কেউ না

যদিও আমি তোমার 'কেউ না'
তারপরও আজ নিজের অজান্তে পরিচিত
রাজপথে,
তোমার ছায়া দেখেছি কোথাও।
সেদিন,
এদিন,
কিংবা আজ,
যদিও আমি তোমার 'কেউ না'
তবু এ নিঃশ্বাসে মিশে আছে
সেদিনের কতো ঘ্রাণ,
শেষ বিকেলের কতো চুরি করা চাহনি
বিকেল,
রাত,
কিংবা আরো গভীর রাত,
যদিও আমি তোমার 'কেউ না'
কিন্তু কতো 'কথা' আজ আমাদের সম্পদ,
তবু ঘরে ফিরে গিয়েও, আমি ঘর খুঁজে পাই
না,
শুষ্ক আকাশে এক টুকরো মেঘ যেমন
করে
বর্ষিত হবার প্রতীক্ষায় ঘুমিয়ে পড়ে,
আমিও...
হয়তো একে ঘুমই বলে
কিংবা হারানোর ঘোর
আমি,
তুমি,
কিংবা স্বপ্নের আমরা,
যদিও আমি তোমার 'কেউ না'
তবু তারা প্রশ্ন করে,
সাগরের বালুর বুকে যেমনি করে
জল লুকিয়ে থাকে,
তেমনি করে এ জীবনের কোলাহলে
তোমাকে
সমাধি দিলাম,
সমাধি দিলাম এ অসংজ্ঞায়িত বিরহকে,
আরো অজস্র প্রশ্ন আমাকে করতেই
পারো
যদিও আমি তোমার 'কেউ না'



     style="display:inline-block;width:970px;height:250px"
     data-ad-client="ca-pub-3769097400952125"
     data-ad-slot="9592882298">

অনূভব করি নিজেকে আর হারিয়ে বা মুছে যাওয়া দিন গুলো কে

http://4.bp.blogspot.com/-MuM4GDOHnUA/U4xl004hRVI/AAAAAAAAA1E/gscT2cGK0-M/s1600/IMG_1097+copy.jpg
অনেক অনেক অনুভব করি আমার সেই দিনটাকে। যেদিন জেনেছিলাম শেষ হলো আমার উড়ে বেড়ানোর দিন। প্রচন্ডভাবে অনুভব করি মায়ের ছোয়া।

চোখের সামনে ভেসে উঠে, ব্যাস্ত সময়ের মাঝেও কোন এক রাতে বন্ধুদের নিয়ে রিকশায় করে অজানার পথে ছুটে চলা। কাদা জল  হেটে পার হয়ে স্কুলে যাওয়া। কিংবা কাদা মাড়িয়ে বিলের মাঝে পুকুরের মাছের জন্য খাবার নিয়ে যাওয়া।

হয়তো কোনদিন ও আর যাওয়া হবে না হিজল গাছের নিচে বরশি হাতে। কিংবা বিকালের পড়ন্ত আলোয় বৈঢা দিয়ে নৌকা বেয়ে বাদাম কিনতে যাওয়া। আর নতুন করে হারানো হবে না গামছা নদীতে স্নান করতে গিয়ে।


তবুও মনে পড়বে , মনে পড়ে যাবে। প্লেট ভরা ডাল পুরি কিংবা ফুসকা খাওয়ার কথা। মনে পড়বে চোখে জল  আসবে কত স্বপ্ন  দেখেছিলাম নিজেকে নিয়ে আর আজ কোথায় আছি আমি। হয়তো অনেক ভালো আছি ( সবার মতে) কিন্তু এতো ভালো কি আমি থাকতে চেয়েছিলাম। মনে পড়বে বার বার আমি কি হতে চেয়েছিলাম।

আয় বৃষ্টি চলে - আমার এলোমেলো বৃষ্টিকথন

''ছেলেবেলার বৃষ্টি মানেই যখন-তখন...
ছেলেবেলা মানেই অবাক বিশ্ব ভরা,
আয় বৃষ্টি চলে, সেই কিশোরীর কোলে,
গেরস্থালী ফেলে... কিচ্ছুটি না বলে।''





https://amikichuboli.files.wordpress.com/2014/11/wpid-img_1421737525286.jpeg
বয়সের সাথে সাথে বৃষ্টির মানে কি পাল্টে যায়? কিংবা জায়গা বদলের সাথে সাথে? বৃষ্টি নিয়ে কতো বিলাসিতা আমার... আর কতো নূতন-পুরনো স্মৃতির ভান্ডার। বৃষ্টির কথা মনে হলেই সবার আগে ইশকুলের কথা মনে পড়ে। তিনটে বিশাল মাঠ ছিলো আমাদের। বর্ষার আগে আগেই সবগুলো মাঠ জুড়ে কাশফুলের মতো দেখতে একরকমের সাদা ঘাসফুলে ছেয়ে যেতো। বিশালকায় কিছু ইউক্যালিপটাস ছিলো মাঠের সীমানাজুড়ে। তার তলায় শুয়ে শুয়ে আকাশের রং বদল দেখতাম চিরল চিরল পাতার লুকোচুরির ফাঁকে ফাঁকে। একদম খোলা আকাশের তলায় বৃষ্টির দিনে মেঘলা আকাশের নীচে শুয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে একসময়ে মনে হতো আকাশটা নেমে আসছে ধীরে ধীরে। ভয়মাখানো এক আশ্চর্য বিস্ময়ের অনুভূতি সেইটে। তারপর একসময় বৃষ্টি নেমে আসতো। আর সব বন্ধুরা মিলে মাঠে সে কি হুটোপুটি। মাঝে মাঝে কোন শিক্ষিকা হয়তো বারান্দায় উঁকি দিতেন মাঠের বাঁদরগুলোকে শাসন করার জন্য। অবশ্য ছুটির পরে হলে ওইটুকু সবাই ওভারলুক করতেন... কিন্তু টিফিন টাইমের পরে ভেজা জামাকাপড়ে ক্লাসে ঢুকে শেষ বেঞ্চিতে বসে কতোবার ঝাড়ি খেয়েছি আমরা।
http://s3.amazonaws.com/somewherein/assets/images/thumbs/ropa2blog_1225710479_1-sakictgbdblog_1221491507_2-004.jpg
ঘরে ফিরেও বৃষ্টির আমেজ থেকে দূরে যাওয়া লাগতো না। তখন আমাদের টিনছাদের বাড়ি। চারপাশ জুড়ে জাম, কাঁঠাল, নিম, মেহগনি, ছাতিম, কামরাংগা, করমচা, পেয়ারা, গন্ধরাজ, হাস্নাহেনা, জবা আর তুলসীর এলোমেলো সখ্যতা। খরখরে শুকনো মাটিতে বৃষ্টির প্রথম ছাঁটে যে অদ্ভুত সোঁদা গন্ধ তৈরি হতো, তার থেকে আপন মনে হয না পৃথিবীর আর কোন সৌরভ। আর টিনের ছাদে বৃষ্টির নৃত্যপর ছন্দ, ভেজা মাটির গন্ধের সাথে ফুলেদের গন্ধ, বিশেষ করে মেহগনির ঝুরঝুরে ফুলের মিষ্টি শিউলিমতো গন্ধের সাথে নিমফুলের তেতো গন্ধের যুগলবন্দী, এসবকেই আজকাল মনে হয় কোন অন্য জীবনের গল্প। যেন আমি কখনো সেই যাপিত জীবনের কেউ ছিলাম না, যেন এটা অন্য আরেকটা মানুষের জীবন। এখন আমাদের ব্যালকনির ফাঁক গলে বৃষ্টি ঢোকার জায়গা পায়না মোটেই। সারাক্ষণের বিদ্যুত, পানি, নিরাপত্তার সুবিধা পেতে গিয়ে আমাদের উঠোন বিসর্জিত, বিসর্জিত বৃষ্টির বিলাসও। আর এইজন্যেই বোধহয় বৃষ্টি নিয়ে লিখতে বসে অনেকক্ষণ কিছু খুঁজে পাইনি।
এইটুকু লিখে কিবোর্ডে হাত আটকে যাচ্ছিলো বার বার, বৃষ্টি নিয়ে স্মৃতির অভাব নাই। আনন্দের, দুঃখের, প্রেমের - সব কিছুরই কোন কোন না কোন স্মৃতি আছে বৃষ্টিকে ঘিরে। কিন্তু এই বছরের শুরুর দিকে আমি হঠাৎ আবিষ্কার করেছি যে আমি হঠাৎ একটু বড়ো হয়ে গেছি। পুরনো সব স্মৃতি কেমন ধোঁয়াশাময় লাগে। এর মধ্যে একদিন দুম করে ঊনত্রিশে পা দিয়ে দিলাম। আমার জন্মদিন নিয়ে বরাবরই একটু ছেলেমানুষী ধরণের উচ্ছ্বসিত থেকেছি। খুব ছোটবেলা থেকেই বাবার কড়া শাসনের ভেতরেও এই দিনটার মানেই আমার কাছে এক বান্ডিল নতুন বইয়ের গন্ধ আর সেইগুলা পড়বার স্বাধীনতা।
http://sylhetersokal.com/images/2015/02/1222971821AgWDTSr.jpg

বলা হয়নি

 http://www.hdwallpapersinn.com/wp-content/uploads/2014/11/paper-boat-under-a-tree-7211.jpg
চার রাস্তার মোড়ে দাড়িয়ে

কতবার ভেবেছি,

বলেছি আর কোনদিন আসবো না।

তবু দ্বি-প্রহর কাটতেই মনকে প্রতারিত করি।

রোদ পালানো মেঘের নীচে দাড়িয়ে

মন ভাঙ্গা যন্ত্রণা গুলোর

পাল্টে যায় রঙ-

থেমে যায় উঠোন কুড়ানো অভিমান,

প্রাচীন নীড়ে এবার তাই দিয়েছি আগুন

নদীর এপাশে ওপাশে রেখেছি প্রহরী।

তবু ঐ চার রাস্তার মোড়ে দাড়িয়েই

শীরোনামহীন হয়ে গেছে

আমার এক একটি কবিতা।

রুপা সেদিনও আসেনি…

দূর বিকেলে রুপার কথা আর

এক পলক দেখার অপেক্ষা দীর্ঘকাল

পাশ কাটিয়ে জ্বলে থাকে।

বেনামি ফাগুন রোদে বুকপকেটের চিরকুট

নিরীহ ঘামে ভিজে যায়

অভিমানে।

উদাসী কার্নিশে এক টুকরো ঝুলন্ত বিকেল

উদ্বাস্তু,

বাড়ি ফিরবে না বলে চলে যায়।

তবু,

প্রতিদিন চেয়ে থাকি

কান্টিন-করিডোরে, শহর জুড়ে, ঐ চৌরাস্তায়।

সবখানে আবার ঢেউ জাগে কোলাহলের,

কারো কিছু যায় আসে না। কোনদিন-

শুধু একটা চোরাস্রোত অজান্তেই কয়েকফোঁটা জল

ছূঁড়ে দেয় আমার বাড়িফেরা চোখে চুপিচুপি।

রুপা কে বলা হয়নি,

চার রাস্তার মোড়ে এক থেকে একশ বছর

দাড়িয়ে এখনো রোদ মাখি হলুদ দুপুরে…

চলো, নষ্ট হয়ে যাই

তোমার আমার এই জীবন
বয়ে নিয়ে বেড়ানোই যদি আসল কথা হয়
তবে চলো ভুল করি
তবে চলো নষ্ট হয়ে যাই,

যেকোন প্রাণীর মতো কেবল
বেঁচেই যদি থাকি
তবে শেষ হয়ে যাই চলো,

ঘুমিয়েই যদি পড়বে জানো
তবে চলো অন্ধ হয়ে যা্ই,

এমন ভাবেই বাঁচতে যদি হয়
তবে চলো কারো অভিশাপ হয়ে যাই
কষ্ট হই,
শেষ নই,
নষ্ট হই...

