মি দুই দশক পেছনে গিয়ে তোমার ভালোবাসা পেতে চাই অথবা ভালোবাসতে চাই

ভালো কেনো বাসতেই হবে? তোমার আমার এই প্রশ্নের উত্তর কেউ দেবে না। আমি সেদিন নয়ন কে জিজ্ঞেস করেছিলাম ,দেয়নি। তুমি চাইলে হৃদয় কে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারো। কিন্তু হৃদয় থেকে নয়ন যে বুদ্ধিমান সেটাতো আমরা জানিই। তারপরেও তুমি চাইলে জিজ্ঞেস করতে পারো, কিন্তু আমি জানি সে দেবে না। কারন এর উত্তর তার বা তাদের কারো কাছে নেই। নেই তোমার আমার কাছেও। কিন্তু ভালো আমাদের বাসতেই হবে।

 আচ্ছা, তোমাকে আমি কেমন করে পেতে চাই? উহু, সেটা আজ বলবোনা। কিন্তু তোমাকে আমি কেমন দেখতে চাই সেটা বলি। আমি কি পেতে চাই সেটা বলি।

আমি দুই দশক পেছনে গিয়ে তোমার ভালোবাসা পেতে চাই। আমি একবিংশ শতাব্দী থেকে পালাতে চাই।

আমি চাই তুমি শাড়ি পড়বে। হ্যাঁ, টিশার্টে তোমাকে বেশ ভালো মানায়। অথবা বুকে খাঁজকাটা টপস পড়লে তোমাকে যে বেশ সেক্সী দেখায় সেটা আমি এলাকার চোখ দেখেই বেশ বুঝতে পারি। কিন্তু তুমি শাড়ি পড়বে।

তুমি শাড়ি পড়বে ঠিক তেমনিভাবে, যেমনিভাবে মেয়েরা উনিশশত নব্বই সালে পড়তো। শাড়িটাকে টপসের মতো করে পড়োনা দয়া করে - ওতে শাড়ির অপমান হবে। আমি চাইনা তুমি জামদানি বা সিলক পড়ো; অথবা তোমার গায়ে চাপুক জর্জেট এর শাড়ি। হ্যাঁ বাবা, সিলভার কালারের জর্জেটের শাড়িটা যে তোমার খুব পছন্দের আমি জানি। কিন্তু তুমি সেটা পড়বেনা, তুমি পড়বে খুব সাধারন সুতি শাড়ি; পুরোনো শাড়ি।

আমি চাই তুমি আমাকে দেখলে চোখ নামিয়ে নেবে; ভয়ে নয় লজ্জায়। ভালোবাসা মানেই তো সম্মান; চোখ নামিয়ে আলাদা করে সম্মান দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু চোখ নামাবে তুমি আমায় দেখে লজ্জা পেয়েছো তাই। লজ্জা পাবেনা কেনো! ভালোবাসার মানুষ আমি; আমি ধরলে তোমার শরীরে শিহরন খেলবে, কথা বললে তোমার কান গরম হবে, আর চুমু খেলে - নাহ থাক, অন্য আরেকদিন বলবো।

আমি চাই আমাকে দেখে তুমি অন্যদিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করো - কেমন আছো। আমি চাইনা আমাকে দেখে তুমি চটাশ করে চুমু খেয়ে বলে উঠো - হোয়াটস আপ ডুড! অথবা বলো - হাই হানি। আমি এসব কিছুই চাইনা। শুধু আমাকে জিজ্ঞেস করো যে আমি কেমন আছি।

আমি চাই তুমি ঘাস ছিড়ো। এমনি এমনি নয়; আমাদের দেখা হবে কোন পার্কে। কথা হবে কম; নিরবতাকে আমরা উপভোগ করবো তারিয়ে তারিয়ে। আর এই সময়টাতে তুমি যেনো একটি কি দুটি ঘাস ছিড়ো। ঘাসের ডগা যেনো তোমার ইদুর-দাঁতে আস্তে আস্তে কাটতে থাকে। আমি নাহয় দুটাকার বাদাম ও কিনবো। আমার যেনো মনে হয় - যেটুকু সময় তুমি থাকো কাছে, মনে হয় এ দেহে প্রান আছে, বাকীটা সময় যেনো মরন আমার, হৃদয় জুড়ে নামে অথৈ আধার।

আমি চাইনা তুমি ক্যাপ্টেইন্স ওয়ার্ল্ডে বা বুমারস এ হাজার দুয়েক টাকার খাবার সামনে নিয়ে তোমার বান্ধুবীদের গল্প করো। 

আমি চাইনা তুমি এতো বেশী কথা বলো যেনো একদিন তোমার কিছুই বলার না থাকে। কথা জমিয়ে রাখো, নাহয় একদিন সব কথা ফুরিয়ে গেলে আমরাও একে অপরের কাছে ফুরিয়ে যাবো। আর হ্যাঁ, ওখানে কীসব হাবিব-রূপম-রুমি অথবা লেডী গাগার গান বাজায়; আমার একদম সহ্য হয়না।

আমি চাই তুমি গান জানো। না, হিন্দী সিনেমার কোন মারদাঙ্গা গান নয়, ইংলিশ কোন রক এন রোল ব্যান্ডের গান ও নয়। আমি চাই, আমরা যখন খোলা ছাদে বসে চাঁদ দেখবো, তখন তুমি খুব মিস্টি করে গেয়ে উঠো - চাঁদের হাসি বাঁধ ভেঙ্গেছে, উছলে পড়ে আলো, ও রজনীগন্ধা তোমার গন্ধসুধা ঢালো...

আমাকে তোমার কোলে মাথা রাখতে দিও।

আমি চাই তুমি আমাকে পাগলের মতো ভালোবাসো। আমি চাই আমাকে ছাড়া যেনো তুমি কিছুই না বুঝো, কিছুই না চেনো, কিছুই না দেখো। আর আমিতো তোমার ভালোবাসায় অন্ধ/বোবা/কালা/লুলা হয়েই আছি কতকাল যাবত।
  


লেখাটা সিরিয়াসলি নেয়ার কিছু নাই...

আজ আমি একটি কবিতা লিখবো

আজ আমি একটি কবিতা লিখবো,
কবিতাটি শুধুই তোমার জন্য। 


আসলে আজ আমি অন্য কিছু লিখতে চেয়েছিলাম,
কিন্তু মনে শুধু কবিতাই ঘুরপাক খাচ্ছে,
কেন খাবেনা বলো?
আজ যে আমার তোমার কথা মনে পড়েছে।
জানো আজ আমি কাজে যাইনি,
মন ছুটে গেলো যে! 



অনেকক্ষণ বাগানে হেটেছি আনমনা ,
নাগরিক কোলাহল ছেড়ে কিছুটা নির্জনতা!
উদাসী বাউলের সুরে নেচে ওঠা রঙিন প্রজাপতি,
ফুলেদের কলরবের রঙে রঙে আঁকা নিঝুম স্মৃতির ছবি।

কাল্পনিক তোমার অবয়বের সাথে
আমি এলোমেলো অনেক কথা বলেছি।
সারি সারি ফুটে থাকা গাঁদা ফুলের মধ্যে দেখেছি
তোমার হলুদ শাড়ী,
বাগানবিলাসের রঙে দেখেছি
তোমার গোলাপী ওড়না।
নীল অপরাজিতার বর্ণে দেখেছি
তোমার আঁচলের  শোভা,
কি অদ্ভুত সুন্দর লাগতো তোমাকে ঐ রঙে! 


গাছ জুড়ে ফুটে থাকা অজস্র শিরীষ ফুল,
ঝরে ঝরে আল্পনা এঁকেছে তোমার আঁচলে,
ওর একটি কুড়িয়ে নিয়ে তোমার খোঁপায় দিলাম।
একমুঠো মোলায়েম রোদ ছড়িয়ে দিলাম তোমার চোখে,
অলকানন্দার সুরভী মাখা শিশিরে ভিজিয়ে নিলাম আমার নয়ন।


সেই ভেজা নয়নে দেখি বাগানের একপাশ ঘেঁষে,
দুটি শালিকের পাশাপাশি বসে থাকা,
সুপুরীর ডালে কেঁপে কেঁপে ওঠা একটি অস্থির দোয়েল পাখী।
না আমি শালিকের মতো সসঙ্গী স্থির নই,
বরং ঐ দোয়েলটির মত একেবারেই নিঃসঙ্গ অস্থির!!!!!


জানিনা কবিতাটি তোমার কেমন লেগেছে,
আসলে কবিতা নয়, আমি চেয়েছিলাম
তোমার কাল্পনিক অবয়বের সাথে
কিছু কথা বলতে, একটুও গোছানো নয়, ভীষণ এলোমেলো!!! 


এই অস্থির আমি কি আর গুছিয়ে কিছু বলতে পারি?

আমাদের মা আজো টলমল করে

মধুর আমার মায়ের হাসি
চাঁদের মুখে ঝরে
মাকে মনে পড়ে আমার
মাকে মনে পড়ে।



বেলা শেষে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে গোধূলি লগ্নে মায়ের উষ্ণতার পরশে দূর হয়ে যায় সব ক্লান্তি। বাষ্পীভূত চায়ের পেয়ালা... খোশ গল্প... রান্না ঘরের টুং টাং ঝংকারে চেনা সুর। মায়ের অনুভূতি সমস্ত ঘরে... মায়ের ঘ্রাণ সমস্ত শরীরে... মায়ের চিন্তা সমস্ত মন জুরে। জগদ্বিখ্যাত মনীষী আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন, আমি যা কিছু পেয়েছি, যা কিছু হয়েছি, অথবা যা হতে আশা করি, তার জন্য আমি আমার মায়ের কাছে ঋণী’।
কয়েক দিন আগে বাসার একটা বিষয় নিয়ে মায়ের সাথে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে। এর পর থেকে মায়ের মুখ ভার। বড় হ্ওয়ার অনেক হ্যাপা। দুর দিয়ে ঘুর ঘুর করি... কিছু বলি না... মা'ও বলে না। আমার ভেতর উথাল পাথাল। কি করা যায়... কি করা যায়। কিভাবে মায়ের রাগ ভাঙানো যায়। কষ্টে সারাটা রাত ঘুম আসেনি। কেনো এমন করলাম মায়ের সাথে? আরেকটু ভাল ভাবে বলা যেত কথাগুলো। এটা আমাদের অনেকেরই হয় ...

ছোট থেকেই একটা কথা শুনে আসছি... শিশুদের জন্য জাপান... তারুণ্য এবং যৌবনে পশ্চিমা দেশ আর বার্ধক্যে ভারত উপমহাদেশ। বয়ষ্কদের যত্ন ... তাদের সেবা শুশ্রুষায় ভারত উপমহাদেশের প্রশংসা সবসময় ছিল তবে এটা কতদিন থাকবে তা নিয়ে সন্দিহান। নইলে কি নচিকেতা গান বাধেঁ?
ছেলে আমার মস্ত মানুষ মস্ত অফিসার
মস্ত ফ্লাটে যায়না দেখা এপার ওপার
নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামী দামী
সবচে কমদামী ছিলাম একমাত্র আমি

ছেলের আমার, আমার প্রতি অগাধ সম্ভ্রম
আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম।।

http://www.youtube.com/watch?v=cEdWxhA6FS8&feature=related

চলে যাওয়া মা দিবসে 'সেভ দ্যা চিলড্রেন' একটা সংবাদ প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায় সারা বিশ্বের মায়েদের মধ্যে ভারতের অবস্থান সবচাইতে নিচের দিকে। রিপোর্টটা খুবই পীড়াদায়ক। খুব কষ্ট পাই মায়েদের নিয়ে কোন নেগেটিভ লেখাতে। ৭৭টি দেশের মধ্যে আমাদের  ভারতের জায়গা ৭৩ নম্বরে। মায়েদের এই দুরবস্থার মূল কারণ দারিদ্রপীড়িত গ্রামগুলোতে চিকিৎসা সেবার ঘাটতি। মায়েদের প্রসব কালীন মৃত্যুর হার এক লক্ষে ২৫৪ জন।

‘সেভ দ্যা চিলড্রেন' বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১৬৬ টি দেশকে নিয়ে তালিকা তৈরী করেছে। সেখানে স্বল্পোন্নত ৪০টি দেশের মায়েদের মধ্যে ভারতের  অবস্থান ১৪২ । এটাকে নিয়ে সন্তোষ প্রকাশের কিছু নেই। আমাদের মায়েরা কি পরিমাণ দুর্দশাগ্রস্থ তা আমরা অবগত। প্রসুতী মায়ের যত্ন শহড়ে কিছুটা হয় বৈকি গ্রামাঞ্চলের চিত্র হতাশা ব্যাঞ্জক।

ফেসবুকিংয়ে একটি সংবাদের শেয়ার করা লিংক ধরে পড়লাম সবটুকুই... মাকে সরাসরি দেখে বা স্পর্শ করে শিশু যে মানসিক স্বস্তি পায় টেলিফোনে কেবল মায়ের কন্ঠ শুনেই তারা সেই একই স্বস্তি পেতে পারে। নতুন এক গবেষণায় এ কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা। গবেষণার ফল এটাই প্রমাণ করছে যে, সম্পর্কের বন্ধনের ক্ষেত্রে স্পর্শের মতো কণ্ঠস্বরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।  আর তাই আমরা... মাকে ছেড়ে দুরে থাকা সন্তানেরা সারা সপ্তাহ অমানুষিক পরিশ্রম শেষে মাকে একটা ফোন করি... যা আমাদের সপ্তাহের ক্লান্তি এক নিমেষেই হাওয়া করে দেয়।

