অজুহাত


অজুহাতে চোখ ছোট করতেই পারি,
হিসেব গুলিয়ে বলতে পারি " বাবু, আজও ফের গোল
হয়ে গেলো খসড়াতে"
কি অদ্ভূত, আমি তোমায় বাবু ডাকি,
তুমি কেন চোখ কুঁচকে আমায় দেখো,
বড্ড মনিব সাজলে নাকি!

বাবু ডেকেছি,
ভাতের থালার পাশে নকশিপাখা হয়ে দিব্যি আছি,
সে কি কেবলই গরম ভাতের অজুহাতে,
হুহ,
না বাবু না,
তুমি ছাই বোঝোগো,
না বাবু না,
তুমি আমায় ছাই চেনোগো।

বাবু তোমার খাতার পাতায় আমায় নিয়ে একটা কবিতা লিখো,
দেখ ; আমি কাঁজলের সীমা এঁকে তোমায় পূজো দিচ্ছি
,
তোমার বেদীতে ফুল রাখবো কি ছাই,
নিজেই আঁকড়ে বসে আছি।

বাবু তুমি গরমভাতের অভিমান দেখাও, আমার অভিমান বোঝনা,
বাবু তুমি শার্টের আস্তিনে জমা ময়লা চেনো,
আমার ঠোঁটের কোণের সুপ্ত অভিমান চেনোনা।
বাবু ,
তোমার নরম রোদ্দুরের ইজিচেয়ারের উষ্ণতা বোঝ,
বাবু কেবল তুমি আমায় বোঝনা।

জোনাকি


ছোট্ট ঘরটার দেয়ালে বড় করে লেখাঃ জোনাকি!!

বাড়ির সেই ছোট্ট ঘরটার দরজা বন্ধ থাকে।
সেই ঘরে এখন কেবল জোনাকিরাই থাকে।
সারারাত ঘরের দেয়ালে ঝুলতে থাকা মেয়েটার
ছবির ওপর,
কখনো ধূলো জমা ডায়েরীর ওপর লেপ্টে থাকা
নামটার ওপর একটু আলো ফেলেই নিভে যায়।
মেয়েটার নাম নীলা, না ভূল হলো, মেয়েটার নাম
ছিলো নীলা। সকাল বেলা হলেই মেয়েটা ঘুম
থেকে উঠে গানের রেওয়াজ করতো....

মাঝের বাগানের ঠিক এ পাশের জানালা থেকে
নীলার ঘরটা দেখা যেতো। মেয়েটা বাগানে
আসতো। বিচিত্র গাছে ভরা বাগান। ছোট্ট
বনসাইয়েরা বড় হওয়ার সুযোগ পেতো।
আর ঝোপঝাড়ের মত গাছের কাছে একটা
সাইনবোর্ড।
জোনাকির খামার।
মেয়েটা সারাশরীর ঢেকে রাখতো। শুধু ফ্যাকাসে
মুখটা গাছের পাতার মাঝ গলিয়ে এসে পড়তো
মুখে।
মেয়েটা কিছুক্ষন রোদের দিকে থাকতেই কি
ভেবে ঘরে ফিরে যেত।
সন্ধ্যা হলেই আমার জানালার ওপাশে বসতো
জোনাকীর মেলা।
মেয়েটা লাইট অফ করে সরু শলতের মোম জ্বালাতো
বাগানে। মেয়েটার ঘরে শত শত জোনাক পোকা
জ্বলতো আর নিভত।
আমিও খুব অবাক হয়ে তাকাতাম।
এত সুন্দর দৃশ্যের মধ্যে কি এক ভয়ংকর বিষণ্ণতা।
দ্যা লাস্ট সাপারের মত একটা স্থিরচিত্রের মত
মেয়েটার চোখে পানি চিক চিক করতো।
মেয়েটা হাসতো না।
নড়তো না।
একসময় ঘরের জানালা বন্ধ হতো...
বাগানের জোনাকিরাও হারিয়ে যেতো।

খুব বর্ষায় মেয়েটা বাইরে মোম জ্বালাতো না।
অন্য দশটা মেয়ের মত জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে
দিতো না কিংবা ভিজতো।
খুব জোছনায় মেয়েটার ঘরে কেবল জোনাকিরাই
থাকতো..

