31 July 2015

ফেরা

সন্ধ্যা হয়ে এসেছে,ছেলেটি ফিরে চলেছে ঘরে।

আকাশে আবছা আলো এখনও রয়ে গেছে। কিন্তু মন
পড়ে থাকে খেলার মাঠে।

ঘরে ফিরে বই নিয়ে সেই
পড়তে বসা, আর ভালোলাগেনা তার। ওফঃ কবে যে বড়
হব মনে মনে ভাবে সে।

 আজও ছেলেটি ঘরের
দিকেই চলেছে। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত। রাস্তার ভেপার
ল্যাম্পের আলোয় মাথার কাঁচাপাকা চুলগুলো চকচক
করছে।

 নেই সেই খেলার মাঠ, মায়ের শাসন।
জীবনের গোধূলিবেলায় এসে হঠাৎ মনে হয় আর
একটু দেরীতে বড় হলে ভালো হতো।

গোধূলিবেলায় গোধূলির রঙ মেখে ফিরে পেতে
ইচ্ছা করে সেই হারিয়ে যাওয়া দিনগুলি।

তোমার জন্য রেখে যাবো উপহাস


যে মানুষ ব্যর্থতার স্বাদ কখনো পায়নি---সে এক অপূর্ণাঙ্গ মানুষ,
পথ চলতে গিয়ে আছড়ে পড়েনি যে
সে কী করে বুঝবে ধুলো ঝেড়ে ফেলে
আবার উঠে দাঁড়ানোর মাহাত্ম্য--
বর্ষা রাতে যার ঘরের ছাঁদ চুঁইয়ে জল
পড়েনি
সে কী করে জানবে জল তরঙ্গে কেমন
শোনায় মেঘ মল্লার?
জ্যোৎস্না রাতে তেপান্তরের
মাঠে শুয়ে যে আকাশ দেখেনি
সে কী করে মুছবে নক্ষত্রের অশ্রুজল?
যে মানুষ হাজার বছর ধরে পৃথিবীর
পথে হাঁটার যন্ত্রণা জানে না
তার জন্যে কোন বনলতা সেন
অপেক্ষা করে নেই।
যে মানুষের স্বপ্ন হাতের
মুঠো থেকে বালুর মত
ঝরে পড়েনি হাওয়ায়
তাকে তুমি কী করে চেনাবে তাজমহল?
দু'হাতের তালুর
মাঝে যে কখনো ধরেনি কোন শ্বেত
কপোত
সে কী করে স্পর্শ করবে বল আকাশের
বুক?
আগুনের উপর
দিয়ে তুমি যাওনি হেঁটে সপ্তদশ ক্রোশ
যতখন
ততখন তুমি না সীতা, না রাবণ
তোমার পায়ের ঘুঙুর
হয়ে কষ্টেরা যদি নাইবা বাজে অনুখন
নিজেকে তুমি কী করে প্রেমিকা ভাব?
সফলতা নয়,
ব্যর্থতা দিয়ে যদি তুমি আমাকে না
হারাতে পারো
তোমার জন্যে আমি শুধু উপহাস
রেখে যাব।

কবিতারা এমনই হয়

আর কি পারছিস না?
ভালবাসতে?
তবে বিশ্বাসঘাতকতা কর,
আমিও তোকে রক্ত ক্ষরণের স্বাধীনতা দিই
তোর সেনসিটিভ গলায়
দক্ষ অস্ত্রের কার্যকলাপে
মুক্তি দিই ভীতু ভালবাসা…
ভয় পাচ্ছিস?
বোকা, এটাতো কবিতা
কবিতারা এমনই হয়
তুই যা ইচ্ছে তাই কর,
আমি শুধু তোর কষ্টের সময় তোকে দেখতে চাই
তুই একা, প্রতারিত…
তুই যদি আবার ফিরে আসিস
আমার বুকে আরেকবার মাথা রেখে দুঃখ
ঝরাতে চাস
বুক পেতে আমায় ভালবাসতে চাস
তবে সেদিন, আমি তোকে ফিরিয়ে দেব।

একটু বড় হবি কবে তুই?