সদ্য ভ্রুণ থেকে ভুমিষ্ঠ হ্ওয়া শিশুটির প্রথম যে শব্দটি উচ্চারণ করে তা হলো মা। পৃথিবীতে এর চেয়ে মধুর কোন শব্দ হতে পারে না। জন্ম প্রক্রিয়ার শুরু থেকে পৃথিবীর আলোর মুখ দেখা পর্যন্ত... প্রতিটি স্তরে স্তরেই মা। প্রচণ্ড অসুস্থ অবস্থায়ও মা তার সন্তানের হাসি মুখ দেখতে চায়। ত্যাগী মহিমাময় এই মায়েদের জন্য আর কিছু করতে না পারি অন্তত তাদের মুখে যেন কখনোই দু:খের ছায়া পরতে না দেই।
সংসারের প্রতিদিনের ব্যস্ততায় কপালে বিন্দু বিন্দু ঘামে আমার মায়ের মুখে জীর্ণতার ছোঁয়া লাগে ... চাঁদের হাসিটা মলিন হয় ... কিন্তু ফুরসত নেই মায়ের ভালবাসার। অন্তহীন এই ভালবাসা। এই ঋণ আমি কেউ কখনোই শোধ করতে পারবো না।
সব শেষে হুমায়ুন আজাদের একটি কবিতা তুলে দেই

আমাদের মা – হুমায়ুন আজাদ
আমাদের মাকে আমরা বলতাম তুমি, বাবাকে আপনি।
আমাদের মা গরিব প্রজার মত দাঁড়াতো বাবার সামনে,
কথা বলতে গিয়ে কখনোই কথা শেষ ক’রে উঠতে পারতোনা।
আমাদের মাকে বাবার সামনে এমন তুচ্ছ দেখাতো যে
মাকে আপনি বলার কথা আমাদের কোনোদিন মনেই হয়নি।
আমাদের মা আমাদের থেকে বড় ছিলো, কিন্তু ছিলো আমাদের সমান।
আমাদের মা ছিলো আমাদের শ্রেনীর, আমাদের বর্ণের, আমাদের গোত্রের।
বাবা ছিলেন অনেকটা আল্লার মতো, তার জ্যোতি দেখলে আমরা সেজদা দিতাম
বাবা ছিলেন অনেকটা সিংহের মতো, তার গর্জনে আমরা কাঁপতে থাকতাম
বাবা ছিলেন অনেকটা আড়িয়াল বিলের প্রচন্ড চিলের মতো, তার ছায়া দেখলেই
মুরগির বাচ্চার মতো আমরা মায়ের ডানার নিচে লুকিয়ে পড়তাম।
ছায়া সরে গেলে আবার বের হয়ে আকাশ দেখতাম।
আমাদের মা ছিলো অশ্রুবিন্দু-দিনরাত টলমল করতো
আমাদের মা ছিলো বনফুলের পাপড়ি;-সারাদিন ঝরে ঝরে পড়তো,
আমাদের মা ছিলো ধানখেত-সোনা হয়ে দিকে দিকে বিছিয়ে থাকতো।
আমাদের মা ছিলো দুধভাত-তিন বেলা আমাদের পাতে ঘন হয়ে থাকতো।
আমাদের মা ছিলো ছোট্ট পুকুর-আমরা তাতে দিনরাত সাঁতার কাটতাম।
আমাদের মার কোনো ব্যক্তিগত জীবন ছিলো কিনা আমরা জানি না।
আমাদের মাকে আমি কখনো বাবার বাহুতে দেখি নি।
আমি জানি না মাকে জড়িয়ে ধরে বাবা কখনো চুমু খেয়েছেন কি না
চুমু খেলে মার ঠোঁট ওরকম শুকনো থাকতো না।
আমরা ছোট ছিলাম, কিন্তু বছর বছর আমরা বড় হতে থাকি,
আমাদের মা বড় ছিলো, কিন্তু বছর বছর মা ছোটো হতে থাকে।
ষষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ার সময়ও আমি ভয় পেয়ে মাকে জড়িয়ে ধরতাম।
সপ্তম শ্রেনীতে ওঠার পর ভয় পেয়ে মা একদিন আমাকে জড়িয়ে ধরে।
আমাদের মা দিন দিন ছোটো হতে থাকে
আমাদের মা দিন দিন ভয় পেতে থাকে।
আমাদের মা আর বনফুলের পাপড়ি নয়, সারাদিন ঝরে ঝরে পড়েনা
আমাদের মা আর ধানখেত নয়, সোনা হয়ে বিছিয়ে থাকে না
আমাদের মা আর দুধভাত নয়, আমরা আর দুধভাত পছন্দ করিনা,
আমাদের মা আর ছোট্ট পুকুর নয়, পুকুরে সাঁতার কাটতে আমরা কবে ভুলে গেছি।
কিন্তু আমাদের মা আজো অশ্রুবিন্দু, গ্রাম থেকে নগর পর্যন্ত
আমাদের মা আজো টলমল করে।

কোরিয়ান চলচ্চিত্র (রোমান্টিক)- My Sassy Girl



:) :) :)



মেয়েটাকে প্রথম দেখা রেস্তোরার জানালা দিয়ে বাইরের আলোক বিচ্ছুরণের এক মুহূর্তে , তারপর দ্বিতীয়বার স্টেশনে । একটা অদ্ভুত দায়িত্ববোধ না চাইতেও পূরণ করতে হয় । পাশের সহযাত্রীরা ভাবতে শুরু করে মেয়েটা তার প্রেমিকা । এক অদ্ভুত সম্পর্কে না চাইতে বাঁধা পরে যায় দুজন । একটা মুহূর্ত যেন একটা সম্পর্কের শুরুর অপেক্ষায় ছিল যেন । রেলস্টেশন , পথ , সময় , মানুষগুলো , রাতের আকাশ যেন অপেক্ষায় ছিল দুজন তরুণ-তরুণীর প্রেমের শুরুর ।

হো সিক কিমের নিজের জীবনের কাহিনী নিয়ে একটি বই বের করেন । নিজের এবং তার প্রেমিকার সাথে পরিচয় , তাদের প্রেমের মুহূর্তগুলো উঠে আসে সেই প্রেমের বইয়ে । কোরিয়ার বেস্ট সেলিং সেই বইয়ের গল্প নিয়েই পরবর্তীতে কোরিয়ান ভাষায় "My Sassy girl" চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন নির্মাতা ও স্ক্রিপ রাইটার জেই ইয়ংক । আর সেই প্রেমিক-প্রেমিকা জুটিতে দেখা যায় তেই হুন চে ও জি হুন জুন ।

২০০১ সালে কোরিয়ায় মুক্তি পাওয়া ছবির সমগ্র দৃশ্যপটজুড়েই ভালোবাসার কথা। ভালোবাসা এক অসংজ্ঞায়িত অনুভব , কথা । ধরা কিংবা স্পর্শের বাইরে থাকা অনুভূতিগুলো কখন যে দরজায় কড়া নাড়ে বোঝানো যায় না,ঠিক বলে কয়ে আসেনা । ভালোবাসা হয়ত এমন-

বুকের ভেতর স্বপ্ন পুষি
তোমায় নিয়ে আমায় নিয়ে ,
বুকপকেটের নিচে আমার হৃদপিণ্ড
তোমার পায়ের শব্দ জানে ।

She’s the nicest girl I’ve met ,তাকে কখনো যেতে দিওনা” , এই লাইনটির পর মনে হওয়া স্বাভাবিক কেউ একজন এরকম থাকলে মন্দ হয়না , মেঘ কিংবা বৃষ্টির এক সাথে হাঁটতে পারলে অন্যরকম হতো সময়গুলো । ভালোবাসা অনুভবের , স্পর্শহীন ।

ছেলেটা আবোল তাবোল মেয়েটা পাগল পাগল অবস্থা যখন এইরকম অবস্থায় তখন একে ভালোবাসা বলা হবে নাকি নিছক ভালো লাগা কিংবা হঠাৎ ভালো লাগা বলা যায় । সিনেমার শুরুটাও ঠিক এরকম অবস্থা ,ছেলেটা যখন বিব্রত কিংবা সিরিয়াস সেখানে মেয়েটির জীবন সম্পর্কে অদ্ভুত মনোভাব । জীবন আসলে কিছুই না , জীবন একটা শুধুই হাওয়াই বাতাস । সেই জীবন দিয়ে আসলে কি হয় , এইরকম একটা মেয়ের সাথেই পরিচয় হয় কেউনও'র সাথে । মায়ের কথায় আন্টির সাথে দেখা করতে যাবে ঠিক এরকম মুহূর্তেই হঠাৎ দেখা মেয়েটির সাথে । ব্যাপারটা যেন এমন ,হঠাৎ দেখা তোমার সাথে ,নাম জানিনা ডাকবো কি নামে !


একটা অচেনা অজানা মেয়ে কিভাবে যেন কেউনও'র মনের ভেতরে বিশাল জায়গা করে নিতে থাকে , সম্পর্কের অনুভূতিগুলো ক্রমান্বয়ে গভীর হতে থাকে । একটা কেমন যেন সূক্ষ্ম দায়িত্বের অনুভূতি , নিজেদের সম্পর্কের এক আনয়ন ডানা মেলতে থাকে নিজেদের পরিচিত বলয়ে । বেঁচে থাকার অর্থ , জীবনের পথ অন্যরকম হয়ে যেতে থাকে একজন কেউনও'র কাছে । যেখানে ভালো লাগা – ভালোবাসার অপর নাম দাঁড়িয়ে যায় দুজনের কাছে অনুভব , দায়িত্বের বিচ্ছুরণ ।


কেউ ভালোবাসার পেছনে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত কিন্তু ভালোবাসার মানুষ আসেনা জীবনে , ভালোবাসার কাউকে পায় না । আর কেউ কখনোই ভালোবাসা বুঝে না কিংবা এই বিষয়সব তাকে স্পর্শই করে না, তার কাছে অদ্ভুতভাবে ভালোবাসা নিয়ে কেউ একজন উপস্থিত হয়। আর কেউ সারা জীবন ভালোবাসার মানুষকে ভালো রাখতে নিজেই সারাক্ষণ ছুটে বেড়ায় । অনুভব , স্পর্শের দেয়াল সব এক পিচে ঢাকা রাস্তার ওপর এসে উপস্থিত হয় , হাঁটে।

মুভি রিভিউ - GONE GIRL

 
 অনেক  দেরীতে হলেও দেখবো দেখবো করে অবশেষে পাক্কা আড়াই ঘন্টার মুভিটা দেখে ফেললাম । আমি জিলিয়ান ফ্লিনের লেখা একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে ‘গন গার্ল’ মুভিটির কথা বলছি । যে বন্ডগার্ল রোজামন্ড পাইককে আমার বিন্দুমাত্র পছন্দ হয়নি সেই বন্ডগার্লই (ডাই অ্যানাদার ডে) গনগার্ল এ দুদার্ন্ত অভিনয় করে আমার মন জয় করে নিয়েছে । এর জন্য অবশ্যই পরিচালক ফিঞ্চার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতেই হবেই । চিত্রনাট্য অনুযায়ী অভিনেত্রী হতে সঠিক অভিনয়টুকু বের করে নিয়ে আসার জন্য ।
.
আজকালকার মুভিগুলো সচরাচর আড়াই ঘন্টার হয় না । তাই আমরাও মানসিক ভাবে আড়াই ঘন্টার মুভি দেখতে অভ্যস্ত নই । তবে হলিউড ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডের ১৮ তম আসরের সেরা মুভিটিকে একবার দেখতে বসলে উঠে যাওয়া বড়ই মুসকিল ।
.



কাহিনী শুরু নিককে নিয়ে । নিক ও এমির সুখের সংসার । পুরো শহরের সবাই তাদের এই সুন্দর সুখী পরিবারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ । ৫ম বিবাহবার্ষিকীতে সে বাসায় ফিরে দেখতে পায় তার বিখ্যাত লেখিকা স্ত্রী এমি ঘরে নেই । ঘরের জিনিসপত্রও ভাঙ্গা । স্বাভাবিকভাবেই পুলিশকে জানালো হলো । এমি বিখ্যাত লেখিকা হওয়ার কারণেই মিডিয়াও ফলাও করে ওর খবর প্রকাশ করতে শুরু করলো ।





অপ্রস্তুত নিক অসংলগ্ন কথা বার্তা বলাতে পুলিশ , এমির শুভাকাঙ্খী ও তার ভক্তদের মনে এই সন্দেহ জাগে যে নিকই তার স্ত্রীকে খুন করেছে। মিডিয়াও নিককে ঘিরে এমনই এক রহস্যের সৃষ্ট করে । এর মাঝে এমির ব্যাক্তিগত জার্নাল খুঁজে পায় পুলিশ । যেখানে সন্দেহের তীর নিককেই বিদ্ধ করে । নিক ক্রমানয়ে বুঝতে পারে তাকে কেউ একজন ক্রমাগত ফাঁসিয়ে যাচ্ছে । অবশেষে বুঝতে পারলো কে এই কার্লপ্রিট ।
.
এটি আর কেউ না তার প্রিয়তম স্ত্রী এমি স্বয়ং । কিন্তু কেন ?