আমি খোঁজ নিয়ে যা জেনেছিলাম তার সারাংশ
এইঃ
মেয়েটি পাগলী, জোনাক পাগলি, শুধু তিনবেলা
খাওয়া ছাড়া মেয়েটা ঘরের বাইরে যায় না।
বাড়ির সবার তার ঘরে যাওয়া নিষেধ। আর
মেয়েটার কি এক অসুখ আছে। কি অসুখ কেউ জানে
না।

আমিও মনোযোগ বাড়িয়ে মেয়েটাকে দেখতাম।
ধীরে ধীরে মেয়েটা আর বাইরে আসা কমিয়ে
দিলো।
তবু জোনাকির আলোতে মেয়েটার দেখা মিলতো।
একদিন পড়ার টেবিলে একটা কাগজের দলা দেখে
ফেলে দিচ্ছিলাম পরে দেখলাম এটা আমার না।
খুলতেই একটা মরা জোনাকি আমার টেবিলে
পড়লো।
আমি বিভ্রান্তের মত অভাব হয়ে লেখা পড়লাম।
কোন সম্ভাভাষণ ছাড়াই লেখাঃ
"আমি পাগল নই। আর আমাকে হা করে দেখলে
নিজেকে চিড়িয়াখানার বস্তু মনে হয়। আমার
জীবনে বৈশাখেরা শেষ।
তাই আমাকে দেখে লাভ নেই।
আমি চুপ করে বসে থাকি আর আপনি অন্ধকারে
বসে থাকেন।
তবু আমি বলতে পারি যে আপনি নীল শার্ট
পড়েছিলেন।
আপনি ব্যাপাটা নিজের অজান্তে ঘটাচ্ছেন তা
না, আপনার অবচেতন মনে কিছু একটা কাজ করে।
হিয়তো সহানুভূতি, যা হোক যদি আমি আর দশটা
দুরন্ত মেয়ের মত হতাম আপনাকে বলতে পারতাম
চলুন একদিন জোনাকি দেখি।
আমার গল্প এই জোনাকির মতই নিভছে।
তবু,
ডাক্তারবাবুর মত একটা মিথ্যে আশ্বাস দেই যদি
আমি দুটো বছর বাঁচি একদিন আপনার সাথে
জোনাক দেখবো।
ভালো থাকবেন।
আর আমাকে লুকিয়ে দেখার দরকার নেই।
দেখতে চাইলে দেখবেন।
কিন্তু
আমি আরো কিছু দিন মানুষের দৃষ্টি এড়িয়ে
থাকতে চাই।"
চিঠিটা পড়ে সবকিছু কেমন সহজ হয়ে গেলো।
তাকিয়ে দেখলাম বাইরে।
মেয়েটা সাদা শাড়ী পড়েছে।
আমার চোখে চোখ রেখে সামান্য ঠোঁট বিস্তৃত
করে মেয়েটা হাসলো।
আমার ভেতরটা ওলট পালট হয়ে গেলো।
ভেতরের কি জানি একটা মোচড় দিয়ে বললোঃ এই
মেয়েটাকে আমি ভালোবাসি।


