30 June 2015

তুমি যে পথ দিয়ে গেছ চলে তারই ধুলা মাখি♥: একদিন ঠিক পালিয়ে যাবো

তুমি যে পথ দিয়ে গেছ চলে তারই ধুলা মাখি♥: একদিন ঠিক পালিয়ে যাবো: একদিন পালিয়ে যাবো শহরের কড়া রোদ থেকে , অবিরত শোরগোল বন্ধ ঘরের গুমোট গন্ধ থেকে , পালিয়ে যাব দুঃস্বপ্ন দেখানো অন্ধকার থেকে .... ...

ইতি , তোর ছেলেবেলা

http://www.hdwallpapersinn.com/wp-content/uploads/2014/11/paper-boat-under-a-tree-7211.jpg
জানিস, কোনো এক বিষন্ন বৃষ্টিভেজা সন্ধায়
তোকে কখনো বলা হয়নি ভালো থাকিস ,
ভীষণ আকাশ ভেঙ্গে আসা বৃষ্টি ঠেলে বিরক্ত তুই যখন বাড়ি ফিরতিস ,
হটাত করে তোর কাঁধে হাত রেখে বলিনি ভালো থাকিস ,আবার দেখা হবে
কোনো এক বাসের জানালায় তুই যখন বৃষ্টির দাপাদাপিতে বিরক্তি নিয়েই জানালার প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিস,
রাস্তার পাশে ভেজা একটা ল্যাম্প পোস্টার নীচে কাকভেজা এই আমি ,
তোর চোখে চোখ রেখে বলিনি ভালো থাকিস ,আবার দেখা হবে, হারিয়ে যাসনা.....
আমাকে তো তুই পাগল বলেই জানতিস ,সেই ছেলেবেলা থেকেই বৃষ্টি মানেই ছন্নছাড়া এই আমার একলা হেঁটে যাওয়া ....
অনেক বড় হয়ে গিয়েছিস না ?
অনেক নিয়ম মেনে চলিস এখন,
রোজ নিয়ম করে অফিস যাস ,রোজ একটা বিচ্ছিরি রকম সময়ে হাসিমুখে পত্রিকার পাতা উল্টাস.......
রোজ যখন তুই গম্ভীর মুখে বাসা থেকে বের হস, আমি পর্দার আড়াল থেকে এখনো তোকে দেখি,
হটাত চোখে চোখ পড়লে ছিটকে পালিয়ে আসি ,,যদি চিনে ফেলিস...
আচ্ছা, তোর কি মনে আছে সেই কথাগুলো? বর্ষার সময় ব্যাগে একটা পলিথিনের পাকেট রাখতিস ?
যেদিন খুব বৃষ্টি হত সেদিন বইগুলো প্যাকেটে মুড়ে ব্যাগের মধ্যে রেখে ভিজতে ভিজতে বাসায় ফেরার দিনগুলো ,
বাসায় কি বকাটাই না খেতিস তুই! তবু পাল্টাতিস কোথায়?
এখন অনেক কিছুই পাল্টে গেছে রে ,এখন বৃষ্টি দেখলে তোর চোখের কোনে জল ,
পাল্টে গেছিস না অনেক???
অনেক বেশী প্রশ্ন না তোর মনে !!!
তবু বলে যাই ভালো থাকিস ,
আবার দেখা হবে .....
ইতি ,
তোর ছেলেবেলা

একদিন ঠিক পালিয়ে যাবো




http://s1.1zoom.me/big3/851/407953-secretland.jpg
একদিন পালিয়ে যাবো
শহরের কড়া রোদ থেকে ,
অবিরত শোরগোল
বন্ধ ঘরের গুমোট গন্ধ থেকে ,
পালিয়ে যাব
দুঃস্বপ্ন দেখানো অন্ধকার থেকে ....

একদিন হটাত করেই দেখবি
তোর বন্ধুতা, ওর ভালবাসা ছিঁড়ে টুকরো করে নিরুদ্দেশ হয়ে যাব,
কত গল্প বাকি থাকতেই
আসর ভেঙ্গে উঠে চলে আসবো...
হয়ত পথ চলতে চলতে
ধরে থাকা হাতের বাঁধন আলগা করে নেব ,
তোর গান সুনার জন্য আর কান পেতে থাকবনা
পালিয়ে যাব অনেক অনেক দুরে ....
শ্যাওলা পড়া ইঁটের দেওয়াল আর সেই দেওয়ালে নিয়ত আছড়ে পড়া প্রতিধনী থেকে ,



না লেখা পৃথিবীর অন্য কবিতা

http://jalchhabibatayan.com/wp-content/uploads/2014/12/15445634674_f55fb29cc6_o.jpgযতবারই তোমার কাছে যাই
হাত বাড়ালে যা দাও
তা হলো হলুদ কষ্ট
আর সবুজ বেদনা।
একথা বলতেই তুমি হেসে লুটোপুটি,
কারন জানিয়ে বললে
কষ্ট,সে তো নীল ,
আর বেদনা ,
সে তো নীল আকাশের মত।

আমি বললাম জানি মেয়ে,

পৃথিবীর সব নিয়মের কথা জানি,
কিন্তু পৃথিবীময যখন যুদ্ধ , অশান্তি শোক আর অবিশ্বাস
তখন কষ্ট হতে পারে হলুদাভো জন্ডিসে ভুগে আর সবুজ বেদনা ,
সেতো সেইসব যুবকদের হৃতপিন্ডের রঙ ,
যারা ভালবাসে


তুমি বললে ....
হৃতপিন্ডের রং আবার সবুজ হয় নাকি?
আমি বললাম হয়,
কারো কারো হয়
যাদের জীবন জুড়ে
নীল স্বপ্নেরা রুমাল উড়ায় .......

কি নাম যে দি তোকে

http://i.ytimg.com/vi/eCq3gNVH-hg/hqdefault.jpg
আধা আধি চোখে তাকিয়েছি জানলার
ওপারে। হিম মাখামাখি নরম
গালিচার মতন সকাল, হাতে তাই
মাথা রেখে চোখ
চেয়ে তোকে দেখি এক মনে, মনে মনে।
আজকে আবার, আরো এক বার তুই
চলে এলি বেড়া ডিঙিয়ে, মনের এই
এইপারে। তাকিয়েই আছি,
প্রিয়তমা বান্ধবী খুনসুটি তুড়ি মেরে
গাল
টেনে আবদারে আন্দাজে দেখে নেয়
আমাকে।
চেনা চোখে অচেনা ছায়া দেখে অবাক
হয়ে অভিমান করে সে দীঘি চোখের
মেয়ে। পাগলাটে এ
মেয়েটা আমাকে ফিরিয়ে নেয় তোর
থেকে, হাত
ধরে পাশটাতে বসে পড়ে বলে, “আজ
তোকে বলতেই হবে, কেন তুই
মাঝে মাঝে এইরম আনমনা হোস, সব
ভুলে একমনে কি খুঁজে হয়রানি তোর,
ভিড় ঠেলে বার বার তোর চোখ
কাকে দেখে নিতে চায়, বল তুই”।
কি যে বলি? ঠিক কি বলি? তোর
কাছেই জানতে চেয়েছি আজকেও।
সে মেয়েকে অনেকক্ষন পরে বলেছি,

বেঁচে থাকতে হলে

বেঁচে থাকতে হলে খুব বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই....
নীল রঙে আঁকা কয়েকটা স্বপ্ন , বাস্তবতাকে এড়িয়ে চলার ব্যর্থ চেষ্টা আর অতি আপন মানুষদের কাছ থেকে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি মেনে নেয়ার ক্ষমতা থাকলেই যথেষ্ট। ওহ হ্যা, প্রতিটা নির্ঘুম রাতকে সঙ্গী হিসেবে নিতে পারেন ,
এই রাতগুলা মানব জাতির মত স্বার্থপর না ,আপনিচাইলেও এরা আপনাকে ছেড়ে যাবে না.......

