29 April 2016

তুমি যখন


তুমি যখন স্পর্শ কর,
এক চকিত দৃষ্টিপাতে
আমি তখন চাঁদের আলো,
গাছের ছায়ায় - জ্যোৎস্না রাতে।

যখন তোমার চলার পথে
 আলতো চুমু শিশির কণা
স্বপ্নে আমার সময় কাটে,
পিছন থেকে ডাকতে মানা।

আবেশ ছড়ায় হাওয়ায় হাওয়ায়,
আকাশ কালো দুপুরবেলা
ভালবাসার সাক্ষী থাকে
হিমেল বাতাস - মেঘের খেলা।

দৃষ্টিপথের বাইরে গেলে
 আমি নিছক কথার ফাঁকে
এই বসন্তে ঝরা পাতা,
দূরে সরাই শুন্যতাকে।

শেষ বিকেলে উদাস ধুলো
 হাওয়ায় ওড়ে ঘূর্ণিপাকে
সন্ধে নামে , ডাক না এবার
 চোখ ভেজানো বৃষ্টি টাকে।

27 April 2016

পাতা


মাঠের কাছে খুঁজতে গেলাম হাওয়া,
হাওয়ার সাথে সঙ্গে পেলাম জল,
জলে হাওয়ায় মিশলো শরীর ভালো,
ভালো জলেই আমার চলাচল ৷৷
চলতে পথে কুড়িয়ে পেলাম নুড়ি,
নুড়ির গায়ে চাঁদের আলো মাখা,
চাঁদের সাথে খেলবো লুকোচুরি,
লুকিয়ে থেকে আমার সঙ্গে দেখা
৷৷
দেখা হলেই পাপড়ি ঝরে পরে,
পরছে ঝরে সময় জীবনভর,
জীবন থেকে নদীটা বাদ গেলে,
সন্ধ্যাবেলায় একলা আমার ঘর ৷৷
আমার ঘরে ঘড়ির কাঁটায় ধুলো,
ধুলোয় মাখা মেঘের রঙ তুলি,
তুলি দিয়েই মনের আকাশবানী,
আকাশ পথে হারালো বুলবুলি ৷৷
বুলবুলি তার নিজের গাছের ডালে,
ডালে এলো নতুন জীবন পাতা,
পাতায় পাতায় ক্লোরোফিলের ছড়া,
বছর শেষে নতুন হালখাতা ৷৷

বান্ধবীর পড়াশুনো……

সিঁড়িভাঙা অঙ্কের মতো যখন নেমে আসে সন্ধ্যা
আমি সেই ভেজানো জ়ানালার 
ফাঁক দিয়ে দেখি
কি নিবিড়ভাবে তুই
ভূগোলের পাহাড় নদী পার হয়ে
এসে পড়েছিস রুপ্সার ঘোলা জলে ...


তারপর এক সময় নূরজাহান হয়ে 
নিজেই মিশে যাচ্ছিস পাঠ্যবইয়ের ইতিহাসে ...


কখনও আবার রসায়নের পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে
হয়ে যাচ্ছিস 
টেস্টটিউবের লঘু সালফিউরিক আ্যাসিড
আর দূরে তখন আমি
কোনও এক ল্যাবে
সাতশো বছর ধরে পড়ে থাকা কপার
কেঁপে কেঁপে উঠছি তোর স্পশের অপেক্ষায়...

<script async src="//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js"></script>
<!-- bibornoaakash_main_Blog1_970x250_as -->
<ins class="adsbygoogle"
     style="display:inline-block;width:970px;height:250px"
     data-ad-client="ca-pub-3769097400952125"
     data-ad-slot="9592882298"></ins>
<script>
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
</script>

একক একটা সন্ধ্যাবেলা, তুমি নিজের জন্য রেখো


একক
একটা সন্ধ্যাবেলা,
তুমি নিজের জন্য রেখো;
নিজের কাছে ,
নিজের গল্প করো ৷৷

একটা আয়না রেখো,
নিজের সামনে তুমি;
নিজেই দেখো
নিজের প্রতিছ্ছবি ৷৷

নিজেই সাজাও,
নিজের একটা ঘর;
নিজেই করো
নিজের জন্য গান ৷৷

একটা জানালা,
নিজের সামনে খোলো;
নিজের বুকে
নিজেই তুফান তোলো ৷৷

একটা স্বপ্ন,
নিজের চোখে রেখো;
চোখের কাজল
নিজের চোখেই মেখো ৷৷

একটা বেলা,
নিজের কথা ভাবো;
নিজের মনে
নিজেই কথা বলো
নিজের কাছে
নিজের গল্প করো …৷৷

লাল মাটির মেয়ে

নদীর বুকে দেখেছিলাম তোকে,
হাঁসের সঙ্গে করছিলি জলকেলি
আমায় দেখে লজ্জা পেলি নাকি
পাথর ভাঙা লাল মাটির মেয়ে...