আমাদের ভালোবাসার কোন গল্প ছিলো না। দু
সপ্তাহ বেঁচেছিলো মেয়েটা, আমি চিঠিটা
হারিয়ে ফেলেছি কিংবা হয়তো সবটাই কল্পনা।
মেয়েটার কবরে কয়েকমুঠো মাটির সাথে কয়েক
ফোঁটা চোখের জল মিশে গিয়েছিলো।
হঠ্যাৎ করেই আমার চেনা ঘরটা অচেনা হয়ে গেল।
জোনাকিরা নেই।
আমি কি ভেবে হাটতে হাটতে মেয়েটার কবরের
সামনে দাঁড়াতাম। রাতে এলোমেলো জোনাকিরা
উড়তো।
আমার এমন হচ্ছে কেন এটা আমি ধরতে পারছিলাম
না।
মেয়েটা আমার কেউ না।
তবু
কারো আপন কেউ না হয়েও যে সবকিছু হয়ে যাওয়া
যায় তা আমার জানা হয়েছিলো।
এক জোনাক পোকা যেন আলো জ্বেলে অন্য
জোনাক পোকা কে ডাকে।
অন্য জোনাক পোকা এসে যখন সেখানেই আলো
জ্বেলে জানায় দেয় তার উপস্থিতি, প্রথম জোনাক
পোকা একটু দূরে আলো জ্বালিয়ে জানান দেয়
কাছেই আছি।
দুজন কখনো কারো কাছে যেতে পারে না।
তেমনি নীলার হাতটা ধরতে ইচ্ছে করে।
নীলার কড়ে আঙুল ধরে একদিন ইচ্ছে করে জোনাক
পোকা দেখতে যাওয়ার।
বাগানের মাঝে নীলা প্রায়ই হাটে।
আমার গাওয়া সেই শেষ গানটা গান,
"এ তুমি কেমন তুমি......"


আমি চোখ বন্ধ করে নীলার গান শুনি।
আর জোনাকীরা এসে ভীড় করে আমার ঘরে।
আমি দিন গুনি দু বছরের।
নীলা বলেছিলো, সে আসবে।
আসবে তো?
আমি বিশ্বাস করি নীলা আসবে, নীলাকে আসতে
হবে.....

আদর করসনি অনেকদিন


আদর করিসনি অনেকদিন হলো
আজকাল বৃষ্টি দেখতে দেখতে নোনতা জলে গা গরম
হয়।
সকালের পোড়া বাসি রুটি ,
রোজকার রোজগার।
বাড়তে থাকা জ্বরে থার্মোমিটার ডোবালেই
আমার চোখে পারদ বাড়তে থাকে।
ভাগ্যিস সংখ্যা ছিল ,ছিল শূন্য ম্যাথামেটিক্সের পাতায় পাতায়
প্রবলেম ছিল আছে থাকবে।
সল্ভড ও আসবে,
কিন্তু শূন্য বুকের বায়ুমন্ডলে জমতে থাকা নিকোটিন
অপ্রয়োজনীয় হবে না কখনো।
শূন্য শূন্য শূন্য রিং ছেড়ে উড়ে যাবে সুপার জেট মাঝ
আকাশে।
শব্দ হবে প্রচন্ড জোড়ে।
আরো জোড়ে মাথার ভিতর আগামী রাত
জানলার বাইরে খোলা আকাশ থাকবে।
কিন্তু সেই জেট তেপান্তরে ,হয়তো আরো দূরে
তোর সালোয়ারের নীল ওড়না উড়িয়ে যাবে।
আদর করিসনি অনেকদিন হলো
আজকাল বৃষ্টি দেখতে দেখতে জলের ফোঁটাগুলো
বন্য হয়ে যায়।
অফিস ফেরৎ বাসেদের জানলায় দাঁড়িয়ে থাকে চোখ
রোজ স্টপেজ আসে স্টপেজ যায়।
কিন্তু বুকের স্টপেজে বাড়তে থাকা স্যাকারিনে
বারংবার ফুল স্টপ ,ফুল স্টপ ,ফুল স্টপ।

বর্ষা, ফের এসো আমার বারান্দায়


তারপর একদিন নগরে আকাশ কালো করে মেঘ এলো,
গিন্নি দৌড়োলো ছাঁতারপর একদিন নগরে আকাশ কালো করে মেঘ এলো,
গিন্নি দৌড়োলো ছাঁদে কাপড়ের শোকে,
ফেরিওয়ালা টপাটপ চানাচুরের প্যাকেট ঢুকিয়ে ফেলল
প্রকান্ড ক্যানভাসের ব্যাগে,বাড়ি ফিরতে হবে এমন
অজুহাতে।
বারান্দায় এলোচুলে দাঁড়াল পাশের বাড়ির মেয়ে,
জানালায় মেঘ দেখতে এসে তাই একটা হার্টবিট মিস করে,
নতুন উদ্দোমে এলোকেশীর দিকে তাকাল ফের,
আহা, বেচারা, গোবেচারা ব্যাচেলর ছেলে।