পরাজয়


    • আমার অশ্রুর মিথ্যা অভিনয়ে ঘর
    • বেধেছে জাগতিক কস্ট দেখতে পায় না নীল আকাশে আমার সকল
    • হাহাকারের স্বপ্ন। আমার পদচিহ্নে দেখো ব্যার্থতার ছাপ ঘুমের
    • মাঝে ডানা মেলে উড়ে বেরায় হতাশার পাখিরা! চাওয়া পাওয়ার অলিখিত
    • অনুপাত অতুস্টির বহিঃপ্রকাশ বয়ে আনে গ্লানিমাখা পরাজয়
    • ঝরা পাতার নিঃশব্দ চিতকার। নিশ্চুপ চাদ
    • চেয়ে দেখে বিশ্বকে ক্লান্তিহীন রঙ্গিন জীবন মৃত্যুকে আলিঙ্গন
    • পরাজিত গল্পের অশ্র গুলো তাই আজ বড়ো উদার! তোমার ভাবনায়
    • কেন আমার ছায়া নাই শুধু জানবে আমি শুধু আমি নই এই আমি শুধু
    • আমারই প্রতিবিম্ব! তোমাকে নিয়ে হারাবার আকাঙ্খায় এ
    • পথে হারিয়ে গেছে আমার বেহিসেবী যৌবনের বসন্ত আমিও
    • থাকবো ছদ্মবেশী স্মৃতি হয়ে! তুমি হাত বাড়িয়ে অনেক দূরে!

স্বপ্ন


মার কান্না শুনলাম, আর
চারিদিক অরণ্য হয়ে গেল।
সেই ভয়ংকর ছায়ায় মার কান্না!

কেনো যে আমি এখানে জানিনা,
শুধু মা'র কান্না!
কি করে পৌছাবো সেই কান্নার কাছে?

বিষাদের কবিতা

লাল গোলাপের পাপড়িগুলো শুকিয়ে যাবার পর,
ভরা পূর্ণিমার সাদা জোছনা মিলিয়ে গেলে ‘পরে,
পৌষ মাসের গাছের পাতা ঝরে পড়া শেষ হলে,
বরফগলা নদীর পানি সাগরে মিশে হারিয়ে গেলে-
তোমার চিবুকখানি আলতো ছুঁয়ে, চোখে রেখে চোখ
ফিসফিসিয়ে বলবো- ‘ভালোবাসো তো’?

যদি বলো ‘হ্যাঁ’-
তোমার সিক্ত ঠোঁটে মেটাবো জন্মজন্মান্তের তৃষ্ণা...

আর যদি বলো- ‘না’-
আমাদের প্রেম নিয়ে এক মহাকাব্য হবে লেখা।
পৃথিবীর সব খাতা, সব সাদা পাতা-
ভরে দেবো বিষাদের কবিতায়।


     style="display:inline-block;width:970px;height:250px"
     data-ad-client="ca-pub-3769097400952125"
     data-ad-slot="9592882298">

দু’বেলা দু’মুঠো বিষাদ খেয়ে বেঁচে আছে যে শহর

 এখন যে শহরে থাকি 
সে শহর খুব একাকী একটা শহর। 
শহরের দিনগুলা একা একা রাত হয় 
রাতগুলা একা একা ভোর হয়, 
ল্যাম্পপোস্টের আলো একা একা জ্বলে 
অতঃপর একা একা নিভে যায়। 

এখানের পথ এবং এভিনিউগুলো একা 
পথে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা একা, 
এখানে বাস-ট্রেন একা একা গন্তব্যে পৌছে। 

এখানের উঁচু উঁচু দালানগুলো 
একা একা দাঁড়িয়ে থাকে, 
সেই দালানের দরজারা একা একা খুলে 
সেই দালানের জানালারা একা একা বন্ধ হয়। 

পার্কে বেঞ্চগুলা একা একা বসে থাকে 
পার্কের দোলনা একা একা দোলে। 
বাতাস একা একা উড়ে 
রোদ একা একা পুড়ে। 
শীতকালের স্নো একা একা নাচে 
শরতের রঙ একা একা বউ সাজে। 

এখানে যারা দুর থেকে ফিরে আসে তারা একা 
এখান থেকে যারা দুরে ফিরে যায় তারাও একা। 
গোলাপ অথবা ক্যামেলিয়া একা একা ফুটে 
পাপড়ী অথবা ম্যাপল একা একা ঝরে। 
এখানের ফিউনারেল অনুষ্ঠানগুলো খুব নির্জন এবং 
অনুষ্ঠানের অতিথিদের চোখের জল খুব নিঃসঙ্গ। 

দুবেলা দু’মুঠো বিষাদ খেয়ে 
এই শহর শত বছর ধরে 
একা একা বেঁচে আছে, 
যুগ যুগ ধরে পাখি অথবা মানুষ দুইই 
একা একা ঘরে ফিরছে।




সাদা তুষারে জেগে উঠা বরফগলা মেয়ে

 তুষারের ডানায় ভর করে 
ফড়িং এবং বিকেলের হাওয়া 
জড়াজড়ি করে উড়ে বেড়ায়। 
বরফগলা জল আর ঝরাপাতারা 
মাখামাখি করে থালাবাটি খেলে, 
লিভিংরুমে জমে উঠে ফেইসবুক চাষাবাদ। 
আমার চেনা সাদা ফ্রক পড়া মেয়ে 
সাদা পরীর ছবি আপলোড করে। 
ক্যামেরার রুপালী ফ্লাশে 
পরীর চুল ও গ্রীবা ছুঁয়ে যায়। 
বরফগলা মেয়েটি ইদানিং 
সাদা তুষারে জেগে উঠে। 

সে বরফগলা মেয়ে 
সে পাতাঝরা মেয়ে 
সে ঘোমটা টানা মেয়ে 
সে ফেইসবুক মেয়ে।

29 June 2015

আকাশ দেখা

কতো দিন আকাশ দেখি না 
স্বচ্ছ নীল আকাশ, 
মেঘলা নীল আকাশ 
অথবা তারা ভরা রাতের আকাশ। 

আজ আমি আকাশ দেখব। 
কিন্তু এ কি! 
আকাশ কি হারিয়েছে তার নীলাভ আভা? 
কোথায় সেই স্বচ্ছ নীল আকাশ? 

আবার যখন মেঘ করে আকাশে, 
মনে হয় যেন সেই দানবীয় মেঘ 
গ্রাস করতে চাইছে এই পৃথিবীকে। 
কিংবা যখন গভীর নিঃস্তব্ধ রাতে 
দেখি রাতের আকাশ, 
বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই, 
পাই না খুঁজে চিরচেনা তারা। 
কোথায় হারালো জানি না। 

এই কি তবে আকাশের ধারা? 
কখনো তাকে যায় চেনা 
আবার কখনো সে অচেনা। 





রাতের আকাশ

রাতের আকাশ,
তুমি কি ছুয়ে যেতে পার আমায়?
রাতের আকাশ,
তুমি কি স্পর্শ করতে পার আমায়?
রাতের আকাশ,
তুমি কি পার অন্ধকার চাদরে মুড়ে দিতে আমায়?
নিয়ে নিতে পার কি কষ্ট আমার?
রাতের আকাশ,
তোমার ভেলায় নিয়ে যেতে পার কি সপ্নলোকে?
রাতের আকাশ,
দিতে পার কি একটু সুখ আমায়?
রাতের আকাশ,
তুমি কি দিতে পার না আমায়?

অচেনা গান, চেনা শব্দ, টুকরো নীল কষ্ট


অনেকদিন লিখিনা। লিখতে ইচ্ছে করেনা।
মাঝেমাঝে এইরকম বন্ধ্যা সময় আসে।
মাঝেমাঝে এইরকম অনুভূতিহীনতায় আক্রান্ত হই। আমার অনুভূতিরা চুরি হয়ে যায়, আমার মস্তিষ্ক কুরে কুরে খেয়ে ফেলে অনর্থক অহেতুক সব বাস্তবতা এবং ক্লান্তি। অবিন্যস্ততা যার জীবনের অংশ, তার মস্তিষ্কে বার্ধক্যের সংকেত দিয়ে যায় শরীর অথবা মন। উপেক্ষা করবার মতোন সাহস জোটে না। এই অদ্ভূত সময়ে ছেলেবেলার স্মৃতিপোকারা এসে আমার সাথে লুকোচুরি খেলতে বসে।

পুরো ছেলেবেলা ভেবে গেছি, আরেকটু বড় হয়ে নিই, ফেলে আসা শৈশবের করতোয়া নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আবার হিমালয় দেখবো একদিন। তারপর বড় হয়ে গেছি, দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে, আর হাড়ে-চর্বিতে, শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে চর্বির ভাগটাই বেশি হয়তো। ফেরা হয়ে ওঠেনি, শৈশবে চিনিকলের গাড়ির পেছন থেকে আখ চুরি করে খাওয়ার স্মৃতিমাখানো সেই মফস্বলে।
এইরকম সময়গুলোতে আমার রুপমের কথা মনে পড়ে যায় ভীষণ। অথবা সূচী। কিন্তু আজ রুপমের মুখটা মনে করতে পারছি না। আর সূচীরটা, করতে চাইছি না। ঘুমোতে থাকা কষ্টকে খুঁড়ে জাগাবার চেষ্টা করতে চাইবে কে?