ডাইরির ছেঁড়া পাতা

এই যে তোমার ঠোঁটের ডান ধারে - ছোট্ট-খানি
তিল-
ওটাই আমার বোটানিক্যাল, ওটাই আমার
রাজচন্দ্রপুর, নিশ্চিন্দার
ঝিল।
ওই যে তোমার নাকের ওপর -বিন্দু, বিন্দু জমা ঘাম,
ওটাই আমার ঢাকেশ্বরী, ওটাই ধনঞ্জয়-
পান্নালালের গান।
ওই যে তোমার খোপার ভেতর - বাধ্য চুলের
খামখেয়ালি মুগ্ধতা,
ওটাই আমার প্যারেড গ্রাউন্ড, ওটাই বালিগঙ্গার
শিশির ভেজা
শুদ্ধতা।
ওই যে তোমার কানের গায়ে - কানের দুলের
বাহার,নাকের নথ-
ওটাই আমার ছেলেবেলার হারিয়ে যাওয়া
নিশ্চিন্দার চিত্রপট।
ওই যে তোমার কালি পড়া - ব্যাকুল চোখের
বালির সোনাঝরা
কিনার,
ওটাই আমার হপ্তা-বাজার, ঘোষপাড়া-বাজারের
স্মৃতিকথা শোনার।
কপাল ছড়ে সেইসব আলোলাগা বেলার - গভীর
ব্যথার স্মৃতি সুধার
দাগ,
ওটাই আমার নিশ্চিন্দার মোড়,খেতেবসে বড়মামার
এঁটোহাতেই
ধরতে শেখানো জলের গ্লাস।

তুমি


একদিন সব রাস্তা আমার বাড়ির সামনে দিয়ে
যাবে
প্রতিদিন মেঘগুলো আমার বাড়ির আকাশে
ডাকবে
আমার বাড়ির সামনে দিয়ে একদিন সব রাস্তা
আমার বাড়ির আকাশে প্রতিদিন মেঘগুলো
প্রতিদিন বৃষ্টিগুলো
পড়া বৃষ্টিগুলো , ডাকা মেঘগুলো
দেখতে দেখতে , দেখতে দেখতে---
প্রতিটি রাস্তায় তুমি
প্রতিটি রাস্তা , প্রতিটি তুমি দেখতে দেখতে
আমার মন কেমন করবে।

অজানা খেয়ায় ভেসে

চলতে চলতে জীবনের অনেকটা পথ হেঁটে
অনেক রঙিন ফাগুন হয়েছে বিলীন,
সবুজ বনানী, কাশবন, নদী, বালুচর পেরিয়ে
ফসলের মাঠ, হিজল, আমলকী, বৈচির বন পিছনে
ফেলে-
শিমুল,পারুল,চাঁপা, জুই - কত নাম না জানা ফুল
পথের দুপাশে রেখে
জীবনের এক অবসন্ন বাকে এসে দাঁড়িয়েছি আজ।
কোনো কোনো বিষন্ন প্রহর মনের বেলাভূমি
ভিজিয়ে দেয়।
যে জীবন ছিল ঝর্নার মত দুর্বার, চঞ্চল, গতিময়
খরস্রোতা নদীর মতো স্রোতোস্বিনি,
কখনো বা পৌষের শীর্ণ নদীর মতো গতিহীন-
আবার কখনো দীঘির জলের মতো নিথর।
অবসরে কোনো কোনো দুর্বল মূহুর্তে নিজের
হৃদয়টাকে খুলে দেখি.......... এক বুক শূন্যতা।
ভালোবাসার শত রঙে সাজানো মন্দির-
আজও ফাঁকা,
বিরান মাঠের খোলা হাওয়ায়।
প্রথম যৌবনে চাঁদকে দেখে মনে হয়েছিল-
আমার হৃদয় বুঝি পেয়ে গেছি,
কিন্তু তাকে আবাহনের আগেই দেখি
রাতের আঁধারে সে হারিয়ে গেছে।
এর পর দেখা নদীর সাথে-
মাত্র কদিনের আলাপ,
অথচ মনে হয় অনেক যুগ আগের জানাশোনা।
বিদায়ের আগে ঠিকানা চেয়ে বললো-
চিঠি লিখলে উওর পাবো তো ?
এত বছর প্রতীক্ষায় আছি- কোনো চিঠি আজও
আসেনি।
আকাশ আমার ভালো বন্ধু
সে একদিন বলেছিল "তোর মত ছেলে সব মেয়েই
চাইবে" ,
হয়তো সঠিক মেয়েটি এখানো সামনে আসেনি ,
কিংবা খুব কাছেই আছে
এখনো পারিসনি চিনতে।
সত্যি সে আমার খুব ভালো বন্ধু ছিল,
সময়ের স্রোতে একে একে সব হারিয়ে গলেও
সে হারায়নি কিংবা ভুলে যায়নি কখনো।
এখন জীবনের তাগিদে ঠিকানা বদলেছে।
একদিন বলেছিল - ঠিকানা বদলেছিস জানাসনি,
চেষ্টা করলেও নিজেকে লুকাতে পারবি না,
কিছুতেই না,
তোর সাথে ছায়ার মতো লেগে আছি
যেযেখানেই যাস-যত দুরেই থাকিস........

এক নদীর গল্প



বাবা-মেয়ে আর নদী নিয়ে শিল্প নির্দেশক সমীর চন্দ ‘এক নদীর গল্প’ বলেছেন।
বহু দিন পর বাংলা ছবিতে গ্রামবাংলার মেঠো সুর। মেয়ের জন্য সব খোয়ানো এক বাবা। আর এক চঞ্চলা নদী।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছোট গল্প ‘একটি নদীর নাম’য়ের আদলে তৈরি এই ছবি জুড়ে দ্বারকেশ্বর (মিঠুন চক্রবর্তী)। মা হারা মেয়ে অঞ্জনাই (শ্বেতা প্রসাদ) দ্বারকেশ্বরের জীবনে জোয়ার এনেছে। বাংলা ছবি অনেক দিন  বাদে মিঠুন চক্রবর্তীর বাঁধ ভাঙা অভিনয় দেখল।
‘মৃগয়া’ থেকে মিঠুনের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল—‘তাহাদের কথা’, ‘কালপুরুষ’য়ের মধ্য দিয়ে গিয়ে একটি পূর্ণ পরিণত রূপ পেল ‘এক নদীর গল্প’ ছবিতে। মিঠুন—যাঁর জীবনটাই জ্বলন্ত লড়াইয়ের মশাল, এই ছবিও সেই লড়াকু মিঠুনকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
ছোট্ট মেয়ের সঙ্গে বাবার খুনসুটি, কিতকিত খেলার দৃশ্যে মিঠুন এতটাই প্রাণবন্ত যে, ছবিটা দেখতে দেখতে আমাদের ছেলেবেলার বাবাকে মনে করিয়ে দেয়। এ ছবিতে বাবা-মেয়ের আত্মিক যোগ জাগিয়ে তোলে নস্টালজিয়া।
ছবির দ্বিতীয় অর্ধে নদী যেমন আচমকা তার গতি বদলায়, ঠিক  তেমনই বদলে যায় মিঠুনের স্বর ও সংলাপ।  একটু একটু করে ভাঙতে থাকে নদীর পাড়। নদীর জলে সেই ঝিকিমিকি আর দেখতে পাওয়া যায় না। বেরিয়ে পড়ে কেলেঘাই নদীর   ধূসর, কালো রূপ। নেমে আসে
গভীর ট্র্যাজেডি, মেয়েকে নদীর
কাছেই ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয় দ্বারকেশ্বর। কেলেঘাই নদী তখন যেন তার মেয়ে অঞ্জনা। একলা, অসহায়  দ্বারকেশ্বর শুধু মাত্র মেয়ের স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে থাকে। আর এই বাঁচার উদ্দেশ্য একটাই কেলেঘাই নদীর নাম বদলে যেন অঞ্জনা করা হয়।

নদীর শরীরে কেন মেয়েকে খুঁজে বেড়ায় বাবা? মেয়ে অঞ্জনারই বা ঠিক কী হয়েছিল? সহজ গল্প বলার ধরনে ছবিটি দর্শকদের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি করতে থাকে। আর ছবির মেজাজ অনুযায়ী কখনও বা গ্রামবাংলার ব্রত কথার সুরে, কখনও বা দু’কূল হারানো জীবনের বেদনায় বেজে ওঠে নদী-ছোঁওয়া গান। মন ভরে যায় নচিকেতা চক্রবর্তী আর শুভমিতার গানে। কালিকাপ্রসাদের কণ্ঠকেও চমৎকার ব্যবহার করেছেন সঙ্গীত পরিচালক নচিকেতা চক্রবর্তী।
তদন্তকারী  পুলিশ অফিসারের অভিনয়ে যিশু সেনগুপ্ত যেমন প্রাণবন্ত ঠিক তেমনই অঞ্জনার অভিনয়ে শ্বেতা প্রসাদ স্বতঃস্ফূর্ত।  অবশ্য তাঁর সংলাপে কখনও কখনও বাংলা উচ্চারণ হোঁচট খায়।
অঞ্জন শ্রীবাস্তব আর নির্মলকুমারকে বহু দিন পরে অভিনয় করতে দেখে ভাল লাগল।
অনেক প্রাপ্তির মধ্যে চিত্রনাট্যের দুর্বলতা মাঝে মাঝে ছবির গতিকে বিভ্রান্ত করে। ২০০৭য়ে তৈরি এই বাংলা ছবি দেখতে দেখতে অনেক সময় মনে হয় ছবির মেকিংয়ে কোথায় যেন স্মার্ট ঝকঝকে লুকের অভাব আছে।
কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে কৌস্তভ রায় ও লীলা চন্দ  প্রযোজিত এই ছবিতে নদীই হয়ে ওঠে মূল চরিত্র।
পার ভাঙে, মৃত্যুকে নিজের মধ্যে নিয়ে কেলেঘাই নদী ফিরিয়ে দেয় অঞ্জনাকে।
সেই নদীর নাম অঞ্জনা।

সারাটা দিন, মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি তোমাকে দিলাম


অনন্ত অপেক্ষা নিয়ে বসে আছি রোদের পাখায়। মোহনীয়, কোমনীয় বৃষ্টি বাতাসের ভেলায় ভেসে আসবে আমার মনের জানালায়, হৃদয়ের আঙ্গিনায়। আমি জানতাম বৃষ্টি তোমার খুব প্রিয় ছিল। আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখলেই তুমি খুশীতে পুলকিত হয়ে যেতে। ময়ূরীর মত মনের পেখম পেলে দিতে বৃষ্টিস্নানের জন্য। এখন কি সে রকমটি আছো? 



অনেক দিন বৃষ্টিতে ভেজা হয় না। বৃষ্টি শরীর স্পর্শ করতেই মন বিষিয়ে উঠে। একটা অপূর্ণতা মনের ভেতর বড় হতে হতে গহব্বর তৈরি করে। সেখানে একটা কষ্টের কুয়া সৃষ্টি হয়। সেই কুয়ায় নীল পানি টলমল করে। তোমার নীল কষ্টের অশ্রু কণা জমে জমে পূর্ণ হয়। আমি সেই কুয়ায় প্রতিরাতে ডুবে মারা যাই, আবার সকালে জেগে উঠি দুর্বিষহ জীবন নিয়ে। পথ চলা শুরু হয় একা। 



শ্রাবণের কদম দেখি, কপোত-কপোতীর কাক ভেজা দেখি, অতীত দূরে নিজেকে হারিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত হই। কালো মেঘের ডানায় রঙ্গিন স্বপ্ন ধূসর হয়ে হারিয়ে যায়। বৃষ্টি শেষে হঠাৎ রঙধনু দেখি, কিন্তু আগের মত আনন্দে উদ্বেলিত হই না, লাফিয়ে উঠি না, মুঠোফোনে তোমাকে বিরক্ত করিনা। রঙধনু দেখার জন্য খোলা ছাদে নিমন্ত্রণ করি না।



আমার অনুভুতি আজ ভোঁতা, স্নায়ুতন্ত্র গুলো আজ অকেজো। অঝর বৃষ্টি আমার শুষ্ক হৃদয় প্লাবিত করে গেলও কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। আধুনিক শহর যখন বৃষ্টি বিধৌত হয়ে শহরের নদী সৃষ্টি হয়, তখনো আমার মাঝে কোন আক্ষেপ থাকে না। বন্দী জীবন আজকাল খুব উপভোগ করি। বদ্ধ ঘরে বসে বৃষ্টির সাথে অভিমান এখন আমার নিত্যদিনের খেলা।



বৃষ্টি আমাকে স্মৃতি কাতর করে, কর্মবিমুখ করে, বেদনার সাগরে ভাসিয়ে দেয়। বৃষ্টি মুখর দিন ছিল আমাদের পরম আরাধ্য। কতদিন আকাশে মেঘ দেখে বৃষ্টিতে ভেজার জন্য রিকশা ভাড়া করে অপেক্ষা করেছি, ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে কতদিন ক্যাম্পাসে হাত ধরে হেঁটেছি, আজ মনের ভেতর স্মৃতি গুলো বৃষ্টি হয়ে ঝরে। বৃষ্টি তোমাকে সাধুবাদ, তোমার ধারায় আমার চোখের ধারা হারিয়ে যায়, আমার কষ্ট আমার কাছেই থাকে। 



বর্ষা এলেই বৃষ্টি আসে, বৃষ্টি এলেই তোমার স্মৃতি আসে। জানালা আজ আমার খুব প্রিয়। বৃষ্টির ছন্দে মাতোয়ারা মন জানালা ছাড়তে চায় না। সারাদিন জানালায় বসে বৃষ্টি দেখি আর "বৃষ্টি" তোমাকে ভাবি। তাই জানালায় বিষণ্ণ হৃদয়ের সঙ্গী হয় সিডি প্লেয়ারে শ্রীকান্তের সেই গান-"আমার সারাটা দিন, মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি তোমাকে দিলাম। শুধু শ্রাবণ সন্ধ্যাটুকু তোমার কাছে চেয়ে নিলাম।" 

ছবিও ‘ছবির মতো সুন্দর’!!!

