28 September 2015

তোমার শহরে

আজ ফিরতে চাই অনেক পেছনে,
সেই ইট কাঠ আর পাথরে মোড়ানো
তোমার যান্ত্রিক শহরে।

যেখানে আছে নতুন সকাল,
নগ্ন বিকেল,
আজ ফিরতে চাই অনেক পেছনে,
সেই ইট কাঠ আর পাথরে মোড়ানো
তোমার যান্ত্রিক শহরে।

খালি পায়ে মিশিয়ে মাটি,
আমি হেঁটে হেঁটেই ফিরব একদিন
মুছে দিতে তোমার সকল যান্ত্রিকতা।


     style="display:inline-block;width:970px;height:250px"
     data-ad-client="ca-pub-3769097400952125"
     data-ad-slot="9592882298">

“ঘুড়ি তুমি কার আকাশে ওড়ো তার আকাশ কি আমার চেয়ে বড়?˝


“ঘুড়ি তুমি কার আকাশে ওড়ো
তার আকাশ কি আমার চেয়ে বড়?˝



দেয়ালে টাঙ্গানো যে ঘুড়িটি,
তা আর উড়বে না আকাশে।


দেখতে দেখতে সাদা রঙ্গা সে
ঘুড়িটি হয়ে যাবে ফ্যাকাশে।


আস্তে আস্তে জমবে ধূলো তাতে,
এক সময় বার্ধক্যের মত চিড়
ধরে তা হয়ে যাবে ধ্বংস-নিবিড়;
এইযে দেখছেন এই ঘুড়িটি,
তা আর উড়বে না আকাশে।


কারণ, এ ঘুড়িটি যে উড়াতো
সে-ই উড়ে গেছে আকাশে।




21 September 2015

হারিয়ে গেছে অনেক কিছুই


সকালবেলা চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে পত্রিকার পাতায়
চোখ বুলানো অনেকেরই অভ্যাস। সেই অভ্যাসের
জোরেই হয়তো চোখ চলে যায় নিখোঁজ সংবাদের
কলামে। মানুষ কতো সহজেই না হারিয়ে যায় !
পত্রিকার পাতা রেখে এবার নিজের জীবনের খাতায় ঢুঁ
মারুন তো একটু।সেখানেও দেখবেন ছাপা আছে রাশি
রাশি নিখোঁজ সংবাদ। স্কুলের হাফপ্যান্ট পরা বন্ধুটা , পাশের
বাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা নিজের জীবনের প্রথম ক্রাশ,
প্রথম সিগারেটটা যে বন্ধুর সাথে ভাগ করে
খেয়েছিলেন কিংবা সেই পাড়াতো বড় ভাই , যিনি একবার
অন্য পাড়ার ছেলেদের মারের হাত থেকে রীতিমতো
জীবন বাজি রেখে বাচিয়ে এনেছিলেন, অথবা পাশের
বাসার সেই বড় বোন যাকে দেখা মানেই একটা নিশ্চিত
চকোলেট প্রাপ্তি, কিংবা সেই শিক্ষক যিনি প্রথম বর্ণমালা
শিখিয়েছিলেন ---- এরা সবাই জীবনের বিভিন্ন বাঁকে নানা
ভাবে লুকিয়ে গিয়েছে, হারিয়ে গিয়েছে।

20 September 2015

আমি তোমার হারিয়ে যাওয়া কলেজ বন্ধুর না দেওয়া চিঠির উত্তর


আমি তোমার হারিয়ে যাওয়া
কলেজ বন্ধুর
না দেওয়া চিঠির উত্তর,

চেনা বৃষ্টির গন্ধ…
বিকেলবেলার মনখারাপ,

আমি তোমার
ঠোঁটের কোনার অভিমান,
দুরপাল্লার কোনো ট্রেনের
মন কেমনকরা হুইসেল…
আমি নাবলা একটা গল্প,

আমি দেওয়ালে অবহেলায়
লিখেরাখা
ঝাপসা একটা ফোন নম্বর,

তোমার ছেলেবেলার আঁকার খাতার
হাবিজাবি…

আমি দুরের কোনো গ্রামের
মেঠোপথে হারিয়ে যাওয়া
একটা বাউল সুর,
পথভোলা কোনো পথিকের
ক্লান্তি,