একটু বড় হবি কবে তুই?
কবে কোন বড় ব্যথাও তোকে স্পর্শ
করবে না বলবি?
পাগলি, ছোট ছোট ব্যথাতেও বুঝি এত
কাঁদতে হয়?
কোনদিন কি বলেছি আমি আর সেটাই
পুষে আছিস আজো!
কবে তোর ভালোবাসাময় বার্তার ছোট্ট করেও
উত্তর দেইনি সেই অভিমান
আজো বয়ে বেড়াবি?
আমার ব্যস্ততা তুই বুঝবি না?
নানান কাজে ব্যস্ত থাকি।
তোর ভালোবাসা আমাকে ছুঁয়ে যায় ঠিকই...
কিন্তু ব্যস্ততায় ভুলেই যাই কোন এক
পাগলি আমার জন্য অবিরাম অপেক্ষা করে চলে।
তোকে কখনোই অবহেলা করিনি পাগলি,
বরং তুই আমার এত বেশি কাছে থাকিশ,
যে মনেই হয়না আলাদা করে তোকে ভাবতে হবে,
তোকে লিখতে হবে!
তবু মন খারাপ করে থাকবি?
ঠোঁট উলটে বসে থাকবি?
আমি কত দূরে থাকি...
আমার পক্ষে কি সম্ভব তোর
মিষ্টি ঠোঁটে ছোট্ট একটি চুমু
দিয়ে হাসি এঁকে দেয়া?
তুই তো জানিশও না এই নশ্বর পৃথিবীতে তোর
চেয়ে সুন্দর করে কেউ হাসতে পারে না।
তারপরেও এমন করে মুখ ভোঁতা করে ঠোঁট
উলটে থাকবি?

29 July 2015

নীলখাম এলোনা আর

একটি সুসংবাদ দেবে বলেছিলে তাই দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছি
একটি অনবদ্য নীল খামের জন্য; একটি কবুতরের জন্য - একজন পোস্টম্যানের জন্য।

বলেছিলে, একটা সুসংবাদের উপর ভর করে
অক্ষরেখায় হাঁটবে আমাদের স্বতন্ত্র পাখি, উড়বে মানুষ
আর তারপর কোন একদিন
কোন এক নগরে বৃষ্টির ফোটায় উন্মোচিত হবে
সভ্যতা - সমৃদ্ধ এক কবিতা ।

এর পর বারংবার
বলেছি তোমাকে একটি মাত্র সুসংবাদ চাই,
একটি মাত্র -
তোমার প্রশ্নবিদ্ধ চোখের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া
রৈখিক নদীর মতো শীতল জল এবং
তোমার কাছে প্রশস্থ হয়ে পড়া আকাশ দেখবো বলে ।

একটি সুসংবাদ দেবে বলে,
গিয়েছিলে সেই পশ্চিমে,
আরো পশ্চিমে।
আমাদের দেয়ালটা ছেড়ে কোনাকুনি দূরত্বে
অনেকটা পেরোতেই যে জারুল গাছ,
তার ঠিক পাশের নদীটা পেরিয়ে গিয়েছিলে -
বলেছিলে, ফিরে এলে বলবে -
অনেকদিন ধরে উহ্য হয়ে থাকা সে কথাটি।

অনেকদিন পর এসেছিলে,
কিছুক্ষন দাঁড়িয়েছিলে জারুলের ছায়ায়-
হয়ত কোন রকম সংবাদ ছাড়াই এমনিতে-
পায়ের ছাপে নরম মাটি দেবে যেতেই
নিজে নিজে বলেছিলে, ভালোবাসি।