কোনো কোনো ছবিও ‘ছবির মতো সুন্দর’ হয়। মন যেমন কল্পনা করে সুন্দর কোনো রং রেখা চিত্রকল্পের, ঠিক তেমন। সুন্দর রূপে ধরা দেয় কোনো কোনো মৃত্যুও। যেমন সুন্দর রূপে ধরা দিয়েছে নামিবিয়ার ডেডভ্যালির এই ফটোগ্রাফগুলি।

 Inner_3_496385316
প্রথমে যে কেউ এগুলো ফটোশপের কারসাজি অথবা পেইন্টিংস ভাবতে পারেন। তবে আসল তথ্য হলো, ডেড মার্শ নামে পরিচিতি অনেকটা সুরিয়ালিস্টিক বা পরাবাস্তবধর্মী এই ছবিগুলো মধ্য-নামিবিয়ার বিখ্যাত একটি মরুভূমির ভূখণ্ড।
BG_263658025
কয়লার মতো কালো গাছগুলো দাঁড়িয়ে সাদা ভূমিবিন্যাসের উপরে। পিছনে প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তিত হওয়া লাল বালিয়াড়ি। উপরের আকাশটা গাঢ় নীল। চোখ ধাঁধানো এই চিত্রগুলির পিছনের সৌন্দর্য একটি ঘন জঙ্গলের মৃত্যু এবং এখনো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকা কিছু গাছ!
Inner_5_246098553
এই মরুভূমির কোল ঘেঁষে রয়েছে একটি লেক। কিন্তু বছরের একটা সময় এখানে নীরাভূমির সৃষ্টি হলেও বালিয়াড়ি থেকে বালি পড়ে নীরাভূমি পুরোপুরি ডেডভ্যালিতে রূপান্তরিত হয়।
Inner_4_416952572
যখন এই ডেডভ্যালি পুরোপুরি জীবিত ছিল তখন প্রচুর সংখ্যক কাঁটাযুক্ত এক ধরনের গাছে পরিপূর্ণ ছিল। কিন্তু যখন জলের  উৎস বন্ধ হয়ে যায় তখন গাছগুলো মরে পচে যায়। তারপর রোদে শুকিয়ে সেটা কালোবর্ণ ধারণ করে। ক্রমে মরুভূমিতে শুকনো মৃত গাছের বনে পরিণত হয়।
Inner_1_724071306
৪৪ কিলোমিটারের এই ডেডভ্যালিকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ‘মৃত স্থান’ বলা হয়।
Inner_2_406358418

অসমাপ্ত বালিয়াড়ি ও ছেঁড়া কবিতারা

 http://shobujbanglablog.net/wp-content/uploads/2014/05/Inner_5_246098553.jpg
১.
মিছে নাটকীয়তায় ঢাকা পড়ে আছে বোধ,
কেন তোমাকেই চেয়েছি শুধু
শরীরে-অশরীরে, অবিশ্বাসের স্রোতধারায়
অনেক লজ্জা, ঈর্ষা, ক্ষোভ বিসর্জন দিয়ে
অনেক প্রেম, পাপ, লোভ জলাঞ্জলি দিয়ে
টেনে টেনে ছিঁড়েছি কবিতার পাতা, সময়,
মুখের খোলস, তবুও
অন্ধকার ছিঁড়তে পারিনি।

২.
ফিরে যাবার শেষ ছত্রে লেখাছিল
চৈত্র দিনের খরা, ধুলি ধুসর ছায়াপথ,
ছিল অনুর্বর, ক্ষয়ে যাওয়া মাটির প্রেমহীন প্রলেপ।
অনেক বেদনাঘন বিষাদের স্মৃতিরেখা ধরে
অনেক মোহগ্রস্থ নির্মাণের প্রসবযন্ত্রনা ভুলে
আড়ালেই থেকে গেলে প্রদীপমুখী,
খামে ভরে নীলিমা পাঠিয়েছিলে বলে
ভ্রুকুটি করেছিলাম।

৩.
বিন্দু বিন্দু সঞ্চয়ের অবিরাম খেলায় ক্লান্ত
দিনের আয়ুষ্কাল, সুরভিত অতীত,
ছিল অচেনা আকাশ, নিস্তেজ দুপুর, হিমশীতল বৃষ্টি
অনেক নিঃশব্দ রাতের খোলা আঁচল বেয়ে
অনেক সৃষ্টিহীন যৌবনের আলপথ ভেঙে
দেখি, মেঘে ঢাকা বিকেল, তাই
গোপনে জ্বেলেছি রঙমশাল,
এক নতুন জীবনের অফুরন্ত হাহাকার।

৪.
তারপর আরো, কত চন্দ্রাহত রাত ফিরে গেছে,
দিকশূন্য নাবিকের মত
ভেসে গেছি তরঙ্গাভিযানে, অবিন্যাস্ত জলধারায়
অনেক অক্ষমতার ভারী বোঝা কাঁধে বয়ে,
অনেক অসমাপ্ত বালিয়ারি পায়ে দলে
এসে দাঁড়িয়েছি,
তোমারই এঁকে দেয়া সীমান্ত রেখায়
অনাবৃত বসন্তের প্রান্তে।
(নিজের ভেতর পড়ে থাকি সারাক্ষণ, ভাবের আনাগুনার অন্ত নেই, অথচ ভাব প্রকাশের ভাষা জানা নেই,যারা ভাষার কারুকাজে নিজের ভাব ব্যক্ত করেন,সেই সব শব্দ-শিল্পীদের প্রতি এক ধরণের ঈর্ষা মিশ্রিত বিস্ময় নিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে থাকি, নিজের আর লেখার সাহস হয়না । তবু, মাথার ভিতর নানা ভাবের ঠুকঠুকানি তো থেমে থাকেনা । নিজের সাথে নিজের এই বকবকানি কেউ যদি কবিতার মত করে পড়তে চান, আমার তাতে আপত্তি করার প্রশ্নই উঠেনা ! প্রকৃত কবিদের কবিতা পড়ে যদিও 'হা' হয়ে থাকি মুগ্ধ বিস্মিয়ে, তারপরো সত্যের খাতিরে স্বীকার করতেই হবে, আসলে কবিতার আমি 'ক' ও বুঝিনা )।





এই সব শেওলা ধরা গোপন শুণ্যতার সঙ্ঘা আমার জানা নেই কোন

এই যেমন

মাঝে মাঝেই স্বপ্নের ভিতর হানাদেয় এক ঝড়ের রাতে

প্রায় ভেঙ্গে পড়া সেই চায়ের টং

বুড়ো রাজন চাচার গতরের হাজারো আঁকিবুকির মতই বিগত যৌবন

নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো



গুলতানি মারা ছেলেগুলোর বখাটে চোখ

হিম নিস্তব্ধতায় ভেতর মনে পড়ে যায়

কখনো কখনো কারণে অকারণে

মাঝরাতের শন শন হাওয়ায় মিশে থাকে

আমার না ঘুম না জাগরণের রাতের প্রহরগুলোতে



স্বপ্নের ভিতর কখনোবা আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে উঠে দেখি

ইতি উতি বসে থাকা এক দঙ্গল বেকার ছেলের চোখ

মাছির মত ভন ভন ভন ভন

হাজারো চোখ থেকে ঝড়ে গভীর অবসাদ



বেকার আর বখাটে শব্দ দুটো পাশাপাশি

মিছিলে হাঁটে

স্বপ্নের ভিতর

এখনো



কারো কারো চোখে এক সিন্ধু হতাশা

ঘর গেরস্থালী মা বাপ অথবা শাপলা ফোটা দিঘীতে

চরম বিঃস্বাদ

থু থু ফেলে কেউ কেউ

কারণে অকারণে



আকাশ দেখে কি দেখেনা

মেঘ রোদ ঝড় বৃষ্টিতে

নেই উল্লাস হাহাকার অথবা

খিঁচুড়ী খাবার সাধ



কিছু কিছু আহ্লাদ হয়ত গভীর গোপনেই জমা হতে থাকে

জমা হতে থাকে জমা হয়

তালা দেওয়া সিন্ধুক যেমন

প্রায় কখনো কেউ খুলতে দেখেনা কাউকে



লুঙ্গিতে গিঁট দিতে দিতে দল বেঁধে মেয়েদের ইস্কুল্টায়

ছুটে যায় ছুটির সময়টায়



কখনোবা ঝিম মেরে পড়ে থাকা টং এর মালিক

রাজন চাচা্র মেয়ের শরীরের চিত্র বিচিত্র ম্যাপ নিয়ে

খ্যাক খ্যাক হাসি

দিশেহারা উদভ্রান্ত বুড়োটা

ঘোলাটে কাঁচের বোয়ামের ভিতর

দৃষ্টি চালানোর কসরতে ব্যস্ত থেকে

জগৎ সংসার ভূলে যেতে চায় প্রাণপণে



মাঝে মাঝে ভূল করে ভূল করে ফেলে

চিৎকার দিতে গিয়ে কঁকিয়ে উঠে

রাজন চাচার হঠাৎ হঠাৎ কঁকিয়ে উঠা

প্রায় নূয়ে পড়া মাথাটা ঠেসে ধরে

কেউ একজন অশ্লীল শীস

দিতে দিতে তারপর

তারপর একজন দুজন তিনজন চার...পাঁচ

একসঙ্গে গলা মিলিয়ে হেড়ে গলায় গান ধরে



'ও সোনা বন্ধুরে....'



ঘোলাটে বোয়ামের বিস্কুটের ভিতর

খাবি খাওয়া মাছিটার

ব্যর্থ ডানা ঝাপটানোর কথা মনে পড়ে যায়

কিছু কিছু মানুষ এভাবেই বেঁচে থাকে

কোন মানে হয়



এসবই বড় বেশী মাথার কোষে কোষে ছড়িয়ে যায়

ছড়িয়ে পড়ে

হিম হিম আঁধারে



মাছিটার চোখ খুঁজে ফেরা

রাজন চাচার একজোড়া

ঝিমধরা চোখ

এখনো আমার মধ্যরাতের

কাটা ছেঁড়া স্বপ্নের ভিতর

আনমনে ঘোরাফেরা করে

এই বর্ষায় তোমার কিছু না বলা-

তোমার সাথে প্রতিটি কথাই কবিতা, প্রতিটি মুহুর্তেই উৎসব-
তুমি যখন চলে যাও সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর সব আলো নিবে যায়,
বইমেলা জনশূন্য হয়ে পড়ে, কবিতা লেখা ভুলে যাই।

তোমার সান্নিধ্যের প্রতিটি মুহূর্ত রবীন্দ্রসঙ্গীতের মতো মনোরম
একেটি তুচ্ছ বাক্যালাপ অন্তহীন নদীর কল্লোল,
তোমার একটুখানি হাসি অর্থ এককোটি বছর জ্যোৎস্নারাত
তুমি যখন চলে যাও পৃথিবীতে আবার হিমযুগ নেমে আসে;
তোমার সাথে প্রতিটি কতাই কবিতা, প্রতিটি গোপন কটাক্ষই অনিঃশেষ বসন্তকাল
তোমার প্রতিটি সম্বোধন ঝর্নার একেকটি কলধ্বনি,
তোমার প্রতিটি আহ্বান একেকটি অনন্ত ভোরবেলা।


-এই বর্ষায় প্লাবিত হলো নগর-বন্দর এমনকি অনেক হৃদয়-অন্দর।
কিন্তু কোথাও একটাও কদম ফুল ফুটলো না,
দেখলাম না কোথাও অন্য কোন আষাঢ়ে ফুল -
অথচ তুমি কিছু বলছো না -
তুমি বলছো না তোমার ছাদে লাগানো অর্কিডগুলো সবুজ হলো কী ?
তুমি বলছো না তোমার বাড়ির সামনের রাস্তাটা পুরোটা ডুবেছিল কী ?
তুমি বলছো না পাখিদের ভিজতে দেখে তোমারও ইচ্ছে হয়েছিলো কী ?
এমনকি তুমি বলছো না,
কাল বিকেলে বৃষ্টি থেমে গেলে কীভাবে পার করেছিলে সুপ্রাচীন চৌরাস্তা-
কিংবা
আজ সকালে রৌদ্র নেমে এলে কতটা বদলেছিলো তোমার বারান্দা।

