29 October 2016

ঘুম ঘুম চোখে ফিরিয়ে দিও ডাকটিকেট লাগানো খামে মৌনতার দস্তাবেজ-


এই সব দেখেছিল রূপ যেই স্বপ্ন আনে — স্বপ্নে যেই রক্তাক্ততা আছে,
শিখেছিল, সেই সব একদিন বাংলার চন্দ্রমালা রূপসীর কাছে;
তারপর বেত বনে, জোনাকি ঝিঝির পথে হিজল আমের অন্ধকারে
ঘুরেছে সে সৌন্দর্যের নীল স্বপ্ন বুকে করে, — রূঢ় কোলাহলে গিয়ে তারে –
ঘুমন — কন্যারে সেই — জাগাতে যায়নি আর — হয়তো সে কন্যার হৃদয়
শঙ্খের মতন রুক্ষ, অথবা পদ্মের মতো — ঘুম তবু ভাঙিবার নয়।
[একদিন এই দেহ ঘাস – জীবনানন্দ দাশ]

আমি দেখি। দেখি একদিন, সে থামে কোথাও কোন এক পাহাড়ী পথে। কেউ একজন কবে বলেছিলো তারে তোমাতে দেখি পৃথিবীর আলো জল - আমি তারে বলি, দেখেছো কি কভু -রূঢ় কোলাহলে ঘুমন্ত সে কন্যার হৃদয়। দ্যাখো নি ! এতেই চমকিত হয় পৃথিবী !
পুরোনো সেই দিনের কথা মনে পড়লে - দূর থেকে দেখে মৌনতায় বলে উঠে মন - জাগোনি যখন, এবার বর্ষা গেলে ঘুম ঘুম চোখে ফিরিয়ে দিও ডাকটিকেট লাগানো খামে মৌনতার দস্তাবেজ-

এবার এই শীত গেলে ফিরিয়ে দিও,
মান-অভিমান আর রাগ-অনুরাগ
গত বর্ষায় যা দিয়েছি সবটুকু তোমায় -

হয়ত
আমার একটা চিঠি ছিল না পড়া-
তাও রেখেছিলে ফেলে
খামটুকু ও হয়ত খোলার সময় হয়ে ওঠে নি কখনো।

হয়ত
বুকশেল্ফে একাকী একটা বই ছিল, না পড়া-
ফিরে আসার সময় জানতে পারিনি
পড়েছিলে কী না;
জেনেছিলে কী গল্প লেখা ছিলো তাতে ।

হয়ত
বারান্দায় পড়ে থাকা কোন টবে-
আমার ছুঁয়ে দেয়া কোন চারা গাছ
অযতনে কিছুদিন বেড়েছিল আনমনে,
কী ফুল হতো জানিনা তাতো
তুমিও জানোনি -
তার আগেই যে শুকিয়েছে তার ডালপালা।

হয়ত
একটা কবিতা জন্মেছিলো
একাকী হয়ে থাকা চার দেয়ালে
কোন একদিন তুমি পড়বে বলে
কুয়াশায় মগ্ন রাতে - ভিজেছে রাতভর
বাতাসে উড়ে যাওয়া সেই কবিতাও পড়া হয়নি ।

এত কিছু হয়ত হয়ে, একদিন
পাতাঝরা শীত ফিরে গেলে -

যা-ই গত বর্ষায় পাশাপাশি হেঁটে কুড়িয়েছি
দুজনে হাতে হাত রেখে,
গত বর্ষায় যতটা ভিজেছিল
আমাদের সর্বস্ব অশ্রুজলে - তার সবটুকু হয়ে
বর্ষার পরে শরৎ পেরিয়ে কিংবা
হেমন্তের খোলা আকাশে -
সেখানেই হয়তটা কিছু রেখেছিলে
যদি পারো ফিরিয়ে দিও তাও-
শুদ্ধ ভালো বাসার ডাকটিকেট
লাগানো খামে মৌনতার দস্তাবেজ ভেবে
আমি বুঝে নেবো ....
একদিন এখানেই তুমি ছিলে -
কোন এক আড্ডায় ;
গানের আসরে কিংবা
মিতবাক হয়ে থাকা জোছনায় -

স্পর্শ

পৃথিবীর কিছু কিছু জিনিস মাঝে মাঝেই নিয়ম মানে না ... এই "কিছু কিছু জিনিস" এর মধ্যে একটা হল "মাথা-ব্যথা" !!

পৃথিবীর কোন কোন "মাথা-ব্যথা" একদমই নিয়ম মানতে চায় না ... এইসব "মাথা-ব্যথা" রা নাপা ট্যাবলেট খেলে ভাল হয়ে যায় না ... মাথায় পানি ঢাললেও ভাল হয় না ... ঘুমালেও ভাল হয় না ... চার-পাঁচ কাপ কড়া লিকারের চা কিংবা কফিও এইসব "মাথা-ব্যথা" ভাল করতে পারে না !!

এই "মাথা-ব্যথা" রা একটা জিনিস পেলেই ভালো হয় ... দুটো হাতের স্পর্শ ... যে কারো হাতের স্পর্শ হলে চলবে না ... সেই হাত দুটোর স্পর্শ লাগবে ... একদম সেই হাত দুটোই লাগবে !!

সেই হাত দুটো প্রচন্ড মমতা নিয়ে, প্রচন্ড ভালোবাসা নিয়ে মাথার দুই পাশ ছুঁয়ে দিলেই চলবে ... সেই হাতের পাঁচটা আঙ্গুলের ফাঁকে চুলগুলো অবাধে বিচরণ করবে ... এলোমেলো চুলগুলোর মাঝের ছোট্ট জায়গাগুলো জুড়ে থাকবে অল্প অল্প মায়া ... খুব খারাপ রকমের মাথা ব্যথাগুলো লুকোতে চাইবে ... লুকোনোর জায়গা পাবে না ... আঙ্গুলের স্পর্শে আর ভালোবাসার উষ্ণতায় "মাথা-ব্যথা" বাষ্প হয়ে উড়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি !! 

এই হাত দুটোর স্পর্শ সবাই পায় না ... পায় না বলেই, মাথা ব্যথাগুলো রয়ে যায় ... চায়ের কাপের নিচের তলানিটুকু কিংবা নাপা ট্যাবলেটের ছেঁড়া পাতা বারবার জানিয়ে দেয়ঃ

"মানুষ খুব বেশি কিছু চায় না ... মানুষ খুব কম কিছুও চায় না ... মানুষ যা চায়, সেটার কোন সংজ্ঞা হয় না, পরিমাণ হয় না ... মানূষ অদ্ভূত ... মানুষের চাওয়াগুলোও অদ্ভূত ... তবে তার "না পাওয়া" গুলো অদ্ভূত না ... ওটাকে কেউ অদ্ভূত বলে ডাকে না ... শখ করে মানুষ ওটাকে "বাস্তবতা" বলে ডাকে !!"