আনমনে বলেছিলে, ভালোবাসি এ মৃত্তিকা - তোমার আড়ষ্টতায়;
একটা সুসংবাদ দিতে না পারি যদি
ভেবে নিও - তোমাকেই ভালবাসি-

গাছ শুনলো,
মাটি শুনলো - হাওয়া শুনলো - নদী শুনলো ;
এমনকী উড়ে যাওয়া পাখি শুনলো ।
নগরের ইট বালি শুনে নিলো বয়ে যাওয়া বাতাসে,
ছাদের উপর লাগানো টব জানলো -
সদ্য জন্ম দেয়া মরিচ গাছটিও জানলো কথায় কথায়।

- সবাই জানলো, জানতে জানতে অনেকে শুনলো ।
অথচ শুনলাম না আমি ।
সহজ শব্দের একটিও সুসংবাদ জানলাম না।

ব্রেকিং নিউজ হলো না তথ্যের অভাবে ,
কবিতা হলো না লেখিয়ের অভাবে
এমনকি কোন আঁচড়-
অথচ একটি সুসংবাদের উপর ভিত্তি করে
দুজনে দাঁড়িয়েছিলাম একটা সীমারেখার দূরত্বে-

নীল খাম এলো না আর - কবুতর উড়তে দেখছি না বাড়ীর ছাদে
দিনের পর দিন ; রাতের পর রাত
একজন পোস্টম্যান বাড়ী এলো না বলে - একটু বাতাস বয়ে গেলো না বলে কিংবা বৃষ্টি এলো না বলে
নদীর স্রোতে ভেসে সেই পরম আকাঙ্খিত সুসংবাদ পাওয়া হলোনা। 

সবুজ পরীর গল্প এবং তারপর?

পাহাড়ের মাদকতা টানে না আমায়,
চোখ বুজলেই বুনো ঘ্রাণ ডাক দিয়ে যায় না মুহুর্তে
আমিতো আকুল হই নোনতা জলে।

সমুদ্রের স্রোত আমাকে দেয় অনাবিল আনন্দ
ঢেউয়ের গর্জনে  আমি তাই কান পাতি অহর্নিশ। আর
তুমি বলো, তুমি নাকি পাহাড় ভালোবাসো
আকাশের কাছাকাছি বসোবাস করা চুড়োকে ভালোবাসো তুমি,
তবে কি করে তুমি জলে ডুববে বলোতো?

তুমি যদি পাহাড় হও আর আমি সমুদ্র,
ওহে পাহাড়। আমি তো বৃষ্টি হবো না যে তোমায় ভিজিয়ে দেবো।
আমি তো সমুদ্র, ঢেউ হয়ে আছড়ে পরতে পারি
বড়জোর ভালোবেসে ভেঙে পরবো তোমাতে।

পাহাড় তোমার মন ভরবে তো?

তোমায় আমি তোমার ছায়া দেখতে দেবো কথা দিলাম।

আমার পানে উকি দিলে দেখবে,
আমি জুড়ে শুধু তোমারই ছায়া বর্তমান।

সেইতো বড় সাধ্য আমার হে পাহাড়!
তুমি কি তবে আকাশ ছেড়ে জলে ডুববে বলো?
তুমি কি তবে সমুদ্র ভালোবাসবে বলো??

26 July 2015

স্বপ্নগুলো কেড়ে নিতে এসেছিল কেউ


চার দেয়ালে বন্দি ঘরটা জানে কারো অস্তিত্ব
কেউ একজন ছিলো;

শূন্যতার কণাগুলো যখন পরস্পর আঘাত পায়
তাদের কন্ঠে ও থাকে কেউ একজন থাকার কথা;

গুমোট
 কান্নারা যখন রাত্রি শেষে মন খারাপের
ভোর হয় –
আর রাত জাগা পাখিরা সুর মেলায় বেদনায়
সেই ভোরটা ও জানে কেউ একজন ছিলো।