কিছুই বলছো না যখন -
এই বর্ষায় তোমার মৌনতায় আমি বেশ বুঝে নিয়েছি,
তুমি না বল্লে কীভাবে জানি হঠাৎ বিগড়ে যায় পৃথিবীর সময়রেখা -
তুমি কিছূ না বল্লে কীভাবে যেন হঠাৎ থেমে যায় যাবতীয় ভাষা -
তুমি না বল্লে আমিও কীভাবে লিখি না লেখা পৃথিবীর অন্য কবিতা -
তুমি না বল্লে কীভাবে পড়ি অজানা পাতায় লেখা তোমার গল্পগাঁথা -
অতপর অপেক্ষা করতে থাকি, তুমি কিছু বলবে - অন্তত কিছু ...
অপেক্ষার পর অপেক্ষা - তোমার জন্য অপেক্ষা,
তোমার বলার জন্য অপেক্ষা কিংবা
তোমার মৌনতা ভাঙ্গার জন্য অপেক্ষা কিংবা
যে কোন একটা কিছুর জন্য অপেক্ষা।

একটামাত্র অপেক্ষার উপর ভর করে অনেক কিছু বদলে যাবার জন্য প্রতীক্ষা -
- এভাবে বদলে যেতে পারে সময়রেখা কিংবা
পৃথিবীর সব ভাষাবোধ থেমে যেতে পারে
বা
যেখানে একটি মাত্র ভাষা প্রচলিত থাকতে পারে -
সে ভাষায় তুমি হয়তো কথা বলো,
হয়তো শুধুমাত্র আমার জন্য বলা তোমার একমাত্র ভাষা সেটিই-
এমনও হতে পারে,
অনেকদিন ধরে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠার ছেঁড়ার পর
আমি একটা কবিতা লেখা শেষে বলতে পারি -
এই বেশ ! আর নয়, পৃথিবীর মৌনতার আজ হোক শেষ -
এমনও হতে পারে,
তোমার জমানো গল্পগাঁথা শুনতে শুনতে
অপেক্ষার মতো সুদীর্ঘ প্রহর ভুলে গিয়ে পৃথিবীতে আর দিন-রাত্রি থাকবে না -
কোথাও অজানা পান্ডুলিপিগুলো সহসাই বোধগম্য হবে আর -
এরকম অনেক এমনের উপর মেঘ ভাসাতে ভাসাতে অপেক্ষা করি আরেকটি বৃষ্টির-মূষলধারে বৃষ্টির -
টানা বৃষ্টিতে নগর-বন্দর ডুবে গেলে হয়তো এবার পাহাড়ী ঢলে আমাকে ডুবতে দেখে,
হয়তো তুমি কিছু বলবে -
বলবে - আমাদের জন্য নির্দিষ্ট পৃথিবীর একটিমাত্র প্রচলিত ভাষায়
বলবে - এবারের বর্ষায় কদম ফুল ফোটার কথা
বলবে - তোমার মৌনতার কথা
আর সেই পান্ডুলিপির রহস্য জেনে আমিও বলতে পারি -
'এমন অপেক্ষা আর অপেক্ষা শেষের অনুভূতির জন্য আমি পুরোটা জীবন অপেক্ষা করতে পারি -
বেঁচে থাকার তীব্র বাসনা করতে পারি -
এমনকি তুমি না বলা অবধি প্রতিদিন একটা পৃষ্ঠা লেখা শেষে ছিড়ে ফেলতে পারি - অজস্র কবিতা'

আমরা রাজত্ব করি ... কল্পনার জগতে রাজত্ব কার

"কল্পনাবিলাসী আমরা ... ছোট্ট একটা কথা শুনেই অনেক কিছু কল্পনা করে ফেলি ... এক চিলতে হাসি দেখেই বুঝে ফেলতে চাই অনেক কিছু ... সময় পেলেই ভাবতে বসি ... মনোযোগ দিয়ে ভাবতে থাকি ... সেই মানুষটার কথা ... নিজের মধ্যে কথা সাজাই ... নিজেকে আর তাকে নিয়ে গল্প বানাই ... সেই গল্পের সংলাপগুলো একা একা বিড়বিড় করি !!

রাত হয় ... কোথাও ছোট্ট করে "কেমন আছো ??" লেখা দেখি ... একটা সামান্য "কেমন আছো" খুব আহামরি কিছু না ... আমরা সেটাকে আহামরি বানাই ... তার ছুড়ে দেয়া একটা "নির্লিপ্ত জিজ্ঞাসা" কে বানিয়ে ফেলি "আবেগের চাদরে মোড়ানো এক গুচ্ছ ফুল" ... ফুলের সুগন্ধ নাকে এসে লাগে ... আমরা পাগল হয়ে যাই ... পাগলের পাগলামির কোন সীমা থাকে না ... আমরা সীমা ছড়িয়ে যাই !!

কল্পনার সীমা ছাড়িয়ে আমরা ঘাসের উপর বসে পড়ি একসাথে ... হাতে হাত ধরে ফড়িং এর পিছনে দৌড়াই ... ছোট্ট একটা নদীর পারে একটা ঘর বানাই ... ঘরের মধ্যে দুইটা ইয়া বড় চেয়ার থাকে ... আমরা দুম করে বসে পড়ি ... ওটাই আমাদের সিংহাসন ... আমরা রাজা আর রাণী !!

আমরা রাজত্ব করি ... কল্পনার জগতে রাজত্ব করি ... একদিন বাস্তবতার জগতের রাজা এসে আমাদের রাজত্বে আঘাত করে ... আমরা যুদ্ধ করি ... একদিন যুদ্ধ থেমে যায় ... বাস্তবতার জগত এসে সেই মানুষটাকে নিয়ে যায় ... শূন্য সিংহাসনের দিকে তাকিয়ে থাকি ... একা একা ফড়িং এর পিছনে দৌড়াতে আমার কষ্ট হয় ... ভীষণ কষ্ট হয় !!

তাই আবার ফেরত আসি কল্পনার জগত থেকে ... একেকটা "কেমন আছো" লেখা দেখি আর ভাবতে থাকিঃ আমিই পাগল, কী সব কল্পনা করি, ধুরু !!

প্রত্যেকটা মানুষ প্রতি মুহূর্তে তার কল্পনার রাজ্যের গল্প লিখে ... সেই গল্পের অংশ হয়ে যায় কেউ কেউ ... কিন্তু চাইলেও সেই রাজ্যের খোঁজ কেউ পায় না ... এমন কী সেই মানুষটাও না, যাকে ঘিরে এই রাজ্য, এই গল্প !!" 

মানুষ চাইলেই সব পারে, শুধু ভুলতে পারে না

 http://www.theyccnews.com/wp-content/uploads/2014/04/Rain_962547644.jpg

"চাইলেই কারো প্রেমে পড়া যায় ... হুট করে হাতটা ধরে বলা যায়ঃ "চলো বৃষ্টিতে ভিজি" ... জ্বর বাধিয়ে চাইলেই পাওয়া যায় মুঠোভরা যত্ন ... খুব সকালে ঘুম জড়ানো কন্ঠটা মন ভরে শোনা যায় ... রাতে ঝিঝি পোকার ডাকের সাথে ফিসফিস করে কথাও বলা যায় চাইলে ... তারপর অনেক দিন পর চাইলেই নিজের ভেতরটাকে পাথর বানিয়ে চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায়ঃ 


চাইলেই সে হাসতে পারে ... চাইলেই সে কাঁদতে পারে ... সে দুটোই পারে ... যখন যা দরকার ... সে অভিনয় পারে ... ভীষণ ভালো রকমের অভিনয় !!

সে বৃষ্টিতে ভিজতে পারে ... বিরাট একটা ছাতা মাথার উপরে দিয়ে সে বৃষ্টিকে ঠেকাতেও পারে !!

মানুষ সব পারে ... শুধু ভুলতে পারে না ... বৃষ্টির এক লক্ষ ফোঁটাকে সে জানালা বন্ধ করে, ছাতা দিয়ে ঠেকিয়ে রাখতে পারে ... কিন্তু তাকে কিছু একটা মনে করিয়ে দেয়ার জন্য টুপ করে স্পর্শ করা একটা ফোটাই যথেষ্ট ... সেটা সে ঠেকাতে পারে না ... চাইলেও পারে না !!

মানুষ ভুলতে পারে না ... কেউ না কেউ, কিছু না কিছু, কখনো না কখনো, কোন না কোনভাবে তাকে মনে করিয়ে দেয় ... সে ভুলতে চায় ... চোখ বন্ধ করে ভুলতে গিয়ে সে শব্দ শুনতে পায় ... কান বন্ধ করে ভুলতে গিয়ে সে স্পর্শ পায় ... ঘুমিয়ে ভুলতে গেলে দুঃস্বপ্ন এসে তাকে মনে করিয়ে দেয় সব !!

পেনসিলের দাগ মুছার জন্য ইরেজার ... কলমের দাগ মুছার জন্য ফ্লুইড ... চকের দাগ মুছার জন্য ডাস্টার ... চোখের জল মুছার জন্য একটা হাত ... স্মৃতি মুছার জন্য ?? ... কিচ্ছু নেই ... একদমই নেই !!"

তুই কি আবার আমার হবি



তুই কি আবার আমার হবি ?
না হয় তোর—
দুঃখ গুলোই আমায় দিবি
হলুদ হলুদ দুঃখ গুলো,
বুকের ভেতর ডিপ ফ্রিজারে
রেখে দেব শীতল করে ।

ইনবক্সে মেসেজ ঢোকে
সিন হয়ে যায় রিপ্লাই নেই,
তবু আমি বোকার মতো
শান্তি পাই সিন হওয়াতেই !

তুই কি আবার আমার হবি ?
কিছু সময় দেখবি ভেবে,
আমার যত চাওয়া পাওয়া
কেন আমার মানুষ হওয়া
অদ্ভুত এক ছন্নছাড়া
আকর্ষণ হীন মানুষ আমি ।
সত্যি বলছি তবুও তুই
. আমার কাছে—
অনেক অনেক অনেক দামী।

ইচ্ছেটা তোর পার্কে বসে
হতে হবে বাৎস্যায়ন
আমার চোখে এ-বাংলাতে
মানুষ মরার সাতকাহন,
তোর হাতে নাচছে দেখি
গুপী গাইন বাঘা বাইন
আমার চোখে তখন শুধু
ইজরায়েল আর প্যালেস্টাইন।

হাজার ‘রুপম’ আন্দোলনে
রক্ত বেচে আনে টাকা
আমি শুধু পারবো না আর
হতে ওই ‘সুবোধ’ কাকা।

তুইই বল—
এই করে কি প্রেম করা হয় ?
আমি যে এক বদ্ধ মাতাল
তবু আমি দাঁড়িয়ে থাকি
তোরই জন্য অনন্তকাল…

আমি দুই দশক পেছনে গিয়ে তোমার ভালোবাসা পেতে চাই অথবা ভালোবাসতে চাই

ভালো কেনো বাসতেই হবে? তোমার আমার এই প্রশ্নের উত্তর কেউ দেবে না। আমি সেদিন নয়ন কে জিজ্ঞেস করেছিলাম ,দেয়নি। তুমি চাইলে হৃদয় কে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারো। কিন্তু হৃদয় থেকে নয়ন যে বুদ্ধিমান সেটাতো আমরা জানিই। তারপরেও তুমি চাইলে জিজ্ঞেস করতে পারো, কিন্তু আমি জানি সে দেবে না। কারন এর উত্তর তার বা তাদের কারো কাছে নেই। নেই তোমার আমার কাছেও। কিন্তু ভালো আমাদের বাসতেই হবে।

 আচ্ছা, তোমাকে আমি কেমন করে পেতে চাই? উহু, সেটা আজ বলবোনা। কিন্তু তোমাকে আমি কেমন দেখতে চাই সেটা বলি। আমি কি পেতে চাই সেটা বলি। 

আমি দুই দশক পেছনে গিয়ে তোমার ভালোবাসা পেতে চাই। আমি একবিংশ শতাব্দী থেকে পালাতে চাই।

আমি চাই তুমি শাড়ি পড়বে। হ্যাঁ, টিশার্টে তোমাকে বেশ ভালো মানায়। অথবা বুকে খাঁজকাটা টপস পড়লে তোমাকে যে বেশ সেক্সী দেখায় সেটা আমি এলাকার চোখ দেখেই বেশ বুঝতে পারি। কিন্তু তুমি শাড়ি পড়বে।

তুমি শাড়ি পড়বে ঠিক তেমনিভাবে, যেমনিভাবে মেয়েরা উনিশশত নব্বই সালে পড়তো। শাড়িটাকে টপসের মতো করে পড়োনা দয়া করে - ওতে শাড়ির অপমান হবে। আমি চাইনা তুমি জামদানি বা সিলক পড়ো; অথবা তোমার গায়ে চাপুক জর্জেট এর শাড়ি। হ্যাঁ বাবা, সিলভার কালারের জর্জেটের শাড়িটা যে তোমার খুব পছন্দের আমি জানি। কিন্তু তুমি সেটা পড়বেনা, তুমি পড়বে খুব সাধারন সুতি শাড়ি; পুরোনো শাড়ি।