"একটা একলা জানালা ... তার গল্প !!







"আপনি কি সারাদিন ভাবতে থাকেন ??"

"জ্বী !!"

"এত কী ভাবেন ??"

"অনেক গল্প !!"

"আজকে কোন গল্পটা ভাবছেন ??"

"একটা জানালার গল্প !!"

"জানালার গল্প আবার কেমন ??"

"একটা একলা জানালা ... তার গল্প !!"

"জানালা আবার একলা হয় কিভাবে ??"

"যে জানালা দিয়ে কেউ কখনো উঁকি দেয় না, সেই জানালাটা একলা হয় !!"

"একলা জানালাটা কী করে ??"

"একলা জানালাটা মাকড়শা দেখে ... মাকড়শার জাল বোনা দেখে !!"

"আর ??"

"আর প্রচন্ড বৃষ্টির সময় একলা জানালাটা বৃষ্টির স্পর্শ পেতে চায় ... সে চায়, জানালার কাচে টুপ টুপ করে বৃষ্টির শব্দটা কেউ শুনুক ... খুব সকালে রোদ উঠলে কেউ জানালাটা খুলে দিক ... এক চিলতে রোদ জানালার ভেতর দিয়ে চলে আসুক ... শীতের সকালে ঝাপসা হয়ে ওঠা জানালার কাচ কেউ খুব যত্ন নিয়ে মুছে দিক ... আপনি কি শুনছেন ??"

... ... ...

ওপাশের মেয়েটা চলে গেছে ... একলা জানালার গল্প তার ভাল লাগছিল না ... এইসব উদ্ভট গল্প কিভাবে যে মানুষের মাথায় আসে ... কোথায় মানূষ একটু প্রেমিক-প্রেমিকার রোমান্টিক গল্প ভাববে, তা না ... মানুষও তো একলা হয়ে যায় ... সেগুলা নিয়ে ভাবলেই পারে !!

এই পাশের ছেলেটা তখনও ভাবছে...

"একলা জানালাটা চায় না একটা মেয়ে এসে হাতটা মুঠ করে টুক টুক করে জানালায় নক করুক ... একলা জানালাটা চায়, মেয়েটা শুধু আসুক ... ১ মিনিটের জন্য হলেও জানালার গল্পটা শুনুক ... তারপর তার চোখ দুটো দিয়ে জানালার বাইরে কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকুক ... সেই দুই চোখে বিশাল রকমের মায়া আছে ... ১ মিনিট তাকালেই সেই মায়ার জাল তৈরি হয়ে যাবে জানালায় ... জানালায় তখন আর মাকড়সার জাল থাকবে না ... শুধু মায়ার জাল থাকবে !!"

বিশাল একটা দরজা দিয়ে মেয়েটা চলে গেছে ... সে এই মূহুর্তে কারো হাত ধরে খোলা আকাশ দেখবে, রোদ দেখবে, বৃষ্টি দেখবে ... একলা জানালার গ্রিল ধরে আকাশ দেখার সময় তার নেই ... একলা জানালার কাচে বৃষ্টির শব্দ শোনার সময় তার নেই !!

একলা জানালা তাই আগের মতই বসে থাকবে ... কালকে আবার অন্য কেউ আসবে ... জিজ্ঞেস করবে, "কী ভাবেন ??"

সে বলবে "একলা জানালার গল্প ভাবি" ... সে অপেক্ষায় থাকবে, হয়তো একদিন কেউ প্রশ্ন করবেঃ

"আচ্ছা, একলা জানালাটা কে ??"

সেদিন সে মুচকি হাসবে আর বলবেঃ 

"আমার দিকে ১ মিনিটের জন্য তাকিয়ে থাকবেন প্লিজ ?? ... একটু মায়ার জাল দরকার ... খুব খুব দরকার !!"

ছেঁড়া পাতা


(নিজের ভেতর পড়ে থাকি সারাক্ষণ, ভাবের আনাগুনার অন্ত নেই, অথচ ভাব প্রকাশের ভাষা জানা নেই,যারা ভাষার কারুকাজে নিজের ভাব ব্যক্ত করেন,সেই সব শব্দ-শিল্পীদের প্রতি এক ধরণের ঈর্ষা মিশ্রিত বিস্ময় নিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে থাকি, নিজের আর লেখার সাহস হয়না । তবু, মাথার ভিতর নানা ভাবের ঠুকঠুকানি তো থেমে থাকেনা । নিজের সাথে নিজের এই বকবকানি কেউ যদি কবিতার মত করে পড়তে চান, আমার তাতে আপত্তি করার প্রশ্নই উঠেনা ! প্রকৃত কবিদের কবিতা পড়ে যদিও 'হা' হয়ে থাকি মুগ্ধ বিস্মিয়ে, তারপরো সত্যের খাতিরে স্বীকার করতেই হবে, আসলে কবিতার আমি 'ক' ও বুঝিনা )।





এই সব শেওলা ধরা গোপন শুণ্যতার সঙ্ঘা আমার জানা নেই কোন

এই যেমন

মাঝে মাঝেই স্বপ্নের ভিতর হানাদেয় এক ঝড়ের রাতে

প্রায় ভেঙ্গে পড়া সেই চায়ের টং

বুড়ো রাজন চাচার গতরের হাজারো আঁকিবুকির মতই বিগত যৌবন

নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো



গুলতানি মারা ছেলেগুলোর বখাটে চোখ

হিম নিস্তব্ধতায় ভেতর মনে পড়ে যায়

কখনো কখনো কারণে অকারণে

মাঝরাতের শন শন হাওয়ায় মিশে থাকে

আমার না ঘুম না জাগরণের রাতের প্রহরগুলোতে



স্বপ্নের ভিতর কখনোবা আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে উঠে দেখি