আমি তোমার প্রথম প্রেমের মত
ঝড়,
আমি একটা গভীরে লুকোনো
কষ্ট………






17 September 2015

উড়ান দেবো তোমার শহরে

জল কুয়াশার মিলন দেখলেই তোমাকে মনে পড়ে।

ঠিক করেছি এবার,
শীতের গন্ধ শুকে উড়ান
দেবো তোমার শহরে।

হিমেল হাওয়ার
সাথে গোপণীয়তার সন্ধি হবে, আমি একগুচ্ছ
জ্যোৎস্না নিয়ে মুখোমুখি হবো তোমার।

জানো তো, শীতকালীন
জ্যোৎস্নারা অতিমাত্রায় রবীন্দ্রানুরাগী!

দিনক্ষণ না ভেবে তুমি বরং গীতবিতানে সুর
তোলো।

14 September 2015


আজীবন হেঁটে যাব জোছনা মাখা এ রাস্তায়
সময় হলে একটু তাকিয়ে থেকো
দু’চোখে অশ্রু নিয়ে আমার চলে যাওয়া দেখো,

হেঁটে গেছি কতো সহস্র বিকেল
তোমার জানালায় দৃষ্টি রেখে ক্ষয়ে গেছে কতো স্বপ্ন
তুমি তাকাওনি। খুঁজে নাওনি প্রিয় সে স্পর্শ, তবুও
শেষ শীতে একবার তাকিয়ো
গায়ে জড়িয়ে থাকা শীত জোছনায়
ক্ষণিকের হাওয়ায় হাহাকার মেখো,

আমি দাঁড়াব না, তবু তুমি চেয়ে থেকো
কাছে পাবার ব্যাকুলতাকে হৃদয়ে রেখো।

পথ ভুলেছি আমি, ভুলেই গেছি স্বপ্ন দেখা
জোছনা গায়ে শিখেছি পথ চলা
তোমার প্রিয় জানালার পাশে
আটপৌরে মলিন রাস্তায়
আমি জোছনা মেখে হেঁটেই যাব
অবসর হলে তুমি চেয়ে থেকো
অশ্রু চোখে আমায় দেখো।



উৎসর্গঃ কিছু কিছু মানুষের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে যা দিয়ে তারা মানুষকে খুব দ্রুত আপন করে নিতে পারে। অর্ক এমনই একটা ছেলে। সবসময় মুখে একটা মিষ্টি হাসি ঝুলিয়ে রাখে। আমার খুব ভাল লাগে অর্কর সাথে কথা বলতে আর ওর মিষ্টি হাসি দেখতে। অর্ক সুন্দর গানও গাইতে পারে। সেদিন আমাকে নীলাঞ্জনা গানটা শুনাল। অনেক দিন পর অনেক প্রিয় একটা মানুষের মুখে গানটা শুনে অনেক ভাল লেগেছিল। আজকের এই কবিতার শেষ কয়টা লাইন স্ট্যাটাস এ দিয়েছিলাম। অর্ক খুব পছন্দ করেছে কবিতাটা। তাই আজকের কবিতা প্রিয় অর্কর জন্য।

ভাবনাগুলো নদী হয়ে ভাসায় চারিধার


ভাবনাগুলো নদী হয়ে ভাসায় চারিধার।
দু'চোখের রৌদ্রতাপে বসন্ত এসে দাঁড়ায়।
ফুলেদের দিকে তাকিয়ে থাকি।
মৌনব্রত চলছে কারো কারো।

দু'চোখের আকাশে ছড়ায় সকল মনস্তাপ।
ছাতিম গাছের হুতুম প্যাঁচাটার জ্বর হলো নাকি?

নিঝুম রাতে শোনা পদ্য আওড়ায় কোন জন?

ডাহুকের ডাকে শহরের চেনাপথগুলোতে ভোর নামে।
বহুবার বলা কথা নতুন করে বলতে সাধ হয়।
"বন্ধুরে তোর লাগি মন পাখী হতে চায়।"

বকের চোখের দিকে তাকানো হয়নি কখনো।

শুধু শূণ্যতার উপমায় সাজে বকের চোখ।
শুধু ভাবনাগুলি নদী হলেই এমন হয়!