চাঁচর তো তোর রোজ রাতেই জ্বলে,
পোড়া আলু আর ফাগুন সেঁকা ধান
সেই আগুনেই পুড়লো রে চাঁদ
ইশারায় ডাকছে আমায় মাতাল মেয়ে ৷৷

হোলির দিনে পলাশ বনে দেখা,
কাঁঠালচাঁপা গাছের নিচে একা
"আমায় তুই একটু আবির দিবি?"
ডাগর চোখে বললো সেদিন মেয়ে ৷৷

আবির,আবির আরও আবির
তোর চোখেতে তৄষ্ণা নীবিড়
পলাশরা সব আসলো ধেয়ে
রাখাল রাজা জয় করেছে এলোকেশী মেয়ে ৷৷

তারপরে তো গপ্প সবার জানা,
খাঁচার পাখী ফিরলো খাঁচায়
বনের পাখী বনে
থাকলো পরে পলাশবনে
আবির রাঙা মেয়ে ৷৷

আজও আমি বসে আছি
তোমার পথ চেয়ে,
মেঠো পথে একলা হাঁটে
লাল মাটির মেয়ে ৷৷
আমার বুকে জমছে পাথর
হৄদয় ক্ষয়ে ক্ষয়ে
একলা বসে পাথর ভাঙে
লাল মাটির মেয়ে ৷৷


14 April 2016

হাইফেন বসানো বারান্দায় দু'লাইন কবিতা

হাইফেন বসানো বারান্দা

একসময় আলো এসে পড়ে
কথা বলতে বলতে থেমে যায় ঝাপসা দৃষ্টি
সহজ মুদ্রায় কিছু সোনালি বিভ্রম
ঝুল জমতে থাকে
জমতেই থাকে ...
এসো , হাত ধরো , বিহ্বল বাস্তব
দূরগামী বাসের হর্ন , শুনতে পাও ?
উছল ঝর্নার জলে কথাগুলি ধুয়ে মুছে যায়।
দিগন্তের কাছাকাছি ......... আয়নামহল
বুকের জানলা খুলে একটি হাইফেন - বারান্দায় বসে
থাকে কেউ ।


কয়েক লাইন

কয়েক লা ই ন নীলচে আকাশ
স্তব্ধ পকেট
ফুরিয়ে আসছে ওয়েটিং আওয়ার,
পথ
কুড়োতে কুড়োতে
ভরে নিচ্ছি হিমজলে
মেঘ,
নেক্সট চ্যাপ্টারে ঢুকে পড়ছে আশ্বিনের মলাট।।

13 April 2016

কেউ দাঁড়ালো আমার চিলেকোঠায়

কোন এক প্রহর শেষের বেলায়,
কেউ দাড়াল শ্যাওলা পড়া আমার চিলেকোঠায়।

চিলেকোঠাটা অনেক বুড়ো
রঙ ধ্বসে সব গুড়ো গুড়ো
ঘুনেধরা এক চেয়ার থাকে বছর বছর ধরে,
সেই চেয়ারে বসল সে কেউ
আকাশজুড়ে মেঘমেঘে ঢেউ
ভোর না হতেই এক অচিন পাখি ওড়ে।

সেই পাখিটার রূপার ডানা
দেখতে আছে সবার মানা
তবু সে খুব দেখতে থাকে তাকে,
মেঘের ফাকে তারার উঁকি
চোখ ভরা জল চিকিমিকি
একটু ছোঁবে এই নেশাতে পাখিটাকে ডাকে।

অচিন পাখি শুনল না ডাক
থাক সে উড়ে রাতে মিশে যাক
শুকতারাটার জ্বলা-নেভা একটুখানি থামল,
অনেকদূরে আলোর আভাস
চিলেকোঠায় ফুলের সুবাস
মৃদু হাওয়ায় আঁচলটা তার বুক গড়িয়ে পড়ল।

ঐ বুকেতে মায়া থাকে জানি আমি জানি
কপাল একটু ছুঁয়ে তাতে লাগাই চোখের পানি,
আমার পানি তাহার পানি মিলেমিশে এক
ভাঙা চেয়ার চিলেকোঠা দেখরে সবাই দেখ।

ঘাসফুলেদের সাথে

তুমি সারাক্ষন খুঁজে গেছো দুপুর সন্ধ্যে বেলায়, সময় দাওনি ঘাস ফুলেদের। লিলুয়া বাতাস হয়ে ছুয়ে গেছো দূর আরো দূর বেপাড়ায়… ফিরে গেছে সে নদী...