ইতি উতি বসে থাকা এক দঙ্গল বেকার ছেলের চোখ

মাছির মত ভন ভন ভন ভন

হাজারো চোখ থেকে ঝড়ে গভীর অবসাদ



বেকার আর বখাটে শব্দ দুটো পাশাপাশি

মিছিলে হাঁটে

স্বপ্নের ভিতর

এখনো



কারো কারো চোখে এক সিন্ধু হতাশা

ঘর গেরস্থালী মা বাপ অথবা শাপলা ফোটা দিঘীতে

চরম বিঃস্বাদ

থু থু ফেলে কেউ কেউ

কারণে অকারণে



আকাশ দেখে কি দেখেনা

মেঘ রোদ ঝড় বৃষ্টিতে

নেই উল্লাস হাহাকার অথবা

খিঁচুড়ী খাবার সাধ



কিছু কিছু আহ্লাদ হয়ত গভীর গোপনেই জমা হতে থাকে

জমা হতে থাকে জমা হয়

তালা দেওয়া সিন্ধুক যেমন

প্রায় কখনো কেউ খুলতে দেখেনা কাউকে



লুঙ্গিতে গিঁট দিতে দিতে দল বেঁধে মেয়েদের ইস্কুল্টায়

ছুটে যায় ছুটির সময়টায়



কখনোবা ঝিম মেরে পড়ে থাকা টং এর মালিক

রাজন চাচা্র মেয়ের শরীরের চিত্র বিচিত্র ম্যাপ নিয়ে

খ্যাক খ্যাক হাসি

দিশেহারা উদভ্রান্ত বুড়োটা

ঘোলাটে কাঁচের বোয়ামের ভিতর

দৃষ্টি চালানোর কসরতে ব্যস্ত থেকে

জগৎ সংসার ভূলে যেতে চায় প্রাণপণে



মাঝে মাঝে ভূল করে ভূল করে ফেলে

চিৎকার দিতে গিয়ে কঁকিয়ে উঠে

রাজন চাচার হঠাৎ হঠাৎ কঁকিয়ে উঠা

প্রায় নূয়ে পড়া মাথাটা ঠেসে ধরে

কেউ একজন অশ্লীল শীস

দিতে দিতে তারপর

তারপর একজন দুজন তিনজন চার...পাঁচ

একসঙ্গে গলা মিলিয়ে হেড়ে গলায় গান ধরে



'ও সোনা বন্ধুরে....'



ঘোলাটে বোয়ামের বিস্কুটের ভিতর

খাবি খাওয়া মাছিটার

ব্যর্থ ডানা ঝাপটানোর কথা মনে পড়ে যায়

কিছু কিছু মানুষ এভাবেই বেঁচে থাকে

কোন মানে হয়



এসবই বড় বেশী মাথার কোষে কোষে ছড়িয়ে যায়

ছড়িয়ে পড়ে

হিম হিম আঁধারে



মাছিটার চোখ খুঁজে ফেরা

রাজন চাচার একজোড়া

ঝিমধরা চোখ

এখনো আমার মধ্যরাতের

কাটা ছেঁড়া স্বপ্নের ভিতর

আনমনে ঘোরাফেরা করে।।

27 October 2016

12Years A Slave: এই সেই চলচ্চিত্র যেটা ইতিহাস লেখে আর আলোকিত করে!



গত বছর প্রথম প্রিমিয়ার এর পর থেকেই ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়ে আসছিল যে এখন পর্যন্ত দাসত্বের উপরে নির্মিত সবচেয়ে ভালো ছবি “12 years a slave”। এটা আসলেই একটা বড়-সড় চ্যালেঞ্জিং দাবি এবং আমার মনে হয় আসলেই যৌক্তিক দাবি ছিল এবং একই সাথে এই প্রশ্নটা উঠে আসে যে আসলে অন্যান্য দাসত্ব ভিত্তিক মুভির সাথে প্রতিযোগিতার জায়গাটা আসলে কোথায়?ব্রিটিশ ডিরেক্টর Steve McQueen এর “12 years a slave” Solomon Northup নামের আপ্সটেট নিউয়র্কে বসবাসরত এক কালো-আমেরিকান পরিবারে জন্ম নেওয়া জন্ম-স্বাধীন নাগরিকের আত্ম-স্মৃতিকথা থেকে অ্যাডাপ্টেড স্ক্রিনপ্লে।

Solomon Northup ১৮৪১ সালে কিডন্যাপ হন এবং দক্ষিনে লুইজিয়ানা প্লান্টেশনের এক মালিকের কাছে বিক্রি হন দাস হিসেবে। দাসত্ব নিয়ে অনেক মুভিই হয়েছে, সব মুভিতেই আমেরিকার দাস ব্যবসা দেখানো হয়েছে বিভিন্ন উপায়ে; আসলে মূল বিষয় কে অতটা ফোকাস করে নয় হয়ত কখনই। ‘Gone With the Wind’ থেকে শুরু করে ‘Mandingo’ সহ বেশ কিছু মুভির কথা উল্লেখ করা যায়। তাই মুভিতে বিষয়টি একদমই ম্যাপছাড়া কোন অঞ্চল নয় । কিন্তু আসল “অ্যামেরিকান দাসত্ব” কে ফোকাস করে মুভির সংখ্যা একদমই দুস্প্রাপ্য__ এমন একটা ফিল্ম যা দাসত্বের আদ্য-প্রান্ত খুলে তুলে ধরে, এর প্রতিদিনকার ভয়াবহতা চিত্রায়িত করতে পারে, দাসত্বের ঐ উৎসর্গ যেটা দেখে জাতির স্মৃতিতে চিরকালিন দাগ কেটে যেতে পারে। McQueen সাহেবের এ মুভি এ জনরা তে সম্পুর্ন নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে আমার ধারনা, যেটা এসব বিষয়কে খুব ভালো করে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে পেরেছে। অস্কার তো অলরেডি জিতেই ফেলেছে, সুতরাং এ বিষয়ে খুব বেশি আর বলার কিছু নেই ।solomon এর চরিত্র করেছেন chiwetel Ejiofor [জুয়েটেল এজিওফর ], একজন অতিশয় ট্যালেন্টেড ব্রিটিশ অভিনেতা, সঠিক সময়ে সঠিক ব্রেক-থ্রু টা মেরে দিলেন।


মুভির শুরুর দিকে আমরা দেখি সলোমন তার হোমটাউন সারাটোগায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং Ejiofor এর ওই সময়কার চলাফেরা ছিল বেশ আত্মবিশ্বাসের যা পরবর্তীতে তার বন্দিদশা শুধু যে অমানবিকই নয়, সেটা যে অযৌক্তিক ছিল সেটা খুব ভালো করে প্রমান করে দেয় ।তারপরেই আমরা তাকে দেখি আধো অন্ধকার/চাদের আলো যুক্ত নোংরা বিবর্ন একটি কারাগারে শিকল পরানো অবস্থায়। তার মত করে আমরাও বিস্মিত হয়ে উঠি একজন স্বাধিন ব্যক্তির হঠাত এমন অবস্থা দেখে। তারপরেই দেখি তাকে বন্দিকারি এসে তাকে নিগার বলে বিদ্রুপ করছে আর কাঠের প্যাডল দিয়ে পিটাচ্ছে যতক্ষন না সেটি ভেঙ্গে দুটুকরো হয়ে যায়।12 years a slave এর ভাষা আর ভায়োলেন্স অবশ্যই আপনার অনুভুতিকে সংকুচিত করে নিয়ে আসবে কিন্তু বর্বরতা এখানে সুচের মত তীক্ষ্ম যা সাধারন অবিশ্বাস আর বিতৃষ্ণার বহিপ্রকাশ ছাড়াও আপনার পাজড়ের মাঝে বিধে যাওয়ার জন্য সদা প্রস্তুত। মনে হয়না McQueen সাহেব তার মুভিকে কোন পশ্চিমা অসাম্প্রদায়িক গিল্ট-ট্রিপ করার দিকে মনো সংযোগ করেছিলন,আর করার দরকারও ছিল না। আমরা যা দেখেছি সেটা নিজেই তার জন্য কথা বলে। পুরো জাতি, উত্তর থেকে দক্ষিন সব জায়গাই ছিল যেন সাম্প্রদায়িকতার করাল গ্রাস।সলোমন কে নৌকায় করে নিউ-অরলিন্স এ নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে Paul Giamatti’র নারকীয় দাস ব্যবসায়ী তার নাম পালটে দাস নাম হিসেবে নতুন নাম Platt দেয় হয় আর Benedict Cumberbatch এর চাষাবাদের মালিক Ford এর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। Ford এর অধীনে সে যথাসম্ভব তার বিড়ম্বিত ভাগ্যের সদব্যবহার করার চেষ্টা চালিয়ে যায়, কিন্তু মাঝে এক গভর্নর এর সাথে [কাস্টিং বাই Paul Dano] হালকা ব্যাগড়া লেগে যায়। এর ফলাফল যে খুব একটা ভাল হতে যাচ্ছে না আপনি হয়ে সাথে সাথেই টের পেয়ে যাবেন। তাকে হত্যার একটা চেষ্টা চালানো হয় কিন্তু তা ব্যর্থ হয়!


