ছোট্ট আকাশের সাথে আমার বিচ্ছেদের মুহুর্ত

July 23, 2015

পৌনঃপুনিকতার তালিকায় অনেকদিন 
আগে নাম লিখিয়ে ফেলা জীবনের এই ছোট্ট 
ঠিকানায় তাও আকাশ ছিলো, 
ছিলো জানলা খুলে দিলে ওপারে দাড়িয়ে থাকা 
কয়েকটা অচিন বৃক্ষ। 

আমার এই বসার 
জায়গাটুকুর পেছনে তাকালে দেখতাম 
কখনো আকাশ নীল, কখনো কালো। 

কখনো আকাশের মন ভালো, 
কখনো কটমটে রাগ 
করা মা মেঘেরা বাচ্চা মেঘেদের 
নিয়ে উড়ে যেতো ওই অচিন বৃক্ষের ওপর 
দিয়ে। 
পাখি। টিয়া। ঝাঁকে ঝাঁকে, সন্ধ্যায় ওদের 
ডানা ঝাপটানি ওই অচিন বৃক্ষের পাতায়- 
ডালে। 

সব হারিয়ে যাবে, খুব তাড়াতাড়ি হলে কাল, 
অথবা সামনের সপ্তায়। বাড়ছে কনক্রিটের 
কাঠামো, হয়ে গেছে একতলা। 

আমার 
বিদ্যালয় বানাচ্ছে নতুন ভবন, 
যেনো ফুঁড়ে উঠছে অশ্লীলভাবে। 
একেবারে আমার জানলা ঘেঁষে। পুরনো কিছু
ভবন ভেঙে ফেলা হবে, তার 
প্রস্তুতি হিসেবে এখানে গড়ে উঠছে নতুন। 

আমাদের আকাশকে বিসর্জন দেবার 
বিনিময়ে প্রতিষ্ঠান দেবে চকচকে নতুন ল্যাব,
শ্রেনীকক্ষ এমনকি একতলায় কনভেনিয়েন্স 
স্টোর। বেচবে প্যাকেট লাঞ্চ থেকে শুরু 
করে স্লিপিং পিল। 

আমি জানলা দিয়ে তাকালে আর আকাশ 
আমায় ডাকবে না। মায়াভরা বৃষ্টিমাখা আকাশ 
অথবা দুধ-সাদা মেঘ মাখানো আকাশ। 
দেখবো সেখানে কনক্রিটের 
কালো অথবা ধূসর দেয়াল। 
অথবা এয়ারকুলারের 
বেড়ে যাওয়া বাইরে থাকা অংশ। 

স্ট্রেসময় 
জীবনের বন্ধু এই ছোট্ট আকাশটুকু, তোমার 
সাথে বিদায়ের এই বেলায় নাগরিক মানুষ হবার 
দায় ও দুঃখে আমি বিব্রত। অসহায়।

You Might Also Like

0 comments

Popular Posts