26 January 2015

তুমি আমার ক্লান্তিমাখা ব্যার্থতাটুকু রেখো

জানি এই উড়ন্ত মেঘ আমাকে নিবে না তাদের দলে।
পাখিরাও না। হলুদ বিকেল সে ও হবে না আমার।

আমি তবু মেঘ ভালোবাসি, ভালোবাসি পাখি।

নিজেকে বলি কোথায় আমার ছোট্ট ভালোলাগা?

আমাদের স্বপ্ন কেবল বন্ধ ঘরের বাইরেই থাকে,
কখনও সখনও যদিও ঢুকে ঘরে আমরা কি আর
পারি ধরে রাখতে!

এই না পারার শোক কাটিয়ে আবার
স্বপ্ন বুনি। রাতের আধাঁরে। নদীর কিনারে। আকাশের
নীলে, মেঘে, তপ্ত দুপুরে ভরা পূর্ণিমায় এমনকি ঘুমের
ভেতরও।

যখন ছোট ছিলাম তখন ভাবতাম রাতের ভেতর
যা দেখি সেটাই স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন কি আর
মনে রাখতাম।

মন-ই বা তখন কতো বড়ো ছিলো? ছোট
থাকতে কতোই না ভুল বুঝতাম। কনডম কে বেলুন
করে উড়িয়ে দিতাম বাতাসের শিবিরে। নিজেও
বাতাসের মতো উড়ি বেড়াতাম। স্কুল ফাঁকি দিতাম,
সারাক্ষন
ক্রিকেট খেলা নিয়ে ব্যস্ততা...। ভাবতাম এটাই
জীবন। কিন্তু জীবন যে সেটা না তা এখন স্পষ্ট বুঝি।

জানি এই উড়ন্ত মেঘ আমাকে নিবে না তাদের দলে।
পাখিরাও না। হলুদ বিকেল সে ও হবে না আমার।
আমি তবু মেঘ ভালোবাসি, ভালোবাসি পাখি।

নিজেকে বলি কোথায় আমার ছোট্ট ভালোলাগা?

আমাদের স্বপ্ন কেবল বন্ধ ঘরের বাইরেই থাকে,
কখনও সখনও যদিও ঢুকে ঘরে আমরা কি আর
পারি ধরে রাখতে! এই না পারার শোক কাটিয়ে আবার
স্বপ্ন বুনি। রাতের আধাঁরে। নদীর কিনারে। আকাশের
নীলে, মেঘে, তপ্ত দুপুরে ভরা পূর্ণিমায় এমনকি ঘুমের
ভেতরও।
যখন ছোট ছিলাম তখন ভাবতাম রাতের ভেতর
যা দেখি সেটাই স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন কি আর
মনে রাখতাম।
মন-ই বা তখন কতো বড়ো ছিলো? ছোট
থাকতে কতোই না ভুল বুঝতাম। কনডম কে বেলুন
করে উড়িয়ে দিতাম বাতাসের শিবিরে। নিজেও
বাতাসের মতো উড়ি বেড়াতাম। স্কুল ফাঁকি দিতাম,
সারাক্ষন
ক্রিকেট খেলা নিয়ে ব্যস্ততা...। ভাবতাম এটাই
জীবন। কিন্তু জীবন যে সেটা না তা এখন স্পষ্ট বুঝি,
বুঝি জীবন হলো এমন বেদনার পায়ে চুমু
খেয়ে বলি এইতো জীবন , জীবন হলো একদিন
মৃত্যুকে জয়ি ঘোষনা করে দেওয়া।
আর এমন জীবনে কতো স্বপ্ন দেখা-
কতো দেখানো।

আমার স্বপ্নগুলো আমার থেকেও বড়ো। আর সেই
স্বপ্নে তুমি থাকো, তোমার রঙে রাঙে স্বপ্ন
প্রাচীর।

সেই তোমাকেই বলি: এই স্বপ্ন ভাঙার পৃথিবীতে,
এই ফিকে জীবনে। একলা থাকার বিষন্ন ক্ষণে তোমার
কাছে বলি আমার যা সব সুফল কারুকাজ
অন্যেরা তা পাক।

তুমি আমার
ক্লান্তিমাখা ব্যর্থতাটুকু রাখো ।

জানালা(অঞ্জন দত্ত)

আমার জানালা দিয়ে একটুখানি আকাশ দেখা যায়
একটু বর্ষা , একটু গ্রীষ্ম , একটুখানি শীত।

সেই একটুখানি চৌকোছবি আকড়ে ধরে রাখি
আমার জানালা দিয়ে আমার পৃথিবী।

সেই পৃথিবীতে বিকেলের রং হেমন্তে হলুদ
সেই পৃথিবীতে পাশের বাড়ির কান্না শোনা যায়।

পৃথিবীটা বড়ই ছোট আমার জানালায়
আমার জানালা দিয়ে আমার পৃথিবী...।।

নীল আকাশের ওপারে

নীল আকাশের ওপারে খুব দুরে
নক্ষত্রের পাশে নক্ষত্র হয়ে
কেমন আছিস তুই?