সাইপ্রেস গাছের সাথে তাকে ঝুলানো অবসথায় আমরা দেখতে পাই, গলায় ফাস লাগানো, কক্কুটের ডাকের মত করে নিশ্বাস আটকে আটকে বের হচ্ছে, পায়ের জিচে পিছলা কাদায় কোন রকমে পায়ের বৃদ্ধাংগুলির সহিত দাঁড়িয়ে আছে জীবন বাচানোর জন্য। তার পিছনের ফ্রেমে দেখা যায় অন্যান্য দাস-দাসিরা তাদের নিত্য দিনের কর্ম কান্ডে ব্যস্ত! কিন্তু ম্যাক্কুইন সাহেব কি আমাদের সে দিকে মনোযোগ দিতে বলছেন ? না কখনোই না, তিনি সলোমন কে ঝুলিয়ে রাখেন তার ফ্রেমে দীর্ঘক্ষন থেকে আরো দীর্ঘতর ক্ষন।আসলেই McQueen এর জন্য এক সিগনেচার মুভ তার এই “12 years a slave”। আপনি যদি তার আগের দুটি উল্লেখযোগ্য কাজ Bobby Sand এর বায়োপিক ‘Hunger’ আর সেক্স-অ্যাডিকশন ড্রামা ‘Shame’ দেখে থাকেন তাহলে আশা করি খুব ভালো ভাবে বুঝতে পারছেন আমি কি বলতে চাচ্ছি।পরবর্তীতে সলোমনকে দেখা যায় অন্য আরেকটি প্লান্টেশন এ সেখানে মালিক ছিল এক মাথা নষ্ট [ব্যাং হেড ] ম্যানিয়াক Epps (Michael Fassbender)। এখানে আরেকটি অসাধারন সিঙ্গেল শট দৃশ্য [যেটাকে পুরো মুভিতে স্পেশালি মনে রাখবেন] চিত্রায়িত হয় যেটায় আরেক দাসী Patsey (Lupita Nyong’o) কে মালিক পেটাচ্ছিল , he is pretty obssessed with her [আমার প্যাটসি হারায় গেছেরে lol ] । সলোমন কে Patsey কে চাবুক পেটা করতে বাধ্য করা হয় যেটা আসলেই ছিল ভয়ঙ্কর রকম পাগলামি , অবশ্য এমনি হবার কথা ছিল। আর এখানকার সবার পারফরম্যান্স অনন্যরকম বিস্ময়কর __ ঐ নিস্পলক ক্যামেরা সেটা নিশ্চিত করবে।Django Unchained অনেকেই এটার সাথে তুলনা করার চেষ্টা করেছেন , Django Unchained এ একজন স্লেভ এর সারভাইবাল দেখেছিলাম আমরা। কিন্তু দুইটা মুভিকে অনুভূতিগতভাবে তুলনা করা যায় না, আসলেই না। Django Unchained এর প্রত্যেক টা আকর্ষনীয় দৃশ্য গুলো ছিল শক্ত আর চাকচিক্যে ভরা , শেষ টা ছিল এক অনুভুতিহীন রক্তারক্তিতে যাতে আমরা “দুনিয়ায় বিচার নাইরে” প্রক্র থেকে মুক্তি পাই। কিন্তু এটা ছিল সত্যি ঘটনার উপরে নির্মিত কাহিনি, তাই ম্যাককুইন সাহেবের এমন প্রটেকশন নিয়ে কাজ কোন সুযোগ ছিল না।


 12 years a slave এর গুরুত্ব মাপতে হলে ফিরে যেতে হবে ১৯১৫ তে। এ বছর D.W. Griffiths এর হিস্টোরিক এপিক The Birth of a Nation (অ্যামেরিকার সিভিল ওয়ার এবং এর পরবর্তী ফলাফল নিয়ে) মুক্তি পায় যা ছিল এক স্ম্যাস হিট। এখানে এমন কিছু রুল সৃষ্টী হয়েছিল/ নথিভুক্ত হয়েছিল যার উপরে ভিত্তি করে আধুনিক মুভি তৈরি হত এবং হচ্ছে। ঐ মুভির গুরুত্ব ছিল অবর্ননীয়। এটা ছিল ইতিহাসের প্রথম মুভি যেটা হোয়াইট হাউসে স্ক্রিনিং হয়। আর প্রেসিডেন্ট Woodrow Wilson এ মুভি দেখে বলে ওঠেন “history written with lightning” । কিন্তু Griffiths এর মুভিতে সত্যতা ছিল না। ওটা ছিল পুরোপুরি রেসিস্ট মুভি ওখানে নিগ্রোদের দেখানো হয়েছিল সন্ত্রাসি আর রেপিস্ট হিসেবে। ব্ল্যাকি ক্যারেক্টার গুলোতে অভিনয় করেছিলেন হোয়াইট রা ই, মুখে কালি মেখে । আর ওখানে Ku Klux Klan দের দেখানো হয়েছিল নিউ রিপাব্লিক এর saviour knights হিসেবে। সেইক্ষেত্রে চিন্তা করে দেখেন ‘দাসত্ব’ এর উপরে নির্মিত ফিল্ম এর ‘লঘুত্ব’ নিয়ে, কত বড় একটা সময় লাগলো সেই ইতিহাসের সাদা ভুত তাড়াতে !! , এই হিসেবে “12 years a slave” শুধুই একটি মাস্টারপিস ই না, একটা মাইলস্টোন। আর শেষে প্রেসিডেন্টের সেই কথা “এই সেই মুভি যেটা ইতিহাস লেখে আর আলোকিত করে”।।