নির্জনতায় খুব মনে পড়ে তাকে।
যার জন্য ৩১৪ টি সকাল সন্ধ্যার আনমোনা প্রহর।

ঝাউবনের ঘনছায়ায় বসন্তের ঝিরঝির বাতাসে
উত্তাল হাওয়া নেমেছিলো যখন
হাতের চুড়ি ভেঙে যাবার
ভয়ে তাকে ছুঁতে পারি নাই।
শুধু সবখানে ঘন নিঃশ্বাসের মত চেনাগন্ধময়
তাকে খুঁজে ফেরা।

দুরের চার্চের সিঁড়িতে সখন
আলোছায়া খেলা করে।
নিজের ছায়ার দিকে চোখ মেলে থাকি।

কত কথা মনে আসে।

জ্বরজারি ভালো হলে একদিন হুতুম প্যাঁচার
সাথে চোখে চোখে খেলা হবে।

মন খারাপ করা নির্জন সময়ের হাত
ধরে হয়তোবা কেউ এসে বলবে
"বসন্তকাল খুব প্রিয় গো আমারও।"

আর শুধু একটা কথাতেই গাছের
পাতাগুলো হেসে উঠবে।

মেঘেরা আনন্দে ভাসাবে ভেলা।
আর বুকের মধ্যেকার অথই নদীতে সুখের বান
ডাকবে!
শুধু বেঁচে থাকলেই কত কি যে সম্ভব!

সেদিনই আমি একা হয়ে গেলাম


যেদিন ঝড়ের সাথে আমার বাড়ি এলে
সেদিন তোমার গন্ধ মিশলো আমার নেশায়,
আর সেদিনই আমি একা হয়ে গেলাম।

বুকে প্রদীপ জ্বালিয়ে মাতাল তুমি
পথ ধরে চলে যাও,আর
আমি মোড়ের মাথায় চায়ের দোকানে একলা হয়ে যাই।

বিকেলে সন্ধ্যে এক করে যেদিন তুমি এলে
সেদিন একটাও আলো জ্বললনা পাতায়,
বিছানার নিচে ধুলোয়
হারিয়ে গেল আমার শৈশব,
আর আমি একা হয়ে গেলাম।

তোমার রাত নিয়ে আমার অভিলাষা খেলা,
তোমার গন্ধে আমি পাখা মেললাম, আর
একা হয়ে গেলাম।

আমার সব চেয়ে ভাল লাগা টুকুন তোকেই দেবো আমি



আমার সব চেয়ে ভাল লাগা টুকুন
তোকেই দেবো আমি,

যে কষ্টে টুপ কোরে কেঁদে নিয়েছিল
আমার চোখ সেইটেও
রেখে দেবো এখানে..

ঝলমলে সকাল-মন কেমন করা দুপুর-
দুষ্টুমি মাখা বিকেল-গভীর ঘন রাত
সব দেবো তোকে… …

সেই কবেকার গ্রীষ্মের দুপুরের
কুলপিমালাই আর
ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে মায়ের
চোখএড়িয়ে জমা জলে ভাসানো কাগজের
নৌকোটাও তোর জন্যেই রইলো।

হাসি-
কান্না-হীরে-পান্নায়
মোড়া দিনগুলো আজ থেকে শুধু
একলা আমার নয় তোর ও…… ..

12 September 2015

তোকে লেখা একটা চিঠি


কেমন আছিস আমায় ছেড়ে;
কেমন আছিস অনেক দূরে ,
চলছে কেমন জীবন চাকা,
মনের কোণটা লাগছে ফাঁকা?

আচ্ছা এখন বায়না করিস!
আগের মতোই দুচোখ ভরিস
আগের মতোই রঙীন চূড়ি
সেই পুরোনো ছাপার শাড়ী।
গেয়ে উঠিস সেই চেনা গান
সেই চেনা সুর মান আভিমান,
মনের কথার ডাইরি লেখা
দুঃখ হলে বৃস্টি দেখা।

জানিস আজও আমার ঘরে
মুষল ধারে বৃস্টি পড়ে।

সেদিন, যেদিন গেলি চলে,
পথ আলাদা - ফেললি বলে,
সেদিন থেকেই মেঘ করেছে,
উপচে দুচোখ জল ঝড়েছে।

আমার ঘরে কেউ আসেনা,
লেখার পাশে কেউ বসেনা
তবুও আমি ভালোই আছি
তোর সপ্ন নিয়ে জীবন বাঁচি।

ছাড় সে কথা-বল কথা তোর,
কোথায় আছিস তোর কি খবর?
কেমন আছিস আমায় ছেড়ে;
কেমন আছিস আনেক দূরে?