রুপম আর আমি খুব ভালো বন্ধু ছিলাম। আমার দুষ্টুমির জন্যে আমাকে নীলডাউন করিয়ে রাখা হলে, কিছু একটা দুষ্টুমি করে ও আমার সাথে দাড়িয়ে পড়তো। শাস্তির কাতারে। আমি নির্লজ্জ্বের মতোন ওই স্কুলটা ছেড়ে চলে এসেছিলাম, অন্য একটা ভালো স্কুলে পড়ার জন্যে। রুপমকে কিছুই জানাইনি। আমাদের দেখা হয়েছিলো অনেক বছর পরে, রুপম ওর ছোট বোনকে আমাদের কোচিং সেন্টারে ভর্তি করাতে এসেছিলো। সেই শেষ।
আজ অনেকদিন পর রুপমের সাথে দেখা করতে ইচ্ছে করছে? কেমন আছিস রে?

অনেক অনেক দিন পর, আজ এক পুরনো বন্ধুর মেইল পেলাম, । স্কুলের হোস্টেলে ওর রুমে গিয়ে আমি পড়ে থাকতাম বহুদিন। স্কুল ছাড়বার পর আমাদের আর কখনো দেখা হয় নি।
পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে। অথবা আমাদেরই হেঁটে চলা পরিমন্ডলের পরিধি বাড়ছে।

 *ঘরে ফেরার তাড়া*
ঘরে ফেরার গান এখন আর কাঁদায় না। যার ঘর নেই, তার ঘরে ফেরার তাড়া নেই - উপলব্ধিটা খুব দারুণ মনে হয় মাঝেমাঝে। মানুষের সাথে অদৃশ্য সূতোয় যেসব বন্ধন, সেগুলো মাঝেমাঝে ভীষণ ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করে। আপনি হয়তো বলে বসতে পারেন, অচেনা মানুষের ভালোবাসাও যাকে ঋণী করে, সে কীভাবে ঘরে ফেরার তাড়া এড়িয়ে চলে।
উত্তরটা আমিও খুঁজছি।


[প্রিয় পাঠক, যিনি কষ্ট করে এইসব নীল লেখা পড়ছেন, আপাতত ঘরে বসে না থেকে বাইরে একটা চক্কর দিয়ে আসুন, এই অন্ধকার মানুষটির অন্য সব নীল লেখার মতো এটিও ভুলে যান, এই প্রত্যাশা করি]

আমি কখনো মানুষ হতে চাই নি

 
আমি কখনো মানুষ হতে চাই নি। আমি পাখি হতে পারতাম অথবা ফুল কিংবা সূর্যমূখী ফুলের গাছ। সবুজ পাতায় আর ডালপালায় ছড়ানো কোন মহাকায় বৃক্ষও হতে পারতাম হয়তোবা। মাছ হয়ে সাঁতরে বেড়ানোর সুযোগ দিলেও হয়তো আমি আক্ষেপ করতাম না এভাবে।
আমি বুঝে গেছি, মানুষ হওয়ায় বড্ড কষ্ট।

দুর্ভাগ্যবশতঃ মানুষ হয়ে জন্ম নিয়ে ফেলায় সামান্যতম গর্ববোধ হয় না আমার। মস্তিষ্কে ভাবনা নামের অনুভূতির বিকাশ হওয়ার বয়েস থেকে আমি দ্বিতীয় কোন মানুষের যাপিত জীবনের প্রতি ঈর্ষাবোধ করি নি। পরিপাটি পোশাকের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানুষকে আমার ভীষণ অশ্লীল বোধ হয় সবসময়।

মানুষ হয়ে গেছি বলেই ভেজা মেঘেদের দেখে আমার কক্ষণো প্রেমভাব জেগে ওঠে না। ক্ষুদ্র মাছরাঙা পাখিদের দেখে আমি ঈর্ষাবোধ করি, পুরো পৃথিবী ভিজে যাবার পরেও একটা গা ঝাড়া দিলেই যার গায়ের সমস্ত ভেজা বৃষ্টি হেসে ওঠে খলখল করে। বৃষ্টির সাথে এইরকম ঈর্ষনীয় সম্পর্ক আমার কাছে অদ্ভূত মনে হয় সবসময়।

অথবা আমি শালিক হতে পারতাম, শীতের হালকা রোদে আধা-ঘোমটা নতুন বউয়ের ফেলে দেয়া মুড়ি বা চাল-ভাজার লোভে লাফিয়ে পড়তাম গেরস্থের উঠোনে। কিন্তু, আমি লজ্জ্বা মাখানো মাছরাঙা হতে পারি নি, শালিকও নয়।

মানুষ হিসেবে যাপিত জীবন আমার কাছে দুঃস্বপ্ন আর অনাকর্ষণীয় বোধ হয়।
শালিক অথবা মাছরাঙা কিংবা আমার রোজকার হাঁটার পথের মহাকায় বৃক্ষটি যন্ত্রণাময় স্মৃতি লালন করে না।
স্বপ্নময় শৈশবের নস্টালজিয়া অথবা সম্ভাবনাময় সময়ের ব্যর্থতা তাদেরকে পোড়ায় না। মানুষ হিসেবে প্রতিনিয়তই নানান যন্ত্রণায় পুড়তে থাকার নিয়তি আমার কাছে অসহনীয় মনে হয়।

ভালো থেকো


একদিন ঘাসফড়িং ধরবো বলে অপেক্ষায় ছিলাম সারা দুপুর
তখন ভাবনাহীনতার যুগ পৃথিবীময়
নাম না-জানা পাখিরা দিয়েছিল সুরের ডালি
প্রজাপতি রাঙিয়ে দিয়েছিল বালক-মনের সবটুকু আকাশ

একদিন শ্বেত-বালিকাকে ছোঁব বলে বাড়িয়েছিলাম হাত
অবাধ্য-অস্থির, অথচ সুতীব্র ভালবাসা ভাসিয়ে নিয়ে গেল সব
আকাশে বাতাসে কোন কিছুই ভাল না-লাগার মহামারি
জনতার অগোচরে বেদখল হয়ে গেল কিশোরের হৃদয়-মন্দির

একদিন বেনারসির কাফনে মুড়িয়ে প্রকাশ্যেই লুট হলো ভালবাসা
লুট হলো ভালো থাকা, আকাশের সবটুকু নীল, স্বপ্নের বেসাতি
অসময়ের কৃষ্ণগহ্বরে নির্বাসিত যুবক বয়ে চলে ব্যর্থতার গ্লানি
অথচ আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন ছিল তার।

ভালো থেকো ঘাসফড়িং
ভালো থেকো শ্বেত-বালিকা
সবটুকু ভালোথাকা, সবটুকু নীল আর বখাটে স্বপ্নেরা
ভালো থেকো, ভালো থেকো খুব!!

এখন শেষরাত

আমার ভালো লাগে না। সত্যি বলছি আমার ভালো লাগে না।
বিকট এক জন্তু বুকের উপর চেপে নিঃশ্বাস বন্ধ করে দিচ্ছে
যখন আমি সমুদ্রের কাছে যাই, বালির উপর হাঁটতে হাঁটতে-
বিশাল ঢেউ গুলোর দিকে তাকাই তখন মনে হয়,
হারিয়ে যাই ওই অনন্ত সাগরের বুকে ।

অদ্ভুত একটা যন্ত্রনা বুকের মধ্যে ঘুর পাক খায়-
অথচ তো এমন তো কথা ছিল না।
মানুষের যত রকমের দুর্বলতা তার'ই নাম ঈশ্বর !
মেয়েদের আঁচল ধরে ঘুরতেই আমার ভালো লাগে-
ঈশ্বরের হাত ধরে নয় !