ডিরেক্টরঃ Steve McQuee,
অভিনয়েঃ Chiwetel Ejiofor, Michael Fassbender, Lupita Nyong’o, Benedict Cumberbatch, Paul Dano, Brad Pitt, Alfre Woodard, Adepero Oduye, Paul Giamatti, Sarah Paulson।

12 Years a Slave (2013) – IMDb: www.imdb.com/title/tt2024544/
Rating: 8.3/10 – 130,034 votes
ব্যক্তিগত রেটিং ৮.৫/১০

24 October 2016

Room(2015)- একটি হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া মুভি

                                                                   

 আমি সাধারনত “ড্রামা” জনরার সিনেমা খুব কম দেখি কেননা তুলনামূলক ভাবে ড্রামা একটু স্লো হয়ে থাকে। “Room” সিনেমাটি গোল্ডেন গ্লোবের “বেস্ট মোশন পিকচার ইন ড্রামা” ক্যাটাগরিতে নমিনেশন পাওয়ায়, এই সিনেমার ক্ষেত্রেও একই পন্থা অবলম্বন করেছিলাম। পরবর্তিতে একজন রেকমেন্ড করায় এবং এবারের অস্কারে নমিনেশন পাওয়ায় মোটামুটি প্রিন্টে সিনেমাটি দেখে ফেলি এবং অনেক ভাল লাগার পরিমানের ফলাফল হিসেবে এখন পিসিতে বসে রিভিউ লিখছি।
                                                    

সিনেমার একটি দৃশে মা ও পাঁচ বছরের ছেলের কথোপকথনঃ-Jack,I’m not a good enough Ma(Mother)!-
but you’re “Ma”!

পুরো গল্প নিয়ে আলোচনা করলেও এই সিনেমায় স্পয়লার পাওয়ার সম্বাবনা অথবা সিনেমার আসল স্বাদ নস্ট হওয়ার কোন কারন নেই কেননা গল্পে আহামরি কোন ট্রুইস্ট এবং গল্প শুনে,পড়ে অনুধাবন করার মত সিনেমাও এটি নয়।সিনেমার স্বাদের আসল উপকরন হচ্ছে পর্দায় তা দেখা, প্রতিটি দৃশ্যের সাথে মিশে থাকা, অনুভব করা এবং অনেক ভাল লাগা নিয়ে সিনেমাটি দেখা শেষ করা।

রুম (২০১৫) । Room (2015)
জনরাঃ ড্রামা
আইএমডিবি রেটিংঃ ৮.৩/১০
রটেন টম্যাটোসঃ ৯৭%
ফ্রেশনেসকাস্টঃ ব্রি লার্সন, জেকব ট্রম্বলে, শন ব্রিজার প্রমুখ
স্ক্রিনপ্লেঃ এমা ডনাহিও
পরিচালকঃ লেনি এব্রাহিমসন।

তারপরও বেসিক প্লট নিয়ে কিছুটা ধারনা দেয়। মুল গল্প মা ও তার পাঁচ বছরের সন্তানকে নিয়ে।মা (ব্রি লার্সন) তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে জ্যাক (জেকব ট্রম্বলে) কে নিয়ে একটি জীর্ণশীর্ণ ছোট রুমে বসবাস করে আসছে। গত পাঁচ বছরে একবারের জন্যও জ্যাক এই রুমের বাহিরে যায়নি কেননা ওল্ড নিক (শন ব্রিজার) তাদের দুজন কে একটি গোপন রুমে বন্ধী করে রেখেছে এবং এই রুমের ডোর পাসওয়ার্ড প্রোটেকটেড।এই ছোট রুমই জ্যাকের দুনিয়া, বাহিরের পৃথিবী সম্পর্কে তার কোন ধারনা নেই। দুজনের সময় কাটে টিভি দেখে, পৃথিবী সম্পর্কে বিভিন্ন ফিকশনাল গল্প বলে, রান্না করে। মা জ্যাককে বাস্তবতা সম্পর্কে বিভিন্ন ভুল(!) ধারনা দিয়ে আগলে রাখে নিজের মত করে।পরবর্তিতে দুজন মিলে এই রুম থেকে মুক্তি পাওয়ার প্ল্যান করতে থাকে।মা ও ছেলের ভালবাসার বন্ধন, আবেগময় সম্পর্কের সার্থক মডেল হচ্ছে “রুম” নামক সিনেমাটি। নিজের সন্তান কে বিভিন্ন প্রতিকূলতায় আগলে রাখা, একান্ত নিজের করে লালন করা, সময়ের সাথে সামঞ্জস্যতা বজায় রেখে গড়ে তোলার বিষাদ ও একই সাথে স্বচ্ছ মায়াবী এবং হৃদয় ছুঁয়ে দেয়ার গল্পের নাম “রুম”সিনেমাটি অনেক ভাল লাগার উপকরন হিসেবে মা-ছেলের মধুর সম্পর্ক তো আছেই তাছাড়া, পাঁচ বছর বয়সী জ্যাকের এই পৃথিবী সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা ও মতামত গুলো দেখলে একই সাথে হাঁসি ও ভাবনায় পরে যাবে যে কেউ। সিনেমার অনেকাংশয় জ্যাকের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখানো হয়েছে।অভিনয়ের সম্পর্কিত আলোচনা যদি করি তাহলে, এক্ট্রেস “ব্রি লার্সন” এর সাথে আমার আগের পরিচয় (Scott Pilgrim vs. the World , The Spectacular Now) সুখকর ছিলনা। একে তো ছোট রোল তার উপরে টিনএইজ ক্যারেক্টার। কিন্তু এই সিনেমায় তার পারফমেন্স দেখে সত্যিই মুগ্ধ। অসহায়ত্ব, সন্তানের প্রতি টান, বিরহ সবকিছু সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে সে। এই ক্যারেক্টারটি ভাল ভাবে বোঝা ও ফিল করার জন্য সে একমাস নিজে একটি রুমে আবদ্ধ করে রেখেছিল।
                                                 

