তুমি যে পথ দিয়ে গেছো চলে,তারই ধুলা মাখি

 https://ephemeralnewyork.files.wordpress.com/2013/03/johnsloanspringrain.jpg
আকাশটা তখন অদ্ভুত ছাই রঙের।শীতকালের
এমন মেঘলা আকাশ সচরাচর দেখা যায় না।
প্রচন্ড ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে মাঝে মধ্যেই।
ইচ্ছে করল না রিকশা ঠিক করি।

যে পথে এসেছিলাম সে পথেই আবার হাটতে শুরু
করলাম।

এই গাছগুলি সবাই আমার পরিচিত, এই রাস্তার
পিচটাও কত পরিচিত। তবু আজ যেন কত
অচেনা লাগলো।

আস্তে আস্তে ইলশেগুড়ি বৃষ্টি শুরু হল,
চারপাশে সবাই দৌড়ে ছায়াতে চলে গেল,
কেউবা ছাতা বের করলো। চারপাশটা কি নিশ্চুপ
আর বিষন্ন। আমি ধীরে ধীরে হাটতে থাকলাম।
ক্যাম্পাসের পেছনের গেট দিয়ে বের
হয়ে হাটতে হাটতে কখন যে শহীদ মিনারের
মোড়টাতে এসে দাঁড়িয়েছি, নিজেও খেয়াল
করিনি।

আমার সামনে টি এস সির
দিকে চলে যাওয়া রাস্তাটা। বৃষ্টি তখন বেশ
জোরেই পড়ছে।

পথ। শুধুই কি পথ ? পথের সাথেই
জড়িয়ে থাকে পথিকের স্মৃতি। পথ কি খেয়াল
রাখে, তার বুকে হেটে যাওয়া পথিকের কথা ?
তাদের অভিমান অনুভূতির কথা ?

টি এস সির
এই রাস্তায় কত মানুষ হেটে গিয়েছে, তাদের
আনন্দ অভিমান কষ্টগুলিকে সাথে নিয়ে, এই
রাস্তা কি তা মনে রেখেছে ?

অনেক কিছু
ভাবতে ভাবতে আমি হাটতে থাকলাম প্রিয়তম
এই পথে। চারপাশটা এত নির্জন।

বিচ্ছিন্নভাবে এক দুটো রিকশা ছাড়া কিছুই
চলছে না। বৃষ্টি পড়ছে অঝোর ধারায়,
ভিজে যাচ্ছি আমি, ধুয়ে যাচ্ছে আমার ভেতরটা।
থেকে থেকেই দমকা হাড়
কাপানো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে।

এমনিতে আমি ভয়াবহ শীতকাতুরে, কিন্তু
কি আশ্চর্য ব্যাপার আমার একটুও কষ্ট
হচ্ছে না।

আমি খুঁজতে থাকলাম সেই
শঙ্খচিলগুলিকে যাদেরকে আমি চিনেছিলাম
কোন এক ঘোর লাগা সন্ধ্যায়। কি আশ্চর্য !
আজ তারা কোথাও নেই।

একই
পথে আমি হেটে যাচ্ছি একা, সঙ্গে বিষন্ন
মেঘগুলি আর ঝরে পড়া জলের বিন্দুগুলি।

রেমিনিসেন্ট। হ্যা, ধার করা শব্দ, ধার
করা অনুভূতি।পৃথিবীতে আরো অনেক ঋণের মত
হয়ত এই ঋণটাও আমি শোধ
করতে পারবো না কোনদিন, হয়ত যিনি ধার
দিয়েছেন তিনি জানবেনও না, তারই
অগোচরে তার অনুভূতিকে ব্যাবহার
করেছি আমি।

রেমিনিসেন্ট। একই দিনে শব্দটা ২
বার ব্যাবহার করলাম আমি। কোন এক আশ্চর্য
কারনে বৃষ্টি স্পর্শেও রেমিনিসেন্ট শব্দটাই
আমাকে আবার আঘাত করলো। কতদিন এই
বৃষ্টির স্পর্শ পাইনি আমি। এই স্পর্শ যেন
আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে কত একাকীত্বের
কথা।

হাটতে হাটতে কখন
যে শাহবাগে চলে এসেছি নিজেও খেয়াল করিনি।
তখনও অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে, আর আমার মাথার
মধ্যে বেজে অঞ্জন দত্তের গানের কিছু লাইনঃ

"থাকবে না রাস্তায় গাড়ি ঘোড়া, দোকান পাট
সব বন্ধ
শুধু তোমার আমার হৃদয়ে
ভিজে মাটির সোঁদা গন্ধ"

রিকশায় উঠতে উঠতে খেয়াল করলাম বহুদিন পর
আমার চোখ আবার ঝাপসা হয়ে গিয়েছে, বৃষ্টির
জলেই সম্ভবত।
Post a Comment

মহাজাগতিক ইতিহাসে আমাদের এপিটাফের গল্প

কোন সন্ধ্যে সন্ধ্যে রাতে রাস্তারা বুঝি অদ্ভুত প্রনয়ে খুন হয়! খুন হয় কতশত খেয়ালের অগোচরে আটকে পড়া দীর্ঘ নি:শ্বাসেরা! ইশ! আমাদের খেয়ালগুলো য...