অবহেলিত ভাবনাগুলো যখন আলোড়িত হয়
দূর্বাঘাসে – শূন্য মাঠের দূর্বাঘাসগুলো ও জানে
কেউ একজন খুব করেই ছিলো।

কেউ একজন তার দু পায়ে
আবেগ আর স্বপ্নগুলোয় খেলেছিলো বেশ;

আমার মুগ্ধতা গুলোই যখন দূর্বলতা হয়ে
তার পক্ষে অবস্থান নেয়, জাদুকাঠি হয়-
আর আমি ও ভালোমতোই জানলাম
কেউ একজন স্বপ্ন ছিনিয়ে নিতে এসেছিলো।।

25 July 2015

বলা হয়নি তুমিও উদ্বাস্তু


চার রাস্তার মোড়ে দাড়িয়ে

কতবার ভেবেছি,

বলেছি আর কোনদিন আসবো না।

তবু দ্বি-প্রহর কাটতেই মনকে প্রতারিত করি।

রোদ পালানো মেঘের নীচে দাড়িয়ে

মন ভাঙ্গা যন্ত্রণা গুলোর

পাল্টে যায় রঙ-

থেমে যায় উঠোন কুড়ানো অভিমান,

প্রাচীন নীড়ে এবার তাই দিয়েছি আগুন

নদীর এপাশে ওপাশে রেখেছি প্রহরী।

তবু ঐ চার রাস্তার মোড়ে দাড়িয়েই

শীরোনামহীন হয়ে গেছে

আমার এক একটি কবিতা।

রুপা সেদিনও আসেনি…

দূর বিকেলে রুপার কথা আর

এক পলক দেখার অপেক্ষা দীর্ঘকাল

পাশ কাটিয়ে জ্বলে থাকে।

বেনামি ফাগুন রোদে বুকপকেটের চিরকুট

নিরীহ ঘামে ভিজে যায়

অভিমানে।

উদাসী কার্নিশে এক টুকরো ঝুলন্ত বিকেল

উদ্বাস্তু,

বাড়ি ফিরবে না বলে চলে যায়।

তবু,

প্রতিদিন চেয়ে থাকি

কান্টিন-করিডোরে, শহর জুড়ে, ঐ চৌরাস্তায়।

সবখানে আবার ঢেউ জাগে কোলাহলের,

কারো কিছু যায় আসে না। কোনদিন-

শুধু একটা চোরাস্রোত অজান্তেই কয়েকফোঁটা জল

ছূঁড়ে দেয় আমার বাড়িফেরা চোখে চুপিচুপি।

রুপা কে বলা হয়নি,

চার রাস্তার মোড়ে এক থেকে একশ বছর

দাড়িয়ে এখনো রোদ মাখি হলুদ দুপুরে…

23 July 2015

তুমি নেই বলে


কেউ চলে যাবে,হয়তো কেউ- 
অনেক কাছে থেকেই ভুলে যাবে। 
তবু ধরে রাখতে ইচ্ছে করে,
তবু পাশে থাকতে ইচ্ছে করে…

রাশি, রাশি গল্প বলা রাত-
হয়তো একদিন
ভোর হবে,
জানি আর কখনোই ফিরবে না
সেই রাতের-ই টানে।


আমার এই ছোট শহরে যারা ছিল
-সবাই আছে,
এখনো পদ্যে খুঁজি,গদ্যে আঁকি,
ভুল করে হলেও তোমাতে হারাই।

একলা ঘর,কিছু পুরনো স্মৃতি
এলোমেলো তোমার প্রিয় বই-
একলা জ্বলা মোমবাতি,
ধুলো জমা সেই গিটারে-
বিষাদী সূর বাজে।

এখনো আকাশে মেঘ জমে বৃষ্টি পড়ে,
এখনো আমি ভিজি…

যখন একা লাগবে খুব

যখন একা লাগবে খুব…… 
খুজতে যেও মেঘ আর আকাশের দূরত্ব কিংবা , 
গান শুনো বৃষ্টির !