ব্রি লার্সনের এই পরিশ্রমের ফলাফলও পেয়েছে সে, এবারের গোল্ডেন গ্লোবে সেরা অভিনেত্রীর পুরষ্কার, অস্কারে লিডিং এক্ট্রেস হিসেবে নমিনেশন।ছেলের চরিত্রে জেকব ট্রম্বলের পার্ফমেন্স জাস্ট সুপার্ব!!! এই পিচ্চির এত ভাল অভিনয় দেখে আমি অলমোস্ট “হা” করে ছিলাম। একে তো দেখতে এডোরেবল, সাথে ডায়লগ ডেলিভারি,এক্সপ্রেশন সত্যিই প্রশংসনীয়।পরিচালক লেনি এব্রাহিমসন এই সিনেমার জন্য অস্কারে সেরা পরিচালকের নমিনেশন পেয়েছেন। আর সিনেমার গল্প, লেখিকা এমা ডনাহিও এর একই নামের উপন্যাস থেকে এডপ্ট করা। তিনিও সেরা স্ক্রিনপ্লের জন্য অস্কারে নমিনেশন পেয়েছেন। সিনেমাটোগ্রাফি ও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও ভাল লেগেছে। বিশেষ করে জ্যাকের দৃষ্টিকোণ থেকে গল্প প্রেজেন্ট করার ক্ষেত্রে সিনেমাটোগ্রাফারের ক্যামারা এঙ্গেল এর কাজ প্রশংসনীয় ছিল। সসবকিছু মিলিয়ে একটি উপভোগ্য সিনেমা।

22 October 2016

তুমি আছো শুধু বেজন্মা কবিতায়

জানো নুপূর
আজো তুমি ভালোবাসতে শিখলে না,
নিষ্ঠুর করে রেখেছো স্বপ্নের মেঘগুলোকে।
গোলাপী রঙ কোনটা, তাই জানো না তুমি, অথচ আমিভালোবেসেছি বহুবার।
ছেলেবেলায়
ভালোবেসেছিলাম...ঝড়ের আগের ঠান্ডা বাতাস টা কে,নতুন নতুন বইয়ের মলাটগুলোকে,ভালোবেসেছিলাম,একটা জবা ফুল গাছকে,একটা ঝুলঝুলিওয়ালা রিকসাকে অথচ 
নুপূরতুমি, 
আমার মতো নও,
নিজের ঠোঁটেই গোপন রেখেছো নিজেকে।
বেঁচে থেকেও হারিয়ে গেছো,
ভালো থেকেও ভালো নেই,
স্বপ্ন-বিরহ-ঘ্রাণ কিংবা উষ্ণতায় 
তোমার ঠাঁই নাই,
তুমি আছো শুধু বেজন্মা কবিতায়।।

এই জল এই নদী

এই জল, এই নদী
একটু কি দাঁড়াবে?
আমার কিছু কথা ছিলো বলার,
বলতে পারছি না কাউকেই।
একটা চিৎকারকে আমার,
তোমার সাথে করে নিয়ে যাও।
কেউ না জানুক কোন ভাব্নার জনক ছিলাম আমি
কেউ না জানুক,
আমি কতোটুকু জল ছিলাম,কতোটুকু নদী।।

21 October 2016

জীবনটা তখনই সুন্দর ছিলো


জীবনটা তখনই সুন্দর ছিল যখন সপ্তাহে একদিন বাংলা সিনামা দেখার জন্য ঘর ভর্তি মানুষ সাদা কালো টিভির সামনে বসে থাকতাম। সিনেমা শুরু হবার অনেক আগে আবহাওয়ার খবর দেখা, বৌদ্ধদের ত্রিপিটক পাঠ শোনা; সবই সিনেমা দেখার অংশ ছিল। সিনেমা চলাকালীন সময় বিজ্ঞাপন এলে আমরা আঙুল দিয়ে নামতার মত করে বিজ্ঞাপণ গুনতাম। ত্রিশটা বিজ্ঞাপণ দেখানোর পরই সিনেমা শুরু হয় এই ব্যাপারটা ততদিনে আমরা আবিষ্কার করে ফেলেছি।যেদিন ভুল করে দুপুরে ঘুমিয়ে যেতাম, খুব মন খারাপ হত। দুপূরে ঘুমানোর মানেই হল বিকেলের খেলার টাইম মিস করে ফেলা। আমরা সারাদিন বিকেল সময়টার জন্য অপেক্ষা করতাম,  ঘরে ফেরা মানেই পাটিগণিতের বই নিয়ে বসা। চৌবাচ্চার অংকটা জীবনটাকে প্রায়শই অতিষ্ট করে ফেলত। অংক মেলাতে গিয়ে দুশ্চিন্তায় পেন্সিলের উল্টো দিকের রাবারের অংশ কামড়ে খেয়ে ফেলতাম। রোজ সন্ধায় পড়ার সময়টাতে একবার লোডশেডিং হত। সাথে সাথেই যে যেখানে থাকুক না কেন একসাথে একটা বিকট চিৎকার করে রাস্তায় জড়ো হতাম। শুধু একটা সময় লোডশেডিং হলে আমাদের কষ্ট হত যখন আলিফ লায়লা দেখাত। সেই সময় কিছু শৌখিন বড়লোক ছিল যাদের বাসায় ব্যাটারি ওয়ালা টিভি থাকত। অর্থাৎ কারেন্ট চলে যাবার পরেও টিভি চলবে। আমরা দল বেধে সেই বাসায় হানা দিতাম।জীবনটা তখনই সুন্দর ছিল যখন মনমালিন্য হলে আমরা কাইন আঙুলে আড়ি নিতাম, দু দিন কথা বলতাম না। তারপর আবার আনুষ্ঠানিক ভাবে দুই আঙুলে ‘ ভাব’ নিতাম; এখন থেকে আবার কথা বলা যাবে।সেই সময় সব মেয়েরা একটা পুতুল কিনত, যেটার সুইচ অন করলেই শাহরুখ খানের ‘ ছাইয়া ছাইয়া’ গানটা বাজত আর ছেলেদের সব থেকে দামী খেলনা ছিল রবোকোপ, যেটা চালু করতে আটটা পেন্সিল ব্যাটারি লাগত।জীবনটা তখনই সুন্দর ছিল যখন ক্লাস রুমে সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে ভাবতাম, এখন যদি ফ্যানটা খুলে পড়ে তাহলে সেটা কার মাথায় পড়বে ? অনেক পরে জেনেছি, এই জিনিস শুধু আমি না, প্রায় সবাই একই জিনিস ভাবত !আমাদের সময় একটা নিয়ম প্রচলিত ছিল, যার ব্যাট সে সব সময় আগে ব্যাটিং করবে। আমাদের টস মানেই হল আগে ব্যাটিং, টসে জেতার পর কাউকে কোনদিন ফিল্ডিং নিতে দেখিনি। রোজ বিকেলে কটকটি ওয়ালা আসত। মজার ব্যাপার হল কটকটি কিনতে কোন টাকা পয়সার দরকার হত না। পুরনো কাগজ, প্লাস্টিকের কিছু একটা দিলেই কটকটি পাওয়া যেত। আমরা এক টাকা দিয়ে নারকেল আইসক্রিম খেতাম; কত মার খেয়েছিলাম এই কিশমিশ মেশানো নারকেল আইসক্রিমের জন্য, ঠিক যেন চোখের সামনে ভাসে !আমাদের সময় সব চাইতে সুন্দর জুতা ছিল লাইট ওয়ালা কেডস জুতা। হাঁটলেই জুতা থেকে লাইট জ্বলত। অন্ধকারে সেটা পায়ে দিয়ে বের হলে দুনিয়া শুদ্ধ মানুষ তাকিয়ে তাকিয়ে ভিম্রি খেত। পড়ার বইএর ভেতরে থাকত চাচা চৌধুরী। চাচা চৌধুরীর বুদ্ধি ছিল কম্পিউটারের থেকেও প্রখর।জীবনটা তখনই সুন্দর ছিল যখন আমরা রাজা কনডমকে বেলুন বানিয়ে খেলতাম। সব চাইতে বড় অপারেশন ছিল চটপটি খেয়ে টাকা না দিয়ে পালিয়ে যাওয়া ! স্ট্যাম্প জমাতাম, রানী এলিজাবেথ ছিল সব চেয়ে দামী স্ট্যাম্প, পাঁচ টাকা।সেই দিন গুলোতে আমরা পেন্সিলের শার্পনার হারিয়ে কাঁদতাম ! আমাদের দুঃখ গুলো তখন আমাদের মতই শিশু ছিল।আমাদের কোন প্রেমিকা না থাকলেও একটা কেউ ছিল। যার সামনে দাড়ালে আমাদের বুক ধুপ ধুপ করে উঠত। দরজা বন্ধ করে ড্রয়িং খাতায় তাকে আঁকতাম। কপালের টিপ মাঝখান বরাবর না বসলে রাবার দিয়ে মুছে আবার আঁকতাম। সেদিন আর পড়ায় মন বসত না ! কী সব সোনালী দিন ছিল... আহা !

