সেদিন দুপুরে

নগরবাষ্প ভেদ করে যে ললনা
কপালে হাত রেখে
চোখে স্বপ্ন এঁকে দিতে চায়,
চুড়ির রঙ আর টুং টাং দিয়ে যে তৃষ্ণা
মেটানোর খেলাটা জানে,

ভোরের প্রথম আলোয় আমার
অজান্তে যে আমার ক্লান্ত ঘুমেল
মুখটা
নিজের মতো করে দেখে নেয়,

আমার শরীরের ঘ্রাণের অপেক্ষায়
যে প্রহর কাটাতে ভালোবাসে,

সুখের ছোট ছোট টুকরো আমার
বালিশের নিচে গুঁজে
অদৃশ্য হয়ে
যে আমার কলমে অযাচিত অধিকার
বসায়..

সে আমার প্রেমিকা নয়, বউ নয়,
কবিতা নয়…

তোমাকে দেখেছি সিটি বাসে -
সেদিন দুপুরে…

অন্ধকারের প্রতি

অন্ধকারের রং কী, জানো?
কালো, নিকষ কালো।
সেই কালোয় আমার জন্ম
আমার বেড়ে উঠা
আমার বসবাস।
...
আবছা আলোয় অচেনা অবয়ব
মিষ্টি একটা গন্ধ
মনে হল নারী;
নারীই হবে
ছুঁয়ে দেখার সাহস হল না।
নাম ধরে ডাকলাম সুস্মিতা
কোনো সাড়া নেই, নিথর
নির্বাক পাথরের মূর্তি
...
সেই থেকে পাথরের সাথে আমার প্রেম
একা জেগে থাকা, একা একা কথা বলা
নিষ্পলক চোখে অপলক চেয়ে থাকা।

দুরের তুমি

আমি বসেছিলাম দক্ষিণে ব্রিজের এক কোণে।
তারা জ্বলা ধূসর তিমিরে অষ্টমীর চাঁদ
তখনো দৃষ্টির আড়ালে।

চারি দিকে শন্ শন্ নিথর নিরবতা।

তখনো কয়েকটি ব্যস্ত পাখি উড়ে যাচ্ছিল
বিলম্বিত নীড়ে ফেরার অসস্হিতে।
জোনাকগুলো তখনো চালু করেনি
তাদের নিজস্ব আলোর বাগান।

আমার সামনে পৌষের খালি মাঠ।

বিলের পানিও শুকিয়ে গেছে প্রায়।
তার পাশেই ছোট সেই বাগান।

যে বাগান সযত্নে লালিত করেছি
এতগুলো বছর স্মৃতির আঙ্গিনায়।

একটা সময় ছিলো
যখন রোজ বিকেলে আড্ডা বসতো।
ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়তো
প্রজাপতির পাখায় পাখায়।
আমি রোজ বিকেলে বসে থাকতাম
তোমাকে দেখার আকূলতায়।

কখনো দেখে কখনো না দেখেই
পেরিয়ে যেত অপেক্ষার দীর্ঘ সময়।

আজ তুমি কতো দূরে...।

আমি চাইলেও দেখতে পাবোনা তোমায়।
আকাশের সাতটি তারা
সাতটি ফুল হয়ে ফুটেছে আকাশ বাগানে।
অষ্টমীর চাঁদ পশ্চিম আকাশে অস্ত প্রায়।

তোকে লেখা একটা চিঠি

 http://unishkuri.in/wp-content/uploads/story-main.jpg
কেমন আছিস আমায় ছেড়ে;
কেমন আছিস অনেক দূরে ,
চলছে কেমন জীবন চাকা,
মনের কোণটা লাগছে ফাঁকা?
আচ্ছা এখন বায়না করিস!
আগের মতোই দুচোখ ভরিস
আগের মতোই রঙীন চূড়ি
সেই পুরোনো ছাপার শাড়ী।
গেয়ে উঠিস সেই চেনা গান
সেই চেনা সুর মান আভিমান,
মনের কথার ডাইরি লেখা
দুঃখ হলে বৃস্টি দেখা।

জানিস আজও আমার ঘরে
মুষল ধারে বৃস্টি পড়ে।
সেদিন, যেদিন গেলি চলে,
পথ আলাদা - ফেললি বলে,
সেদিন থেকেই মেঘ করেছে,
উপচে দুচোখ জল ঝড়েছে।
আমার ঘরে কেউ আসেনা,
লেখার পাশে কেউ বসেনা
তবুও আমি ভালোই আছি
তোর সপ্ন নিয়ে জীবন বাঁচি।
ছার সে কথা-বল কথা তোর,
কোথায় আছিস তোর কি খবর?
কেমন আছিস আমায় ছেড়ে;
কেমন আছিস আনেক দূরে?