দুঃখ-কষ্ট গুলো বুকের মধ্যে আটকে রেখে হেঁটে চলি।
মনের মধ্যে কোথায় যেনো একটা সঙ্গী খুঁজে পাই-
তখন লক্ষ লক্ষ ঝিঁ ঝিঁ পোকা কানের কাছে ভ্যান ভ্যান করে।
প্রেমহীন, ভাষাহীন, মায়াহীন এই শহরে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে।
বুকের গহীনে ব্যাথ্যা ছলছলিয়ে উঠে।

দুরবিন

বাংলা সাহিত্যে বর্তমান সময়ের একজন অত্যন্ত শক্তিমান লেখক হচ্ছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। "দূরবীন" তার অনন্যোসাধারণ একটি উপন্যাস। 

শীর্ষেন্দুর অন্যান্য বই যারা পড়েছেন তারা জানেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখার বিশেষত্বই হচ্ছে উপন্যাসে অনেক চরিত্রের সমাগম ঘটানো। এত চরিত্রের সমাগম ঘটানো সত্ত্বেও কাহিনীতে কোথাও কোন অসামঞ্জস্যতা নেই। সবগুলো চরিত্রকে তিনি এক সুঁতোই সুন্দর করে বাঁধতে পারেন, এমন গুণ খুব কম লেখকেরই রয়েছে।

শীর্ষেন্দুর লেখা পড়লেই বোঝা যায় তিনি বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের জীবনযাপন, পেশা, আচার-ব্যবহার, শ্রেণীভেদে মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসিখেলার একেক রুপ, সংগ্রাম, পদস্খলন; প্রভৃতি বিষয় সম্বন্ধে খুব উঁচু দরের ধারণ রাখেন যা তার লেখায় তিনি খুব সুন্দরভাবে বিধৃত করেন।

এখন আসা যাক "দূরবীন" উপন্যাসের চরিত্রগুলির স্বরুপ বিচারে।

দূরবীন উপন্যাসে তিনটি প্রজন্মের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমজন পুর্ববঙ্গের জমিদার হেমকান্ত চৌধুরী, দ্বিতীয়জন ব্রিটিশ ভারতের বিপ্লবী এবং স্বাধীন ভারতের ডাকসাঁইটে রাজনীতিবিদ ও হেমকান্তর নয়নের মণি কৃষ্ণকান্ত চৌধুরী ও কৃষ্ণকান্তের বখে যাওয়া ছেলে ধ্রুব চৌধুরী; লোফার, হৃদয়হীন থেকে শুরু করে অনেক বিশেষনই তার সাথে যুক্ত করা যায়।

শীর্ষেন্দুর লেখার আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী নারী চরিত্র। দূরবীনেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। এই উপন্যাসে সেই শক্তিশালী নারী চরিত্রটি হচ্ছে রঙ্গময়ী।

প্রথমে আশা যাক হেমকান্তর ব্যাপারে। শান্ত, আত্মনির্ভরশীল, হিসেবী মানুষ। অন্যান্য জমিদারদের মত তার তেমন দাপট বা কতৃত্ব নেই। পৈতৃক সূত্রে অনেক সম্পত্তি পেয়েছেন। বড়ো ভাই বরদাকান্ত সন্ন্যাস নেন আর ছোট ভাই নলিনীকান্ত নৌকাডুবি হয়ে মারা যান। তাই বাবা শ্যামাকান্তর সমস্ত সম্পত্তির অধিকারী তিনিই হন। কিন্তু এই বিশাল সম্পত্তি আগলে রাখা বা জমিদারী বাড়ানোর কোন ইচ্ছা তার মধ্যে নেই। সমস্ত বিষয়ে তাকে অত্যধিক নিস্পৃহ দেখা যায়। ভাবখানা এমন, “এর আর দরকার কে? যেমন চলছে তেমনি চলবে...আমার আর এতে জড়ানোর দরকার কি?” অত্যধিক ভাবপ্রবণ একজন মানুষ। জগতের কতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জিনিস নিয়েও তার চিন্তার শেষ নেই। সহজভাবে বললে অলসভাবে বসে থাকলে নানারকম চিন্তা মানুষের মনে ঘুরপাক খায়, হেমকান্ত চরিত্রের মধ্য দিয়ে লেখক সেই বিষয়টিই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

হেমকান্তর জীবনটা একদমই নিরামিষ। তার কোন বিষয়াসক্তি নেই। জীবনে কোন গতি নেই, কোন রোমাঞ্চ নেই। সোজা কথা বললে তার ব্যক্তিত্বটি একজন জমিদারের সাথে অত্যন্ত বেমানান।

হেমকান্তর অল্প বয়সেই স্ত্রীবিয়োগ ঘটে। স্ত্রীর নাম ছিল সুনয়নী। হেমকান্তর তিন পুত্র, তিন কন্যা। কারো প্রতিই হেমকান্ত তেমন আকর্ষণ অনুভব করেন না শুধুমাত্র একজন ছাড়া। আর তা হচ্ছে তার নয়নের মণি কনিষ্ঠপুত্র কৃষ্ণকান্ত।

হেমকান্তর আরেকটা দুর্বলতার জায়গা ছিল...রঙ্গময়ী। তাদের ঠাকুরমশায়ের কন্যা। বলিষ্ঠ ব্যাক্তিত্বের অধিকারী এই নারী চরিত্রটি দেখিয়েছে কিভাবে শত প্রতিকূলতার মাঝেও নিজের ভালবাসাকে জয় করা যায়, নিজের অধিকারকে নিজে বুঝে নিতে হয়। সমাজের চোখ রাঙ্গানি, কথা চালাচালি, কুৎসাকে সে তুচ্ছজ্ঞান করেছে তার ভালবাসার কাছে। কিশোরী বয়স থেকেই সে ছিল হেমকান্তর উপর আসক্ত। তার এই প্রগলভ আচরণে হেমকান্ত আশ্চর্যান্বিত হলেও কোন এক অদৃশ্য কারণে কখনোই তাকে কিছু বলতে পারতেন না। তার বাড়ির একজন কর্মচারীর মেয়ে হয়েও এমন বলিষ্ঠভাবে রঙ্গময়ী হেমকান্তকে তার হৃদয়ের কথাগুলো বলত যার প্রত্যুত্তরে সে নিজেকে বড় অসহায় মনে করত। রঙ্গময়ীর কাছে তার এই অসহায়ত্ত্ব মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছিল। হেমকান্ত পয়তাল্লিশোর্ধ্ব বয়সে রঙ্গময়ীকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করে। হয়তো একে সমাজের অনেকে তার মত মানুষের পদস্খলন হিসেবেই ধরে নিয়েছিল কিন্তু বইয়ের কাহিনী থেকে বোঝা যায় এটি তার জন্য কতটা দরকার ছিল।

রঙ্গময়ী সম্বন্ধে আগেই কিছু কথা বলা হয়েছে। নিঃস্বার্থভাবে একজন মানুষকে কিভাবে ভালবাসা যায়, ভালবাসার মায়াজালে কিভাবে একজনকে আবদ্ধ করা যায় তা সুন্দরভাবে লেখক দেখিয়েছেন। কিন্তু এজন্য তাকে কম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি। সে সবসময়ই নিজের লক্ষ্যে ছিল অবিচল। কোন কিছুই যেন তার অসাধ্য নেই। মাতৃবিয়োগের পর হেমকান্তর কনিষ্ঠ দুই সন্তান বিশাখা আর কৃষ্ণকান্তকে সেই কোলে পিঠে করে মানুষ করেছে। কৃষ্ণকান্তর মধ্যে বিপ্লবের বীজটিও সেই বপন করেছিল। সবকিছুর বিচারে রঙ্গময়ীকে বাংলা সাহিত্যের শক্তিশালী নারী চরিত্রগুলির কাতারে অনায়াসে স্থান দেয়া যায়।