নগরের ভরদুপুরটা আজ আমার বারান্দায় থমকে যাক,
আমার নামে লেখা বর্ষাগুলো আজ নগরে ঝরে যাক,
তবুও ফের একবার বর্ষা এসো,
নয়ত,
গিন্নি অলস হয়ে রবে ভরদুপুরে,
ফেরিওয়ালার বাড়ি ফেরা হবেনা তোমার অজুহাতে,
বারান্দায় আসা এলোকেশীর অজুহাতে,
বোকাব্যাটাছেলেটা নয়ত যে হাসবেনা আর।
বর্ষা তবুও নাহয় একটাবার এসো,
আমার খুকু হাঁটতে শিখেছে,
একটা বার এসো বর্ষা আমার বারান্দায়,
খুকুর নরম হাত দুটো ছুঁয়ে যাও।দে কাপড়ের শোকে,
ফেরিওয়ালা টপাটপ চানাচুরের প্যাকেট ঢুকিয়ে ফেলল
প্রকান্ড ক্যানভাসের ব্যাগে,বাড়ি ফিরতে হবে এমন
অজুহাতে।

বারান্দায় এলোচুলে দাঁড়াল পাশের বাড়ির মেয়ে,
জানালায় মেঘ দেখতে এসে তাই একটা হার্টবিট মিস করে,
নতুন উদ্দোমে এলোকেশীর দিকে তাকাল ফের,
আহা, বেচারা, গোবেচারা ব্যাচেলর ছেলে।
নগরের ভরদুপুরটা আজ আমার বারান্দায় থমকে যাক,
আমার নামে লেখা বর্ষাগুলো আজ নগরে ঝরে যাক,
তবুও ফের একবার বর্ষা এসো,
নয়ত,
গিন্নি অলস হয়ে রবে ভরদুপুরে,
ফেরিওয়ালার বাড়ি ফেরা হবেনা তোমার অজুহাতে,
বারান্দায় আসা এলোকেশীর অজুহাতে,
বোকাব্যাটাছেলেটা নয়ত যে হাসবেনা আর।
বর্ষা তবুও নাহয় একটাবার এসো,
আমার খুকু হাঁটতে শিখেছে,
একটা বার এসো বর্ষা আমার বারান্দায়,
খুকুর নরম হাত দুটো ছুঁয়ে যাও।

একদিন তোমার জন্য কবিতা লিখবো কন্যা


একদিন তোমার জন্য কবিতা লিখবো,
গুছিয়ে রেখো আখরোট না হোক রঙিন কাগজের
বাক্সে।

কবিতা না হোক,
শব্দ দেবো লিখে নাহয় তোমার নামে,
কবিতা কেন,
কবিতা কি,
আমি বুঝি কেউ লাগিনে,
কবিতা কেন,
নাহয় তোমায় একদিন চিরকুট দেবো লিখে,
একটা তারা, চারটে তারা তিনটে তারা এমন
অনেক শব্দ কিনে ।

নাহয় দিলুম তোমায় একটা কবিতা,
কন্যা তুমি আমায় কি দেবে,
তোমার কাজল মায়া,
নাকি ভরদুপুরে এলিয়ে দেওয়া ক্লান্ত সিক্তচুলের
ছায়া,
কি দেবে তুমি আমার নামে লিখে,
আমি তোমায় একটা কবিতা দেবো,
তুমি আমায় দেবোতো নিজেকে আমার নামে
লিখে।

আমি তোমায় কবিতা দেবো কন্যা,
তুমি আমায় কি দেবে?