.
আর বলবো না .... মজাটা স্পইল হয়ে যাবে । তবে মনে রাখবেন এই মুভির পরাতে পরাতে রহস্য । একদম খাঁটি মিস্ট্রি থ্রিলার । নিঃসন্দেহে ‘গন গার্ল’ ফিঞ্চারের আরেকটি মাস্টারপিস । অভিনব এক স্টাইলে এ মুভিটি তৈরি করা হয়েছে । কেউ যদি মুভিটি না দেখেন তাহলে কিন্তু মিস করবেন

Hachi: A Dog's Tale (2009) "“একটি বিষাদময় ভালোবাসার গল্প”

জাপানের একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে একজন প্রফেসর এবং একটি ফেইথফুল কুকুরের বিষাদময় ভালোবাসার গল্পের নাম ” হাচি- অ্যা ডগস ট্যাল”।



◆প্রথমেই মুভিটা সম্পর্কে নিজের কিছু অনুভূতির কথা বলি। আইএমডিবি এর টপ ২৫০ লিস্টে মুভিটির নাম এবং রেটিং ৮.২ দেখে মুভিটি দেখার আগ্রহ জাগলো। ভাবলাম কুকুর আর মানুষের কোন এক বন্ধন এর গল্প হবে,কুকুর লালন-পালন করবে ,মালিক এর কথা শুনবে ইত্যাদি ইত্যাদি।
কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
মুভিটি দেখার পর থেকে মনটা কেমন যেন ভারী হয়ে ছিল। এক দু ফোটা চোখের জলও পরেছে।

✦প্লট সামারিঃ
প্রফেসর পার্কার উইলসন প্রতিদিন ট্রেনে যাতায়ত করেন। একদিন ট্রেন ষ্টেশনে হারিয়ে যাওয়া একটি কুকুর দেখতে পান। প্রফেসর কুকুরটির প্রকৃত মালিক কে খোঁজার চেষ্টা করেন কিন্তু ব্যর্থ হোন। প্রফেসরের কুকুরটিকে পোষার ইচ্ছে থাকলেও তার স্ত্রীর দ্বিমত এর কারনে কাউকে পোষার দায়িত্ব দেয়ার চিন্তা ভাবনা করে বাট কিছুদিন পরে তার স্ত্রী বুঝতে পারেন যে তার স্বামী কুকুরটিকে খুব পছন্দ করেছেন। তারপর থেকে প্রফেসর কুকুরটিকে নিজের কাছে রেখে দেন এবং তার এক বন্ধু জাপানি প্রফেসরের মাধ্যমে নাম দেয় ” হাচি”।
বাকিটা মুভিতেই দেখে নিবেন, গ্যারান্টি দিচ্ছি অনেক অনেক ভালো লাগবে মুভিটি।
মুভির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এর প্রশংসা না করলে এক প্রকার অন্যায় হয়ে যাবে, অসাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছিলো পুরো মুভিতে।


✦কিছু ট্রিভিয়াঃ
▧১৯২৪ সালে জাপানের প্রফেসর Hidesaburō Ueno এর সত্য ঘটনা অবলম্বনে মুভিটি করা।

▧১৯৮৭ সালের জাপানি ফিল্ম “The Tale of Hachiko” এর অফিসিয়ালি রিমেক “Hachi: A Dog’s Tale”

▧প্রফেসর আর কুকুরের ঘটনাটি এতোই জনপ্রিয় যে অত্র ট্রেন স্টেশন এর সামনে “হাচি” কুকুরটির ব্রোঞ্জের মূর্তি রয়েছে এবং প্রতি বছর অনেক দর্শনার্থী সেটা দেখতে যান।

▧জাপানে হাচি “faithful dog” হিসেবে পরিচিত।

মুভি রিভিউঃ The Prestige

সবাই নতুন নতুন মুভির রিভিউ দিচ্ছে। কিন্তু আমি ফিরে গেলাম সেই ২০০৬ এর পুরোনো মুভির রিভিউ দিতে। কার যেন সেরা টুইস্টিং মুভি রিভিউ পড়েছিলাম। টুইস্টের কথা শুনেই এটার কথা মনে পড়লো।
স্পয়লার এলার্টঃ মুভির ৮৫-৯০% কথা বলা আছে। তবে বাকি যেই ১০-১৫% আছে - মুভি আসলে ঐটুকই।




মুভিঃ The Prestige
Genre: Sci-fi, Mystry, Drama
ডিরেক্টরঃ Chritopher "Twister' Nolan
স্ক্রিন প্লেঃ Jonathon Nolan & Christopher Nolan
সময়ঃ ১৩০ মিনিট
মিউজিকঃ David Juliyan
বেসড অনঃ The Prestige - Christopher Priest (1995)
IMDB Rating: 8.5

কাস্টঃ Hugh Jackman, Christian Bale, Micheal Caine, Scarlett Johansson, Rebecca Hall (মাল্টিস্টার কাস্ট - এরমাঝে মরগান ফ্রিম্যান না থাকায় দুঃক্ষ পাইছি!!! :( )


কাহিনীর হালকা বিবরণঃ
মুভির প্রথম ডায়লগ, "Are you watching closely?'

অনেকেই বলে যে, নোলানের সবচেয়ে প্যাচের মুভি ইনসেপশন। কিন্তু আমার কাছে এইটার চেয়ে বেশি প্যাচের মুভি মনে হয়ছে প্রেস্টিজকে।

দুই ম্যাজিশিয়ানের কাহিনী। তারা স্ট্রাগলার থাকে প্রথমে।

হিউ জ্যাকম্যান নায়ক ভূমিকায়।
আর ক্রিশ্চিয়ান বেল!! সে আসলে থাকে এক ভূমিকায় - যেইটাকে বলা যায় এন্টি হিরো।

যাই হোক, মুভির শুরুতে হিউ জ্যাকম্যান মারা যায়! সেইটার জন্য ধরা পড়ে ক্রিশ্চিয়ান বেল।



তাদের শত্রুতার কারণের জন্য একটু পিছনেই যেতে হয়,

এক ম্যাজিশিয়ান বা ইল্যুশনিস্ট মিল্টন। তার সহযোগী থাকে জুলিয়া। জুলিয়া হল রবার্ট অ্যাঞ্জিয়ারের (হিউ জ্যাকম্যান)। মিল্টন তার একটা ট্রিকে জুলিয়াকে হাত বেঁধে পানিপূর্ণ পাত্রে বন্দী করে। ঠিক একমিনিট পর জুলিয়া এস্কেপ করে ঐ পাত্র থেকে। এর জন্য দর্শক সারি থেকে দুজনকে ডাকা হয় হাত-পা বেঁধে দেওয়ার জন্য। একজন রবার্ট আরেকজন আলফ্রেড (বেল)। এই ট্রিকটির আর্কিটেক্ট কাটার (মাইকেল কেইন)।
একবার আলফ্রেডের ভুলে জুলিয়া এস্কেপ করতে পারে না। মারা যায়।

আলফ্রেড আর রবার্টের দ্বন্দ্ব শুরু তখন থেকেই।
দুইজনই ম্যাজিশিয়ান! দুইজনই চায় একজন আরেকজনকে ডুবাইতে। সেই সূত্রে, রবার্ট ছদ্মবেশে আলফ্রেডের শো তে যায় আর ট্রিকসের অংশ হিসেবে গুলি করে। কিন্তু রবার্ট সত্যিকারের গুলিই ছুড়ে! যার ফলে আঙ্গুল হারায় আলফ্রেড।

এরপর রবার্ট "The Great Danton' গিমিকে শো করা শুরু করে। কিন্তু সে অতটা দাম পায় না। কাটার যতই তার জন্য ট্রিকস ডিজাইন করুক - কোনটাতেই কাজ হত না।

অন্যদিকে, শহরেই "The Professor' গিমিকে আলফ্রেডও শো করা শুরু করে। তার একটি ট্রিক সব মানুষের মন তো বটেই - রবার্টের মনকেও জয় করে নেয়।
ট্রিকটি হল "The Transported Man'. এই ট্রিকে আলফ্রেড এক দরজার সামনে থেকে বল ছুড়ে দেয় - এবং বলটি সমান্তরালে থাকা আরেকদরজার কাছে আসতেই ধরে ফেলে। মানে, এক দরজা দিয়ে ঢুকে তার থেকে কয়েক মিটার দূরের আরেক দরজা দিয়ে বের হয় - মাত্র ১ সেকেন্ডেই। অসম্ভব এক ট্রিক।

রবার্ট ট্রিকটা চুরির তালে থাকে। সব বুঝলেই - রবার্ট ধরতে পারে না, আলফ্রেড এত তাড়াতাড়ি কিভাবে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যায়!!
কাটার বললো, হয়ত ডুপ্লিকেট কেউ! কিন্তু রবার্ট এত বার ট্রিকটি দেখেছে যে - তার কাছে ডুপ্লিকেট কাউকে মনে হয়নি। কারণ, সে গুলি করায় আলফ্রেডের যে আঙ্গুল কাঁটা গিয়েছিল - সেইটা তো ডুপ্লিকেটের থাকবে না। কিন্তু আঙ্গুল কাঁটা থাকায় বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, ঐ ট্রিকে একজনই আছে। আলফ্রেড।
আলফ্রেডের জনপ্রিয়তা তার সহ্য হয় না।

কাহিনীর শুরু এর পর থেকেই। রবার্টও এইটাকে মডিফাই করে তার শো তে প্রদর্শন শুরু করে। সে ধরতে পারেনি ট্রিকটি - কিন্তু একদম তার আইডেন্টিকাল এক ডুপ্লিকেট থাকায় সে ট্রিকটি দেখাতে পারে। কিন্তু একসময় ধরা খায়।
এরপরও দমে না। নতুন করে আবার শুরু করে। নতুন রূপে। আলফ্রেডের ট্রিকটিই আরো মডিফাই করে। সাহায্য নেয় পদার্থবীদ নিকোলা টেসলার।

আর এরপর?
মুভি দেখেন এরপরেরটা জানতে। ঐটা কইতে পারুম না!!! এরপরের কাহিনী মাথার উপরে দিয়া যাওয়ার মত। পুরাই টাশকি কাহিনী।

যাই হোক, শেষে আলফ্রেডের ফাঁসি হয়।

মুভিটির সতর্কীকরণঃ
দেখলে প্যাচ খাইবেন।
একসময় দেখবেন - তারা জানে জিগরী দোস্ত, একই সময়ে শত্রু।
আলফ্রেড জেলে বন্দী, আবার সেই সময়ই শহরের কোনায় কোনায় শো দেখাইতেছে।
রবার্ট একবার খোঁড়া, একবার স্মার্ট, আরেকবার ক্ষেত, সাথে একই সময়ে ড্যান্টন, রবার্ট, অ্যাসিস্ট্যান্ট। আবার ঐসময়ই টেসলার লগে গপ্প করতাছে।

মানে পুরাই আওলা।

এই মুভি কতবার দেখছি তার কোন হিসেব নাই। প্রত্যেকবারই চমকাই।
ক্রিস্টোফার নোলান আসলেই বস। 

মুভি রিভিউঃ The Secret in Their Eyes (2009)

সিনেমাটি আইএমডিবি এর “সেরা ২৫০” সিনেমার মধ্যে ১৫০ নাম্বারে অবস্থান করছে। সিনেমাটি আর্জেন্টিয়ান ইউনিক মাস্টারপিস কেননা আর্জেন্টিনার প্রথম সিনেমা হিসেবে আইএমডিবির “Top 250” মুভির লিস্টে প্রবেশ করে। ফরেন সিনেমা গুলোর মান কেমন হলে আইএমডিবির এর টপ লিস্টে যোগ হয় মোটামুটি এই ধারনা আমরা সবাই রাখি।

 আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন হচ্ছে,এই সিনেমাটি ২০০৯ সালের অস্কারে সেরা বিদেশী চলচ্চিত্র হিসেবে জয়লাভ করে। সিনেমাটি সম্পর্কে আমার ব্যাক্তিগত অভিমত? অ্যা মুভি টু রিমেমবার……

দ্যা সিক্রেট ইন দেয়ার আই’স (২০০৯)
অরিজিনাল টাইটেলঃ El secreto de sus ojos
জনরাঃ ড্রামা । মিস্ট্রি । থ্রিলার
আইএমডিবি রেটিংঃ ৮.২/১০
রটেন টম্যাটোসঃ ৯১% ফ্রেশ
কাস্টিংঃ রিকার্দো দারিন, সোলদাদ ভিলামিন,পাবোলো রগো,গুলারমো ফ্রান্সেলা প্রমুখ।
ডিরেক্টরঃ হোয়ান জসে কাম্পান্যালা
দেশঃ আর্জেন্টিনা
ভাষাঃ স্প্যানিশ

সিনেমার প্লট সম্পর্কে কিছু বলি, অবসরপ্রাপ্ত ফেডারেল জাস্টিস এজেন্ট “বেঞ্জামিন এস্পসিতো” একটি উপন্যাস লেখার কথা ভাবছেন কিন্তু মনের মত গল্প পাচ্ছেন না, পেলেও কয়েক পৃষ্ঠা লেখে আর কন্টিনিউ করতে পারছেন না। তখন তার ২৫বছর পূর্বের কর্মরত অবস্থায় একটি অমীমাংসিত কেইস এর কথা মনে পরলো যেখানে একজন মহিলাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। এই গল্প নিয়ে উপন্যাস লেখার আইডিয়া সে অফিসার’স অফ জাজ “ইরেনে মেনেন্দে হ্যাথিন্স ” কে জানান (ইরেনে হ্যাথিন্স বেঞ্জামিনের পুর্বের সিনিয়র কলিগ,লাভ ইন্টারেস্ট ও এই কেইসে একই সাথে কাজ করেছেন)। তারপর ধারাবাহিক ভাবে ফ্ল্যাশব্যাকে ২৫বছর আগের ঘটনা শুরু হয়।

সিনেমাটিতে এক ভিন্ন স্বাদ পাওয়া যাবে। স্টোরি, এক্টিং, ক্যামেরা ওয়ার্ক,ডিরেকশন,সাউন্ড মিলে একটি অসাধারন সিনেমা পরিবেশন করা হয়েছে। তাছাড়া সিনেমাটি ভাল লাগার অন্যান্য কারন হিসেবে বলা যায় ড্রামা, থ্রিল আর মিস্টিরিয়াস ইভেন্ট এর সাথে রোমান্সের মিশ্রণ। ফ্ল্যাশব্যাকের গল্প শুরুর পর থেকেই পুরো সিনেমা জোরে একটা রহস্যময় পরিবেশ বিরাজমান ছিল। যদিও সিনেমার মাঝখানে একটু স্লো মনে হতে পারে বাট জনরায় ড্রামা উল্লেখ্ আছে যেহেতু এমনটা হওয়াও স্বাভাবিক। বাট বিলিভ মি, ক্লাইম্যাক্স উইল ব্লো ইয়ুর মাইন্ড B-)



অভিনেতা রিকার্দো দারিন এর সাথে পরিচয় ক্রাইম থ্রিলার “Nine Queens (2000)” এর মাধ্যমে ও মাস্টারপিস Wild Tales (2014) তেও তার পারফর্মেন্স অনেক ভালো লেগেছে। রিকার্দো দারিন কে আর্জেন্টিনার শক্তিমান তারকাদের শীর্ষে রাখা হয়। সুতরাং সে তার স্বভাবসুলভ অভিনয় করেছেন। ইরেনে হ্যাথিন্স চরিত্রে সলদাদ ভিলামিন কে বেশ সাবলীল ও গ্লেমারেস এবং পাবোলো সান্দাবাল চরিত্রে গুলারমো ফ্রান্সেলা কে অনেক ভালো লেগেছে। অন্যান্য পার্শচরিত্রেও সবাই ঠিকঠাক ছিলেন।
আর পরিচালক “হোয়ান জসে কাম্পান্যালা” এর এই সিনেমাটি সহ ২০০২ সালে “Son of the Bride” বেস্ট ফরেন ফিল্ম ক্যাটাগরিতে নমিনেশন পেয়েছিলেন। নিঃসন্দেহে তিনি একজন গুণী পরিচালক। এই সিনেমার পরিচালনার পাশাপাশি কো-রাইটারও ছিলেন।

আর সিনেমায় অসাধারন কিছু লাইন আছে,তার মধ্যে আমার প্রিয়ঃ
◆A guy can change anything but he can’t change his passion
◆If you keep going over the past, you’re going to end up with a thousand pasts and no future
◆ Choose carefully. Memories are all we end up with. At least pick the nice ones.
◆How do you live a life full of nothing?