যখন একা লাগবে খুব……
বারান্দায় গ্রিল ধরে দাড়িয়ে থাকা পাশের বাসার
মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থেকো কিংবা , মুক্ত
করে দিও পোষা ময়নাটাকে !

যখন একা লাগবে খুব……
শুনতে পার চির চেনা ব্যস্ত পথে গাড়ির আওয়াজ
কিংবা , গুন গুন করে গাইতে পার অশুদ্ধ গানে দুই
একটা লাইন !

যখন একা লাগবে খুব……
ঝূলন্ত সূর্যের দিকে তাকিয়ে কোনো নদীর পাশ
ধরে হাটতে পারো বিকেল বেলা কিংবা , মুগ্ধ
হয়ে দেখতে পার লাল আকাশটাকে।

যখন একা লাগবে খুব……
মাঝ রাতে নিরব আধার কিংবা ,তারার মত
জলে থাকা জোনাক দেখে বিমহিত হতে পার !


যখন একা লাগবে খুব…
সুনসান রাতের রাজপথ ধরে হাটতে পার
কিছুটা পথ কিংবা ,হারাতে পার প্রিয় মানুষটার
কল্পনায় !

যখন একা লাগবে খুব …
চোখ বন্ধ করে সঙ্গি করে নিতে পার স্বপ্ন
কিংবা, দু চোখের আধার !!! ।

ছোট্ট আকাশের সাথে আমার বিচ্ছেদের মুহুর্ত

পৌনঃপুনিকতার তালিকায় অনেকদিন 
আগে নাম লিখিয়ে ফেলা জীবনের এই ছোট্ট 
ঠিকানায় তাও আকাশ ছিলো, 
ছিলো জানলা খুলে দিলে ওপারে দাড়িয়ে থাকা 
কয়েকটা অচিন বৃক্ষ। 

আমার এই বসার 
জায়গাটুকুর পেছনে তাকালে দেখতাম 
কখনো আকাশ নীল, কখনো কালো। 

কখনো আকাশের মন ভালো, 
কখনো কটমটে রাগ 
করা মা মেঘেরা বাচ্চা মেঘেদের 
নিয়ে উড়ে যেতো ওই অচিন বৃক্ষের ওপর 
দিয়ে। 
পাখি। টিয়া। ঝাঁকে ঝাঁকে, সন্ধ্যায় ওদের 
ডানা ঝাপটানি ওই অচিন বৃক্ষের পাতায়- 
ডালে। 

সব হারিয়ে যাবে, খুব তাড়াতাড়ি হলে কাল, 
অথবা সামনের সপ্তায়। বাড়ছে কনক্রিটের 
কাঠামো, হয়ে গেছে একতলা। 

আমার 
বিদ্যালয় বানাচ্ছে নতুন ভবন, 
যেনো ফুঁড়ে উঠছে অশ্লীলভাবে। 
একেবারে আমার জানলা ঘেঁষে। পুরনো কিছু
ভবন ভেঙে ফেলা হবে, তার 
প্রস্তুতি হিসেবে এখানে গড়ে উঠছে নতুন। 

আমাদের আকাশকে বিসর্জন দেবার 
বিনিময়ে প্রতিষ্ঠান দেবে চকচকে নতুন ল্যাব,
শ্রেনীকক্ষ এমনকি একতলায় কনভেনিয়েন্স 
স্টোর। বেচবে প্যাকেট লাঞ্চ থেকে শুরু 
করে স্লিপিং পিল। 

আমি জানলা দিয়ে তাকালে আর আকাশ 
আমায় ডাকবে না। মায়াভরা বৃষ্টিমাখা আকাশ 
অথবা দুধ-সাদা মেঘ মাখানো আকাশ। 
দেখবো সেখানে কনক্রিটের 
কালো অথবা ধূসর দেয়াল। 
অথবা এয়ারকুলারের 
বেড়ে যাওয়া বাইরে থাকা অংশ। 