12 October 2016

দেখো সে যেন চলে না যায়

বৃষ্টি হয়ে যাবার পর,  বা আগে,  কখনও কখনও ভেবেছি  বৃষ্টির আগের রাতের কথা।  সেসব রাত,  যখন টিমটিমে আলোর  চারিপাশে, বাদলা পোকার মতন  উড়ে বেড়াত রূপকথারা।  জমি থেকে জোনাকির ডানায়,  বা ঝিঁঝিঁর সুরে ভেসে আসত  ঘুম।     বৃষ্টি হয়ে যাবার পর,  বা আগে,  কখনও কখনও ভেবেছি  বৃষ্টির আগের রাতের কথা।  যখন অবহেলার আটপৌরে মায়ের  হাতের নীচে,  পোষা বেড়ালের মতন  ওম পোহাত, নরম আদুরে ঘুমের রাত।  চাঁদের চাদর খসিয়ে জানলার পাশের  আম গাছটার নীচে,  নেমে আসত সফেদ পক্ষীরাজ।     বৃষ্টি হয়ে যাবার পর,  বা আগে,  কখনও কখনও ভেবেছি  বৃষ্টির আগের রাতের কথা।  যখন হিমেল হাওয়ারা উড়ে যেত  ঢেউ ভেঙ্গে মাস্তুলের কানায়  কানায়।  রাতভাসি তারারা সিরসিরে বাতাসিয়া  সুর টেনে, ঘুমন্ত ঈগল ছানাদের  কানে কানে বলে যেত,  দেখো সে যেন চলে না যায়।

11 October 2016

প্রিয় বন্ধুকে

তোর কাছে পৌঁছায় না আর আমার চিঠিগুলো। সবকিছু সামলাতে সামলাতে বড় ক্লান্ত, বড় একা। বললে হয়ত তোকেই বলা যেত। জানি, তুইও এখন অন্য কোথাও একা।  কেন জানিনা শীত শেষের এই ঝরাপাতার গন্ধমাখা হাওয়ায় তোর খবর পেয়ে যাই বারান্দার কোনা ঘেঁষে দাঁড়ালেই।  তোর-আমার দিনগুলো এখন অন্য-অন্য কারোর। ক্রমশঃ সরছি দূর থেকে দূরে। কতদিন হয়ে গেলো তোকে দেখিনি, তোর কথা শুনিনি। কত গল্প জমে যাচ্ছে জানিস?  কত কত সময় মনে মনে খুঁজি তোকে। বড় অসহায় লাগে। সাবলম্বী করে দিয়েও অবলম্বন হয়ে আছিস তুই।  ভালো আছিস ভেবে নিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করি রোজ।

10 October 2016

হয়তো খুব ভালো হয়ে যাবো …

হয়তো খুব ভালো হয়ে যাবো,
টিফিন কাঁধে অফিস যাবো,
ঠিক সময়ে বাসায়  ফিরবো …
বিকাল পার করবো গরম কফিতে,
ফুসফুস’টাকে হয়তো আর জ্বালাবো না,
পুড়িয়ে মারবো না …

বৃষ্টি এলে হয়তো জানালাটা খুলে দিবো,
হয়তো হবো, দুঃচিন্তা মুক্ত , ক্লেশ মুক্ত …
হয়তো রাগ-অনুরাগ, অভিমান আর থাকবেনা,
সত্যিই হয়তো ২২ টি গোলাপ প্রস্তুত করে রাখবো ..
তোমায় একে কাগজের নৌকায় ভাসিয়ে দিবো,
হয়তো … আর উদাসীন হবো না,
তোমার পায়ের শব্দ একবার শুনলে …
তুমি এলে …
হয়তো খুব ভালো হয়ে যাবো …

কথা হয়ে গেছে

যেদিন আর কথা থাকবেনা বলার,
সেদিন দেখা হবে পথের মোড়ে।

একটা একটা বাতি জ্বলে উঠবে ল্যাম্পপোষ্টে,
আর আঁৎকে উঠে হাতড়াবো কথার হাতবাক্স,
বড্ড বিব্রত হয়ে হয়তোবা বলেই ফেলবো,
"চিরকুট সব নিজের ডানা এঁকে পালিয়েছে,
কিছু বলো,"

দোহাই সেদিন ও ফের হেসোনা,
বড্ড বিব্রত হবো, থমকে চুপ হয়ে যাবো,
মুহুর্ত ছুটে পালাতে পালাতে বলে যাবে শেষ সন্ধ্যায়,
"কথা হয়ে গেছে।"

6 October 2016

পত্রপাঠ

আজকাল তোমার চিঠি না পেলে ভালো লাগে না,             বিকেলের পড়ন্ত লালচা রোদে পিঠ দিয়ে ... না, কারোর জন্য কিছু বসে থাকে না, আমিও থাকি না,             সময়-স্রোত-ইচ্ছা-স্বপ্ন, আমি না চাইলেও যায় চলে । 