আমি চাই তুমি আমাকে দেখলে চোখ নামিয়ে নেবে; ভয়ে নয় লজ্জায়। ভালোবাসা মানেই তো সম্মান; চোখ নামিয়ে আলাদা করে সম্মান দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু চোখ নামাবে তুমি আমায় দেখে লজ্জা পেয়েছো তাই। লজ্জা পাবেনা কেনো! ভালোবাসার মানুষ আমি; আমি ধরলে তোমার শরীরে শিহরন খেলবে, কথা বললে তোমার কান গরম হবে, আর চুমু খেলে - নাহ থাক, অন্য আরেকদিন বলবো।

আমি চাই আমাকে দেখে তুমি অন্যদিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করো - কেমন আছো। আমি চাইনা আমাকে দেখে তুমি চটাশ করে চুমু খেয়ে বলে উঠো - ওয়াজ্জাপ ডুড! অথবা বলো - হাই হানি। আমি এসব কিছুই চাইনা। শুধু আমাকে জিজ্ঞেস করো যে আমি কেমন আছি।

আমি চাই তুমি ঘাস ছিড়ো। এমনি এমনি নয়; আমাদের দেখা হবে কোন পার্কে। কথা হবে কম; নিরবতাকে আমরা উপভোগ করবো তারিয়ে তারিয়ে। আর এই সময়টাতে তুমি যেনো একটি কি দুটি ঘাস ছিড়ো। ঘাসের ডগা যেনো তোমার ইদুর-দাঁতে আস্তে আস্তে কাটতে থাকে। আমি নাহয় দুটাকার বাদাম ও কিনবো। আমার যেনো মনে হয় - যেটুকু সময় তুমি থাকো কাছে, মনে হয় এ দেহে প্রান আছে, বাকীটা সময় যেনো মরন আমার, হৃদয় জুড়ে নামে অথৈ আধার।

আমি চাইনা তুমি ক্যাপ্টেইন্স ওয়ার্ল্ডে বা বুমারস এ হাজার দুয়েক টাকার খাবার সামনে নিয়ে তোমার বান্ধুবীদের গল্প করো। আমি চাইনা তুমি এতো বেশী কথা বলো যেনো একদিন তোমার কিছুই বলার না থাকে। কথা জমিয়ে রাখো, নাহয় একদিন সব কথা ফুরিয়ে গেলে আমরাও একে অপরের কাছে ফুরিয়ে যাবো। আর হ্যাঁ, ওখানে কীসব হাবিব-ফুয়াদ-রুমি অথবা লেডী গাগার গান বাজায়; আমার একদম সহ্য হয়না।

আমি চাই তুমি গান জানো। না, হিন্দী সিনেমার কোন মারদাঙ্গা গান নয়, ইংলিশ কোন রক এন রোল ব্যান্ডের গান ও নয়। আমি চাই, আমরা যখন খোলা ছাদে বসে চাঁদ দেখবো, তখন তুমি খুব মিস্টি করে গেয়ে উঠো - চাঁদের হাসি বাঁধ ভেঙ্গেছে, উছলে পড়ে আলো, ও রজনীগন্ধা তোমার গন্ধসুধা ঢালো...

আমাকে তোমার কোলে মাথা রাখতে দিও।

আমি চাই তুমি আমাকে পাগলের মতো ভালোবাসো। আমি চাই আমাকে ছাড়া যেনো তুমি কিছুই না বুঝো, কিছুই না চেনো, কিছুই না দেখো। আর আমিতো তোমার ভালোবাসায় অন্ধ/বোবা/কালা/লুলা হয়েই আছি কতকাল যাবত।
  


লেখাটা সিরিয়াসলি নেয়ার কিছু নাই





     style="display:inline-block;width:970px;height:250px"
     data-ad-client="ca-pub-3769097400952125"
     data-ad-slot="9592882298">

;)

আমার কেবলই শুধু রাত হয়ে যায়…

https://priyokobita.files.wordpress.com/2011/10/abul-hasan.jpg
আমার মন খারাপ করা অনুভূতিগুলো বোধ হয় রোজ আটকে থাকে কোন হলদে খামে। আমি রোজ সারাদিনের কাজ শেষ করে মন খারাপের হলদে খামটা ব্যাগে পুরে বাড়ি ফেরার পথ ধরি। অফিস থেকে অল্প কিছু হাঁটাপথ, একটা লম্বা বাঁকানো রেল লাইন, মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু গাছ আর আমার একলা থাকা আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। আমার বাড়ি ফেরার পথটুকু সব সময়ই আমার ভীষণ আপন মনে হয়। আমার বাড়ি ফিরতে ফিরতে রোজ রাত নেমে আসে।
“রাত নেমে আসে” কথাটার মাঝে কেমন যেন এক ধরণের ছোট্ট বিষণ্ণতা লুকিয়ে আছে। যখনি রাত নেমে আসে আমার মনের ভেতরের একটা দুটো কষ্ট জোনাকপোকার মত জেগে ওঠে। জোনাকপোকার মতই সেই কষ্টগুলো মিটমিট করে জ্বলে, নেভে আবার কখনো অন্ধকারে মিলিয়ে যায়। এই পৃথিবীতে মনে হয় দুঃখবিলাসি মানুষদের মাঝে কোন না মিল আছে, আছে কোন এক নাম না জানা অদ্ভুত সম্পর্ক তাই তো যখন প্রথম শুনেছিলাম “জেনেছি মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ অচেনা ও একা!” তখন ভীষণরকম চমকে গিয়েছিলাম। স্তব্ধ হয়ে ভেবেছিলাম
কীভাবে কেউ ঠিক ঠিক এমন একটি লাইন লিখে গেছে যে লাইনটি পড়ে আমার মনে হয়েছে যেন বা আমার মনের কথাটিই লেখা। যেন আমার মত করেই কেউ আমাকে বলছে, হ্যাঁ তুমি একা… ভীষণ একা। এ জীবনে আমার অজস্রবার মনে হয়েছে একা থাকার মাঝে কেমন যেন একটা রাজ্য জয় করার মত ব্যাপার আছে। ওই বিশাল উদার আকাশ, সেও যে একা। আকাশের চাঁদটা বড্ড একা, একা মূলত আমরা সবাই। সবার মাঝে থেকেও কেউ একা, কেউবা আবার একা থেকেও একা নয়। কিছুদিন আগে কোথায় যেন পড়েছিলাম একজন মানুষ যত বেশী সফল সে তত বেশী একা, মুখবইতে যে মানুষটির বন্ধুলিস্ট যত লম্বা তার জীবনে বন্ধু ততই কম। যাই হোক একা থাকার হিসেবখাতা আসলে খুলে বসি নি। শুধু আজ ভাবতে বসেছি আমার জীবনের আনাচে কানাচে কতটা মিশে আছে কিছু কবিতা। যে কবিতাগুলো ছাড়াই কিশোরীবেলা কাটিয়েছি, জীবন বাবুর কবিতায় দিন রাত ভুলে বুঁদ হয়ে থাকা সেই আমিই একদিন আচমকা আবিস্কার করেছি অন্য মাদকতার নাম হচ্ছে “আবুল হাসান”।

 https://nishkorma.files.wordpress.com/2013/03/lonely03.jpg
মজার ব্যাপার হল, আবুল হাসানের কবিতার লাইন প্রথম পড়েছিলাম সামহোয়ারইনে ব্লগিং করার সময়। সুষম নামের এক বন্ধুর প্রোফাইলে লেখা ছিলো “সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে, উজ্জ্বলতা ধরে আর্দ্র, মায়াবী করুণ” লাইনদুটো ভালো লেগেছিলো বেশ। তারপরও কেন যেন আবুল হাসানের খোঁজ পুরোপুরি পাই নি। গত বছর প্রায় এই সময়ের কাছাকাছি এক দুর্দান্ত কবিতাপ্রেমী বন্ধুর কাছ থেকে একটু একটু করে চিনে নিলাম আবুল হাসানকে। তারপর…তারপর শুধুই মুগ্ধতা। একটু একটু করে বুঁদ হয়ে যাওয়া তাঁর কবিতায়।
এ একটা আশ্চর্য বোধ! আমি আবুল হাসানের কবিতা পড়ে রাতের পর রাত কাটিয়েছি। আমি কারণে অকারণে আবুল হাসানের কবিতার লাইন বিড়বিড় করেছি। গভীর রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে বলেছি- ‘আমার, আমার কেবলই শুধু রাত হয়ে যায়’ সাত সকালে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভেবেছি, “শিমুল ফুলের কাছে শিশির আনতে গেছে সমস্ত সকাল” নিজেকে বলেছি, “প্রিয়তম পাতাগুলি ঝরে যাবে, মনেও রাখবে না, আমি কে ছিলাম, কী ছিলাম –কেন আমি?” কিংবা প্রিয় মানুষকে উপহার দিয়ে তাতে লিখে দিয়েছি-
‘চলে গেলে- তবু কিছু থাকবে আমার,
আমি রেখে যাবো আমার একলা ছায়া, হারানো চিবুক, চোখ, আমার নিয়তি।
ফিরে যাবো সংগোপনে, জানবে না, চিনবে না কেউ’

আবুল হাসানের কবিতাগুলো আমার সাদামাটা জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। শরৎকালের পেঁজা তুলোর মত মেঘ হয়ে আমার মনের আকাশকে ঢেকে দিয়েছে। এখন অনুভব করতে পারি যে, বাংলা কবিতা পাঠকের ‘আবুল হাসান’কে এড়িয়ে যাবার পথ নেই। সত্যিই উপায় নেই। আবুল হাসান শুধু আবুল হাসানই!

আবুল হাসানের কিছু অসাধারণ কবিতাঃ

একসময় ইচ্ছে জাগে, এভাবেই
একসময় ইচ্ছে জাগে, মেষপালকের বেশে ঘুরিফিরি;
অরণ্যের অন্ধকার আদিম সর্দার সেজে মহুয়ার মাটির বোতল
ভেঙ্গে উপজাতি রমণীর বল্কল বসন খুলে জ্যোৎস্নায় হাঁটু গেড়ে বসি-
আর তারস্বরে বলে উঠি নারী, আমি মহুয়া বনের এই
সুন্দর সন্ধ্যায় পাপী, তোমার নিকটে নত, আজ কোথাও লুকানো কোনো
কোমলতা নেই, তাই তোমার চোখের নীচে তোমার ভ্রুর নীচে
তোমার তৃষ্ণার নীচে
এই ভাবে লুকিয়েছি পিপাসায় আকণ্ঠ উন্মাদ আমি
ক্ষোভে ও ঈর্ষায় সেই নগরীর গুপ্তঘাতক আজ পলাতক, খুনী
আমি প্রেমিককে পরাজিত করে হীন দস্যুর মতোন
খুনীকে খুনীর পাশে রেখে এখানে এসেছি, তুমি
আমাকে বলো না আর ফিরে যেতে, যেখানে কেবলি পাপ, পরাজয়
পণ্যের চাহিদা, লোভ, তিরীক্ষু-মানুষ- যারা কোজাগরী ছুরি
বৃষ্টির হল্লায় ধুয়ে প্রতি শনিবারে যায় মদ্যশালায়, যারা
তমসায় একফোঁটা আলোও এখন আর উত্তোলন করতে জানে না।
আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে ঝরে পড়ে কেবলি যাদের রক্ত, রাত্রিবেলা আমি আজ
তোমার তৃষ্ণার নীচে নিভৃতের জ্যোৎস্নায় হাঁটু গেড়ে বসেছি আদিম আজ
এখন আমার কোন পাপ নেই, পরাজয় নেই।
একসময় ইচ্ছে জাগে, এভাবেই অরণ্যে অরণ্যে ঘুরে যদি দিন যেতো।

এখন আমার
আমার এখন নিজের কাছে নিজের ছায়া খারাপ লাগে
…রাত্রিবেলা ট্রেনের বাঁশি শুনতে আমার খারাপ লাগে
জামার বোতাম আটকাতে কি লাগে, কষ্ট লাগে
তুমি আমার জামার বোতাম অমন কেনো যত্ন করে
লাগিয়ে দিতে?
অমন কেন শরীর থেকে অস্তে আমার
ক্লান্তিগুলি উঠিয়ে নিতে?
তোমার বুকের নিশীথ কুসুম আমার মুখে ছড়িয়ে দিতে?
জুতোর ফিতে প্রজাপতির মতোন তুমি উড়িয়ে দিতে?
বেলজিয়ামের আয়নাখানি কেন তুমি ঘরে না রেখে
অমন কারুকাজের সাথে তোমার দুটি চোখের মধ্যে
রেখে দিতে?
আমার এখন চাঁদ দেখলে খারাপ লাগে
পাখির জুলুম, মেঘের জুলুম, খারাপ লাগে
কথাবর্তায় দয়ালু আর পোশাকে বেশ ভদ্র মানুষ
খারাপ লাগে,
এই যে মানুষ মুখে একটা মনে একটা. . .
খারাপ লাগে
খারাপ লাগে
মোটের উপর, আমি অনেক কষ্টে আছি.. কষ্টে আছি বুজলে যুথী
আমার দাঁতে, আমার নাকে, আমার চোখে কষ্ট ভীসন
চতুর দিকে দাবি আদায় করার মত মিছিল তাদের কষ্ট ভীষণ বুজলে যুথী
হাসি খুসি উড়নচন্ডি মানুষ এখন তাইতো এখন খারাপ লাগে, খারাপ লাগে
আরে তাছাড়া, আমি কি আরে যিশু নাকি- হাবিজাবী ওদের মতন সবসহিষ্ণু
আমি অনেক কষ্টে আছি
কষ্টে আছি, কষ্টে আছি
আমি অনেক কষ্টে আছি
কষ্টে আছি, কষ্টে আছি |

একলা বাতাস
নোখের ভিতর নষ্ট ময়লা,
চোখের ভিতর প্রেম,
চুলের কাছে ফেরার বাতাস
দেখেই শুধালেম,
এখন তুমি কোথায় যাবে?
কোন আঘাটার জল ঘোলাবে?
কোন আগুনের স্পর্শ নেবে
রক্তে কি প্রব্লেম?
হঠাৎ তাহার ছায়ায় আমি যেদিকে তাকালেম
তাহার শরীর মাড়িয়ে দিয়ে
দিগন্তে দুইচক্ষু নিয়ে
আমার দিকে তাকিয়ে আমি আমাকে শুধালেম
এখন তুমি কোথায় যাবে?
কোন আঘাটার জল ঘোলাবে?
কোন আগুনের স্পর্শ নেবে
রক্তে কি প্রব্লেম?