স্ট্রেসময় 
জীবনের বন্ধু এই ছোট্ট আকাশটুকু, তোমার 
সাথে বিদায়ের এই বেলায় নাগরিক মানুষ হবার 
দায় ও দুঃখে আমি বিব্রত। অসহায়।

আজকাল বুঝি এইসব ট্যালিপ্যাথি কাজ করেনা

সব সময়-ই ভাবতাম মাঝ রাতে আমার ঘুম 
ভাঙ্গানোর অভ্যাসটার কথা তুই ভুলে যাসনি ... 

এখন যে ঘুম-অঘুমের 
মাঝে ঘোরলাগা ভাবে অপেক্ষায় থাকি... কষ্ট পাই 
তোর ফোন না আসাতে সেটা তুই, 
আমি মুখে না বললেও বুঝে যাস... 
ঘুম ভেঙ্গে বালিশের 
কাছে থাকা মোবাইলটা হাতে নিয়ে তোর 
মুঠোবার্তা দেখে ঝলমলে হয়ে শুরু হত 
দিনটা ভাবতাম সে কথা তুই ভুলে যাসনি ... এখন 
দিনের শুরুটা হয় মোবাইলে তোর 
মুঠোবার্তা না দেখে একরাশ হতাশায় ... 

আমি সে কষ্টের কথা মুখ ফুটে বলতে না পারলেও 
ভাবতাম তুই বুঝে যাস তা... 

দুপুরের 
একাকীত্বে খুনসুটিতে তোকে কাছে না পাওয়ার 
কষ্টটা তুইও বুঝি টের পাস বিছানায় 
শুয়ে...ভাবতাম আমি... 
বিকেলে একাকী ছাদে হেঁটে বেড়াতে গিয়ে বারবার 
যে উদাসীনতা ঘিরে ধরে, ভেবেছিলাম, 
আমি না বললেও ঘুম ভেঙ্গে পাশ 
ফিরে শুয়ে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে তুই ও 
উপলব্ধি করিস আমার বিষণ্ণ বিকেলটিকে ...... 

সন্ধ্যার একলা চায়ের কাপে চুমুক 
দিতে গিয়ে বারবার তোর চায়ের কাপে ভাগ 
বসানোর 
কথা ভেবে যে কষ্টটা আমাকে ছুঁয়ে যায়... ভাবতাম 
অফিসে বসে চা খেতে খেতে তুইও 
বুঝি তা বুঝে ফেলিস... 

চ্যাটে কতদিন সবুজ বাতিটা দেখি না...কতদিন 
সন্ধ্যায় 
মোবাইলে কারো মিসডবার্তা আসে না... 

ভাবতাম এই কথাগুলি বুঝি তুইও ভাবছিসস। 

একাকী হাজার হাজার মাইল দূরে বসে... 
ক্লান্ত পথ একাকী চলতে গিয়ে বারবার নিজের 
আঙ্গুলে তোর আঙ্গুল চেপে ধরে হাঁটছি এই 
স্পর্শটা অনুভব করতে গিয়ে আমি বারবার হতাশ 
হয়ে যাই... ভাবতাম, তুইও সেই স্পর্শের 
কথা ভেবে কষ্ট পাস... 

ঘুম আসছে না আমার, অপেক্ষায় আছি কারো ঘুম 
পাড়ানী মেসেজের, চোখ বন্ধ করে পাশ 
ফিরে হাতড়ে খুঁজি কাউকে... তাকে না পাওয়ার 
যন্ত্রনাটা কামড়ে ধরে আমাকে, ক্লান্ত 
শরীরে অফিস থেকে বাসায় এসে বিছানায় 
নিজেকে এলিয়ে দিয়ে... এপাশ ওপাশ করে তুইও 
বুঝি বুঝে ফেলিস তা - আমি ভাবতাম... ! 