এরপরে আসা যাক কৃষ্ণকান্তর বিষয়ে। অল্প বয়সেই তার মধ্যে মহান মানুষের বিভিন্ন গুণ দেখা যায়। অমিত সাহস তার। প্রচণ্ড তেজী ব্যাক্তিত্বের স্ফূরণ বাল্যকালেই তার মধ্যে প্রকাশ পায়। তার ছোট কাকা নলিনীকান্ত ছিলেন একজন বিপ্লবী। তার ধারায় পেয়েছিল। বাড়িতে আশ্রিত বিপ্লবী শশীচরণকে দেখে তার ইংরেজদের প্রতি বিতৃষ্ণা এসেছিল। অতঃপর রঙ্গময়ীর ছত্রছায়ায় তার মধ্যে বিপ্লবী হবার ইচ্ছা প্রবল হয়। এভাবেই পরবর্তীতে সে ব্রিটিশ ভারতের একজন নামকরা বিপ্লবীতে পরিণত হয়। এর জন্য তাকে যন্ত্রণাও কম পেতে হয়নি। এসব সহ্য করতে করতে একদম ইস্পাত কঠিন মানুষে পরিণত হয়েছিলেন কৃষ্ণকান্ত।

স্বাধীন ভারতে একজন ডাকসাঁইটে নেতা হিসেবে কৃষ্ণকান্তের আবির্ভাব ঘটে। নিজের ব্যাক্তিত্ত্ব ও বুদ্ধির জোরে সব জায়গাতেই তার ছিল এক অসাধারণ প্রভাব।

কিন্তু তার দুর্বলতার একটি জায়গায় ছিল...তার মেজো পুত্র ধ্রুব। প্রচণ্ডভাবে ভালবাসতো সে ছেলেকে...কিন্তু অকাল্কুষ্মাণ্ড ছেলেটি কখনোই তার এই ভালবাসা বুঝতে চাইনি নানাভাবে তাকে কষ্ট দিয়েছে। এসবকিছুই তার মত এই পাহাড়সম ব্যাক্তিত্ত্বের মানুষটিকে চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়।

এরপর আসা যাক ধ্রুবর প্রসঙ্গে। ধ্রুব চরিত্রটির উপর আমার ব্যাক্তিগতভাবে খুব রাগ আছে। মদ্যপ, চরিত্রহীন একটি চরিত্র। যার কাছে ভালবাসার কোন দাম নেই। প্রচণ্ড বেপরোয়া। একজন উজ্জ্বল ব্যাক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হবার সব গুণই তার মধ্যে ছিল। কিন্তু তার এই বেপরোয়া নিষ্ঠুর স্বভাবের কারণেই সে তা হতে পারেনি। সবসময় সে তার পিতাকে তার প্রতিদ্বন্দী ভেবেছে। তার স্ত্রী রেমিও তাকে অন্ধভাবে ভালবাসত। সে যতবার ভালবেসে তাকে কাছে টেনে নিতে চেষ্টা করেছে সে ততবারই তাকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। রেমিকে কখনোই তার ভালবাসার যোগ্য প্রাপ্যটুকু সে দেয়নি। মাঝে মাঝে শুধু ভালবাসার অভিনয়টুকু করেছে। তার এই আচরণ রেমিকে যেন তার তৃষ্ণার্ত করে ধ্রুবর ভালবাসা পাবার জন্য। কিন্তু ধ্রুব যে বড্ড নিষ্ঠুর!

উপরিউক্ত চরিত্রগুলিই আলোচ্য উপন্যাসের মুখ্য চরিত্র। এছাড়াও কাহিনীর প্রয়োজনে লেখক আরো অনেক চরিত্রের সমাগম ঘটিয়েছেন আলোচ্য উপন্যাসে। সবকিছু জানতে আপনাকে পড়তে হবে উপন্যাসটি।

পরিশেষে বলি, ‘দূরবীন’ উপন্যাসের ব্যাপ্তি অনেক বিশাল। তিনটি প্রজন্মের তিন ধরণের মানুষের কাহিনী বা জীবনাচরণ এখানে বিধৃত করা হয়েছে। এটি শুধু সাড়ে পাঁচশো পৃষ্ঠার একটি উপন্যাস নয়; মানুষের ভাব, প্রেম, পদস্খলন, সংগ্রাম, বিরহ, জীবন-জীবিকা, আনন্দ-বেদনার- সব কিছুর এক প্রতিচ্ছবি।


পার্থিব

আমাদেরপ্রত্যেকেরই একটা নিজস্ব জগত আছে এবং প্রত্যেকেই নিজের মত করে চিন্তা করে, এই পার্থিব জীবনের চলার পথে অনেক চিন্তাভাবনা আমাদের মাথায় খেলে । অনেক প্রশ্ন মনে ঘুরপাক খায়,সচেতন কিংবা অচেতন মনে মাঝে মাঝে অনেক প্রশ্ন এসে দাগ কাটে, আসলে এই যে আমাদের জীবন এর উদ্দেশ্য কি ? আমরা কিসের দিকে অগ্রসর হচ্ছি এই রকম অনেক দার্শনিক প্রশ্নের কোন উত্তর আমরা খুঁজে পাই না । এই উপন্যাসে লেখক তার সৃষ্টি বিভিন্ন চরিত্র ও আধডজন কাহিনীর মাধ্যমে তুলে ধরেছেন এইসব প্রশ্নের উত্তর গ্রামবাংলা ও শহরের প্রেক্ষাপটে । 

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এর পার্থিব বইটা যখন হাতে নেই এবং পড়া শুরু করি 
ভাবিনি বইটা পড়ে নিজেকে নতুন করে একবার আবিষ্কার করবো । 
পড়তে পড়তে অনেক সময় মনে হয়েছে এ যেন আমার জীবনের এক কাহিনী, বিষ্ণুপদ-নয়নতারা এর সরল নির্ভেজাল দাম্পত্য জীবনের যে বর্ণনা দিয়েছেন তা আসলেই অন্য এক মাপের । 

বিষ্ণুপদের তিন ছেলের মধ্যে কৃষ্ণজীবন গ্রামের দরিদ্রতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও পড়াশুনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন সাথে সাথে পরিবেশবিজ্ঞানী হিসাবে দেশ-বিদেশে তার নাম হয় , কিন্তু তারপরও তার সেই ছোট বিষ্ণুপুর গ্রামটি তাকে টানে । এই পৃথিবীর প্রতি তার অনেক মায়া কিন্তু পৃথিবী যে ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে তা তিনি কাউকে বোঝাতে পারেন না তার স্ত্রীও তাকে বুঝতে পারে না । 

এই উপন্যাসে কৃষ্ণজীবন এর পরেই হেমাঙ্গ চরিত্র অনেক ভালো লেগেছে । শহরের যান্ত্রিক জীবনে একা থাকার ইচ্ছা এবং একঘেয়ে জীবন ভালো না লাগায় অচেনা নির্জন গ্রামে একা বসবাস এবং গ্রামের জীবনের সাথে খাপ খাওয়া, ভালোবাসার টানাপোড়েন, এইসব নিয়ে হেমাঙ্গর সাথে নিজের অনেক মিল খুঁজে পেয়েছি !! 