অপরূপ বাগান
চলে গেলে- তবু কিছু থাকবে আমার : আমি রেখে যাবো
আমার একলা ছায়া, হারানো চিবুক, চোখ, আমার নিয়তি।
জল নেমে গেলে ডাঙ্গা ধরে রাখে খড়কুটো, শালুকের ফুল :
নদীর প্রবাহপলি, হয়তো জন্মের বীজ, অলঙ্কার- অনড় শামুক !
তুমি নেমে গেলে এই বক্ষতলে সমস্ত কি সত্যিই ফুরোবে ?
মুখের ভিতরে এই মলিন দাঁতের পংক্তি- তা হলে এ চোখ
মাথার খুলির নীচে নরোম নির্জন এক অবিনাশী ফুল :
আমার আঙ্গুলগুলি, আমার আকাঙ্ক্ষাগুলি, অভিলাষগুলি ?
জানি কিছু চিরকাল ভাস্বর উজ্জ্বল থাকে, চির অমলিন !
তুমি চলে গেলে তবু থাকবে আমার তুমি, চিরায়ত তুমি !
অনুপস্থিতি হবে আমার একলা ঘর, আমার বসতি !
ফিরে যাবো সংগোপনে, জানবে না, চিনবে না কেউ;
উঠানে জন্মাবো কিছু হাহাকার, অনিদ্রার গান-
আর লোকে দেখে ভাববে- বিরহবাগান ঐ উঠানে তো বেশ মানিয়েছে !

তোমার চিবুক ছোঁবো, কালিমা ছোঁবো না
এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
তোমার ওখানে যাবো, তোমার ভিতরে এক অসম্পূর্ণ যাতনা আছেন,
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই শুদ্ধ হ’ শুদ্ধ হবো
কালিমা রাখবো না!
এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
তোমার ওখানে যাবো; তোমার পায়ের নীচে পাহাড় আছেন
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই স্নান কর
পাথর সরিয়ে আমি ঝর্ণার প্রথম জলে স্নান করবো
কালিমা রাখবো না!
এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
এখন তোমার কাছে যাবো
তোমার ভিতরে এক সাবলীল শুশ্রূষা আছেন
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই ক্ষত মোছ আকাশে তাকা–
আমি ক্ষত মুছে ফেলবো আকাশে তাকাবো
আমি আঁধার রাখবো না!
এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
যে সকল মৌমাছি, নেবুফুল গাভীর দুধের সাদা
হেলেঞ্চা শাকের ক্ষেত
যে রাখাল আমি আজ কোথাও দেখি না– তোমার চিবুকে
তারা নিশ্চয়ই আছেন!
তোমার চিবুকে সেই গাভীর দুধের শাদা, সুবর্ণ রাখাল
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই কাছে আয় তৃণভূমি
কাছে আয় পুরনো রাখাল!
আমি কাছে যাবো আমি তোমার চিবুক ছোঁবো, কালিমা ছোঁবো না!

বৃষ্টি চিহ্নিত ভালোবাসা
মনে আছে একবার বৃষ্টি নেমেছিল ?
একবার ডাউন ট্রেনের মতো বৃষ্টি এসে থেমেছিল
আমাদের ইস্টিশনে সারাদিন জল ডাকাতের মতো
উৎপাত শুরু করে দিয়েছিল তারা;
ছোট-খাটো রাজনীতিকের মতো পাড়ায়-পাড়ায়
জুড়ে দিয়েছিল অথই শ্লোগান।
তবু কেউ আমাদের কাদা ভেঙে যাইনি মিটিং-এ
থিয়েটার পণ্ড হলো, এ বৃষ্টিতে সভা আর
তাসের আড্ডার লোক ফিরে এলো ঘরে;
ব্যবসার হলো ক্ষতি দারুণ দুর্দশা,
সারাদিন অমুক নিপাত যাক, অমুক জিন্দাবাদ
অমুকের ধ্বংস চাই বলে আর হাবিজাবি হলোনা পাড়াটা।
ভদ্রশান্ত কেবল কয়েকটি গাছ বেফাঁস নারীর মতো
চুল ঝাড়ানো আঙ্গিনায় হঠাৎ বাতাসে আর
পাশের বাড়ীতে কোনো হারমোনিয়ামে শুধু উঠতি এক আগ্রহী গায়িকা
স্বরচিত মেঘমালা গাইলো তিনবার !
আর ক’টি চা’খোর মানুষ এলো
রেনকোট গায়ে চেপে চায়ের দোকানে;
তাদের স্বভাবসিদ্ধ গলা থেকে শোনা গেল :
কী করি বলুন দেখি, দাঁত পড়ে যাচ্ছে তবু মাইনেটা বাড়ছেনা,
ডাক্তারের কাছে যাই তবু শুধু বাড়ছেই ক্রমাগত বাড়ছেই
হৃদরোগ, চোখের অসুখ !
একজন বেরসিক রোগী গলা কাশলো :
ওহে ছোকরা, নুন চায়ে এক টুকরো বেশী লেবু দিও।
তাদের বিভিন্ন সব জীবনের খুঁটিনাটি দুঃখবোধ সমস্যায় তবু
সেদিন বৃষ্টিতে কিছু আসে যায়নি আমাদের
কেননা সেদিন সারাদিন বৃষ্টি পড়েছিল,
সারাদিন আকাশের অন্ধকার বর্ষণের সানুনয় অনুরোধে
আমাদের পাশাপাশি শুয়ে থাকতে হয়েছিল সারাদিন
আমাদের হৃদয়ে অক্ষরভরা উপন্যাস পড়তে হয়েছিল !

বনভূমিকে বলো
বনভূমিকে বলো, বনভূমি, অইখানে একটি মানুষ
লম্বালম্বি শুয়ে আছে, অসুস্থ মানুষ
হেমন্তে হলুদ পাতা যেরকম ঝরে যায়,
ও এখন সে রকম ঝরে যাবে, ওর চুল, ওর চোখ
ওর নখ, অমল আঙুল সব ঝরে যাবে,
বনভূমিকে বলো, বনভূমি অইখানে একটি মানুষ
লম্বালম্বি শুয়ে আছে, অসুস্থ মানুষ
ও এখন নদীর জলের স্রোতে ভেসে যেতে চায়
ও এখন মাটি হতে চায়, শুধু মাটি
চকের গুঁড়োর মতো ঘরে ফিরে যেতে চায়,
বনভূমিকে বলো, বনভূমি ওকে আর শুইয়ে রেখো না !
ওকে ঘরে ফিরে যেতে দাও। যে যাবার
সে চলে যাক, তাকে আর বসিয়ে রেখো না।

বদলে যাও, কিছুটা বদলাও
কিছুটা বদলাতে হবে বাঁশী
কিছুটা বদলাতে হবে সুর
সাতটি ছিদ্রের সূর্য; সময়ের গাঢ় অন্তঃপুর
কিছুটা বদলাতে হবে
মাটির কনুই , ভাঁজ
রক্তমাখা দুঃখের সমাজ কিছুটা বদলাতে হবে…
বদলে দাও, তুমি বদলাও
নইলে এক্ষুনি
ঢুকে পড়বে পাঁচজন বদমাশ খুনী ,
যখোন যেখানে পাবে
মেরে রেখে যাবে,
তোমার সংসার, বাঁশী, আঘাটার নাও ।
বদলে যাও, বদলে যাও, কিছুটা বদলাও !

পাখি হয়ে যায় প্রাণ
অবশেষে জেনেছি মানুষ একা !
জেনেছি মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ অচেনা ও একা !
দৃশ্যের বিপরীত সে পারে না একাত্ম হতে এই পৃথিবীর সাথে কোনোদিন।
ফাতিমা ফুফুর প্রভাতকালীন কোরানের
মর্মায়িত গানের স্মরণে তাই কেন যেনো আমি
চলে যাই আজো সেই বর্নির বাওড়ের বৈকালিক ভ্রমণের পথে,
যেখানে নদীর ভরা কান্না শোনা যেত মাঝে মাঝে
জনপদবালাদের স্ফুরিত সিনানের অন্তর্লীন শব্দে মেদুর !
মনে পড়ে সরজু দিদির কপালের লক্ষ্মী চাঁদ তারা
নরম যুঁইয়ের গন্ধ মেলার মতো চোখের মাথুর ভাষা আর
হরিকীর্তনের নদীভূত বোল !
বড় ভাই আসতেন মাঝরাতে মহকুমা শহরের যাত্রা গান শুনে,
সাইকেল বেজে উঠতো ফেলে আসা শব্দে যখোন,
নিদ্রার নেশায় উবু হয়ে শুনতাম, যেনো শব্দে কান পেতে রেখে :
কেউ বলে যাচ্ছে যেনো,
বাবলু তোমার নীল চোখের ভিতর এক সামুদ্রিক ঝড় কেন ?
পিঠে অই সারসের মতো কী বেঁধে রেখেছো ?
আসতেন পাখি শিকারের সূক্ষ্ম চোখ নিয়ে দুলাভাই !
ছোটবোন ঘরে বসে কেন যেনো তখন কেমন
পানের পাতার মতো নমনীয় হতো ক্রমে ক্রমে !
আর অন্ধ লোকটাও সন্ধ্যায়, পাখিহীন দৃশ্য চোখে ভরে !
দীঘিতে ভাসতো ঘনমেঘ, জল নিতে এসে
মেঘ হয়ে যেতো লীলা বৌদি সেই গোধূলি বেলায়,
পাতা ঝরবার মতো শব্দ হতো জলে, ভাবতুম
এমন দিনে কি ওরে বলা যায়- ?
স্মরণপ্রদেশ থেকে এক একটি নিবাস উঠে গেছে
সরজু দিদিরা ঐ বাংলায়, বড়ভাই নিরুদ্দিষ্ট,
সাইকেলের ঘণ্টাধ্বনি সাথে কোরে নিয়ে গেছে গাঁয়ের হালট !
একে একে নদীর ধারার মতো তার বহুদূরে গত !
বদলপ্রয়াসী এই জীবনের জোয়ারে কেবল অন্তঃশীল একটি দ্বীপের মতো
সবার গোচরহীন আছি আজো সুদূর সন্ধানী !
দূরে বসে প্রবাহের অন্তর্গত আমি, তাই নিজেরই অচেনা নিজে
কেবল দিব্যতাদুষ্ট শোনিতের ভারা ভারা স্বপ্ন বোঝাই মাঠে দেখি,
সেখানেও বসে আছে বৃক্ষের মতোন একা একজন লোক,
যাকে ঘিরে বিশজন দেবদূত গাইছে কেবলি
শতজীবনের শত কুহেলী ও কুয়াশার গান !
পাখি হয়ে যায় এ প্রাণ ঐ কুহেলী মাঠের প্রান্তরে হে দেবদূত !
১০
ঝিনুক নীরবে সহো –
ঝিনুক নীরবে সহো
ঝিনুক নীরবে সহো,
ঝিনুক নীরবে সহে যাও
ভিতরে বিষের বালি, মুখ বুঁজে মুক্তা ফলাও!
১১
যুগলসন্ধি
ছেলেটি খোঁড়েনি মাটিতে মধুর জল!
মেয়েটি কখনো পরে নাই নাকছবি।
ছেলেটি তবুও গায় জীবনের গান,
মেয়েটিকে দেখি একাকী আত্মহারা!
ছেলেটির চোখে দুর্ভিক্ষের দাহ,
মেয়েটির মুখে কতো মায়া মৌনতা;
কতো যুগ যায়, কতো শতাব্দী যায়!
কতো যুগ ধরে কতো না সে বলীদান!
ছেলেটি খোঁড়েনি মাটিতে মধুর জল,
মেয়েটি দেখেনি কখনো বকুল ফুল।
ছেলেটি তবুও প্রকৃতির-প্রতিনিধি;
মেয়েটি আবেগে উষ্ণ বকুল তলা!
ছেলেটি যখন যেতে চায় দক্ষিণে,
মেয়েটি তখন ঝর্নার গান গায়;
মেয়েটির মুখে সূর্যাস্তের মায়া!
ছেলেটি দিনের ধাবমান রোদ্দুর!
কতো কাল ধরে কতো না গৌধূলি তলে,
ছেলেটি মেয়েটি এর ওর দিকে চায়!
কতো বিচ্ছেদ কতো না সে বলীদান!
কতো যে অকাল শুভকাল পানে ধায়!
ছেলেটির গায়ে বেঁধে কতো বল্লম;
মেয়েটির মনে কতো মেয়ে মরে যায়!
ছেলেটি যদিও আঘাতে আহত তবু,
মেয়েটি আবার মেয়ে হয়ে হেসে ওঠে।
কতো বিদ্রোহ, কতো না সে বলীদান;
পার হয় ওরা কতো না মহামারী!
ছেলেটির বুকে মেয়েটির বরাভয়;
মেয়েটির চোখে ছেলেটির ভালোবাসা!
একজন ফের উদ্যানে আনে ফুল,
একজন মাঠে ফলায় পরিশ্রম,
কতো না রাত্রি কতো না দিনের ডেরা,
কতো না অশ্রু, কতো না আলিঙ্গন!
ছেলেটি আবার খোঁড়ে মাটি, খোঁড়ে জল!
মেয়েটি আবার নাকে পরে নাকছবি,
ছেলেটির চোখে মেয়েটির বরাভয়;
মেয়েটিকে দেখি একাকী আত্মহারা!