কৈশোরে ফেরার টান, অতঃপর নষ্টালজিয়া...


রোদেলা সময়, জানালার গ্রীল ধরে বেড়ে ওঠা অপরাজিতা।
প্রবল বেগে অপরাজিতাটা তার বয়স বাড়াচ্ছে- জানালার সাথে জড়িয়ে নিচ্ছে তার জীবন। এইতো ক'দিন আগে অঙকুর থেকে বাচ্চা অপরাজিতাটাকে দেখে কি অনুমান করা যেতো এভাবে তার জীবন গড়ে ওঠবে জানালার সাথে। আচ্ছা অপরাজিতাটাকি নষ্টালজিয়াতে ভোগেনা??


ওর কি ইচ্ছে করেনা ফিরে যেতে তার অঙ্কুরবেলাতে, তার শিশুবেলাতে...
আজ অপরাজিতার ঘাড়ে পড়েছে শহুরে মেজাজকে সবুজ করার ভার।
অপরাজিতাটি কারো প্রেমে পড়েছে কি??
হয়তো না, হলে হয়তো জীবনের তাপে ডগা নুইয়ে দিতো-

আমার ইচ্ছে করে, চলে যেতে সেই কৈশোরে, যেখানে ব্যস্ততা নেই, যেখানে সবুজ মন ছুটে চলে দুরন্ত গতিতে।
ইচ্ছে করে, রাত আটটা বাজতেই যেনো চোখে ঘুম চলে আসে, ইচ্ছে করে যেনো ভোর হতেই ঘুম ভেঙ্গে যায়।
ইচ্ছে করে আগের মতন, এতোসব জ্বালার বাইরে- কেবল মা কিংবা বাবার  বকুনির ভয়টাই যেনো থাকে বুকের ভেতরে।

এই যে এক জীবন যেখানে সবকিছুর মানে পালিয়ে যাওয়া - সেখান থেকে পালিয়ে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে; মনে হচ্ছে কাউকে যেনো কিছু না বলে চলে যাই কৈশোরে।

আচ্ছা একেই কি নষ্টালজিয়া বলে?
ব্যাপকভাবে কৈশোরে ফিরে যাবার প্রবনতা, সেখান থেকে ফেলে আসা স্মৃতির বুকে লাফালাফি করতে, শৈশবের গালে চুমু আঁকতে মন চাচ্ছে।
বুকের মাঝে তীব্র ধুকধুকানি হচ্ছে, পেছনের কিছু ভুলকেও ফুল মনে হচ্ছে।

রাত বিরাতে ফিরে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে পেছনের সময়ে; যেই ট্রেনে করে এসেছি আজ এই ক্ষণে- কাল সকালে প্রভাতি হয়ে আবার কেনো পারবোনা ফিরে যেতে আমার কৈশোরে।


এই বোধকরি নষ্টালজিয়া। ভীষণ ভুগছি এই জ্বরে!!

ব্যক্তিগত কথাকাব্য

    
                         ১।
শহরের সব প্রবেশ মুখের গিঁট খুলে একবার
আমি অরণ্যে গিয়েছিলাম। গাছের
শরীরে লিখে এসেছিলাম নগর আর নাগরিক
জীবনের আত্নকথা। তাবুর
দরজা খুলে নির্ভয়ে ঘুমানোর গল্প।আজ অনেক বছর পর
একটা ইমেইল পেলাম সেখানে লেখা –
আপনি মিথ্যুক !


                            ২। 

আমি জানি আমার দশ হাজার একশ পঁচিশ দিনের
জমানো পূর্নিমাকে তুমি নিমিষেই
অমবস্যা করে দিতে পার। সে ক্ষমতা তোমার
আছে। তারপরেও আমি তোমার দিকে হাঁটছি,
তোমার সেই রেখে যাওয়া পথে। এটা দুঃসাহস
নয়, এটা বুকের পাঁজরের ভিতর
লুকিয়ে থাকা উম্মাদনা। যেটাকে পৃথিবীর মানুষ
নাম দিয়েছে ‘প্রেম’।


                             ৩।
 
আমি একটা শব্দ খুঁজি যে শব্দ দিয়ে একটা গল্প
হবে। আমি একটা মানুষ খুঁজি যে মানুষ আমার
গল্প শুনবে। আমি যখন শব্দ খুজে পাই তখন
মানুষ পাইনা,আর যখন মানুষ খুঁজে পাই তখন
শব্দ ভুলে যাই। তাই শব্দ আর মানুষের
মাঝখানে আমি শুধু ঘুরাঘুরি করি।


                            ৪। 

বালিকা,
তোমার রেখে যাওয়া ফুল
আমি আজও পাহারা দেই,
আজও সে ফুলে সাজানো হয়
অতিথি পাখি দম্পতির কুয়াশা রাতের শয্যা।

                         ৫।
ইদানিং পথে অনেক কিছু কূড়িয়ে পাই
যেমন সেদিন হিটলারের একটা ডায়েরি পেলাম,
আচানক বিষয়-
সে ডায়েরিতে মানুষের কথা লেখা আছে
সাথে প্রেম ভালবাসার কথাও।

                   
 

এক অদ্ভুত আফসোস তরল

টি-ব্যাগে বানানো চায়ের কাপে কোনো মেয়ের
ভালোবাসা লেগে থাকে না। যত্ন লেগে থাকে না।

চা পাতা, চিনি আর এলাচের যথার্থ পরিমান
জানা কোনো বুদ্ধিমতির কৌশল সেখানে নেই।
দরদ ভরে হাতে ধরিয়ে দিয়ে যাওয়া চায়ের কাপটার
হাতলে লেগে থাকে না কারো 'একটু আগের
স্পর্শ'।


এটাকে চা বলা যায় না। এটা টি-
ব্যাগে তৈরী হওয়া এক অদ্ভুত আফসোস তরল।

হাসি- কান্না-হীরে-পান্নায় মোড়া দিনগুলো

আমার সব চেয়ে ভাল লাগা টুকুন
তোকেই দেবো আমি...

যে কষ্টে টুপ কোরে কেঁদে নিয়েছিল
আমার চোখ সেইটেও
রেখে দেবো এখানে..


ঝলমলে সকাল-মন কেমন করা দুপুর-
দুষ্টুমি মাখা বিকেল-গভীর ঘন রাত
সব দেবো তোকে… …

সেই কবেকার গ্রীষ্মের দুপুরের
কুলপিমালাই আর
ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে মায়ের
চোখএড়িয়ে জমা জলে ভাসানো কাগজের
নৌকোটাও তোর জন্যেই রইলো।

হাসি-
কান্না-হীরে-পান্নায়
মোড়া দিনগুলো আজ থেকে শুধু
একলা আমার নয় তোর ও…… ..

এখন আমি হাজার হাজার নিষ্কাম গাঙচিল দেখে নিয়েছি

এরপর একটা শীতের দিন হেলেপড়া বিকেলের উষ্ণ রোদ শরীরে লাগলে আমি পুজো আর বড়দিনের পার্থক্য ভুলে যাই। 

ফাঁকা রাস্তা দেখে লম্বা লম্বা চুমু খেতে ইচ্ছাকরে শহরের পথঘাট গুলোকে।
কিন্তু মাংসের ভালোবাসা ধরে রেখে কংক্রিট এর সাথে ঠিক জমে না সম্পর্ক!


অন্যদিকে, স্মৃতিতে কলিজার রক্তঝরার কালে যে গান ভুল সুরে মিশে গেছিলো, সে গান আবারও ভুল সুরে বাজতে থাকলে আরেকবার কোলে ফেরার পাশাপাশি শুধু ঘাসফড়িঙের মাঠেই ফিরতে ইচ্ছা করে।

সম্ভব না, অতীতে ফেরা গেলেও যেতাম না।
কেননা, এখন আমি হাজার হাজার নিষ্কাম গাঙচিল দেখে নিয়েছি।

হারিয়ে যাওয়ার নিষেধ নেই

হারিয়ে যাওয়ার নিষেধ নেই,
কেবল পিছুডাক আমায় অনাহূত হয়ে আটকে রাখে।

ভাতের প্লেটে ধোঁয়া ধোঁয়া ভাতে সবই আছে,
বিলের কৈ,
ঘন ঝোল আর কথা,
কেবল আমিই নেই।


এক ভরদুপুরে আমতলায় জমে থাকা কুয়াশা আমায়
ডেকেছে,
হোক না শেষ কিংবা প্রথম দেখা,
তবুও তোর নামটি থাক হয়ে দ্বিতীয়া,
বন্ধুর সন্ধ্যা খেয়ালের সুরে।

দুম করে কোনদিন বুকের বামপাশটা কেমন করে উঠলে
বুঝিস,
সব গুলিয়ে গেছে চৌতারার মেলায় সন্ধ্যা আসরে,
কেবল আবছা আবছা মুখগুলো অনবরত সুখ সুখ করে
নিজের বুকেই খুঁড়ে মরে।

বন্ধু চৌতারায় আর দম দিসনে,
বুকের ভেতরটা একটা বড্ড চুপ ভর দুপুরের মত লাগে।

আমি হয়তবা মরে যাবো,
একটা ভরদুপুরে অনন্ত নির্বাসনের অজুহাতে।

তোর ভাতের প্লেটে জমা আঙ্গুল আঙ্গুল আঁকে নাইবা
রইলাম,
তোর চৌতারা আর তবলার কান্নায় ঠিকই মিশে রব রে।

একটা গান হবে পাগলা?

একটা বাউলের বোবা কান্না হবে?

“তোর সাথে নদী পথে শেষ আলো মাখা”

Image result for light windআজ বা কাল, অনেকটা ধুয়ে গেছে মন। বার বার ভুলে গেছে ভুলে যাওয়া। জানি অনেক লেখার মতন এ লেখাও পাবে না তোর ছোঁয়াচ। তবু আজ মন বড় টলটলে দিঘী। ডুব জলে সেই কবে আনমনা অবগাহন। ভালো লাগা পলির মতন জমে নদীর মোহনায়। সেই পলি ছেঁচে নিয়ে চোখ আঁকে ভালোবাসা দেবতা ছলে। এখন এই সব দিনে একা হওয়া তুই আর আসিস না ছাতের সে কার্ণীশ বেয়ে। মেঘেরা তবু রোজ একবার করে এ শহরের শার্সীর আর্শীতে আর্জি জানিয়ে যায় তোকে ভেজাতে চেয়ে।


 ভিজে যায় তোর মন-চোখ-শরীর।
তবু সে চোরাবালি পথে এখনও অনেক উত্তাপে প্লাবনও বাষ্প হয়ে উবে যায়, উড়ে যায়  অজানায়।


সেদিন, হঠাৎ পথের বাঁকে, কি জানি কার ডাকে,  দেবদারু খুঁজে দিয়ে গেছে নিজেকে। অনেক আলোর দিনেও, সে দেবদারুর পাতার গন্ধ-ছায়ায় তোকেই খুঁজেছে উত্তপ্ত নিঃশ্বাস। সেদিনেও গুঁড়ো গুঁড়ো বৃষ্টিরা এসেছিলো নিয়ে যেতে তোকে, বাধা পেয়ে জল-চোখে মিলিয়েছে পারাপারে। দৃষ্টির এতটুকু আকাশ, চাইতে গিয়ে গুটিয়ে গিয়েছি নিজের কোলের ভিতরে।


Image result for light windরাতের পর রাত নিজের কোলে কোল পেতে নিজেকে ঘুম পাড়াই আমি। তুই এখন অগুন্তি তারার গাঢ় পর্দার ওদিকে। আস্তে আস্তে বড় হয় দীর্ঘশ্বাস। একটু একটু করে নীল রঙা রাতভোর। আর শিশির ভেজা শিউলির গন্ধের মতন একটু একটু করে রোদ পেয়ে মুছে যাস তুই। কেউ বোঝেনা জানিস। কেউ না। আমার এইসব হেঁয়ালির মতন উদবৃত্ত হয়ে যাস তুইও। উপাচারে যেমন অসম্মানিত ঈশ্বর, অবহেলায় তেমনি তোর বিসর্জন।