দ্বন্ড


কোন এক শেষ রাতে আমিকি সত্যিই খুন হয়ে
যাবো,
আততায়ী সব অপ্রকাশিত কবিতার হাতে।
নির্মমতার চূড়ান্ত এক সময়ে,
রাতের অচেনা কোন এক দ্বিতীয় প্রহরে।

কবিতার মুখে শুষ্ক ঠোঁট এঁকে দাও,
জানালার পর্দা ফেলে মোমবাতিটা জ্বালাও,
আজ কবিতারা মুখোমুখি বিদ্রোহ ঘোষণা করবে।
জারি হবে মস্তিষ্কের নামে মৃত্যু পরোয়ানা,
"মৃণালিনী"
তোমায় নিয়ে নিষিদ্ধ কবিতা লেখার
অভিযোগে।

দু চোখের কপট রোদ্দুরে


তোমার চোখ থেকে চোখে ছুঁড়ে দেওয়া তীব্র
ভালোবাসা,
দুম করে আমায় থমকে দেয় অসময়ে এসে পড়া
মেইলট্রেনটার মত,
আমার অদ্ভূত লাগতে শুরু করে।

ভেবেছিলাম,
রিকশার হুড ফেলে ছুটে চলা এক ভরদুপুরে বলবো,
"মৃণালিনী,
এক আকাশ নীল, কৃষ্ণচূড়ার প্রেম দেবো,
তোমার দুহাতে শেঁকল বাঁধবো আলতারঙা কাঁচের
চুড়ির নামে,
ভরদুপুরটা একদম চুপ হয়ে যদিবা যায়
তোমার বারান্দায় রেখে দেবো লিলুয়া হাওয়ার
কানাকানি,
তুমি উদাস জানালায় না তাকিয়ে বরং আকাশ
দেখো হাতটি হাতের মুঠোয় বন্দী করে। "

তোমার চোখ থেকে চোখে ছুঁড়ে দেওয়া বাসন্তি
চিরকুট আমায় থমকে দেয়,
আমি ল্যাম্পপোষ্টের হলুদ আলো ঝাপসা দেখি,
তীব্র শোরগোল ওঠে বুকের কপাট খোলা
জানালায়,
চিরকুটে যেন জ্বলজ্বলে হরফে লেখা,
"সবটুকু নাই বললে,
সে তোমায় যে জেনে গিয়েছে,
তোমার এলোচুলের নিচে,
জমাট বাঁধা সুপ্ত কথার বাক্স দু চোখ হতে।"

সব চুপ,
কথারা খুঁজে ফিরছে নীলআকাশ,
মেঘকাজল ঘেরা দুচোখের কপট রোদ্দুরে।

কাঁটাতারের ওপার থেকে


একদিন তোর ফুল কুড়ানোর দিন ছিল। ফুলের
সাজি নিয়ে আমি তোকে নিয়ে সমস্ত গ্রাম পায়ে
মাড়াতাম। খালি পায়ে আমাদের মৃত্তিকা নৃত্য হতো। তোর
সাজি ভর্তি ফুল! আর আমার চোখ ভর্তি উচ্ছাস। কেউ
কেউ ফুল দেবেনা বলে, বিনা মেঘে বজ্রপাতের ভয়
দেখাত। আমরা দৌড়াতে পারতাম উটপাখির মতো, আমাদের
শরীরে তখন উত্তাপ ছিল।
তোর মনে পড়ে যেদিন বাশেঁর সাঁকো উঠে গেল
সেদিন তুই হেসেছিলি। ভাবছিল এবার আর তোদের
সাঁকো পেরুতে হবে না হয়তো তার বদলে পিচঢালা পথ
হবে।
কিন্তু খালটা বিনা নোটিশে মরুভূমি হয়ে গেল। কাঁটাতার
তোকে আর আমাকে দুভাগ করে দিয়ে হয়ে গেল
দুটো দেশ ।

গল্পটা আবার শুরু হয়েছে


সন্ধ্যায় পড়ার
টেবিলে বসলে খোলা জানালা দিয়ে উত্তরের
দিকে অনেক দূরে এক দোতলা বিল্ডিং এর
আরেকটা খোলা জানালা দেখা যায় ।
হালকা আকাশী রঙের
পর্দা দিয়ে ঢাকা থাকে সারাদিন । সন্ধ্যার পর
পর্দাটা অর্ধেক সরে যায় ।
সেই আকাশী পর্দা দেওয়া জানালার রয়েছে অনেক
গল্প । গল্পের নায়িকা একটি মেয়ে ।