১২
সম্পর্ক
তুমি নও, তোমার ভিতরে এক অটল দ্রাক্ষার
আসন্ন মধুর, মাতোয়ারা বানায় আমাকে!
গেলাসে গেলাসে দিন- ঝরে পড়ি ঝর্না আয়োজনে!
তোমাকে চিনি না, বহমান তোমার দেহকে
দীঘল তরুর মতো বুনে দিয়ে তবু তার তিমির ছায়ায়
তোমার খোঁপার মতো তুলে আনি কিছু কালো ফুল!
বাজারে বিকোবে? না হে, এখন বাজারে এই শোক
কেনার পুরুষ নেই- ওরা কেনে অন্য সব স্মৃতি :
এখন প্রেমিক নেই, যারা আছে তারা সব পশুর আকৃতি!
১৩
প্রেমিকের প্রতিদ্বন্দ্বি
অতো বড় চোখ নিয়ে, অতো বড় খোঁপা নিয়ে
অতো বড় দ্বীর্ঘশ্বাস বুকের নিশ্বাস নিয়ে
যতো তুমি মেলে দাও কোমরের কোমল সারস
যতো তুমি খুলে দাও ঘরের পাহারা
যতো আনো ও-আঙুলে অবৈধ ইশারা
যতো না জাগাও তুমি ফুলের সুরভী
আঁচলে আলগা করো কোমলতা, অন্ধকার
মাটি থেকে মৌনতার ময়ূর নাচাও কোনো
আমি ফিরবো না আর, আমি কোনোদিন
কারো প্রেমিক হবো না; প্রেমিকের প্রতিদ্বন্দ্বি চাই আজ
আমি সব প্রেমিকের প্রতিদ্বন্দ্বি হবো!
১৪
বিচ্ছেদ
আগুনে লাফিয়ে পড়ো, বিষ খাও, মরো
না হলে নিজের কাছে ভুলে যাও
এতো কষ্ট সহ্য করো না।
সে তোমার কতো দূর? কী এমন? কে?
নিজের কষ্টকে আর কষ্ট দিও না।
আগুনে লাফিয়ে পড়ো, বিষ খাও, মরো,
না হলে নিজের কাছে নত হও, নষ্ট হয়ো না।
১৫
ভালোবাসার কবিতা লিখবো না
তোমাকে ভালোবাসি তাই ভালোবাসার কবিতা লিখিনি।
আমার ভালোবাসা ছাড়া আর কোনো কবিতা সফল হয়নি,
আমার এক ফোঁটা হাহাকার থেকে এক লক্ষ কোটি
ভালোবাসার কবিতার জন্ম হয়েছে।
আমার একাকীত্বের এক শতাংশ হাতে নিয়ে
তুমি আমার ভালোবাসার মুকুট পরেছো মাথায়!
আমাকে শোষণের নামে তৈরি করেছো আত্মরক্ষার মৃন্ময়ী যৌবন।
বলো বলো হে ম্লান মেয়ে, এতো স্পর্ধা কেন তোমার?
ভালোবাসার ঔরসে আমার জন্ম! অহংকার আমার জননী!
তুমি আমার কাছে নতজানু হও, তুমি ছাড়া আমি
আর কোনো ভূগোল জানি না,
আর কোনো ইতিহাস কোথাও পড়িনি!
আমার একা থাকার পাশে তোমার একাকার হাহাকার নিয়ে দাঁড়াও!
হে মেয়ে ম্লান মেয়ে তুমি তোমার হাহাকার নিয়ে দাঁড়াও!
আমার অপার করুণার মধ্যে তোমারও বিস্তৃতি!
তুমি কোন্ দুঃসাহসে তবে
আমার স্বীকৃতি চাও, হে ম্লান মেয়ে আমার স্বীকৃতি চাও কেন?
তোমার মূর্খতা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধে, পৃথিবীটা পুড়ে যাবে
হেলেনের গ্রীস হবে পুনর্বার আমার কবিতা!
এই ভয়ে প্রতিশোধস্পৃহায়
আজো আমি ভালোবাসার কবিতা লিখিনি
কোনোদিন ভালোবাসার কবিতা লিখিনি।
হে মেয়ে হে ম্লান মেয়ে তোমাকে ভালোবাসি তাই
ভালোবাসার কবিতা আমি কোনোদিন কখনো লিখবো না!

 https://moomrahaman.files.wordpress.com/2013/03/e0a686e0a6ace0a781e0a6b2-e0a6b9e0a6bee0a6b8e0a6bee0a6a8.jpg
আমার একলা থাকার সঙ্গী যে কবি এবং কবিতা সেগুলো এই লেখায় বন্দী থাকুক। আর হ্যাঁ বলা হয় নি, ছোট্ট একটা বেদনা আর অভিমান আছে আমার আবুল হাসানকে নিয়ে। আমার জন্মদিন কেন আমার প্রিয় কবির মৃত্যুদিন হলো? যদি কখনো সম্ভব হত আমি সত্যি হয়ত উনার কাছে জানতে চাইতাম। সত্যি, ভিষণ দলা পাকানো কষ্ট আর অভিমান নিয়ে প্রশ্ন করতাম, “আপনার কবিতা পড়ে যেই আমি দিনের পর দিন, রাতের পর রাত পার করেছি, সেই আমার পৃথিবীতে আসার দিনই কেন আপনি পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিলেন? কেন? কেন? কেন?”
আজকের এই এলেবেলে খেয়ালী লেখাটুকু আবুল হাসান ও তাঁর কবিতাপ্রেমীদের উৎসর্গ করা হল…

“ওসব তুমি কখনো জানবেনা”


 http://1.bp.blogspot.com/-S27J6siJtr4/Uel-UrxasjI/AAAAAAAAE4s/tXP6AFn3NK4/s1600/156297_322475581186402_901970152_n.jpg
হাত ছুয়েছিল হাত কবিতার মত করে; তবে এখন বুঝতে পারি
কতগুলো পৃথিবীর মাঝে কেন এত একলা লাগে—
অথচ তোমাকে কখনো বলতেই পারিনি
শুধু গোলাপের কলি থাকতো একটা বুক পকেটে
আর হাতে থাকতো কবিতার খাতা।
তোমার কিশোরী বেণীর দোল শুধু অভয় দিত।


দীপালি বলেছিল এতই যখন ভালোবাসিস বলিস নে কেন?


তুমি ই বল—ভালোবাসি বলতে কতটুকু পাহাড় ভাঙ্গতে হয়?
ওসব তুমি কখনো জানবেনা।


শুধু সেদিন তোমাকে বলা হয়নি; রক্তজবা তোমার
ঠোঁটের পাশ ঘেঁষে থাকা তিলটা আমার কত প্রিয়।
হায়! কত যে ইচ্ছে হয়েছিলো শুধু একবার ছুঁয়ে দিতে!
তোমার ওড়নার ফাঁকে ফাঁকে কিশোরী ঘ্রান টুকু
আমায় তখন কতটা মাতাল করে দিত—
ওসব তুমি জানবেনা কখনো।


দেয়াল ঘড়ি টা ঠিক যখন টিক টিক করে জানান দিত
তুমি আসবে জানালায়—
আমি ও পাগলের মত উদগ্রিব ছিলাম
বুক পকেটে রাখা গোলাপের কলিটি তোমাকে দেখানোর জন্য।
সেই ছোট জানালার পাশে এসে তুমি যখন
ইশারায় চাঁদটা দেখাতে; আমি শুধু তোমাকেই দেখতাম।


এইত সেদিন দেখতে দেখতে তুমি তরুণী হলে
পেলভ চামড়ার প্রজাপতির মত তুমি!
তোমার মায়া চোখে তখন
দেখেছিলাম ঝর্নার জলে ভেজা কোন জলজ ছায়া।
তখনো তোমাকে ঠিক আগের মত করে চাইতাম—
শুধু তুমি ই তরুণী হলেনা।


জানো? আমার বুক পকেটের কলিটিও দেখতে দেখতে গোলাপ হল।
যখনই তুমি সামনে এসে দাড়াতে
ধুকপুক শব্দে সে জানাতো তার অস্তিত্ব।


কতবার কলেজের করিম চাচার ঘণ্টার সেই মধুর শব্দ শুনে দাড়িয়ে থাকতাম
তুমি মৃদু হেসেছিলে—তুমি কি কখনো বুঝতে?

শেষবার দেখেছিলাম মফস্বলের সাদামাটা ষ্টেশনে
তুমি তোমার মায়ের সঙ্গে ছিলে–
কুয়াশা ছিরে আসা ট্রেনে উঠার ঠিক আগ মুহূর্তে শেষবারের মত
তুমি যখন তাকিয়েছিলে—
বুকের বা দিকটা ধাক্কা দিয়ে গোলাপ ছুড়ে দিলো তোমার দিকে,
ততক্ষনে তুমি ট্রেনে উঠে গেলে, দেখতে পাওনি কিছুই।


আজো কখনো যদি এসে দেখো
দেখবে একটি বিবর্ণ গোলাপের কিছু শুকনো পাতা
এলোমেলো হয়ে আমায় বলছে
ভালোবাসো তো বললেনা কেন?
তুমি ই বল? ভালোবাসি বলতে কতগুলো পাহাড় ভাঙতে হয়!