সকল পাঠকদের বলতে চাই যে এই লেখক এর কোন বই যদি নাও পড়ে থাকেন তাইলে এই বইটা অবশ্যই পড়বেন,এত বড় একটা বই কিন্তু পড়ে বিন্দুমাত্র হতাশ হবেন না এইতা বলে দিতে পারি । 

এই বইটা পড়ে কানে একটা গান শুধু কানে বাজছিলো, এই বই এর পুরো রিভিউ লিখতে গেলে পড়তে বিরক্ত লাগতে পারে তাই ওল্ড স্কুল এর এই গানের ছয়টা লাইন দিয়ে শেষ করলাম । 

''কেউ খোঁজে কেউ পড়ে দেখে, পুরনো দিনের গল্প 
কেউ চুপ করে চুরি করে নিয়ে তুলে রাখে কিছু অল্প 
না তাকায় পিছন পানে সামনে ঝুকেছে হেটে 
সেই বোকাটাও এক ফাঁকেতে চোখ নিয়েছে মুছে 
হায়রে সময়, হায় পোড়া মন, হায় পুরনো স্মৃতি 
খানিক যদি কেঁদে নিয়ে একটু চলে যেতি ''


28 June 2015

আমার জানালা দিয়ে আমার পৃথিবী”...।।

আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি এক বিশাল শুন্য দৃষ্টি নিয়ে। সাদা মেঘের ভেলা আমাকে রেখে ছুটে চলছে ঐ দূর নীল দিগন্তে। আমি বসে আছি ধানমণ্ডি এক ছয়তলা বাড়ির জানালার পাশের টেবিলে। এই জানালাটি আমার জীবন যাপনের আন্যতম অনুষঙ্গ। সকালের সোনা রোঁদ, বর্ষায় বৃষ্টিধারা, রাতে জোস্নার আলোর লুকোচুরি আথবা মিটিমিটি তারা জ্বলা রাত সবাই ভীর করে আমার জানালায়। যেন সব সুন্দরের মিলন মেলা। নিজের অজান্তেই গুনগুন করি অঞ্জন দত্ত থেকে ধার করা কিছু লাইন “ আমার জানালা দিয়ে আমার পৃথিবী”...।।

গুনগুন করা লাইনঃ
আমার জানালা দিয়ে একটুখানি আকাশ দেখা যায়
একটু বর্ষা , একটু গ্রীষ্ম , একটুখানি শীত
সেই একটুখানি চৌকোছবি আকড়ে ধরে রাখি
আমার জানালা দিয়ে আমার পৃথিবী।

সেই পৃথিবীতে বিকেলের রং হেমন্তে হলুদ
সেই পৃথিবীতে পাশের বাড়ির কান্না শোনা যায়
পৃথিবীটা বড়ই ছোট আমার জানালায়
আমার জানালা দিয়ে আমার পৃথিবী...।।

You Will Be Shocked To Know These 11 Successful People Who Hardly Sleep

It’s proved in researches that 8-10 hours sleep is necessary for all of us; however, if we analyze it from the perspective of world’s most successful people, we can easily deny this study, as there are several successful people who hardly sleep for around 4-6 hours and they have attained all the luxuries and success stuff in life!
Below are 11 such people:

1. Jack Dorsey – Twitter Founder & Square CEO

Jack Dorsey
Dorsey said in an interview that he used to spend 8-10 hours at Twitter and 8-10 hours at Square, both daily in a span of just 24 hours. Hats off to this man who even in such a busy schedule, wakes up at 5:30 am for jogging! Jack sleeps for around 4-5 hours a day.

2. Shah Rukh Khan – Bollywood Actor

srk
This superstar King Khan of Bollywood movies has a very busy schedule due to which he sleeps only for 4 hours.

3. Mark Zuckerberg – Founder of Facebook

This guy sleeps for about 5 hours and does not waste time even in choosing T-shirts; that’s why he is always seen wearing the same grey T-shirt all the time.

4. Narendra Modi – Prime Minister of India

NarendraModi3
Narendra Modi is the current Prime Minister of India and Former Chief Minister of Gujarat. It’s a thing of great surprise that even at the age of 63, he is so dynamic and active that you will not easily see any trace of exhaustion or giving up. He is very diligent and industrious & sleeps only for around 4-5 hours daily.

5. Bill Gates – Founder & Ex-CEO of Microsoft

Bill Gates
This inventor, computer programmer, investor, philanthropist and American business magnate is undoubtedly counted as one of the most successful people of the world and sleeps barely for 6 hours a day.

6. Marissa Mayer – CEO of Yahoo


Marissa has earned worldwide repute for being very hard-working at Google where she worked for around 130 hours weekly. So she is habitual of sleeping for very little time, i.e., around 4-6 hours.

7. Barack Obama – President of the United States


obama

Needless to say, schedule of a president is extremely busy so there is no wonder if he gets very little time to sleep. As far as Barack Obama is concerned, he sleeps for less than 6 hours a day.

8. Dominic Orr – President & CEO of Aruba Networks

Dominic-Orr
In accordance with Wall Street Journal, Dominic Orr gets merely about 4 hours to sleep. As a matter of fact, he is used to of getting up prior to sunrise as well as working in evening.

9. Steve Reinemund – Former PepsiCo CEO

Steve Reinemund
Steven’s routine is to get up at 5 in the morning and go for a long run of 4 miles. Speaking of sleeping hours, he sleeps for just 5-6 hours a day.

10. Bill Clinton – Former U.S. President: 5-6 hours

Bill-Clinton
Clinton is the one who was widely acknowledged for sleeping merely 5-6 hours every day; however, he had to change this schedule after heart surgery.

সারারাত কথা বলে হয়েছি উদাস

এই শহরের কত শত অট্টালিকার ফাঁকে
আমার জানালা ভরে ছবি হয়ে ঝুলছে আকাশ
আমি আর এক ফালি নিষ্পাপ চাঁদ
সারারাত কথা বলে হয়েছি উদাস
এখন রাত জেগে জানালায় মাথা রেখে
তুমিও কি দেখছো আকাশ আমারই মত
আমি আর এক ফালি নিষ্পাপ চাঁদ
সারারাত কথা বলে হয়েছি উদাস
নির্জন এই রাতে ও-চাঁদ প্রিয় চাঁদ
কিছু ঘুম দাও না এনে আমার দু’চোখে
আমি আর এক ফালি নিষ্পাপ চাঁদ
সারারাত কথা বলে হয়েছি উদাস

27 June 2015

যে কথা আজও বলা হয়নি


ইদানিং চড়ুইটা ঘরে ফিরছে না আর
খড়কুটোর শৈল্পিকতা;
প্রেয়সীর মাদকতা;
কি এক ভ্রান্তিতে ভুলেছে আলয়। 
সঙ্গিনী রেখেছে চোখ, যে পথে ফিরেছে চড়ুই শত সহস্রবার। 

এইতো কিছু বছর আগে, সূর্য্য যখন অস্তপাটে
সান্ধ্যতে করেছিল আনন্দবিহার
মাঠ ঘাট সব খুঁজে; যাই পেত খেটে খুটে
সঙ্গিনীকে সাথে নিয়ে করতো ডিনার! 
কখনও দুজনে মিলে; উড়ে যেত চলন বিলে
কতবার ঘাসফুল দিয়েছে উপহার! 

এইতো সেদিন কালপ্রহরে, 
মটরদানার দেনমোহরে থেকে যাবার অঙ্গীকার 
তবুও চড়ুই কেন ফেরে না
কোন অভিমান সিঁধ কেটেছে 
সঙ্গিনীকে রাখতে একা বুক কাঁপে না আর? 

যে কথা কেউ জানেনি সেদিন, সন্ধ্যাবেলার পরে
মেঘ করেছিল আঁধার ভীষণ, আকাশ কেঁপেছিল ঝড়ে। 
ছোট্ট চড়ুই চায় ইতিউতি
কিছুটা খাবার পাওয়া যায় যদি
ঝলসানো আলো, প্রবল বাতাসে ফেরা হয়নি তার। 

দুদিন হলো কাতরায় চড়ুই, শরীরে জখম ভীষন তর 
প্রিয়তমা তার অপেক্ষায় বুঝি 
আমায় না পেয়ে খুঁজি, ভেবে নিলো কি স্বার্থপর! 

জিভের তলায় তেষ্টা ভীষণ 
এক ফোঁটা জল? নাহ, সেটা নয়! 
যেটা সে ভাবতো আদিখ্যেতা, না বলেও তো হয় মমতা
আজ তারই ভীষণ তেষ্টা পেল “ভালোবাসি” বলিবার! 


নিস্তেজ চড়ুই অস্ফুটে হাসি
বলে চলেছে ভালোবাসি, ভালোবাসি...
যে সমুদ্র তাকে আগে ছোয়নি
সেই কথাই সে বলেছিল শেষ, যে কথা আজও বলা হয়নি!