মেয়েটা কখনও বিছানায়
বসে ঝুকে ঝুকে পড়তে বসে , কখনও বা ফোন
কানে পায়চারী করে । কখনও বা দেখি ছোট্ট
বোনের সাথে দুস্টুমি করে । রাতে ডিনারের ডাক
আসলে মেয়েটি নিচতলায় চলে যায় ।
জানালাটা তখন গল্পশুন্য হয়ে যায় ।

আমার জানালাটা উত্তরমুখী । নীল
জোছনা উঠলে আমি রুম টা অন্ধকার করে জানালার
খুব কাছে এসে দাড়িয়ে থাকি । 

চাঁদ কখনও
উত্তরে আসে না । কিন্তু চাদের আলো উত্তরের
আকাশেও পড়ে । আলো পড়ে সেই দূরের জানালাতেও। 

অন্ধকারে দাড়িয়ে সেই জানালার গল্প দেখি ।

ওই জানালাটা আর জানালার মেয়েটা ছিল আমার
রাত জাগার সঙ্গী । পরীক্ষার তীব্র চাপে ওই
জানালা টা ছিল পিঞ্জেরের মত । জানালার
দিকে তাকিয়ে বিষাদময় রাতগুলো পাড়ি দিতাম ।
শীতের পুরোটা সময় আমার জানালা বন্ধ ছিল ।
উত্তরের বাতাসে কাপুনি ধরে । উত্তরের ওই
জানালাটাও বন্ধ ছিল । গল্প বলার ও কেউ ছিল
না , গল্প শোনার ও কেউ ছিল না ।

অনেক দিন পর দুপুরবেলা আমার জানালার
পর্দা সরালাম । জানালা খুলে দিতেই বসন্তের
বাতাস ঢুকতে শুরু করলো । প্রানচাঞ্চল্যের বাতাস।
হলুদ বাতাস ।

উত্তরের জানালার দিকে তাকালাম ,
জানালাটা খোলা । আকাশী পর্দা নামিয়ে নীল
পর্দা লাগানো হয়েছ । বসন্তের হলুদ
বাতাসে পর্দা গুলো উড়ছে ।

মেয়েটা এসে জানালার পাশে দাঁড়ালো ।
আমি পর্দা টেনে আবার ঘুমুতে চলে এলাম ।
গল্পটা আবার শুরু হয়েছে , বসন্ত আসছে ...

<iframe style="width:120px;height:240px;" marginwidth="0" marginheight="0" scrolling="no" frameborder="0" src="//ws-in.amazon-adsystem.com/widgets/q?ServiceVersion=20070822&OneJS=1&Operation=GetAdHtml&MarketPlace=IN&source=ac&ref=qf_sp_asin_til&ad_type=product_link&tracking_id=twtn-21&marketplace=amazon&region=IN&placement=0006497071&asins=0006497071&linkId=&show_border=true&link_opens_in_new_window=true&price_color=F7EB21&title_color=0066C0&bg_color=FFFFFF">
</iframe>

লব্ধ কিছু শব্দের কাছে ঋণ থেকে গেল হে ব্রহ্ম

আমার হাতের কাছে হাত রেখে গেলে তুমি অন্ধকার একটি সিগারেট এসব বললে এবং কবিতা হয়ে গেল সে সব মস্তিষ্কের কোষে কোষে যে স্পঞ্জ আয়রণের কারখানা প্রতিদিন আদিবাসী যুবতীকে লাগিয়ে থাকে আমিও তাহার মত তাহাদের মত অচেনা অজানা কিছু লাগিয়েই রেখে দিয়েছি অনন্ত কন্ডোমে,বিবাহ বিশাল একটি বাড়ির মধ্যে অগণন লোক ঠাসাঠাসি করে সিঁড়ি দিয়ে উঠে যায় অনবরত ভাবের গভীরে ডুবে যায় বেশ্যাত্ব নিয়ে গভীর কেনাবেচায়,ডুবে যায় মদীয় ঈশ্বর ধনাঢ্য কফির কাফে,কালো বা বাদামি বা হলদে যে কেউ চিনির ক্ষেতে তখন দাস ছিল আর তখনই ভোর হল বলে মোরগ ডেকে ওঠে 'মার্ক্সবাদ সর্বশক্তিমান,কারণ ইহা বিজ্ঞান' ইত্যাদিতে ছুঁচোর কেত্তন ও পত্তন সহ তুমি বিবমিষা উদ্রেককারী একটি গান গাও -হাম দিল দে চুকে সনম-আমি আফিঙের যুদ্ধ দেখিনি বলে উৎপলকুমার বসুকে সাধুবাদ জানিয়ে সম্প্রতি কবিতার ভিতরে সেঁধিয়ে যেতে যেতে পেয়েছি পাতাল প্রবাহ-