ওসব তুমি জানবেনা কখনো।

ছেঁড়া পাতা

নিজের ভেতর পড়ে থাকি সারাক্ষণ, ভাবের আনাগুনার অন্ত নেই, অথচ ভাব প্রকাশের ভাষা জানা নেই,যারা ভাষার কারুকাজে নিজের ভাব ব্যক্ত করেন,সেই সব শব্দ-শিল্পীদের প্রতি এক ধরণের ঈর্ষা মিশ্রিত বিস্ময় নিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে থাকি, নিজের আর লেখার সাহস হয়না । তবু, মাথার ভিতর নানা ভাবের ঠুকঠুকানি তো থেমে থাকেনা । নিজের সাথে নিজের এই বকবকানি কেউ যদি কবিতার মত করে পড়তে চান, আমার তাতে আপত্তি করার প্রশ্নই উঠেনা ! প্রকৃত কবিদের কবিতা পড়ে যদিও 'হা' হয়ে থাকি মুগ্ধ বিস্মিয়ে, তারপরো সত্যের খাতিরে স্বীকার করতেই হবে, আসলে কবিতার আমি 'ক' ও বুঝিনা ।
 http://www.jjdin.com/admin/news_images/125/image_125_16392.jpg

এই সব শেওলা ধরা গোপন শুণ্যতার সংজ্ঞা  আমার জানা নেই কোন ,

এই যেমন

মাঝে মাঝেই স্বপ্নের ভিতর হানাদেয় এক ঝড়ের রাতে

প্রায় ভেঙ্গে পড়া সেই চায়ের টং,

বুড়ো রাজন চাচার গতরের হাজারো আঁকিবুকির মতই বিগত যৌবন

নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো ।



গুলতানি মারা ছেলেগুলোর বখাটে চোখ

হিম নিস্তব্ধতার  ভেতর মনে পড়ে যায় ,

কখনো কখনো কারণে অকারণে

মাঝরাতের শন শন হাওয়ায় মিশে থাকে

আমার না ঘুম না জাগরণের রাতের প্রহরগুলোতে।



স্বপ্নের ভিতর কখনোবা আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে উঠে দেখি

ইতি উতি বসে থাকা এক দঙ্গল বেকার ছেলের চোখ,

মাছির মত ভন ভন ভন ভন

হাজারো চোখ থেকে ঝড়ে গভীর অবসাদ ।



বেকার আর বখাটে শব্দ দুটো পাশাপাশি

মিছিলে হাঁটে

স্বপ্নের ভিতর

এখনো।



কারো কারো চোখে এক সিন্ধু হতাশা,

ঘর গেরস্থালী মা বাপ অথবা শাপলা ফোটা দিঘীতে

চরম বিঃস্বাদ্‌

থু থু ফেলে কেউ কেউ

কারণে অকারণে ।



আকাশ দেখে কি দেখেনা

মেঘ রোদ ঝড় বৃষ্টিতে

নেই উল্লাস হাহাকার অথবা

খিঁচুড়ী খাবার সাধ।



কিছু কিছু আহ্লাদ হয়ত গভীর গোপনেই জমা হতে থাকে,

জমা হতে থাকে জমা হয়

তালা দেওয়া সিন্ধুক যেমন

প্রায় কখনো কেউ খুলতে দেখেনা কাউক,।



লুঙ্গিতে গিঁট দিতে দিতে দল বেঁধে মেয়েদের ইস্কুল্টায়

ছুটে যায় ছুটির সময়টায়



কখনোবা ঝিম মেরে পড়ে থাকা টং এর মালিক

রাজন চাচা্র মেয়ের শরীরের চিত্র বিচিত্র ম্যাপ নিয়ে

খ্যাক খ্যাক হাসি ,

দিশেহারা উদভ্রান্ত বুড়োটা

ঘোলাটে কাঁচের বোয়ামের ভিতর

দৃষ্টি চালানোর কসরতে ব্যস্ত থেকে

জগৎ সংসার ভূলে যেতে চায় প্রাণপণে ।



মাঝে মাঝে ভূল করে ভূল করে ফেলে

চিৎকার দিতে গিয়ে কঁকিয়ে উঠে

রাজন চাচার হঠাৎ হঠাৎ কঁকিয়ে উঠা

প্রায় নূয়ে পড়া মাথাটা ঠেসে ধরে

কেউ একজন অশ্লীল শীস

দিতে দিতে তারপর

তারপর একজন দুজন তিনজন চার...পাঁচ

একসঙ্গে গলা মিলিয়ে হেড়ে গলায় গান ধরে



'ও সোনা বন্ধুরে....'



ঘোলাটে বোয়ামের বিস্কুটের ভিতর

খাবি খাওয়া মাছিটার

ব্যর্থ ডানা ঝাপটানোর কথা মনে পড়ে যায়,

কিছু কিছু মানুষ এভাবেই বেঁচে থাকে

কোন মানে হয় .....



এসবই বড় বেশী মাথার কোষে কোষে ছড়িয়ে যায়

ছড়িয়ে পড়ে

হিম হিম আঁধারে।



মাছিটার চোখ খুঁজে ফেরা

রাজন চাচার একজোড়া

ঝিমধরা চোখ

এখনো আমার মধ্যরাতের

কাটা ছেঁড়া স্বপ্নের ভিতর

আনমনে ঘোরাফেরা করে ।।

ভালোলাগা

http://i57.photobucket.com/albums/g235/oparthib/AB/shiu.jpg
কিছু  কর্কশ চিত্কার  তোমার  mail  তে 
 ছড়িয়ে দিয়েছি ,
কিছু  পদদলিত  ফুল  রেখেছি  সাজিয়ে,
যদি  আনমনে  কোথাও ছুঁয়ে  যায়  তোমার  হাত,
 জেনো 
 বকুল  এসেছিল  তোমায়  শুধূ দেখতে


     style="display:inline-block;width:970px;height:250px"
     data-ad-client="ca-pub-3769097400952125"
     data-ad-slot="9592882298">

অলক্ষ্যে

https://islamicquotesbangla.files.wordpress.com/2013/02/rain7.jpg
বেঁচে থাকতে তোমার ব্যক্তিত্বকে কেউ চিনতে পারেনি,
ক্ষোভ ছিল কিন্তু জানতে দাওনি.
তাই, যখন ছাই হয়ে মিশে গেলে ভিড়ের মধ্যে -
বিখন্ডিত তত্ত্বগুলি তে ভর দিয়ে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয়ে ছড়িয়ে গেল
তোমার প্রতিটি শব্দ, ভাব , চিন্তাধারাগুলি আমাদের মানসে -সবার অলক্ষ্যে.

পৃথিবীর কিছু কিছু জিনিসমাঝে মাঝেই নিয়ম মানে না

 http://oimookh.com/wp-content/uploads/2014/07/1979736_1422371408014262_1137815793_n.jpg
"পৃথিবীর কিছু কিছু জিনিস মাঝে মাঝেই নিয়ম
মানে না ... এই "কিছু কিছু জিনিস" এর
মধ্যে একটা হল "মাথা-ব্যথা" !!

পৃথিবীর কোন কোন "মাথা-ব্যথা" একদমই
নিয়ম মানতে চায় না ... এইসব "মাথা-ব্যথা"রা ট্যাবলেট খেলে ভাল হয়ে যায় না ...
মাথায় জল ঢাললেও ভাল হয় না ... ঘুমালেও
ভাল হয় না ... চার-পাঁচ কাপ কড়া লিকারের
চা কিংবা কফিও এইসব "মাথা-ব্যথা" ভাল
করতে পারে না !!

এই "মাথা-ব্যথা" রা একটা জিনিস পেলেই
ভালো হয় ... দুটো হাতের স্পর্শ ...
যে কারো হাতের স্পর্শ হলে চলবে না ...
সেই হাত দুটোর স্পর্শ লাগবে ... একদম
সেই হাত দুটোই লাগবে !!

সেই হাত দুটো প্রচন্ড মমতা নিয়ে, প্রচন্ড
ভালোবাসা নিয়ে মাথার দুই পাশ ছুঁয়ে দিলেই
চলবে ... সেই হাতের পাঁচটা আঙ্গুলের
ফাঁকে চুলগুলো অবাধে বিচরণ করবে ...
এলোমেলো চুলগুলোর মাঝের ছোট্ট
জায়গাগুলো জুড়ে থাকবে অল্প অল্প মায়া ...
খুব খারাপ রকমের
মাথা ব্যথাগুলো লুকোতে চাইবে ...
লুকোনোর জায়গা পাবে না ... আঙ্গুলের
স্পর্শে আর ভালোবাসার উষ্ণতায় "মাথা-
ব্যথা" বাষ্প হয়ে উড়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি !!

এই হাত দুটোর স্পর্শ সবাই পায় না ... পায়
না বলেই, মাথা ব্যথাগুলো রয়ে যায় ... চায়ের
কাপের নিচের তলানিটুকু
কিংবা ট্যাবলেটের ছেঁড়া পাতা বারবার
জানিয়ে দেয়ঃ

"মানুষ খুব বেশি কিছু চায় না ... মানুষ খুব কম
কিছুও চায় না ... মানুষ যা চায়, সেটার কোন
সংজ্ঞা হয় না, পরিমাণ হয় না ... মানূষ
অদ্ভূত ... মানুষের চাওয়াগুলোও অদ্ভূত ...
তবে তার "না পাওয়া" গুলো অদ্ভূত না ...
ওটাকে কেউ অদ্ভূত বলে ডাকে না ... শখ
করে মানুষ ওটাকে "বাস্তবতা" বলে ডাকে !!"

আজ ও জলছবি পড়ি

 https://c2.staticflickr.com/8/7380/9994137894_711e7b4885.jpg
আসবে যত পাতার কথাও -
কে কখন চেয়েছিলো শীতের কবিতা -
বলেছিলো - কথা দাও-

আজও সে কথামালা আছে তোলা
অবাক খাতার 'পরে - আজ আবার
হয়তো হবে খোলা।

হয়তো হবেনা - আহা - না ঝর্ণা -
না বর্ষাবেলা -
পদচিহ্নময় বাংলার রূপোলি খেলা -
খেলা ফেলে চলে যাওয়ার
নৌকো জীবনে ফেরেনা।
নোঙরের দাগ পড়ে রয় ঘাটে - তবু সে অচেনা।

দেখি - ঝকঝকে সব মুখ - চকচকে স্নানঘর -
অর্ধচেনা - অর্ধজানা - আশপাশের নতুন
কলস্বর।
ওই মুখ, ওই ঘরদোর আমাদেরই পাড়ায় ছিলো -
আগে তা তেমন করে নজর পড়েনি - আজ হঠাত
পড়লো।

এইমাত্র রাস্তায় দেখা নতুন মুখকে মনে করে -
হয়তো কবিতা হবে - কিংবা গল্প।
পাতারা রাখবে ধরে।
ওই তো সূর্যাস্ত দেখে পাখিরাও ঝাঁক
বেঁধে নীড়ে ফেরে।

কাল আবারও
দ্যাখা হবে যথারীতি সূর্যওঠা ঘিরে।

কাজলদিঘি


তোমার চোখ দুটি ভারী আশ্চর্য ছিল। কেমন 
যেন গভীর, অতল, একটু উঁকি দিলেই 
মনে হতো টুপ করে পড়ে যাবো। 

সেই 
চোখে কখনো চিকমিক করতো রোদ্দুর, 
কখনো বা মেঘলা হয়ে যেত, কখনও আবার 
তারা ঝিকমিক করতো। তবু সেই চোখের অপার 
রহস্যের দুয়ার কোনোদিন খুলতো না আমার 
কাছে। 

শুধু একবার, সেটা খুব ভোরেরবেলা ছিল- তখনও 
সূর্য ওঠেনি, আকাশে ঊষার আলো। 

তুমি একলা দাঁড়িয়েছিলে পুবের অলিন্দে, 
আমি ঘুমভাঙা চোখ ডলতে ডলতে গিয়ে তোমার 
পাশে দাঁড়ালাম। 
তুমি ফিরে তাকালে। 

তখনই 
তোমার চোখের মধ্যে দেখলাম এক নিতল দিঘি, 
অসীম রহস্যের মতন টলটল করছে। 

সেই চোখই 
মনে করে রেখেছি। 

শেষবার যখন দেখা হলো, 
তখন তোমার চোখ বন্ধ হয়ে গিয়েছে সব রহস্য 
চিরকালের মতন ভিতরে নিয়ে। 

তোমার চোখের ভিতরের দিঘিটিকে 
দেখতে পাই কোনো কোনো ভোরবেলা- 
আকাশে তখন ময়ূরকন্ঠী রঙ 
দূরের গাছে ঘুমভাঙা পাখি 
ডেকে উঠছে সুরেলা গলায়। 

সেইসব আশ্চর্য ভোরে তোমার চোখের 
মধ্যে লুকানো শান্ত দিঘিটিকে দেখতে পাই 
কাজলকালো জল সেখানে অসীম রহস্যের 
মতন চুপ করে আছে। 

পুবের মেঘে গোলাপী রঙ লাগলেই 
ভোরের রাগিণীর আলাপ ভেসে আসে 
অলকানন্দার ঘর থেকে। 

ঐ যে সূর্যমুখী-মাঠের পাশের 
ছোট্টো বাড়ীটা ওদের, 
ছাদের চিলেকোঠার পাশে ওর গানঘর। 

ওর সঙ্গীত-সাধনা প্রতিদিনই চলে নিয়ম করে, 
কিন্তু আমার শোনা হয় 
কোনো কোনো আশ্চর্য ভোরেই শুধু- 

যখন তোমার চোখের ভিতরের 
দিঘিটিকে দেখবো বলে 
শেষরাতে উঠে আসি ঘুমের ওম থেকে। 

একদিন টুপ করে ডুব দেবো ঐ দিঘিতে- 
তোমার নিতল নীল রহস্যের ভিতরে।

মহাজাগতিক ইতিহাসে আমাদের এপিটাফের গল্প

কোন সন্ধ্যে সন্ধ্যে রাতে রাস্তারা বুঝি অদ্ভুত প্রনয়ে খুন হয়! খুন হয় কতশত খেয়ালের অগোচরে আটকে পড়া দীর্ঘ নি:শ্বাসেরা! ইশ! আমাদের খেয়ালগুলো য...