26 June 2015

বসন্তের গানখানি

আত্মার কাছে যে থাকে সেই আত্মীয়।
কবে শুনেছিলাম সেই কথা।
সেটাই হৃদয়ে থিতু হয়ে বসে থাকে পরম
বিশ্বাসে।

ছেলেবেলার অস্পষ্ট মুখ সহোদর
সামান্য জ্বরে যে পাড়ি  দিলো
তেপান্তরে।
প্রতিদিন জন্মদিনে একটা বয়সের
অন্তরালে
ওকে খুঁজেছি।
যদি খুঁজে পাই একদিন।

ক্যালেন্ডারের পাতায় জন্মদিন এসে চলে
গেছে বহুবার।
অনেকগুলো ঝরাপাতার দিন।

যতবার চোখের সামনে সেই ঝাপসা
মুখ,ছেলেবেলার।
বৃষ্টির মত ঝাপসা দু'চোখ।কেন মানুষ চলে
গেলে
আর ফিরে আসে না কোনদিন?

আজ বহুদিন পর অনেকগুলো সোনালী দিন
পেরিয়ে
ওর জন্মদিনে একা একা ওকে ভাবি।
আর বিষণ্ন নীল পায়রার মত দুখী হতে থাকি।

খুব ইচ্ছে করে ওর চুলের এলোমেলোতায় হাত
রাখি।
এবং কি আশ্চর্য্যজনক ভাবে
আজই ম্যাজিকের মত কিছু ঘটে।

প্রার্থণার হাত ধরে ও এসেছিল আজ।
আমার বুকের মধ্যেকার অনুভবে বেড়ে উঠা
ছেলেবেলার অস্পষ্ট মুখটার আদলে বেড়ে
উঠা মুখ।

সমুদ্রের পাশে দাঁড়িয়ে হাতছানি দিয়ে
ডেকেছিল আমায়।
দিনান্তের শেষ প্রহরে উচ্ছল পায়রার আনন্দ
নিয়ে
ওর দিকে ছুটেছিলাম তাই।
এত আনন্দ!এত সুখ!
এত ভালোবাসা! এতটাকাল কোন সে যাদুর
বাক্সে ছিলো বন্দী।
জীয়ন কাঠির ছোঁয়ায় পেলো জীবন ।

এই সেই আত্মীয়তা।

সেই যে আত্মার কাছের পরম আত্মীয়!
যদি হৃদয়টা কাজ করে ঠিকঠাক।
জীবনের সমারোহে দু'চোখের দৃষ্টিতে
সুনীল সমুদ্র দেখি।
দেখি দিগন্ত বিস্তৃত ওই আকাশ
এটুকুই বলতে পারি
নিজের ক্ষমতার বাইরে কোন প্রতিশ্রুতি
নয়।
যেনো গান হয়ে বাজি।
যেনো সুর হয়ে ছুঁয়ে যাই।
অনেক ভীড়ে খুঁজে পাওয়া প্রিয়
জন
"দিয়ে গেনু বসন্তের এই গানখানি...।"

লিখতে না পারার গল্প

একটা সময় ছিলো, অনেক গল্প ছিলো বলার।
নিজের ঘরের চাবি হারিয়ে ফেলে ঘরে ঢুকতে না
পারার গল্প অথবা মন খারাপ করা কোন এক বিষন্ন
সন্ধেতে শহরের কাছে পোষ-মানা ওই নদীটার
কাছে গিয়ে বসে থাকবার গল্প কিংবা ছবি। সবই।
এখন আর ইচ্ছে করে না সেইসব । মৃত্যু হয়েছে
অনেক আগে সেই তরুণের।
কিন্তু, এখনো পড়ে আছে সে সেই নদীর তীরে,
যেখানে নৌকো নেই, ভাসছে না কোন ভেলা।
ওপারটা বড্ড দূরে। দেখা যায় না। যেনো বসে
আছে, কেউ আসবে। অথবা, কারও অপেক্ষাতেও
নেই। আসলে তাড়া নেই সম্ভবত। কোথাও যাবার
নেই। সন্ধ্যেবেলা ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির মাঝে
ভেজা শীতল ঘাসে পা দুটো মেলে দিয়ে বসে
থাকে সে। দূরে, তৈরি হচ্ছে এরকম উঁচু ভবনগুলোর
উপরে একগাদা ক্রেন। যেন জীবন্ত, একটা
আরেকটার সাথে কাটাকুটি খেলছে।
আসলে কোন গল্প নেই। শরীর খারাপ কোন গল্প
হতে পারে না। শুয়ে থেকে ছাদের দিকে চেয়ে
থাকা কোন গল্প হতে পারে না। অলস বসে থেকে
যান্ত্রিক ও লোকদেখানো ফেইসবুকে নাটকের
সাজানো চরিত্রগুলোর স্ট্যাটাস মেসেজের
দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা নিয়ে কোন
গল্প লেখা যায় না।
আমাকে নিয়ে আমি কোন গল্প লিখতে পারি না।
হ্যা, হয়তো গল্পে আসতে পারে, আমি ছয় বছরের
লম্বা ছাত্রত্ব শেষে এবার বিশ্ববিদ্যালয় নামক
প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিদায় নিচ্ছি। সহজ করে
বললে, পড়াশোনায় ইস্তফা দিয়ে কর্পোরেট দাস
হওয়ার জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু, এসব
দৈনন্দিন ঘটনা নিয়ে লেখা গল্পে আমি ছাড়া
আর কোন চরিত্র আসবে না। প্রাতিষ্ঠানিক
পড়াশোনায় আপাতত ফুলস্টপ দেয়া ও বৈশ্যিক
কর্পোরেট বাজারের দাস হওয়া নিয়ে আমার
মানসিক অনুভূতির কোন বিবরণও আসবে না।
অনুভূতিহীন এইসব দিনেও আমি তীব্রভাবে
বিষাদময়তায় আক্রান্ত হই, দম বন্ধ হয়ে ওঠে।
কানে গান লাগিয়ে, অনেক পুরনো কোন ফিকশন
বইয়ে নিজের চেহারা আড়াল করে, ফাঁকা
ট্রেনের দরজার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে অন্ধকার
দেখি। স্মৃতির আয়নায় উপহাস করে আমার গত কাল
। একান্তই নিজের গল্প। যে গল্প আমি আর লিখতে
পারি না।
আমাকে পোড়ায় না রাষ্ট্রের সমরবাহিনীর যুদ্ধ
অথবা বিদ্রোহ কিংবা নাশকতা, দেশ অথবা
সময়ের পতন আমার কানে এসে থেমে যায়,
মস্তিষ্কে কোন অনুভূতির তৈরি করে না। কান
আমি বন্ধ করে রাখি, চোখে পড়ে থাকি ঠুলি।
আগুন লেগেছে, বড়োজোর নিজের স্বজন আগুনের
চারপাশে থাকার সম্ভাবনা না থাকলে আগ্রহ
হারাই সে খবরে। কী দরকার যেচে পড়ে
হাইপারটেনশন তৈরি করার? প্রতি মুহূর্তে
স্বার্থপর অমানুষ হয়ে উঠি। প্রতি ক্ষণে ভালো
মানুষ না হতে পারার ব্যর্থতা আমাকে বিদ্ধ করে।
আমি অন্ধকার হেঁটে গিয়ে অন্ধ হয়ে উঠি, কূপমন্ডুক
হওয়ার পথে আরেকটু এগিয়ে যাই।
কিন্তু এতকিছুর মাঝে, কিছু না লিখতে পারার
কষ্টটাই বড্ড তীব্র হয়ে ওঠে।

যদি ঘর ছাড়তে ইচ্ছে করে


প্রাক্তন প্রেমিকের হাত ধরে
যদি কখনো ঘর ছাড়তে ইচ্ছে করে
জানিয়ো-
আজন্ম আকাঙ্ক্ষা নয়, নির্দোষ জিজ্ঞাসা মাত্র,
কে না জানে! ভালোবাসা ফিরে এলে
যখন তখন গাছের পাতায় সংসার পাতা যায়!

মনে আছে?
আমরা ভালোবেসে বেসে কখনো ক্লান্ত হই নি
বরং ভালোবাসা ক্লান্ত হয়ে ফিরে গেছে নিজ পথে,
তুমি চাইলে আমরা আবার তাকে খুঁজে আনতে পারি
ভালোবাসা ফিরে এলে
শুনেছি মৃত ঘাসে নাকি তাঁরার মত ফুল আসে!
মরা নদিতে ঘূর্ণি খায় কটাল স্রোত
ফসলে ফসলে ভরে যায় বিরান শস্য ভূমি
ভ্রমরার গুঞ্জন, মধুপের গুঞ্জন
শর্ষে ফুলের হলুদ সাগরে শুধু “তুমি আর আমি”!