মানুষের বিশ্বাসের স্বর্গে তোর বসবাস, আর
আমি বলেছিলাম
তোর বসবাস সময়ের আর এক পৃষ্ঠায়।

আর তাই ওরা আমাকে নাস্তিক বলেছিলো।

যুঁথি,
তোদের ওখানেও কি মেঘের দালান
কোঠা ভেঙ্গে তুমুল বৃষ্টি হয়?

তোদের ওখানেওকি
কৃষ্ণচূড়া গাছের সাথে পাল্লা দিয়ে
বেড়ে ওঠে মনের ডালপালা?

ওখানেও কি মনের শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা
জোছোনা হয়ে পাড়ি দেয় দিগন্ত সমুদ্র?

ওখানেও কি ভাঙ্গে মানুষের ইচ্ছেমত সাধ-সংসার আর
তাসের তাজমহল?

ওই ভুবনে তুই কি এখনো উড়তে পারিস,
অথবা হাসতে?
কিংবা হাঁসের মত পা দুলিয়ে ভাসতে?

আমার এখানে কেবল
খিটখিটে রোদ।

আমি এখোনো সেই ইন্দিরা রোডের
এগারো নম্বর বাসায় থাকি,
রোজ ছাদে উঠি,
পাখিদের উড়ে যাওয়া দেখি।

অথচ বদলে গেছে আর সব,
তোর অভাবে,
তোর বোনা গোলাপ গাছটিও আজ
বড় বেশি কাতর।

বদলে গেছে অনেক কিছুই,
বদলে গেছে রাস্তা ঘাট,স্বপ্নের চারিপাশ,
রৌদ্রের রঙটাও আজ বড্ড বেশি চুপ করে থাকে।

আর আমি,
এখোনো সেই নষ্ট পাড়ার খামখেয়ালি ছেলে।

যুঁথি,
আমি এখনো গলির মোড়ে বখাটে ছেলেদের
সাথে দাঁড়িয়ে
গলা ছেড়ে গান গাই।

জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখি
তোর জানালায় পর্দাটা আজও নামানো।

না, তোকে দেখিনি,
আজকে,
কালকে,
অগনিত গতকাল ধরে।

এই ঠিকানা বিহীন স্বপ্নের শহরে
দু-একটা শুন্যস্থান নিয়ে
কেটে যাচ্ছে জীবন।

যুঁথি,
জোছোনা রাতে,
ছাদের আঙিনায় এসে
নিয়ে যাস
তোকে লেখা এই চিঠি।

25 January 2015

ইচ্ছে হলেই

ইচ্ছে হলেই লিখে ফেলা যেতো
তোমার কানের দুলের দুষ্টুমির কথা,

তোমার কালো টিপের নার্ভাসনেস,
লিপিস্টিকের ভিরু ইশারা,

নেইল পলিশের বিষন্ন হয়ে যাওয়া
রেশমি চুড়ির হঠাত থমকে যাওয়া,

আচলের বেসামাল উড়াউড়ি।

তোমার অনামিকা ঘিরে ছায়াদের ঘুরোঘুরি
আর চুলের কালো টিপটার মরচে পড়ে যাওয়ার
ইতিবৃত্ত।

তোমার নাকের তিলটাকে নিয়ে আমার
যে স্বরবৃত্ত।

কিন্তু যেখানটায় লিখবো,
সেই তোমার করতলে যে হাটুজল !

এক ফোঁটা বৃষ্টি এবং

কিছু দীর্ঘশ্বাস জমা হয়ে থাকবে বুকে
কিছু অশ্রু থেমে থাকবে চোখের নিকটে
ঝরাবে না শিশির।

করুন ক্যান্সারের মতো কিছু বেদনা
নিবিড় লালনে বেড়ে উঠবে হৃদপিন্ডের
শরীরে।

দুর্যোগের কাক
বাঁকা ঠোঁটে ছিড়বে শোভন পোষাক।
নিজস্ব ঘরের ভেতর ফুটপাত
এসে খেলা করবে

উলঙ্গ শিশুর মতো আপন খেয়ালে--


ওদের দিকে তাকিয়ে তুমি 'আসি' বোলে
আর কোনোদিন আসবে না ।

21 January 2015

দুরে, তবু কাছাকাছি

তোমার চুড়ির শব্দ, কি নিঃশব্দে,
বুকে তুলে দিল ঢেউ।

আমি একাকী যাত্রী, জেগেছি রাত্রি, ছুঁয়ে দেয়
নি তো কেউ।

আমি ক্লান্ত দুপুরে, ভ্রান্ত নুপুরে, কি ভীষণ
একা বাঁচি,
তুমি গৃহ মায়াময়ী, স্নেহ ছায়াময়ী, দূরে তবু
কাছাকাছি।