এখনও আমি নদী খুঁজি রোজ। দেবদারু পাতাদের কানে কানে রোজ বোলি, নদী ডাক বারিষ। নদী খুঁজি রোজ, চুপি চুপি আনমনে, শহরের পথে পথে, মনে মনে, বিসর্জনের সময় এসেছে বোধে-অবোধে। তোকে কি চেয়েছে কেউ? বা আমি? পাঁজরের খাঁচার একটা একটা করে আগল উপড়ে নিচ্ছি রোজ। আর একটু একটু করে তোকে রোজ ভাসান দিচ্ছি ঘোলা জলে।

 বৃষ্টির সামনে রোজ হাঁটু গেড়ে বসি, দুহাত পেতে ভিখারির বেশে বলি , “নদী দে, আরবার একবার নদী দে”।

জানি তোকে দুহাত দিয়ে আগলে রেখেছে সকলে।
তবু কেউ জানবেনা, এখন, ঠিক এই সব মূহুর্তেরা বড় বেশি নিঃসঙ্কোচে নিঃসঙ্গ। “একলা হবি বন্ধু?”, ফিসফিস চুপিসাড়ে কান পাতাপাতি খেলার দিন। হাতের মুঠি খুলে গেলো হঠাৎ হাওয়ার টানে। এলোমেলো এক পলকে সব বোঝাবুঝি। আঙুলের আলগা হল ফাঁক। একে একে চলে গেলি তুই, এক পা এক পা করে; এই আজ সকালে কেউ বোঝেনি, কেউ না, আমিও বুঝিনি, তোর শেষ আকার টুকুন মিশে গেলো ছায়াপথে।


অনেক ক্ষণ তারপর থেকে, হঠাৎ একা হয়ে যাওয়া। সেই কবে জন্ম মূহুর্ত থেকে ধরে রেখেছিলি, ধারণ করেছিলি মায়েরই মতন। ছুটির দিনের মতন অনেকখানি আরামের সোহাগ তুই।

 নাহ, এখন এই চাঁদ-রঙা সন্ধ্যেতে, প্রতিটা কোনে, মনের প্রতিটা আলপথে, ছাতের সেই সব কার্ণিশের আনাচে কানাচে, ছলছলে আর্শীতে, অপলকে চেয়ে থেকেছি, যদি পাই তোকে। তুই নেই, আর। এখন অনেকখানি কাজ জড়ো হয়ে গেছে শুধু। যে শব্দেরা কোথায় উড়ে গেছিলো তোর ডানা হয়ে, আজ তারা হাওয়া পথে ফিরে এসে ঘিরে আছে আমায়।


শব্দেরা আজ থেকে মাতৃ জঠর; হাঁটু দুটো বুকের কাছে নিয়ে এসে মাথা রেখে জড়িয়ে নিয়েছি নিজেকে, আচমকা নিজের কাছে বড় বেশি বেয়াব্রু আমি।

 কষ্টের গল্পটা সকলেই জানতে চায়, তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করে তোর ক্ষরণ। ফোঁটা ফোঁটা লবণাক্ত হয় যখন সময়, ‘অস্ফুটে বলে ফেলা স্বীকারক্তি’ কেউ হতে পারে না, তোর মতন করে।

তবু জানি, আমি বেঁচে থাকি। এ এক অন্যরকম বাঁচা, অন্য জীবন, তবু আমি বাঁচি। জীবনের প্রতি এ আমার অন্তহীন সন্ন্যাস। সে গেরুয়া তুই ধারণ করে আমিকে আমার হাতে ছেড়ে চলে যাস; বোধিসত্ব তুই এখনও নিষ্ঠুর, আজ থেকে আমি বরং তোর প্রারব্ধ কর্ম।

চৌকাঠ


নাহ! ঈশ্বরকে দেখিনি আমি। তোর চোখ বলে  দেয় এই বুঝি আশে পাশে ধূপ আর কর্পূরে মিশে-ভেসে, গাছে বসা সবুজ টিয়াটিকে রঙ দেন সবুজ।
তোর মন চেয়ে থাকি রোজ। কোথা থেকে আলো এসে ফিরোজা রঙে ধোয় আকাশ।

তারপর?


তারও পর, অনেক সময় পার হয় নদী। স্বপ্নের দেবদারু পাতা ঝরায়, পাতা সাজায়। আরো একটু ছোঁয়া পায় আকাশ। আর আরো একটু ঘুমে থামি আমি।


এখন বুঝি দুপুরে ওম। ঠিক যেন আফিঙের নেশা নেশা রোদ। ধুলোতে পায়ের পাতা খসখসে। আঙুলের ফাঁকে লাল রঙ।


কোথা থেকে গন্ধ এলো আমের মুকুলের। কি যে হয় আমার! অথচ দেখ এই ঠান্ডার ঘেরাটোপে আসবার কথা নয় সে ঘ্রাণের। তবু এলো, তোকে মনে আসার মতন করে।


একটাও শব্দ নেই বাতাসে এখন। জানিস, কান পেতে নিঃশ্বাস বন্ধ করে শুনতে চেষ্টা করেছি কতবার। বড় বেশি নিস্তব্ধ চারপাশ।

শব্দেরা তরঙ্গে তরঙ্গে তবু, আঙুলের ডগা বেয়ে ছুঁয়ে যায় মন, চোখ। অনেকটা অবকাশ হয়ে যাস কোন ফাঁকে আলগোছে।


তোকে দেখি, মনে মনে, আলতো আড়াল রেখে। রোজ রোজ ভাবি, পুড়ে যেতে বড় বুঝি সুখ। ঝলসে ঝলসেও কি আরামে থাকিস তুই!


একটু একটু করে আরেকটু অন্যরকম হয়ে যায় সময়। তবুও অনেকটা চলা বাকি থেকে যায়। এই এত দূর থেকে আনমনে ভাবি, পুড়ে যাওয়া মন থেকে কি করে ভাসাস চন্দনের গন্ধ?
এই গন্ধ, আর এই সোঁদা সোঁদা দিন, এই সব আজকাল নতুন।


সেই দিন যেই দিন, ঈশ্বরও নেমে আসেন তোর হাতে হাত রেখে পথে, আমিও ডিঙিয়ে যাই চৌকাঠ।

নিষ্পাপের অভিমানে, ভালো থাকিস তুই।

বৃষ্টি ঝরে যায়.....


''বৃষ্টি ঝরে যায় , দু চোখে গোপনে.।
সখি গো, নিলা না খবর যতনে
আশায় আশায় বসে থাকি তোমারো পথে
সখি গো, নিলা না খবর মনেতে।

তোমার ও চোখে কি , বৃষ্টি পরে টাপুর টুপুর
আমাকে মনে করে সারাটি বেলা
যত কথা ছিল মনে , বলেছি তোমাকে আমি
ভুলে কি গেছ সব হৃদয়ের কথা.।.।'


আমার প্রিয় অনেক গুলো গানের মধ্যে এই একটা গান.। আর প্রিয় ঋতু গুলোর মধ্যে বর্ষা। আর আজকের লেখা টাও আমার এক প্রিয় মানুষের জন্যই উৎসর্গ করা.। এমন কোনো বৃষ্টির দিন বা সন্ধ্যা ছিল না যে শত ব্যাস্ততার মাঝেও তার সাথে এক মিনিটের জন্য কথা বলা হয়নি। বা রাতে বৃষ্টির সময় জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আমি তাড় বিহীন ফোনের কল্যানে ঘন্টার পর ঘন্টা যে পার করিনি এমন দিন আমার মনে পড়ে না। এমনি তো কত কথাই হতো। কিন্তু বৃষ্টি ওর খুব প্রিয়। বৃষ্টির মধ্যে ভেজা, ওড় পাশা পাশি হাত ধরে হাঁটা, কত স্মৃতিই না জড়িয়ে আছে বৃষ্টিকে ঘিরে। বৃষ্টির রিম ঝিম শব্দের ছন্দের মতই ছিল ওর কথা বলা বিরাম হীন , আমি যদিও কথা কম বলি সব সময়ই কিন্তু ওর কথার মায়া জা্লে মুগ্ধ হয়ে শুধুই হ্যা, না , আচ্ছা, আর কিছু ছোট ছোট শব্দ ছাড়া কিছুই খুঁজে পেতাম না । অনেক সময় রাগ করে ফোন লাইন কেটে দিত, আমি আবার করতাম। ও রেগে গিয়ে বলতো, যদি কিছু নাই বলবে তো ফোন করবে কেনো? সত্যিই তো, তাহলে কেনো ফোন করলাম ? বলতাম তোমার কথা শোনার জন্য। ও বলতো যথেষ্ট হয়েছে শোনা আর নয়। নো মোর ফ্রি সার্ভিস। এখন যদি কিছু বলো তাহলেই কথার উত্তর বা নতুন করে কথা হবে না হয় রাখলাম বলে আবার রেখে দিত। আসলে ওর কথা শুনতে শুনতে যে , ওকে যা বলতে চেয়ে ছিলাম তাই ভুলে যেতাম। তো আমার দোষ কোথায়? যার জন্য করি চুড়ি সেই কিনা চোর বলে আর রাগ দেখায়। বাসার ফোন এই এক মাত্র আমার জন্য বিজি থাকে, সবার ঝাড়ি আর বকুনি সহ্যকরে ফোন দেই সেও কিনা রাগ দেখায়। যদি ভুলে যেতাম ফোন দিতে তাহলেও সমস্যা এখন ফোন দিয়ে কথা খুজে পাচ্ছি না সেটাও আর এক সমস্যা। আমি যে তোকে ভালবাসি এই কথা টা বলার জন্য বা বোঝাবার জন্যই এত ক্ষন ফোন ধরে তোমার রাগ, বকুনি, এত কিছু সহ্য করছি। তাও বোঝাতে পারছি না। বা বলতে পারছিনা.।


এই যে আমি তোর দিকে চেয়ে থাকি
এই যে আমি আমি দিন রাত্রি তোকে দেখি
তুই সুন্দর বলেই তো নাকি?
এই যে এত সারাদিন ঝগড়াঝাটি
ছুঁতায় নাতায় কথায় কথায় খুন সুটি
বুকের মধ্যে থাকিস বলেই তো নাকি?
এই যে এত মাথায় মাথায় ঠোকাঠুকি
কথায় কথায় অর্থহীন বকাঝকি
মনের মিল আছে বলেই তো নাকি?
এই যে ঘরে মিথ্যে বলে বাইরে বেরোই
ঘড়ির কাঁটা বন্ধ করে পথ চেয়ে রই
ভাল লাগে বলেই তো নাকি?
এই যে মেলায় যাবার জন্য ডাকি
ভীড়ের মধ্যে শক্ত হাতে ধরে রাখি
হারিয়ে যাবার ভয়েই তো নাকি?
এই যে এত ছলা কলা বুকের মধ্যে আগুন জ্বলা
'' ভালবাসি '' এই কথা টি আজো যে যায় নি বলা
ভালবাসি বলেই তো নাকি?


এখনো বৃষ্টির দিনে তোমার কথা মনে পড়ে, এখনো তোমার হাত ধরে পথ চলা খুব মিস করি এই বৃষ্টির দিনে। এখন আর কোনো মেলায় তোমার হাত ধরে যাওয়া হয় না, বা তোমার হাসি বা গান বা কথা কোন কিছুই আর আমার কাছে পৌছবে না। ফোন হাতে নিয়ে মুঠো করে বসে থাকি এই হয়তো তুমি ফোন দিবে এই হয়তো ফোন টা বেজে উঠবে। না আমিই ফোন দেব? না আজ আর আমার ফোন দেয়া ঠিক হবে না। কারন আজ তুমি অন্য কারো। তুমি সুখে থাক, ভাল থাক । এই কামনাই রইলো তোমার জন্য। আজ তোমার জন্যই তোমাকে বিসর্জন দিলাম এই বৃষ্টির দিনে।
এই হলো গানের লিঙ্ক ( http://www.youtube.com/watch?v=YHBE0ZSS3do&feature=player_embedded#! )

শহরতলী পেরিয়ে জেনে যাবো একদিন

আমার বলা না বলা সব তো লিখছেন ঈশ্বর ,
 তারও ।

দুজনে জেনে যাবো একদিন 

শহরতলী পেরিয়ে গেলে,

সেখানেই সামনা-সামনি বসে 

এক কাপ চা কিংবা

মহাসড়কজুড়ে ব্যস্ত যান দেখতে দেখতে
গোধূলি পার করে দেবো।

একদিন আমি ঘরে ফিরব না

 https://c1.staticflickr.com/3/2880/9116244887_68cf56a29e_b.jpg
‘পথ’ জন্ম থেকেই সবাইকে বাড়ি পৌছে দেয়,
একদিন আমি ঘরে ফিরব না
পথকে তার বাড়ি পৌছে দিব ।

একদিন আমি ঘরে ফিরব না
‘ছায়ার’ পাশে অনড় দাঁড়িয়ে থাকব,
ছায়া ক্লান্ত হয়ে পড়ার পর
ছায়াকে ছায়া দেব ।

একদিন আমি ঘরে ফিরব না-
প্রেমের মাঝে ডুব দেব,
‘প্রেমের’ মুখামুখি বসে দেখব
এ যাবত প্রেমে হারিয়ে যাওয়া
পৃথিবীর সব প্রেমিক প্রেমিকা।

অতঃপর মিমাংসা হবে
সব আলো কেন পথ দেখাতে পারে না?
সব পথ কেন সবাইকে ঘরে ফিরায় না?