হয় তো এসব সত্যি নয়
তবু যদি ঘর ছাড়ো
যদি ছাড়তে ইচ্ছে হয়
জানিয়ো-
সাত জনমের আকাঙ্ক্ষা নয়, নির্দোষ জিজ্ঞাসা মাত্র।

শুনেছি, ভালোবাসা ফিরে এলে
কোকিল ও ফিরে আসে শিমুলের ডালে
খৈফুল ঘুঘু ডাকে আড়ালে আবডালে
তারা বলে- ভালোবাসা পাপ নয়
ভালোবাসা হয়ে যায়, ভালোবাসা হয়
তার কাছে ফিরে যাও যাকে ভালবাসতে ইচ্ছে হয়।
আর কবে আসা হবে, মৌচাক ঠাসা হবে
হৃদয়ের কাছে বার বার ফিরে যাবে হৃদয়
হৃদয়ের কাছে বার বার পরাজিত হৃদয়
এটাই তো স্বাভাবিক! এটাই তো হয়!
কেন তবে সংশয়, কেন তবে নয়?
ফিরে যাও তার কাছে যদি যেতে ইচ্ছে হয়।

সেই পোড়া কোকিলের গান শুনে শুনে
যদি বিভ্রান্ত হও,
তবে নিশ্চিত জেনো, এখনো প্রেম আছে মনে
চাইলে উদ্ভ্রান্তের মত ঘর ছাড়তে পারো
তখন আমরা গাছের পাতায় সংসার পাতবো,
বহু দুরে ছেড়ে ছুড়ে নাগরিক ভিড়
খড় কুটু টেনে টুনে পাখিদের নীড়
তুমি আমি সারা দিন হাতে হাত রাখি
গায়ে গায়ে লেগে থাকি পাখিনির পাখি
সূর্যোদয় থেকে কিছু আলো
সূর্যাস্ত থেকে কিছু আলো
যা কিছু সুন্দর যা কিছু ভালো
দিন শেষে ঠোঁটে করে ফিরবো নাহয়
এটাই তো স্বাভাবিক! এটাই তো হয়!
চোখের মায়ায় ধরা দেবে চোখ
বহু কালের তৃষ্ণা জমাট
চুম্বনে আলিঙ্গনে
প্রেমিক প্রেমিকার দেখা হউক

আমিও একদিন


আমিও এক দিন
মানুশের হৃদয়ের ব্যাথা হব
দুজনের না বলা কথা হব
দু ফোঁটা চোখের জলে হব বর্ণহীন
তাহাদের মত আমিও এক দিন
নিঃশব্দে একাকিনী শিশিরের মত
একান্তে, বড় একান্তে ঝরে যাব।

অরন্যের দিনরাত্রি


একটা আকাশ তাকে আলো করে রাখে।
সে উন্মনা হয়েছিলো জেনে
অজস্র তারারা তাকে চিঠি লিখেছিলো।
বলেছিলো অপেক্ষার অমল আলোতে
কত কিছুই তো হতে পারে।
কিছুক্ষন অপেক্ষা করো।
তারাদের হিসাব নিকাশ কে জানে
কে জানে ওদের ক্যালেন্ডারের ভাষা!
কিছুক্ষন মানে সেখানে অনন্তকাল।
অনন্তকাল তাকে থেকে যেতে হবে
এই বিবর্ণ শুনশান নীরবতার কাছে।
ম্রিয়মান এক ভীতু সৈনিকের মত?
কে জানতো যার সাহসীপনা দেখে
একদিন অনেকেই বলেছিলো এই ছেলে রাজা হবে।
রাজ্যপাট চালাবে।
রাজা হবার জন্য রাজার বংশ হতে হয়।
তাহলে?
মা বলতেন দেখিস একদিন
এক রাজকন্যা আসবে।
দুধে আলতা গায়ের রং।
ছেলেবেলা থেকে এই গল্প শুনতে শুনতে ও ভাবতো
একদিন এক রাজকন্যা ঠিকই আসবে পথ ভুলে।
মার বলা গল্পটা সত্যি হয়েছিলো।
একদিন আকাশ আলো করা
রংধনু সাত রং এ সেজে
ও এসেছিলো।
ওর স্বপ্নের রাজকন্যা।
দরজায় খুলে দাঁড়াতেই বলেছিলো
এটা কি ৩১/বি অরণ্যের দিনরাত্রি?
ও মাথা নেড়ে পাশের দরজা দেখিয়ে দিলো।
মনে মনে মেয়েটার নাম দিলো ও তুষার কন্যা।
মানুষের গায়ের রং এত সুন্দর হতে পারে
ওর জানা ছিলো না।
মানুষের চোখ এত মায়াময় হতে পারে
ও দেখেনি কখনো।


মায়াবতী মেয়েটাকে এরপর বহুদিন দেখেছে
ওর ঘরের জানালার পাশ দিয়ে আসা যাওয়ার পথে।
চোখে চোখ পড়লেই একটু হাসি।
ওর মনে হতো আকাশ থেকে তারারা হাসছে।
শুধু ওকে দেখলেই ওর সারাটা দিন আলো হয়ে
যেতো।
কাল সেই মায়াবতী জানালার পাশে দাঁড়িয়ে
কথাহীন ।
ওকে একটা নীল খাম
দিলো।
খামটা হাতে নিয়ে বসে থাকে ও।
পুরো পৃথিবীর বেদনার নীল খামটা
মুঠোয় ভরে ।
ও হারিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।
দুরে বহুদুরে পালাতে হবে।
কোন সে আকাশ তাকে ছাঁয়া দেবে?
মাঝ রাত পেড়িয়ে যায়।
স্হবির ও বসে থাকে।
আকাশ আলো হতে শুরু করে।
বন্ধ খামটা খুলবার সাহস হয়নি ওর।
তবু ভোর বেলা বরাবর
ওকে খুব সাহসী করে।
খামটা খুলে ফেলে ও।
একটা সুন্দর কার্ড।
তাতে লেখা..
"তোমার সাথে দেখা হবার পর অনেকগুলো দিন
চলে গেলো।ভেবেছিলাম একদিন হাত ধরার সাধটুকু
জানাবে।
ভুল দরজায় কড়া নেড়ে একদিন যাকে খুব ভালো
লেগেছিলো
সেই তুমি ।
যার দিকে তাকালেই বুকের গহীনের
সবুজ ঘাস এর বুকে খরগোসরা খেলা করে।
যার হাসি দেখেলে মনে হয় তারারা হাসছে।
সেই তুমি যদি হাত ধরার সাধটুকু চাও
এসো।
কাল বিকাল চারটায়
দেয়া ঠিকানায়।
আর নইলে তুষার এর অনামিকায়
আংটি পড়াবে অন্য কেউ।"
কি ভীষন একটা ভুলের মুখোমুখি
হতে যাচ্ছিল ও।
এমন ও হয়?
ভাবনার সেই মেয়েটি যাকে নাম দিয়েছিলো তুষার।
সে সত্যিই তুষার!
কত পথ ঘাট ঘুরে চারটা বাজবার
কিছুক্ষন আগে
দেয়া ঠিকানায়
পৌছায় যখন ও।
কি আশ্চর্য্য আকাশ ছাপিয়ে
বৃষ্টি নেমে আসে।
দরজায় দাঁড়িয়ে মায়াবতী মেয়েটা
ওর হাতটা ধরে।
ওকে আসতে বলে।
নিমেষেই অপেক্ষার ঘরে
নেমে আসে হাজার তারার আলো।
শুরু হয় অরণ্যের দিনরাত্রির
অরণ্য আর একজন তুষার এর
অন্যরকম পথচলা।

ঘাসফুলেদের সাথে

তুমি সারাক্ষন খুঁজে গেছো দুপুর সন্ধ্যে বেলায়, সময় দাওনি ঘাস ফুলেদের। লিলুয়া বাতাস হয়ে ছুয়ে গেছো দূর আরো দূর বেপাড়ায়… ফিরে গেছে সে নদী...