আজকাল বুঝি এইসব ট্যালিপ্যাথি কাজ করে না... 
তাই না? কারন এত্ত এত্ত মানুষের ভাবনার 
ভিড়ে এই একটা মানুষের ভাবনা আজ তোকে আর 
ভাবায় না... আজকাল ভাবনার নেটওয়ার্ক 
বুঝি অন্যদিকে ঘুরে গেছে... ?

ব্যক্তিগত কথাকাব্য


শেষ গলির মাথায় 
দাঁড়িয়ে থাকা বখাটে ছেলেটা ছদ্মবেশী এক 
জনপ্রিয় কবি, ব্লগ/ফেসবুক
সে দাবড়ায়ে বেড়াচ্ছে দিন দিন ধরে।

গলির ঠিক মাঝের দালানের, তিন তলার ডান
পাশের ফ্ল্যাটের যে ভদ্র
মেয়েটি তারে কবি বানিয়েছে, সে মেয়েটি ভুল
করে নাম না জানা এক কবির প্রেমে পড়েছে।

তবুও বখাটে ছেলেটা কষ্ট পেয়েছে,
সে বখাটে হয়েই ভালোবাসতে চেয়েছিল,
কবি হয়ে না!

তুই আর তোর কবিতারা


তোমার চিঠিগুলো হয়তো একদিন সমস্ত সৌরভ 
বিলিয়ে স্মৃতি হয়ে যাবে । 

কে জানে তোমার কথা ভেবে তার
আগেই
আমিই হয়তো শেয
হয়ে যাব কোনদিন,
সেদিন ঠাঁই নেব তোমার
লেখায়।

সাদা ক্যানভাসটা হয়ে উঠবে রঙিন,
একটাই অনুরোধ, শেষের সেদিন
যেন
কালি-কলমের এই
সম্পর্কটা অটুট থাকে,
ইতি টানলেই তো সব
স্মৃতি বিস্মৃতি হয়ে যাবে ।

জানিস,
ইদানিং আমি বড্ডো স্বপ্ন
দেখি ...
একটাও স্বপ্ন
সত্যি হবে না জেনেও
আমি সত্য গোপন করে মগ্ন
থাকি জীবনের গল্পে।

তোর লেখনীর মন-
ভোলানো রূপে উন্মাদ হয়ে
এই আমি - সারাটা জীবন
ঘুঙুর পায়ে যাচ্ছি নেচে;
চারিদিকে বিকটাকার
নৈশব্দের নীল আগুন,
রূপ-রস-বর্ণ-গন্ধ সব
অদৃশ্য, স্বপ্নের মরুভুমিতে
আত্ম অনুভুতির অর্থহীন
মেঘ শুধু উড়ে চলেছে,
আর আমি অন্ধকারে একা,
উদ্দেশ্যহীন বিষন্ন ছায়াতে ...

সম্বিত ফিরেই দেখি তোর
পাশে আমারই মত একটা কে?

বন্ধু ভেবে তোর প্রগলভতা - আপন
মনে ভেসে চলেছিস
নদী-পাহাড়-অরণ্য ভালোবাসার
কথায়, হাঁসছিস কাঁদছিস,
ওটাই তো আমি, তোর ছায়া,
যাকে তুই ভালোবেসেছিস।

তুই হয়তো
তোর ভালোবাসাকে ভুলে যেতেই
পারিস,
কিন্তু তোর ছায়া,
চেষ্টা করে দেখবি দুরে সরিয়ে দিতে পারিস
কিনা?

তখন না হয় আমি প্রেমের
কবিতা লিখতে গিয়ে
প্রেমহীন
অন্ধকারে হাবুডুবু
খেয়ে সাঁতরে খুঁজবো ডাঙা ...

নিরবতা

নীরবতার খুব কাছে গিয়ে প্রশ্ন করি; 
ভিতরে এত তোলপাড় কীসের তোমার ? 