আসব ফিরে তোমার সোহাগী কোলে

 
হে বৈদেশী বাতাস,
এই নাও আমার শরীরের সবটুকু গন্ধ
তোমাকে দিলাম।


তুমি যখন উড়তে উড়তে পৃথিবীর মানচিত্রের
সেই ক্ষুদ্র সবুজের ভিতর সোনালী ভূখন্ডে পৌছবে,
তখন তা ছড়িয়ে দিও ওর মুক্ত আকাশে।


ওর কানে কানে ফিসফিস করে বল-
আমার অনুভবের প্রতিটি স্তরে স্তরে
খুব যতন করে ওকে সাজিয়ে রেখেছি,
আমার ঘাড়ের উপর ক্রমাগত জমে
ওর কুসুম গরম নিঃশ্বাস,
সেই নিঃশ্বাস দুহাত ভরে
বুকের দেরাজে ভাঁজ করে রাখি।


ওর শূন্যতা প্রতি মিলি-সেকেন্ডে
আমার পাঁজরে চার্চের ঘন্টার মত বাজে।


ও যেন আমার জন্যে অপেক্ষায় থাকে,
আমি আসব ফিরে ওর সোহাগী কোলে ।

আমাদের সেই খুনসুটি বালকবেলা

একদিন তোমরা দেখবে
 ড্রয়ার ভর্তি আধ ছেঁড়া পৃষ্ঠাগুলোর একাকীত্ব,
দেয়াল বেয়ে রাত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে
 তোমাদের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে
তোমাদের সেই খিটমিটে দুপুর
 আর আমাদের সেই খুনসুটি বালকবেলা নিয়ে।

হুড তুলা রিক্সার ইউনিফর্ম পরা বালিকারা,
 সেদিন তোমরা বুঝবে
খুঁজতে খুঁজতে কেন নিজের পথে নিজে বারবার হারিয়ে যাওয়া,
কেন একি পথে বারবার হারিয়ে
 বারবার নিজেকে খুঁজে ফেরা।

মেইলবক্সে ঘরের কান্না জমে


পাখির শিসের বাঁকবাঁকে জীবনটাকে যারা মিশিয়ে দেয়
তাদের কোন ঘর থাকেনা –


ভাগ্যিস- আমার একটা ঘর আছে
সেই ঘরের একটা ঠিকানা আছে
বাইরের দেয়ালে টাঙানো একটা কালো মেইলবক্সও আছে ।


আমার সেই ঘর প্রায়ই ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদে
সেই কান্না মেইলবক্সে জমেজমে শুকিয়ে যায় ।


আমি আমার ঘরের কান্নার কারণ জানিনা
শুধু মাঝেমাঝে মেইলবক্স খোলে
শুকিয়ে যাওয়া কান্নাকে স্নান করিয়ে আর্দ্র করি ।

সন্ধ্যা হলে যে আমি অবিরাম হাঁটতে থাকি
তা হলো আমার ঘরে ফেরার  চেষ্টা ,
অথচ অনেকবার চেয়েছি
পাখির শিসের বাঁকবাঁকে জীবনটাকে মিশিয়ে দেই ।

জীবনের গন্ধ খুঁজে পাবে এখানেই

 
জীবনের গন্ধ খুঁজে পাবে এখানেই ,
এই সব মেটে আলের পথে হেঁটে যাওয়া
উদোম বালকের হাত ধরে অসুন্দর কিশোরীর
অবাধ গমন ,
সারা রাত বাদল জলে সিক্ত মহুয়া-বন
তারই মাঝে নির্মোহ চোখে সাবলীল
জল-ডুমুর অন্বেষণ ।


জীবনের গন্ধ খুঁজে পাবে এখানেই
সদ্য বৃষ্টির পর আকাশ-জুড়ে জেগে উঠা
রঙধনুর সাতরঙ্গে ক্রিয়ারত শিশুটির
অবাক চাহনিতে
শতচ্ছিন্ন প্রাচীন চাদরের আড়ালে
স্থবির বৃদ্ধের অগ্নি পোহানো সুখ যত
কুয়াশার শীতে । 



জীবনের গন্ধ খুঁজে পাবে এখানেই
এইসব হিরণ্ময় শাল সেগুনের বনে
গহীন পত্রের অঙ্কিত শিরায় লুকানো
যত ভালোবাসা ,
জলজ বন-ডাহুকীর ধূসর চোখে প্রকট
জমানো হৃদয় জুড়ে ডাহুকের প্রতি
হৃত ভালোবাসা । 



জীবনের গন্ধ খুঁজে পাবে এখানেই
মধ্যাহ্ন মাছরাঙার নিশ্চুপ মীন হত্যায়
জেলেদের নৌকার গলুইয়ে ভরপুর আমন
ভাতের সুগন্ধে
আধো আধো বুলি শেখা শিশুটির
আঙিনা জুড়ে হেঁটে চলা কম্পিত পায়ের
মৃদু ছন্দে । 


জীবনের গন্ধ খুঁজে পাবে এখানেই ,
এইসব বিরঞ্জিত কাশফুলেদের ভীড়ে ।

অরণ্য ঘুমিয়ে গেলে কোথায়


কেউ একজন হেঁটে চলে গেলো
পুষ্পবতীর চোখের ভেতর ,
অতলরাত্রি , জল-দৃশ্য , মায়া-হরিণ
এইসব দেখে শুনে অতঃপর ;
দৃষ্টিছায়ায় -
নৈঃশব্দ্যে মিশে যায় অবাধে ,
অরণ্য ঘুমিয়ে গেলে কোথায় যেন এক –
অন্ধ পাখি কাঁদে ! 



মৃত-পাহাড়ের নির্দেশিকা হাতে রেখে
কেউ একজন অরণ্যে হারিয়ে গেলে –
রাত্রিস্নাত পথ মেলে ধরে
কিছু সমুদ্র সুবাতাস
অথবা -
দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরে ঝরে পরে
অস্ফুট কামিনী ফুলের ঘ্রাণ !

 

হারানো বাঁশীর সুর ভেসে আসে ধীর লয়ে –
সেই পথ ধরে এগোলেই – এক অনিকেত প্রান্তর ,
অনির্দিষ্ট থেকে –
কেবলই শোনা যায় নিঃসঙ্গ পাতাদের মর্মর ।
কারা গেয়ে চলেছে অচেনা ভাষায় গান ?
অতল জলে একজনের ছায়া ম্লান !
ডুবে যাচ্ছে ক্রমশ –
সুগভীর থেকে সুগভীর অতলে !

আমি যে কেনো কাঁদি , জন্মাবধি !


আমি যে কেনো কাঁদি , জন্মাবধি ! বৃষ্টি-দগ্ধ হয়ে ডুবে থাকি কারো তন্দ্রাহত দৃষ্টির গভীরে । কুয়াশার ওপার থেকে ভেসে আসে শতাব্দী-প্রাচীন মৃতদের ডাক ; অনুজ্জ্বল আলোক বর্ণালী , অথচ তোমার উঠোন-জুড়ে প্রগাঢ় অন্ধকার এবং অজস্র মায়াবী ঘোড়া যুগপৎ ঘুমিয়ে থাকে । ঘোড়ার রূপালী চোখে দৃশ্যমান যে অশুভ পথ - আমি তো সে পথেই যেতে চেয়েছি এতটাকাল ধরে ।


মহাকাল নিদ্রিত হে হিমায়িত গাঙচিল ; উড়ে এসো রজনীগন্ধার ঝোপ ছেড়ে বিস্মৃত আঙুর বাগানে ! যে মেঘে রেখে এসেছি অনন্ত তৃষ্ণার প্রজাপতি , তার ডানাভাঙা রঙ , কারো চোখের কাজলদানী - সেই মেঘ ঘুরে ফিরে আসে এই কুয়াশার বনে । বৃক্ষশাখায় লিখে রেখে গোপন দুঃখগুলো , কেন যে হারিয়ে যাই নির্ঘুম গোধূলির ওপারে ?

সেই কবে আমাদের গ্রামের পুকুরে ফেলে এসেছি হৃৎস্পন্দন , চারটি রক্তজবা ! ঘরে ফিরে বুকে টেনে নিয়েছি ম্রিয়মাণ লেবু-পাতার ঘ্রাণ ! অতঃপর ঘুমের ভেতর করেছি একান্ত আত্মহত্যা , কেউ জানেনা !


বন্ধ কপাটের ওপাশে আছে এক অদৃশ্য সুরঙ্গ - আমাকে ডাকে কোন এক সন্ধ্যায় , নিঃশব্দ-নিঝুম অরণ্যে ...


আমার মৃত্যুর খবর জেনে গ্যাছে শহরের সমস্ত হরিণ ; তাই ঘরের উপর আজ অজস্র পাখিদের ভিড় ..

একদিন শব্দছিঁড়ে ঘুমাব অশ্বের পৃষ্ঠায়...

 
একদিন শব্দছিঁড়ে ঘুমাব অশ্বের পৃষ্ঠায় ;
দূরতম বাতিঘরের সংকেতের মত বহুকাল -
মেঘে মেঘে করেছি ভ্রমণ ; জেনেছি -
মৃতদের চোখে কতটা স্মৃতি স্ফুলিঙ্গ ওড়ে ।

একদিন সব ফেলে চলে যাব ; হারিয়ে যাব দৃশ্যত -
এইসব রঙ মুখোশের অন্তরালে ,
তোমাদের মায়াবী সরাইখানায়
প্রকাশিত স্বপ্নের মত ছুটে আসবে
ছায়া-মুগ্ধ সিগ্যালের ঝাঁক । তবুও -
রাত্রিরহিত নিদ্রিত হয়ে ছিলাম ,
হয়ে ছিলাম এলোকেশী রোদের কার্নিশ
হয়ে ছিলাম উত্তর অরণ্যের জলশূন্য শুষ্ক পাতা -
আমি উড়ে যেতে চেয়েছিলাম -
তুমি মেঘ হয়ে এলে
আমি হলাম শতবর্ষী পুষ্প-দগ্ধ ছাই
তারপর আমি ক্রমশ দূরে সরে যাই …

দূরে সরে যাই - ম্যাপলের পত্ররেখায় ,
প্রলম্বিত চোখ তার ধরে রাখে বিস্ময় –
আমিই সেই স্বর্গ-চ্যুত দেবদূত ,
হাহাকারের তৃতীয় পৃষ্ঠায় লিখে এসেছি নির্বাসনের গান -
ঈশ্বর - এক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ডাকনাম !
আমি তার খুলিতে বেধে দিলাম রক্ত রূমাল
তার চোখে একে দিলাম বিষণ্ণতা
তার মুঠোয় ছিটিয়ে দিলাম ঝর্নাবন্দী জল !


আমাদের নির্ঘুম নদী থাক স্মৃতিতে অতল ...

তোর জানালায় আমার আকাশ

তোর অজস্র বসন্ত বিকেল থেকে, শুধু একটা
বিকেলে আমাকে ধার দিস।"

ডানা ভাঙ্গা পাখির দল তোমার
আর আমার হারিয়ে যাবার
সাক্ষী !
আমি তো হারিয়ে যাবো ঠিক ই, অজানা অহংকারে ,
মিছে দাম্ভিকতায় আর
অর্থহীন জেদে !
ডানাভাঙ্গা পাখিরা ঠিক ই
মনে রাখবে !

আমি একটা বিষন্ন রাতের
গল্প , যার
তারাগুলো বিষাদের
সুরে কাতর ! বাতাসে গভীর
শুন্যতার ছায়া !

আমি লিখতে বসেছি অতৃপ্ত
আত্বার গল্প সঙ্গী আঁধার আর
মন খারাপ করা রাত !!
বসন্তের স্নিগ্ধ বিকেলের
হাওয়ায় সবুজের আলোড়ন ,
যান্ত্রিক অবয়বে তোর
আগমনে প্রকৃতিতে উচ্ছ্বাস
ছিলনা ! আমার নিস্তব্দ
সাঝবেলায় তখনো হাওয়ার
ছাট লাগেনি !

ধীরে ধীরে মনোজগতে তোর
অদৃশ্য দখলদারি ! আমার
পাখিদের সুর তুই বুঝিস , আমার
বিকেলের রোদ তোর হয়ে যায় ,
আমার নদীর বাকে তোর ছোট্ট
কুটিরে জোছনা বিলাসের
সমস্ত অধিকার তোর ই কেবল !

তারপর একদিন তোর
চোখে আমি অপ্সরী ছায়া দেখতে পাই !
"And There will be
companions with beautiful ,
big , And Lustrous eyes " !

আমার নদীর জল , আমার
বিকেলের হাওয়া , আমার
পাখিদের গান তোকে উপহার
দেই রোজ ! বিনিময়ে পাই তোর
আকাশের মেঘের ছায়া , তোর
স্নিগ্ধ সকাল !

একদিন ঝুম
বৃষ্টি নামলো আমার জানালার
টুকরো আকাশ থেকে ! দু
ফোটা বৃষ্টি জল আমায়
ছুঁয়ে গেল ! তোর
আকাশে তখনো কালো মেঘ !
বিষন্ন আকাশের হুংকার !
পাখিদের ওড়াওড়ি নেই ,
আমি জানিনা তোর আকাশ
কি এখনো থমকে আছে বিষন্নতায় ??
আমার জানালার কান্না বন্ধ
হলে আমি তাকাই তোর আকাশে !

কিন্তু হায়,
আমি দেখতে পাইনা তোর
আকাশ , তোর স্নিগ্ধ সকালের
মায়াবী রোদ ! আমার নদীর
বাকে কুড়েঘরে জমে থাকা অভিমান !

নদীতীরে বসা একটা নিঃসঙ্গ
চিলকে পাঠাই তোর খবর
আনতে , সে চিল আর
ফিরে আসেনা !
আরো চাপা অভিমান
বুকে বাসা বাধে ! তারপর এক
সাঝ বেলায় মৃত্যু এসে ভর
করে আমার ঘুমে ! নিরস
দেহটা পড়ে থাকে , মৃত্যূ হয়
অভিমানী আত্মার।

আমি দেখতে পাই আমার
মুঠোফোনে তোর অজস্র ডাক ,
দেখতে পাই মুঠোফোনে তোর
পাঠানো কথা মালার আগমন !

