকে পচাবে না ... দাঁত বের করা কোন প্রোফাইল পিকচার দিবে না !!

আমি বা কেউ কখনোই জানবো না, কোন স্ট্যাটাসটা আমার শেষ স্ট্যাটাস ... কোন মেসেজটা আমার শেষ মেসেজ ... কোন কথাটা আমার শেষ কথা ... কোন নিঃশ্বাসটা আমার শেষ নিঃশ্বাস !! 

হয়তো এইটাই ... হয়তো তার পরেরটা ... কিংবা অন্য কোনটা !!

শেষ স্ট্যাটাসটি অনেকেই শেয়ার করবে, হাজার হাজার লাইকও হয়তো পড়বে ... কমেন্ট আসবে ... সেগুলো আমি বাদে সবাইই দেখবে ... কি ভীষণ ভয়ঙ্কর রকমের নিষ্ঠুরতা, তাই না ??

কেউ কেউ বার বার প্রোফাইলে এসে ঢু মারবে ... হয়তো আমি একটা Activity করবো ... একটা কমেন্ট, একটা ছোট্ট লাইক ... অনলাইন লিস্টে আমার নামের পাশে ছোট্ট করে সবুজ বৃত্ত খুঁজবে কেউ কেউ ... সৃষ্টিকর্তা খুব যত্ন করে সবুজ বৃত্তটা মুছে দিয়েছে !!

আমার প্রচন্ড হাস্যকর লেখাগুলা পড়েও তখন আপন মানুষগুলার চোখে পানি আসবে ... কী অদ্ভূত রকমের অনুভূতি, তাই না ??

কখনো সুযোগ হবে কিনা জানা নাই ... তাই সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ... আমি খুব খারাপ একজন মানুষ ... প্রতিনিয়তই বিভিন্ন মানুষকে কষ্ট দিই, দিচ্ছি ... ক্ষমাটুকু চেয়ে নিলাম ... বাকিটা মানুষের কাছেই থাকুক !!

... ... ...

আর কেউ কি কাঁদছে নক্ষত্রের দিকে যাবে বলে?

শিক ধরে দাঁড়িয়ে আছে  হাওয়া
হাওয়া ধরে চড়ুইপাখি;
কেউ জানতেই পারল না
বুকের ডানদিকে
কারফিউ রেখে গেল কফি রঙের ফিঙে মেঘ।

থেকে যাও বিজন, থেকে যাও।
নেশা ধরে ধরে তোমার বায়বী সুড়ঙ্গে    
       

আর কেউ কি কাঁদছে নক্ষত্রের দিকে যাবে বলে?

মহাজাগতিক ইতিহাসে আমাদের এপিটাফের গল্প

কোন সন্ধ্যে সন্ধ্যে রাতে রাস্তারা বুঝি অদ্ভুত প্রনয়ে খুন হয়! খুন হয় কতশত খেয়ালের অগোচরে আটকে পড়া দীর্ঘ নি:শ্বাসেরা! ইশ! আমাদের খেয়ালগুলো য...