16 January 2015

ঠিকানা বিহীন গল্প

তারপর হঠাৎ করেই রাস্তার
হলদে নিয়ন বাতিটা কেমন যেন সেই
আগের মতো।

হাল্কা শীতের বাতাসে কেমন যেন
একটা গল্পের গন্ধ; গল্পের নাম নেই,
ঠিকানা নেই।

অস্পষ্ট ঘোরে দুলতে থাকে সব-
পিচের রাস্তা, সিমেন্টের ফুটপাত সব
কিছু।

এলোমেলো কথা ভাসতে থাকে বাতাসে।

তবু বাতাস শীতল, রাগ
করে না মোটেও।

পায়ের নীচের ধুলোর মতো শব্দ;
গুরুত্বহীন, গন্তব্যহীন।

দুপায়ে হেটে চলা- পেন্ডুলামের মতো।

অস্তিত্বে অন্তরালে ভাবনা গুলো যেন
অবোধ্য প্রলাপ।

পায়ের পাতার সাথে তাল
মিলিয়ে পালটে যাওয়ার
প্রতিযোগীতা যেন।

অনেকদিন অন্ধকার এর শব্দ
শুনতে বসে থাকা হয়নি,
অনেক, অনেকদিন ।

অনেকদিন সময় কে একটু
শান্তি মতো বয়ে যেতে দেওয়া হয়নি।

আধার-নীল এর সাথে গল্প হয়নি;
হয়নি উল্টো-পাল্টা শব্দের
একসাথে আড্ডা মারা;
হঠাৎ করেই হারিয়ে যাওয়া তো প্রায়
ভুলতে বসেছে চেতনা।
আনমনে বসে থাকা হয়নি, ঘোরের
মধ্যে ছুটে চলা হয়নি অনেকদিন।

14 January 2015

সমুদ্র

মেয়েটা আমাকে বলল, আপনার পাহাড় পছন্দ?
না সমুদ্র?

আমি বললাম, সমুদ্র।

সে বলল, পাহাড় নয় কেন?

আমি বললাম, পাহাড়ে ডুবে যাওয়া যায় না,
সমুদ্রে যায়'।

সে বলল, 'কিন্তু আমার যে পাহাড় পছন্দ'।

আমি বললাম, 'তাহলে আমরা পাহাড়েই যাব'।

সে বলল, 'কিন্তু আপনার সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার
কি হবে তাহলে?'

আমি বললাম, 'সাথে এমন আস্ত সমুদ্র
থাকতে, অতদূর সমুদ্রে যাওয়ার কি দরকার?'

সে বিভ্রান্ত গলায় বলল, 'সাথে আস্ত সমুদ্র
মানে?'

আমি সাথে সাথে জবাব দিলাম না। কেবল
অদ্ভুত ঠোঁটে হাসলাম।

সে বিভ্রান্ত
চোখে তাকিয়ে আছে।

আমি তার কানের
কাছে ঠোঁট নিয়ে ফিসফিস করে বললাম, '
এমন অথৈ কাজল চোখ
থাকতে ডুবে যেতে সমুদ্র কেন?

13 January 2015

যে পথ দিয়ে তোমার চলে যাওয়া

শব্দ অনেক ছিল কিন্তু কোন বাক্য হল না ...
স্বপ্নের মাঝেই জীবন ছিল কিন্তু চোখে ঘুম
ছিল না,
যে পথ দিয়ে তোমার চলে যাওয়া
সেই পথে আমার চেয়ে থাকা……

রোদ্দুরের কাছে

কারো জন্য আমি রোদ্দুরের
কাছে বাজিতে হেরেছি আজ।

সে বোঝেনি।

আমার অভিমানের
মেঘগুলো বৃষ্টি হয়ে ঝরেছে।

তবু সে আসেনি।

এমন ভুলো মন তার!

সেই দিনগুলো

আমার সব চেয়ে ভাল লাগা টুকুন
তোকেই দেবো আমি।

যে কষ্টে টুপ কোরে কেঁদে নিয়েছিল
আমার চোখ সেইটেও
রেখে দেবো এখানে..

ঝলমলে সকাল-মন কেমন করা দুপুর-
দুষ্টুমি মাখা বিকেল-গভীর ঘন রাত
সব দেবো তোকে… …

সেই কবেকার গ্রীষ্মের দুপুরের
কুলপিমালাই আর
ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে মায়ের
চোখএড়িয়ে জমা জলে ভাসানো কাগজের
নৌকোটাও তোর জন্যেই রইলো

হাসি-
কান্না-হীরে-পান্নায়
মোড়া দিনগুলো আজ থেকে শুধু
একলা আমার নয় তোর ও…… ..

ঘাসফুলেদের সাথে

তুমি সারাক্ষন খুঁজে গেছো দুপুর সন্ধ্যে বেলায়, সময় দাওনি ঘাস ফুলেদের। লিলুয়া বাতাস হয়ে ছুয়ে গেছো দূর আরো দূর বেপাড়ায়… ফিরে গেছে সে নদী...