আমি যে স্পর্শ করার
ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছি ,
আমি সে কথামালা জানতে পারিনা ,
পারিনা জানিয়ে দিতে আমার
অভিমানী আবেগ !

খুব
জানতে ইচ্ছে করে কি হয়েছিল
তোর , খুব
জানিয়ে দিতে ইচ্ছে করে অভিমানী মেঘের
যে মরণ হয়েছে!

একটা চিল
উড়ে যায় তোর বাড়ির দিকে ,
আমি তাকে বলে দেই আমার
হাওয়া হয়ে যাবার খবর !

এরিখ মারিয়া রেমার্ক- এক যুদ্ধ বিরোধী শব্দ সৈনিক

‘তোমাকে একদিন আমার শূন্যতার গল্প শোনাবো,
তোমাকে একদিন শোনাবো আমার জলোচ্ছাস্বের
স্বর
যখন নির্জীব, নিস্পন্দ বসে থাকি সেই
জলোচ্ছাস্বের স্বর আচ্ছন্ন করে আমাকে,
তোমাকে একদিন ধুধু তেপান্তরের দৃশ্য দেখাবো
যেখানে সারি সারি এপিটাফ, বন্ধুর কবর, ভীষন
একঘেয়ে শূন্যতা খাবি খেতে খেতে কেমন গড়িয়ে
যাচ্ছে দিগন্তের দিকে।
তোমাকে একদিন এক রাত্রি নিবিড় অঅলিঙ্গনে
জড়িয়ে রাখবো অন্ধকার মুড়ে
আমার ভেতরের অন্ধকার
আমার ভেতরের ঘর
আমার ভেতরের খাদ
আমার ভেতরের শূন্যতায় আছড়ে পড়া স্মৃতির ভয়াবহ
স্রোত...


তিনি ছিলেন রণাঙ্গনের একজন যোদ্ধা। রাইফেল হাতে
সরাসরি যুদ্ধ করেছেন মাত্র ১৮ বছর বয়সে। সেই
বয়সেই ট্রেঞ্চে বসে প্রত্যক্ষ করেছেন মিত্র
বাহিনীর প্রবল আক্রমণ আর সহযোদ্ধাদের মৃত্যু। নিদারুণ
খাদ্যের অভাব, উর্ধতন কর্মকর্তাদের দুর্ব্যবহার এবং
সামনে বিশাল এক শক্তিশালী সৈন্যবাহিনীর আক্রমণ
মোকাবেলা এক কিশোরের জন্য ছিল
সত্যিই এক অনন্য অভিজ্ঞতা। জীবনে হতে
চেয়েছিলেন শিক্ষক। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে হয়ে
উঠলেন একজন যোদ্ধা। শত্রুপক্ষের গোলার আঘাতে
আহত হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসেন। এরপর
যুদ্ধ দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন দারুণ সব উপন্যাস।
‘অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’, ‘দ্য ড্রিম রুম’,
দ্য রোড বাক’, ‘দ্য স্পার্ক অব লাইফ’, ‘এ টাইম টু লাভ এ্যান্ড
এ টাইম টু ডাই’ , ‘হ্যাভেন হ্যাজ নো ফেভারিটস’, ‘ দ্য নাইট
ইন লিসবন’, ‘দ্য প্রমিস ল্যান্ড’, ‘শ্যাডোস ইন প্যারাডাইস’, ‘থ্রি
কমরেডস’, ‘ব্ল্যাক অবিলিস্ক’ প্রভৃতি।
১৮৯৮ সালের ২২ জুন তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন জার্মানির
ওসনব্রুক শহরে। এক নিম্নবিত্ত কর্মজীবী পরিবারে।
বাবা ছিলেন পিটার ফ্রানস রেমার্ক এবং মায়ের নাম আনা মারিয়া।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে এরিককে বাধ্যতামূলকভাবে
যুদ্ধে যোগ দিতে হয় যখন তার বয়স মাত্র ১৮ বছর। ১২
জুন, ১৯১৭ সালে তাকে বদলি করে দেয়া হয় ওয়েস্টার্ন
ফ্রন্টের ২য় কোম্পানিতে। ৩১ জুলাই এরিকের
জীবনে এক ভয়াবহ ব্যাপার ঘটল। শত্রুপক্ষের বোমার
স্পিøন্টারের আঘাত হাতে এবং কাঁধে আঘাত পেয়ে আহত
হলেন। তাঁকে দ্রুতই মিলিটারি হাসপাতালে নেয়া হয়। যুদ্ধ
শেষ হবার সময় পর্যন্ত তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন
অবস্থায় ছিলেন। মহাসমর শেষ হলো। তিনি ফিরলেন
বাড়িতে। চারদিকে ধ্বংসস্তূপ। তিনি শিক্ষকতার ট্রেনিংয়ে
ফিরে এলেন। ১ আগস্ট ১৯১৯ তিনি লহনি এর একটি প্রাইমারি
স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করলেন। এর নানা
জায়গার স্কুলে তিনি শিক্ষকতা করেছেন। ২০ নবেম্বর
১৯২০ সালে তিনি স্কুলের চাকরির ইস্তফার আবেদন
করেন। সারা জীবনে তিনি অনেক ধরনের পেশা গ্রহণ
করেছেন জীবিকার তাগিদে। কখনও লাইব্রেরিয়ান,
কখনও বা পুরোদস্তুর সাংবাদিকতা। তবে ব্যবসায়ও নাম
লিখিয়েছিলেন তিনি। রেমার্কের বয়স যখন মাত্র ষোল
বছর তখন থেকেই তিনি লেখালেখির চেষ্টা শুরু
করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল কিছু কবিতা, গদ্য এবং ভবিষ্যত
উপন্যাসের কিছু ছোট ছোট খসড়া। ১৯২০ সালে প্রকাশিত
হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘দ্য ড্রিম রুম’।
অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট
১৯২৭ সালে তিনি লেখেন তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস
‘অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’। রেমার্কের
সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস হচ্ছে এই ‘অল কোয়ায়েট
অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকা।
শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষের জীবন তছনছ এবং স্বপ্ন
ভঙ্গের বেদনাই ঘুরেফিরে এসেছে।‘ কত দিন হলো
আছি এখানে হিসেবও করতে পারি না। মাথার মধ্যে
তালগোল পাকিয়ে গেছে সব। কত দিন হবে? এক সপ্তাহ,
এক মাস নাকি এক বছর? অথবা কয়েকটা দিন মাত্র। ঘণ্টা মিনিট
দিয়ে আমাদের দিন হয় না। আমাদের দিন হয় মৃত্যুর সংখ্যা
দিয়ে, আহতদের মৃত্যু যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে।’ - ‘অল
কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট
মূলত কিশোর যোদ্ধার চরিত্র এখানে শিল্পীর মমতায়
তুলে এনেছেন রেমার্ক। নিজে রণাঙ্গনের যোদ্ধা
ছিলেন বলেই তা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে তুলে আনতে
পেরেছেন তিনি। ট্রেঞ্চে বসে সহযোদ্ধাদের
সঙ্গে ঠাট্টা তামাশা অথচ একটু পরেই হয়তো ছুটে
আসবে শত্রুপক্ষের মেশিনগানের বুলেট। এর মধ্যেও
আশ্চর্য রকমভাবে নিজের মানবিকতা টিকিয়ে রেখেছিল
নায়ক পল ব্রেমার। তার চোখে সেই যুদ্ধক্ষেত্রে
প্রজাপতিদের ওড়াউড়ি যেমন চোখ এড়ায় না তেমনি
বসন্তের ফুলের আগমন তাকে ভাবালু করে তোলে।
দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে ফিল্ড হাসপাতালে থাকতে থাকতে
মানুষকে জানতে শিখে যায় পল। সে নিজে শিক্ষক হতে
চেয়েছিল অথচ যুদ্ধ তাকে বানিয়ে দিল সৈনিক।
‘ছুটছি, গুলি ছুড়ছি, গ্রেনেড ছুড়ছি, মারছি, মরছি, চলছে
তো চলছেই। শরীরে বিন্দুমাত্র শক্তি নেই, কিছু ভাবার
ক্ষমতা নেই, মুধু জানি বেঁচে থাকতে চাই। কিন্তু অবাক
হয়ে যাই, এর মধ্যে বেঁচে আছি কি করে। মৃত্যুকে
আর কতবার ফাঁকি দিতে পারব?’- ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য
ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট জোসেফ, বেন, কেমারিখ, এ্যালবার্ট,
ক্রপ, মুলার আর লিয়ার। সবাই দুই নম্বর কোম্পানির
সহযোদ্ধা ব্রেমারের। ধীরে ধীরে মারা যায় সবাই।
বেঁচে থাকে শুধু পল। টুকরো টুকরো ঘটনার মধ্য দিয়ে
লেখক রেমার্ক আশ্চর্য রকমভাবে এক এক জন মানুষের
মনোজগৎ তুলে এনেছেন। যুদ্ধের আগে কেউ ছিল
চাষী, কেউবা ছাত্র, কেউবা শ্রমিক। কিন্তু যুদ্ধ তাদের
সবাইকে পরিণত করে দিয়েছিল। পল জবানীতে উঠে
এসেছে, ‘সেই কেমারিখ শুয়ে আছে এখানে, এই
হাসপাতালে। দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে মৃত্যুর দিকে। হাহাকার
করে উঠল বুকের মধ্যে। অসহায় ক্রোধে সব কিছু
চুরমার করে ফেলতে ইচ্ছে হল। কেন, কিসের জন্য
ওর এই অবস্থা? ইচ্ছে হলো চিৎকার করে সারা
পৃথিবীকে জানিয়ে দিই, এখানে শুয়ে আছে কেমারিখ,
জীবনের মাত্র সাড়ে উনিশটি বছর কাটিয়েছে ও। ও
মরতে চায় না, ওকে মরতে দিও না কেউ।’
অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টের শে বাক্য
কয়টি পাঠককে মোহাবিষ্ট করে রাখে। পাঠক সেই
ঘোর থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। ‘অসম্ভব
শান্ত একটা দিন। ঝকঝকে নীল আকাশ, মাঝে মাঝে সাদার
ছোপ। বাতাস বইছে মৃদুমৃদু। ঘাসের ডগার শিশির বিন্দু
এখনো শুকোয়নি। লাল লাল ফুলগুলোর ওপর ছুটোছুটি
করছে দুটো রঙিন প্রজাপতি। নির্মল বাতাস, বারুদের গন্ধ
নেই, গোলার গর্জন নেই। চারদিকে এমন নিঃশব্দ যে
একটা মাত্র লাইনে শেষ হয়েছে আর্মি রিপোর্ট :
‘পশ্চিম রণাঙ্গন সম্পূর্ণ শান্ত’।

 গাছটার নিচে উপুড় হয়ে শুয়ে আছে পল, যেন
ঘুমিয়ে আছে। ওকে যখন ওলটানো হলো, দেখা
গেল মুখে তখন ও হাসি লেগে আছে এক টুকরো।
যেন কোন কষ্টই পায়নি ও। যেন জেনেই গিয়েছে,
সব শেষ হতে চলেছে। প্রজাপতি দুটো উড়েই
চলেছে ফুলে ফুলে।’ কী অসাধারণ আর আর কাব্যিক
উপসংহার। সেটা শুধু রেমার্কের কাছ থেকেই পাওয়া
সম্ভব। একটি বিষয় লক্ষণীয় সেটি হচ্ছে রেমার্কের
উপন্যাসের শেষটা পাঠককে অনেক বেশি আবেগ তাড়িত
করে তোলে। ‘থ্রি কমরেডস’ উপন্যাসের কথা ও
এখানে প্রণিধানযোগ্য। সেখানে মৃত প্রেমিকার মৃতদেহ
কোলে নিয়ে বসে থাকে নায়ক। সব মিলিয়ে রেমার্ক
বিশ্ব সাহিত্যে এক অনন্য নাম। এই দারুণ সুখপাঠ্য লেখকের
নাম। যুদ্ধেও বিভীষিকার কথা বলে লেখক রেমার্ক
আসলে শান্তির কথাই বলতে চেয়েছেন। বিশ্ব সাহিত্য
সম্ভারে যে কয়জন মানবতাবাদী যুদ্ধবিরোধী লেখক
রয়েছেন তাদের মধ্যে এরিখ মারিয়া রেমার্ক রয়েছেন
প্রথম সারিতে।
যুদ্ধ মানুষের জীবনকে তছনছ করে দেয়। তার সহজ
স্বাভাবিক জীবনকে ভেঙ্গে দেয়। রেমার্ক নিজের
চোখে একজন সৈনিক হিসেবে প্রথম মহাযুদ্ধের
বিভীষিকা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তাই লেখনীর মধ্য
দিয়ে বারবার ঘুরেফিরে যুদ্ধ বিরোধী কথাই বলতে
চেয়েছেন। রেমার্কের ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য
ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট‘ উপন্যাসে তিনি এক কিশোরে
বাধ্যতামূলকভাবে যুদ্ধে যোগদান দেখিয়েছেন। যার
স্বপ্ন ছিল একজন শিক্ষক হওয়া। কিন্তু যুদ্ধ সেই কিশোর
পল ব্রেমারের জীবনকে তছনছ করে দেয়। আহত
হয় সে। এর মাঝখানে অল্প কয়েকদিনের মধ্যে তার ছুটি
মেলে। বাড়িতে গিয়ে দেখে তার মা অসুস্থ। চারদিকে
অভাব। যুদ্ধের গোলাবারুদ আর রক্তের বাইরে থাকতে
মন চাইছিল তার। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে তাকে ফিরতেই হয়।
এবার গোলার আঘাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ভর্তি হতে হয়
হাসপাতালে। যুদ্ধের বাকিটা সময় তার সেখানেই কাটে।
দ্য রোড ব্যাক’ রেমার্কের আরেকটি অন্যতম সেরা
বই। যুদ্ধফেরত সৈনিকদের নিয়ে একটি উপন্যাস এটি। এটি
মূলত ‘অল কোয়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’
উপন্যাসের সিকুয়্যেল।