 এখন আমি আধবোজা চোখে বেশ দেখতে পাই তুমি আর তোমার বিরহ কে, একদম পাশাপাশি; সময়ে-অসময়ে বুকফাটা যন্ত্রনা অস্থির করে আমাকে, বলে - সর্ব্বনাশি, আমি কি তোকে ভালোবাসি ?  : ঝিমিয়ে পড়া সময়টা যে বড্ডো বেমানান আমার কাছে,             কখন যে মনের ফাঁক-ফোকরে তুই ঢুকে যাস্             আর গোলাপ হয়ে লুকিয়ে পড়িস মনের বাগানে,             আমি হিসেব রাখতে পারি না বলপেন আর কাগজে।   শুয়ে শুয়ে তাই ভাবি - সময় মানেই এগিয়ে চলা পাহাড় যেমন মিশে যায় নীলে দুই বাহু প্রসারিত করে, দুর্গম খাদ বেয়ে যেমন গড়িয়ে নামে উন্মত্ত ঝর্না রূপের অঝোর ধারায় আমার সবকিছু তছনচ করে;



 জানিস পাগলী, সেই ঝর্ণার বুকের মাঝে আছে একটা কষ্ট জমা পাথর, সময়ের সাথে একদিন রাশি রাশি বালিকণা হয়ে             ভেঙে পড়বে তোর চোখের কোনে,             তখন নাহয় ফেলে দিস             ঠিকানা না রেখে ।

5 October 2016

মনে পরে স্কুল জীবনের সেই দিন গুলো

হয়তো বিকেলের হলুদ আলো ফিরে ফিরে পাব। বসন্তের কোকিলও ডেকে যাবে আরও বহুদিন।স্মৃতির সাগরে হটাৎ কোনদিন হয়তো ভেসে উঠবে একটুকরো সুখ। ফিরে আসবে হয়তো স্বপুনের ছেড়া জাল হয়ে। কিন্তু সেই আদরের তেল আর শাসনের লংক্ষা মাখানো,খাওয়ার বহক্ষণ পরেও মুখে স্বাদ লেগে থাকা ঝালমুড়ির মত নিরবিচুছিন্ন সুখের সেই স্কুল জীবন কখনোই আর ফিরে পাব না । 



 ভাবত
বড় কষ্ট হয় ,তবু প্রকৃতির নিষ্ঠুর এজিং প্রসেস একটু একটু করে আমার জীবন তরি নিয়ে যাচ্ছে গভীর সমুদ্রর দিকে।  স্কুল জীবন এর বন্ধুরা, ফিরে আয় না আর একবার... আবারো মন খুলে হাসতে ইচ্ছে করছে খুব।স্কুল জীবন এর বন্ধুরা, ফিরে আয় না আর একবার… আবারো মন খুলে হাসতে ইচ্ছে করছে খুব।

কৈশোর
থেকে যৌবন , যৌবন থেকে প্রৌঢ়ত্ব , প্রৌঢ়ত্ব থেকে বার্ধক্য-জীবনের এই সরলরৈখিক গ্রাফ কখনোই বৃত্তাকার হবেনা। হয়তো কোনদিন একাকী হাটা কোন ফাঁকা রাস্তায় হটাৎ থমকে দাড়াব।মনে হবে এই সেই পথ,যে পথে হেঁটেছি আমি বহদিন, আমার প্রিয় স্কুলের পথে, স্কুল জীবন এর চিরচেনা পথ আজ বড়ই অচেনা ।নাগরিক ব্যস্ততায় হঠাৎ কোনও পাখির ডাকে নস্টালজিক মন চলে যাবে স্কুলের পাশের সেই বড় গাছটার পাখির বাসায় ।

জনসমুদ্রুর মাঝে হয়তো কোনদিন হাতে হেঁচকা টান খেয়ে থেমে যাব। তারপর নাম মনে করার চেষ্টায় একে অপরের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা। তারপর দুজনে একসাথে দোস্ত কেমন আছিস বলে মুদু চিৎকার ।এসবই হয়তো কোনও একদিন হবে।কোনও তরুণীর বাতাসে ওড়ানো উড়না ও চুল দেখে হয়তো ফিরে যাব সেইসব স্কুল জীবন এর কিশোরী সহপাঠিনীর কাছে,পড়াশুনায় পেছনে ফেলা কিংবা কিভাবে স্যারের কাছে বকুনি খাওয়ানো যায়,যাদের সাথে ছিল এইসব নির্দোষ প্রতিদ্বন্দ্বীতা । হয়তো কোনদিন বাসের সীটে বসা কোনও বয়োঃবৃদ্ব কে দেখে মনে হবে সেই প্রিয় শিক্ষক, যার মার খেয়ে শুরু হয়েছিল আমার স্কুল জীবন আর স্কুল জীবন এর শেষের দিনে যাকে আমি লুকিয়ে কাঁদতে দেখেছি ,যার হাতে গড়া কাদামাটির পুতুল এই আমি আজ সময়ের আগুনে পুড়ে পুড়ে বড় বেশী রুক্ষ,হয়তো কিছুটা পরিনত।  এসব হয়তো ঘটে যাবে কোনও শুভক্ষণে। কিংবা অতিমাত্রায় সুখখপিয়াসি মন আমার অবচেতনেই মস্তিস্কের নিউরনে সুখের সিকোয়েন্স সাজাবে। কিন্তু বাস্তবে আর কখনোই ফিরে পাব না আদর আর শাসনের যেই অপূর্ব মিশেল। শুনবো না কখনও আর ঘন্টা বাজার আদুরে শব্দ। পড়া না পারার ভয়ে আর কাতর হব না। মাথায় প্রিয় শিক্ষকের মমতা মাখানো হাতের স্পর্শে চোখ ছলছল করবেনা।

মনের মাঝে হাজারো আকুতি থকলেও স্কুল জীবন এ ফিরতে পারব না । ছেলেবেলার সেই সোনা রাঙা দিনগুলি আর কখনোই ফিরে পাব না । ফিরে পাবনা দুষ্টুমি ভরা স্কুল জীবন ।  হায়। শিশু কেন শৈশবে থাকে না ।কিশোর কেন কৈশোরে থাকে না যুবক কেন যৌবনে থাকে না । সময় কেন শুধু একদিকে বয়ে যায়। মানুষ কেন কেবলই বুড়ো হয়ে যায়। অনেক না পাওয়ার মত এই প্রশ্নের উত্তরও কখনোই খুঁজে পাব না । 

 স্কুল জীবন এর বন্ধুরা কে কোথায় , কেমন আছে!!!  স্কুল জীবন এর বন্ধুরা, ফিরে আয় না আর একবার… আবারো মন খুলে হাসতে ইচ্ছে করছে খুব।

ঘাসফুলেদের সাথে

তুমি সারাক্ষন খুঁজে গেছো দুপুর সন্ধ্যে বেলায়, সময় দাওনি ঘাস ফুলেদের। লিলুয়া বাতাস হয়ে ছুয়ে গেছো দূর আরো দূর বেপাড়ায়… ফিরে গেছে সে নদী...