নেবে আমাকে


যদি একবার ডাকো

অ্যাকিলিসের বর্শার মতো মাইথোলজির প্রান্তর পেরিয়ে ছুটে আসবো,

ঝড়ের আগে ঘরে ফেরে যে বাতাস তাকে হার মানিয়ে চলে আসবো,



মিথ্যে কথার শহর মাড়িয়ে,

অপেক্ষার প্রহরগুলো সিগারেটে পুড়িয়ে,

দাঊ দাঊ করে জ্বলা এ শরীরের সব বৃষ্টি,

আকাশের সব গুলো মেঘ, অরণ্যের সব টুকু প্রেম

দিক-দিগন্ত কাঁপিয়ে তোলা আমার সবটুকু জৈব-অস্তিত্ব

সব, হ্যাঁ, সব কিছু নিয়ে - আমি সাইক্লোন হয়ে ছুটে আসবো,



যদি একবার ডাকো

ভুলে যাবো, আমি কি ছিলাম

তীক্ষ্ণ মিছিল ভুলে যাবো, ফেস্টুন ভরা রাজপথ ভুলে যাবো,

নেশায় ভরা স্লোগান ভুলে, সময় গড়ার প্রতিজ্ঞা ভুলে

আমি দিগন্ত জোড়া স্বপ্নহত্যার জলোচ্ছ্বাস হয়ে ছুটে আসবো



যদি একটিবার ডাকো

তোমার কাছে ছুটে আসবোই

এই আরোহণে, এই ছুটে আসায়, যদি শোনো-

আমি নেই, আমি ভেঙ্গেচুড়ে নিঃশেষ হয়ে গেছি

তাও তোমার কাছে ছুটে আসবো...

জানি একদিন আমি কাঁদবো


আমি জানালা খুলে রাখি, ভোরে কিংবা বিকেলের শেষে

আশায় থাকি শিল্পীর ঘোলাটে রঙের মতো একটি ছায়া পড়বে কখনো

জানালার ওপ্রান্তে বাতাসে দোলা শাড়ির আঁচল আসবে

বৃষ্টিভেজা একটা খোঁপা দেখবো

একটি ছায়া শুধু আমার জন্য উষ্ণ হবে বলে আমি জানলাটা খুলে রাখি,



অন্ধকারের খন্ড শিহরণ ছাঁপিয়েও আমি চোখ খুলি না

তুমি কেমন করে ফুল ফোঁটাও, কেমন করে তাকাও

কি অযতনে আমার শরীরে তুমি গন্ধ রেখে যাও

অনেক সাহস করেও আমি তোমায় ছুঁতে পারি না

শুধু সাহস করে, আমি খুলে রাখি জানালাটা


আমার সর্বস্ব দিয়ে আমি জানালাটা খুলে রাখি,

ভাবি, তুমি এসেছিলে, ভাবি তুমি আবার আসবে

জাগরণে নয়, নিদ্রায় নয়, সস্তা কোন ঘোরে নয়,

আমার সমস্ত কিছু এলোমেলো করতে তুমি আসব্‌

আমি লুটপাট হবার অপেক্ষায় জানালা খুলে রাখি...

অপেক্ষায় থাকি, কখন তুমি চলে যাবে আর কখন আমি কাঁদবো

ফেরার কথা ছিলো


কথা ছিলো কষ্টের কবিতা আর লিখবো না,
সুদিনের লোভ জাগিয়ে
সুদিন যদি ঘরের দরজায় এসে না দাঁড়ায়,
তবে কবিতার কি দোষ...


কথা ছিলো অনেকগুলো শিউলি ফুলের মালা পাবো,
শিউলিমালা জড়ানো একটি হাত কপালে ঠাঁই নেবে আমার,
আমার ফুল যদি আমাকেই ভুলে যায়
তবে এ জীবনের কি দোষ...


পাহাড়টা ডিঙ্গিয়ে এক সাথে সমতলে ফেরার কথা ছিলো
পাহাড় এলো, সমতল এলো, অশ্রুর সাগর এলো, অন্ধকার এলো,
অন্ধকারে হাত নেড়ে যে অতীতকে আমি স্পর্শ করি
সেখানে শুধুই ঘন অন্ধকার থাকে,
একটি শিউলি ফুলও না...

অনিকেত আস্ফালন



এ কথা তোমাকে বলে যাওয়া প্রয়োজন
কারন তুমি বোধহয় মনে রাখবে

কথাটা জেনে যাও -
যেদিন আমি চলে যাবো


কেউ মনে রাখবে না

এই আমি,
কতোখানি ক্ষুদ্র কতোখানি বড় ছিলাম
কতোটুকু উদাস কতোটুকু গভীর
কতোটুকু ভারী কতোটুকু নিস্তেজ
কতোটা পুরু কতোটা পাতলা
কতোটা রুক্ষ কতোটা মসৃন
কতোখানি স্বার্থপর কতোখানি উজবুক
কতোটুকু শীতল আর কতোখানি উষ্ণ ছিলাম


কেউ মনে রাখবে না আমি কেমন ছিলাম


লোডশেডিং এর অন্ধকারে এ হাত কতোদ্রুত
দিয়াশলাই ধরাতো
ভোরের আলোয় রাত জাগা চুলগোল কতোটা
এলোমেলো থাকতো
হাত বাড়িয়ে এ হাত কতোবার ফিরে এসেছে
কতোবার ঘুম ভেঙ্গেছে
ঘুম না ভাঙ্গার ইচ্ছে সত্ত্বেও
কতোবার - কতোবার -
কতোখানি - কতোটুকু


এ কথা তোমাকে বলে যাওয়া প্রয়োজন
কারন তুমি বোধহয় মনে রাখবে

মহাজাগতিক ইতিহাসে আমাদের এপিটাফের গল্প

কোন সন্ধ্যে সন্ধ্যে রাতে রাস্তারা বুঝি অদ্ভুত প্রনয়ে খুন হয়! খুন হয় কতশত খেয়ালের অগোচরে আটকে পড়া দীর্ঘ নি:শ্বাসেরা! ইশ! আমাদের খেয়ালগুলো য...