5 September 2015

একটুকরো দুঃষ্প্রাপ্য মৌনতা


এমন দিন কি আসবে,
আবার তুমি উদ্ভ্রান্তের মতো খুঁজবে
এই ঘরপালানো বিষাদবালক?
তোমার আঙিনা জুড়ে কয়েকটি লাজুক শালিক
খরকুটো ঠোঁটে নিয়ে নীড়ে ফিরে গেলে,
তুমিও খোঁপায় রক্তজবা গুঁজে
অপেক্ষার দৃষ্টি মেঠোপথে রেখে,
ফিরে যাবে তোমার নিঃসঙ্গ ভুল কুটিরে?
সহস্র আকাশ থেকে তারাদের দল
জোনাকীর মতো নেমে এলে,
আমার না থাকার আবছায়াটা
তুমি কি আলতো করে ছুঁয়ে দেবে?
আমি এই দূরে দাঁড়িয়ে
কিংবদন্তী হতে পারব না আর;
তুমি আসবে না এই জানি সুদূরতমা-
তবুও সময়ের বিদ্রূপে বিক্ষত আমি
বুকের ভাঁজ খুলে উড়িয়ে দিয়েছি
শুকনো গোলাপের পাপড়ি;
এখনও আকাশ গলে গলে সিক্ত হয় মাঠ
শুধু আমার আঙিনাটা পুড়ে গেছে খরাতাপে।
অথচ কথা ছিল সূর্যাস্তে মিলে যাবে দুই জোড়া চোখ
ঘুমকাতুরে প্রহরগুলো সনাতন প্রেমে
অপার্থিব সন্ধ্যাগুলো বিমগ্ন রূপকথার মতো;
এখন আমার আঙিনায় কয়েকটি বুড়ো রোদ
স্মৃতিগুলো গুছিয়ে রাখে থরে থরে।
তুমি আসবে কি ভূতপূর্ব,
অস্পর্শী ঠোঁট মেলে বলে যেতে আরেকবার
দু’চোখ বুজে পৌরাণিক অনুভূতি।

4 September 2015

কিছুই মনে পড়ছে না


কিছুই তো মনে পড়ছে না।

শুধু মনে পড়ে,
সাদা সাদা ঢেউয়ে সাঁতার কাটছিলো কালো তিন মেয়ে, প্রথম রাতে।
কালো কালো ঢেউয়ে সাঁতার কাটছিলো সাদা তিন মেয়ে, দ্বিতীয় রাতে।
মৎস্য কন্যার খোঁজে কতই না ডুবসাঁতার সারা জীবন।
নীল রঙা বিশাল জলের ভেতর গুটিসুটি মেরে লুকিয়ে ছিলো এক ফোঁটা নরম হলুদ
অন্ধ তীরন্দাজ ছুঁড়েছিলো তীর জলের নাভীতে, কোমল হলুদে।
কাঁপন উঠেছিলো, আড়ালে ছিলো উথালি ঢেউ।
তখন আমি নৌকা ছিলাম, ঢেউয়ে মাতাল সারা বেলা।
রাত হলে জল ডুব ডুব খেলা, জোছনা বা অন্ধকারের সাথে।
জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দের একঘেঁয়েমিতে ঘাই মেরেছিলো বেগুনী বোয়াল।
হু হু করা গভীর কালো রাত একাই গাইতো খেয়াল, করুণ সুরে।
একদিন কাঠের পাটাতনে দেখি চুইয়ে পড়ছে সাদাটে ধূসর কষ
মৃতলোক থেকে আলাপচারিতায় আসা আগন্তুকেরা
জানিয়ে দিলো, মৃত্যুর রং ধূসর।
আমার আর কিছুই মনে পড়ছে না।

ঘাসফুলেদের সাথে

তুমি সারাক্ষন খুঁজে গেছো দুপুর সন্ধ্যে বেলায়, সময় দাওনি ঘাস ফুলেদের। লিলুয়া বাতাস হয়ে ছুয়ে গেছো দূর আরো দূর বেপাড়ায়… ফিরে গেছে সে নদী...