কখনও ভালবেসেছিলে কাউকে ?
অথবা
বিষাদ
হয়ে দরজা ঘেঁষে দাঁড়িয়েছিলো কেউ ?

তুমি যাকে আকাশ ভেবে দিগন্তরেখায়
মিশিয়েছিলে?

সেটা আসলে পাহাড় ছিলও ; দৃঢ় চিবুকে অশ্রু-
বেদনহীন।

কিংবা

বলতে পার মরুর মাঝে একটি সবুজ পাতা ;

ভাবতে শেখায় মৃত্যু ছাড়া জীবন ভারী বোকা!

ভাবতে পারো মৃত্যু সাথে জীবন শুরু করা,
ভাবতে পারো ভালবাসলেও কিন্তু
তুমি একাই…!!

আর যদি না ভাবতে পারো,
তবে নীরবতা কে প্রশ্ন করো – কীসের
নীরবতা ?

যে গল্প কখনই ফুরোয় না



এই শহরের কোন এক গলির 
পাশে দাড়িয়ে থাকা বাড়ির 
জানালা দিয়ে মাঝরাতে ফেলে দেয়া কোন তরুণীর
অসমাপ্ত গল্প কিংবা ডেড নোট কিংবা প্রাপকবিহীন
চিঠির পড়ে থাকা কাগজের প্রথম অংশ....

সকালে কুড়িয়ে নিয়ে যায় সিটি কর্পোরেশনের কোন
পরিচ্ছন্নতা কর্মী।

সেই গল্প
শহরতলী ঘুরে জায়গা পায় কোন
ডাস্টবিনে পঁচে যাওয়া অর্ধেক বনরুটির পাশে।


বস্তির টোকাই
ছেলেটা মধ্যদুপুরে ডাস্টবিনে কুড়িয়ে পাওয়া সেই
বনরুটি খেতে খেতে স্বাক্ষী হয়ে যায় সেই গল্পের
কিংবা ডেড নোটের কিংবা সেই বেওয়ারিশ চিঠির।

বস্তির সেই টোকাইটা পরম যত্নে গাঁজা পুরে নেয়
সেই কাগজের টুকরো দিয়ে।

মাঝরাতে সেই গাঁজার মাদকতায়
টুকরো কাগুজে গল্পের সত্ত্বাধীকারী পায়
ফুটপাতে পড়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন
বাউন্ডুলে যুবক।

তবুও গল্প ফুরোয় না.....

অভিমানী প্রেমিকার
ছুড়ে দেয়া ফুল কুড়িয়ে মালা গাঁথে এই নগরীর কোন
পথশিশু।

এই নগরীর গল্প ফুরোয় না,ফুরাবে না......

22 July 2015

প্রথম কদম ফুল তোকেই দিলাম...


শাওনের ধারা ঝরে চোখ যদি 
হয়ে যায় নদী 
ফেলে দিও তার স্রোতে
প্রিয় সেই ফুল।

শিমুলের রাঙা ঠোঁটে প্রথম প্রেমের রেখা
তোমাকে দিলাম।

এই নাও সোহাগী আদর,
শীতে যদি কোনোদিন ক্ষয়ে যায় মন
ঝরে যেও তখন না হয়।

একেক জীবন যায়,
রেখে যায় স্মৃতি,
তুমিও তো পাখি …

আমার রইলো খাঁচা খোলা,
উড়াল দেবেই যদি দাও দেখি...
ওই তো আকাশ...

ঘাসফুলেদের সাথে

তুমি সারাক্ষন খুঁজে গেছো দুপুর সন্ধ্যে বেলায়, সময় দাওনি ঘাস ফুলেদের। লিলুয়া বাতাস হয়ে ছুয়ে গেছো দূর আরো দূর বেপাড়ায়… ফিরে গেছে সে নদী...