5 August 2015

“ওসব তুমি কখনো জানবেনা”


 http://1.bp.blogspot.com/-S27J6siJtr4/Uel-UrxasjI/AAAAAAAAE4s/tXP6AFn3NK4/s1600/156297_322475581186402_901970152_n.jpg
হাত ছুয়েছিল হাত কবিতার মত করে; তবে এখন বুঝতে পারি
কতগুলো পৃথিবীর মাঝে কেন এত একলা লাগে—
অথচ তোমাকে কখনো বলতেই পারিনি
শুধু গোলাপের কলি থাকতো একটা বুক পকেটে
আর হাতে থাকতো কবিতার খাতা।
তোমার কিশোরী বেণীর দোল শুধু অভয় দিত।


দীপালি বলেছিল এতই যখন ভালোবাসিস বলিস নে কেন?


তুমি ই বল—ভালোবাসি বলতে কতটুকু পাহাড় ভাঙ্গতে হয়?
ওসব তুমি কখনো জানবেনা।


শুধু সেদিন তোমাকে বলা হয়নি; রক্তজবা তোমার
ঠোঁটের পাশ ঘেঁষে থাকা তিলটা আমার কত প্রিয়।
হায়! কত যে ইচ্ছে হয়েছিলো শুধু একবার ছুঁয়ে দিতে!
তোমার ওড়নার ফাঁকে ফাঁকে কিশোরী ঘ্রান টুকু
আমায় তখন কতটা মাতাল করে দিত—
ওসব তুমি জানবেনা কখনো।


দেয়াল ঘড়ি টা ঠিক যখন টিক টিক করে জানান দিত
তুমি আসবে জানালায়—
আমি ও পাগলের মত উদগ্রিব ছিলাম
বুক পকেটে রাখা গোলাপের কলিটি তোমাকে দেখানোর জন্য।
সেই ছোট জানালার পাশে এসে তুমি যখন
ইশারায় চাঁদটা দেখাতে; আমি শুধু তোমাকেই দেখতাম।


এইত সেদিন দেখতে দেখতে তুমি তরুণী হলে
পেলভ চামড়ার প্রজাপতির মত তুমি!
তোমার মায়া চোখে তখন
দেখেছিলাম ঝর্নার জলে ভেজা কোন জলজ ছায়া।
তখনো তোমাকে ঠিক আগের মত করে চাইতাম—
শুধু তুমি ই তরুণী হলেনা।


জানো? আমার বুক পকেটের কলিটিও দেখতে দেখতে গোলাপ হল।
যখনই তুমি সামনে এসে দাড়াতে
ধুকপুক শব্দে সে জানাতো তার অস্তিত্ব।


কতবার কলেজের করিম চাচার ঘণ্টার সেই মধুর শব্দ শুনে দাড়িয়ে থাকতাম
তুমি মৃদু হেসেছিলে—তুমি কি কখনো বুঝতে?

শেষবার দেখেছিলাম মফস্বলের সাদামাটা ষ্টেশনে
তুমি তোমার মায়ের সঙ্গে ছিলে–
কুয়াশা ছিরে আসা ট্রেনে উঠার ঠিক আগ মুহূর্তে শেষবারের মত
তুমি যখন তাকিয়েছিলে—
বুকের বা দিকটা ধাক্কা দিয়ে গোলাপ ছুড়ে দিলো তোমার দিকে,
ততক্ষনে তুমি ট্রেনে উঠে গেলে, দেখতে পাওনি কিছুই।


আজো কখনো যদি এসে দেখো
দেখবে একটি বিবর্ণ গোলাপের কিছু শুকনো পাতা
এলোমেলো হয়ে আমায় বলছে
ভালোবাসো তো বললেনা কেন?
তুমি ই বল? ভালোবাসি বলতে কতগুলো পাহাড় ভাঙতে হয়!


ওসব তুমি জানবেনা কখনো।

ঘাসফুলেদের সাথে

তুমি সারাক্ষন খুঁজে গেছো দুপুর সন্ধ্যে বেলায়, সময় দাওনি ঘাস ফুলেদের। লিলুয়া বাতাস হয়ে ছুয়ে গেছো দূর আরো দূর বেপাড়ায়… ফিরে গেছে সে নদী...