কি জানি কিভাবে মরমিয়া হতে গেলে
কাজে লাগে বীর্য্য ধরে রাখা মা,
আমি সাধন-ভজন বুঝিনা বলে
সাদা চাদরের নীচে কখনো শুইওনি,
বাঁ হাতে কিছুই নিইনি তবু
আমাকেই চাদরে শোয়ানো হচ্ছে এখন;
এই গুলি বিনিময়ের মাধ্যমে গ্রামে
মফস্বলে আমি শুয়েই আছি, কোপাই
আজ রাত্রেও তুমি আসোনি এখনও
কে জানে কোন নাগরের সঙ্গে তোমার ভালবাসা,
আজকাল পাগল পাছায় কদম ফুল লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়-

আমি একদিন অন্য কিছু হয়ে যাব নির্ঘাত মানুষ নয়,মানুষীর প্রিয় পোশা হাঁস নয়,থিওসোফিক্যাল সোসাইটির আদলে কংগ্রেস করবো না কোনোদিন ট্রামে চাপা পড়বোনা একটি ধাঁধার মত আমি সীমাহীন জিজ্ঞাসা জাগাতে জাগাতে এই সব কবিতাকে চোরেদের হাতে ছেড়ে দিয়ে চুরি করে যাব অন্যের ক্ষেতে ক্ষেতে ধান বা পালং,আলুর সময়ে গুদাম জাত দ্রব্য সামগ্রির আন্তরিক আন্তর্জাতিকতায় বিশ্বাসী হয়ে ডাল ফোটাবো বিদেশে বিদেশে, শুয়োর যদি হই তবে শেষ দিনেও বলে যাব পড়োশীকে ভালবেসো বেয়াড়া তুফান গ্লাসে রেখে নিতান্ত দম পের শঁপান,বা গো মাংসের মত নির্ভয়ে যেও যাজ্ঞ্যবল্কীয় রীতি মেনে কোতল হতে পানিপথ নয় শুদ্র, শতপথ ব্রাহ্মণে অন্তত,
ততদিনে আমি তুলসীপাতাও যদি হতে পারি পারমিতা একদিন...

নদীর শুদ্ধতা মেখে মানুষটা এখন যেকোনো দিকেই চলে যেতে পারে………….

ঢালু জমি বেয়ে যে মানুষটা উঠে আসছে
নদীটির কাছে তার শেষ চাওয়া চেয়ে
সে এখন যেকোনো দিকেই যেতে পারে .......

কবিতার কাছে প্রলাপ নিয়ে,
অন্তত একটা চেনা মানুষের মুখ আঁকবে বলে
হারিয়ে ফেলা রং তুলির কাছে
কিংবা ব্রাত্য বীজ নিয়ে আবার মাটির কাছে
কৃষিকাজের অনুভবে...

আমরা কেউ জানিনা মানুষটা সুন্দরতম অপেক্ষাগুলো কে
গুমোট বাতাসে কিভাবে উড়িয়েছিল বিষন্ন মুঠিতে!


জল থেকে মাটি থেকে নদীর শুদ্ধতা মেখে
মানুষটা এখন যেকোনো দিকেই চলে যেতে পারে………….

মহাজাগতিক ইতিহাসে আমাদের এপিটাফের গল্প

কোন সন্ধ্যে সন্ধ্যে রাতে রাস্তারা বুঝি অদ্ভুত প্রনয়ে খুন হয়! খুন হয় কতশত খেয়ালের অগোচরে আটকে পড়া দীর্ঘ নি:শ্বাসেরা! ইশ! আমাদের খেয়ালগুলো য...