আয় বৃষ্টি চলে - আমার এলোমেলো বৃষ্টিকথন

''ছেলেবেলার বৃষ্টি মানেই যখন-তখন...
ছেলেবেলা মানেই অবাক বিশ্ব ভরা,
আয় বৃষ্টি চলে, সেই কিশোরীর কোলে,
গেরস্থালী ফেলে... কিচ্ছুটি না বলে।''





https://amikichuboli.files.wordpress.com/2014/11/wpid-img_1421737525286.jpeg
বয়সের সাথে সাথে বৃষ্টির মানে কি পাল্টে যায়? কিংবা জায়গা বদলের সাথে সাথে? বৃষ্টি নিয়ে কতো বিলাসিতা আমার... আর কতো নূতন-পুরনো স্মৃতির ভান্ডার। বৃষ্টির কথা মনে হলেই সবার আগে ইশকুলের কথা মনে পড়ে। তিনটে বিশাল মাঠ ছিলো আমাদের। বর্ষার আগে আগেই সবগুলো মাঠ জুড়ে কাশফুলের মতো দেখতে একরকমের সাদা ঘাসফুলে ছেয়ে যেতো। বিশালকায় কিছু ইউক্যালিপটাস ছিলো মাঠের সীমানাজুড়ে। তার তলায় শুয়ে শুয়ে আকাশের রং বদল দেখতাম চিরল চিরল পাতার লুকোচুরির ফাঁকে ফাঁকে। একদম খোলা আকাশের তলায় বৃষ্টির দিনে মেঘলা আকাশের নীচে শুয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে একসময়ে মনে হতো আকাশটা নেমে আসছে ধীরে ধীরে। ভয়মাখানো এক আশ্চর্য বিস্ময়ের অনুভূতি সেইটে। তারপর একসময় বৃষ্টি নেমে আসতো। আর সব বন্ধুরা মিলে মাঠে সে কি হুটোপুটি। মাঝে মাঝে কোন শিক্ষিকা হয়তো বারান্দায় উঁকি দিতেন মাঠের বাঁদরগুলোকে শাসন করার জন্য। অবশ্য ছুটির পরে হলে ওইটুকু সবাই ওভারলুক করতেন... কিন্তু টিফিন টাইমের পরে ভেজা জামাকাপড়ে ক্লাসে ঢুকে শেষ বেঞ্চিতে বসে কতোবার ঝাড়ি খেয়েছি আমরা।
http://s3.amazonaws.com/somewherein/assets/images/thumbs/ropa2blog_1225710479_1-sakictgbdblog_1221491507_2-004.jpg
ঘরে ফিরেও বৃষ্টির আমেজ থেকে দূরে যাওয়া লাগতো না। তখন আমাদের টিনছাদের বাড়ি। চারপাশ জুড়ে জাম, কাঁঠাল, নিম, মেহগনি, ছাতিম, কামরাংগা, করমচা, পেয়ারা, গন্ধরাজ, হাস্নাহেনা, জবা আর তুলসীর এলোমেলো সখ্যতা। খরখরে শুকনো মাটিতে বৃষ্টির প্রথম ছাঁটে যে অদ্ভুত সোঁদা গন্ধ তৈরি হতো, তার থেকে আপন মনে হয না পৃথিবীর আর কোন সৌরভ। আর টিনের ছাদে বৃষ্টির নৃত্যপর ছন্দ, ভেজা মাটির গন্ধের সাথে ফুলেদের গন্ধ, বিশেষ করে মেহগনির ঝুরঝুরে ফুলের মিষ্টি শিউলিমতো গন্ধের সাথে নিমফুলের তেতো গন্ধের যুগলবন্দী, এসবকেই আজকাল মনে হয় কোন অন্য জীবনের গল্প। যেন আমি কখনো সেই যাপিত জীবনের কেউ ছিলাম না, যেন এটা অন্য আরেকটা মানুষের জীবন। এখন আমাদের ব্যালকনির ফাঁক গলে বৃষ্টি ঢোকার জায়গা পায়না মোটেই। সারাক্ষণের বিদ্যুত, পানি, নিরাপত্তার সুবিধা পেতে গিয়ে আমাদের উঠোন বিসর্জিত, বিসর্জিত বৃষ্টির বিলাসও। আর এইজন্যেই বোধহয় বৃষ্টি নিয়ে লিখতে বসে অনেকক্ষণ কিছু খুঁজে পাইনি।
এইটুকু লিখে কিবোর্ডে হাত আটকে যাচ্ছিলো বার বার, বৃষ্টি নিয়ে স্মৃতির অভাব নাই। আনন্দের, দুঃখের, প্রেমের - সব কিছুরই কোন কোন না কোন স্মৃতি আছে বৃষ্টিকে ঘিরে। কিন্তু এই বছরের শুরুর দিকে আমি হঠাৎ আবিষ্কার করেছি যে আমি হঠাৎ একটু বড়ো হয়ে গেছি। পুরনো সব স্মৃতি কেমন ধোঁয়াশাময় লাগে। এর মধ্যে একদিন দুম করে ঊনত্রিশে পা দিয়ে দিলাম। আমার জন্মদিন নিয়ে বরাবরই একটু ছেলেমানুষী ধরণের উচ্ছ্বসিত থেকেছি। খুব ছোটবেলা থেকেই বাবার কড়া শাসনের ভেতরেও এই দিনটার মানেই আমার কাছে এক বান্ডিল নতুন বইয়ের গন্ধ আর সেইগুলা পড়বার স্বাধীনতা।
http://sylhetersokal.com/images/2015/02/1222971821AgWDTSr.jpg
Powered by Blogger.