এ টাইম টু ডাই এন্ড এ টাইম টু লাভ
‘এ টাইম টু ডাই এন্ড এ টাইম টু লাভ‘ রেমার্কের আরেকটি
ক্লাসিকাল উপন্যাস। যুদ্ধ এবং ভালোবাসার এক করুন পরিনতির
গল্পের মূল চরিত্র আর্নেস্ট গ্রেবার। টানা দু বছর রাশিয়ান
ফ্রন্টে যুদ্ধ করার পর মাত্র তিন সপ্তাহের ছুটি মেলে
তার। সেই ছুটি ও পরে স্থগিত করা হয় । কারন সে চাইছিল না
যে কারো আশা ভঙ্গ হোক। অবশেষে ছুটি একদিন
মেলে গ্রেবারের। কিন্তু তাঁর শহরে ফিরে গিয়ে দেখ
পুরো শহর ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়েছে। তার বাড়ীটি
পুরোপরি বিধ্বস্ত। তার সাথে পরিচয় হয় এক তরুনীর
সাথে। সেই তরুনীর বাবা নাৎসী ক্যাম্পে বন্দী।
গ্রেবার আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ।
কিন্তু যুদ্ধ তার জীবনে আবার বেদনাদায়ক ফলই বয়ে
নিয়ে আসে।

থ্রী কমরেডস
‘থ্রী কমরেডস’ রেমার্কের আরেকটি কালজয়ী
উপন্যাস। সারা পৃথিবীতে প্রায় বিশটির বেশী ভাষায় এটি
অনূদিত হয়েছে। এরিখ মারিয়া রেমার্কের একটি বেষ্ট
সেলার এটি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জার্মানীর অস্থির
রাজনৈতিক এবং সামাজিক অবক্ষয়ের গল্পই এই উপন্যাসের
পটভূমি। তিন বন্ধু। যারা যুদ্ধের ময়দানে কাধে কাধ মিলিয়ে
লড়াই করেছে তাদের গল্প। রবার্ট লোকাম্প, কোস্টার
এবং অটো। যুদ্ধ থেকে ফিরে তারা একটি মোটর
গ্যারেজ তৈরী করে। ভালোই কাটছিল তাদের দিন। একদিন
গাড়েিত করে সান্ধ্য ভ্রমনে গিয়ে তাদের সাথে এক
তরুনীর দেখা হয়। মেয়েটিকে ভালো লেগে যায়
রবার্টের। দুজনের মধ্যে দারুন এক সখ্যতা গড়ে ওঠে।
মেয়েটি প্রানের চেয়ে বেশি ভালোবসে ফেলে
রবার্টকে। আর তরুনীটি চোখের দিকে তাকিয়ে নতুন
করে বাঁচার প্রেরনা খুজে পায় যুদ্ধ ফেরত রবার্ট। কিন্তু
মেয়েটি একটি দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তঅ বৃষ্টি তার
একদম সহ্য হয়না। মেয়েটিকে অনেক দূরের এক
স্যানাটোরিয়ামে ভর্তি করে রবার্ট। ফিরে আসতে বুক
ভেঙ্গে যায়। একদিন খবর আসে স্যানাটোরিয়াম থেকে
যে মেয়েটি অসুস্থ। ছুটে যায় রবার্ট। পাশে এসে দাড়ায়
আরো দুই বন্ধু। কিন্তু মেয়েটিকে তারা বাচাতে পারে না।
প্রেমিকার লাশ কোলে নিয়ে সারারাত বসে থাকে রবার্ট।
দিনের আলো তখন একটু একটু করে ফুটতে শুরু
করেছে। এরকমই এক দূর্দান্ত উপন্যাস লিখেছেন
রেমার্ক।

ব্লযাক অবিলিস্ক
‘ব্লাক অবিলিস্ক’ যুদ্ধের ব্যাপকতা এবং ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে রচিত
এই বই। মজার ব্যাপার রেমার্কের নিজের দেশ
জার্মানীতে তাঁর দুটি বই নিষিদ্ধ করা হয়। তার সবচেয়ে
আলোচিত বই ‘স্বপ্ন মৃত্যু ভালোবাসা’ এবং ‘থ্রী
কমরেডস’ নিষিদ্ধ করা হয় এবং সাথে লেখককেও। নাৎসী
সরকারের তোপের মুখে দেশ ছাড়েন তিনি। প্রথমে
সুইজারল্যান্ড এবং পরে আমেরিকায় বসবাস করতে শুরু
করেন। 

১৯৩১ সালে ‘দ্য রোড ব্যাক’ উপন্যাস লেখার
পরে তিনি সুইজারল্যান্ডের পোর্টোরনকোতে একটি
ভিলা কেনেন সেখানে বসবাসের উদ্দেশ্যে। যেই
আমেরিকানদের বিরুদ্ধে এক সময় রাইফেল হাতে যুদ্ধ
করেছেন সেই আমেরিকাতেই থাকতে হয় তাকে
বেশ কিছুদিন। ১৯৭০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর
সুইজারল্যান্ডে মৃত্যুবরন করেন তিনি।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন
১৯২৫ সালে অভিনেত্রী ইলসে জুট্টা জ্যাম্বোনাকে
তিনি বিয়ে করেন। তবে, এই জুটির দাম্পত্য জীবন খুব
একটা সুখের ছিলনা দুই তরফ থেকেই। ১৯৩০ সালে বিবাহ
বিচ্ছেদ ঘটে তাদের। মবে, মজার ব্যাপার হচ্ছে
রেমার্ক যখন নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হন অর্থাৎ ১৯৩৩
সালে ইলসে রেমার্কের সাথে সুইজারল্যান্ডে চলে
যান। ১৯৩৮ সালে তারা পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৩৯
সালে তারা আমেরিকায় চলে যান। ১৯৫৭ সালের ২০ মে তারা
আবার বিবাহ বিচ্ছেদ করেন। ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন ইলসে
মৃত্যুবরন করেন। ১৯৪০ সালের দিকে রেমার্ক সম্পর্কে
জড়িয়ে পড়েন আরেক বিখ্যাত অভিনেত্রী গ্রেটা
গার্বোর সাথে। সম্পর্কটা শুরু হয়েছিল ১৯৩৭ সালের
সেপ্টেম্বরে যখন তারা দুজনেই ভেনিস ফিল্ম
ফেষ্টিভ্যালে তাদের প্রথম দেখা হয়েছিল। তবে,
তাদের সাথে খুব একটা দেখা হতো না। মূলত চিঠি,
টেলিফোন কল এর মাধ্যমে তারা যোগাযোগ রক্ষা
করতেন। তাদের দুজনের লেখা চিঠি নিয়ে ২০০৩ সালে
‘টেল মি দ্যাট ইউ লাভ মি’ শিরোনামে একটি বই প্রকাশিত
হয়েছিল। ১৯৫৮ সালে রেমার্ক অভিনেত্রী পল্লেট্টি
গদার্ডকে বিয়ে করেন। এই পল্লেট্টি এক যুগান্তকারী
ব্যাপার ঘটিয়ে ফেলেছিলেন। তিনি নিউইয়র্ক
বিশ্ববিদ্যালয়কে ২০ মিলিয়ন ডলার দান করেছিলেন
‘ইউরোপিয়ান স্টাডিজ’ নামে ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য।
যেটার নামকরন করা হয়েছিল রেমার্কের নামে। ১৯৪৮
সালে রেমার্ক সুইজারল্যান্ডে ফিরে যান। সেখানেই
বাকী জীবনটা কাটান। ‘আর্চ অব ট্রাম্প’ আর ‘স্পার্ক অব
লাইফ’ এর মাঝখানে সাত বছরের ব্যবধান। ১৯৫৪ সালে তিনি
লেখেন ‘টাইম টু লাভ এন্ড টাইম টু ডাই’। ১৯৫৮ সালে
পরিচালক ডগলাস শার্ক এই উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মান
করেন। এই চলচ্চিত্রে একটি অতিথী চরিত্রে অভিনয়ও
করেন রেমার্ক।
জার্মান সাহিত্যিক এরিখ মারিয়া রেমার্ক তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য
ব্ল্যাক অবিলিস্ক’ এ বলেছিলেন, ‘ একজন মানুষের মৃত্যু
একটি ট্রাজেডি কিন্তু অসংখ্য মানুষের মৃত্যু একটি পরিসংখ্যান’।
রেমার্ক ১৯৫৬ সালে বসে ১৯২০ সালের পটভুমিতে রচিত
উপন্যাসে যুদ্ধেও অবস্থা বনর্না করতে গিয়ে একথাটি
লিখেছিলেন। অথচ এতা বছর পরেও কথাটি নিরেট সত্য।
গাজায় ইসরাইলী নিহত হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু শুধুই
পরিসংখ্যান সারা পৃথিবীর কাছে।

তোমাকে একদিন আমার শূন্যতার গল্প শোনাবো,
তোমাকে একদিন শোনাবো আমার জলোচ্ছাস্বের
স্বর
যখন নির্জীব, নিস্পন্দ বসে থাকি সেই জলোচ্ছাস্বের
স্বর আচ্ছন্ন করে আমাকে,
তোমাকে একদিন ধুধু তেপান্তরের দৃশ্য দেখাবো
যেখানে সারি সারি এপিটাফ, বন্ধুর কবর, ভীষন একঘেয়ে
শূন্যতা খাবি খেতে খেতে কেমন গড়িয়ে যাচ্ছে
দিগন্তের দিকে।
তোমাকে একদিন এক রাত্রি নিবিড় অঅলিঙ্গনে জড়িয়ে
রাখবো অন্ধকার মুড়ে
আমার ভেতরের অন্ধকার
আমার ভেতরের ঘর
আমার ভেতরের খাদ
আমার ভেতরের শূন্যতায় আছড়ে পড়া স্মৃতির ভয়াবহ
স্রোত...
যুদ্ধ এখন বিগত দিনের গল্প অথচ প্রতিটা যুদ্ধবসান নতুন
যুদ্ধের শুরু
আমরা জীবনের পথে ফিরে আসছি
অপমৃত্যু আর ভুল মৃত্যুর স্মৃতি ভুলে
নারকীয় বীভৎসতার দৃশ্যগুলো গোপনে রেখেই
আমরা যার যার ঘরে ফিরছি।
আমরা কেউ বাড়ীর ছোট ছেলে, কেউ বড় ভাই,
কেউ মায়ের চোখের মনি
অথচ যুদ্ধক্ষেত্রে আমরা সবাই, আমরা সবাই আশ্চর্য
জীবন্ত, আর অবাক করা সত্য হলো তখন আমরা
সম্মিলিতভাবে শুধুমাত্র একটা আদর্শ... একটা লক্ষ্য...

তোমাকে ভালোবাসার আগে জানতামই না পৃথিবীতে ভয়
পাবার এতো কিছু আছে’— এ টাইম টু ডাই এন্ড এ টাইম টু লাভ-এরিখ
মারিয়া রেমার্ক

জীবনে যখন আর কোন কিছু পাবার অপেক্ষা থাকে
সেটির চেয়ে ভয়াবহ আর কিছু নেই’’- থ্রী কমরেডস,
এরিখ মারিয়া রেমার্ক,

দ্য রোডব্যাক’ উপন্যাস গড়ে উঠেছে যুদ্ধফেরৎ
সৈনিকের মনোজগৎ, যুথবদ্ধতায় গড়ে ওঠা সম্পর্ক,
হেওে যাওয়া, দিগন্তের কাছে ভেঙ্গে পড়া মেঘের
মত ‘শান্তি’। যুদ্ধেও প্রচন্ডতার মাঝে হঠাৎ নিশ্চল সময়,
প্রায় অলৌকিক নির্লিপ্ততা, বিষাদেও ব্যাপ্তিতে থমকানো
মানুষ, রক্ত মাংস চেটেপুটে মহীরুহের মত
বীভৎসতা...। চরিত্রগুলো জার্মানীর খেটে খাওয়া সাধারন
মানুষের প্রতিভু। আর্নেষ্ট, জাপ, ফার্দিনান্দ,
ভালেণটিন,লুডভিগ চলে আসে পাঠকের একদম
চোখের সামনে।
১৯৩৩ সালে ১০ মে জার্মানীতে অনেক বইয়ের সাথে
রেমার্কের কিছু বই ও পোড়ানো হয়। সেদিন বার্লিনের
অপেরা চত্তরে প্রায় সত্তর হাজারের মত মানুষ জড়ো
হয়েছিল বই পোড়ানোর মত একটি ঘুন্য কাজে যোগ
দিতে। বলা হয়েছিল, যা কিচু অ-জার্মান তা আমরা বিসর্জন
দিতে এসেছি’। তবে খোদ জার্মানীতে রেমার্কের
বই পুড়লে ও সারা পৃথিবীতে পাঠকের কাছে রেমার্ক
হয়ে উঠেছিলেন আরো বেশী জনপ্রিয়। ১৯৩৩ সালে
জানুয়ারীতে সমাজতান্ত্রিকরা ক্ষমতাসীন হবার পরে
হিটলারের অধীনে শুরু হয় শুদ্ধি অভিযান। দলে দলে কবি
সাহিত্যিকরা জার্মানী ত্যাগ করতে শুরু করে। এই সময়
রেমার্কও দেশ ত্যাগ করেন। রেমার্কের বেশ কিছু
উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৩০
সালে আমেরিকাতে মুক্তি পায় ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য
ওয়েষ্টার্ন ফ্রন্ট’। আমেরিকার ফিল্ম ইন্সটিউটের
সর্বকালের সেরা ১০০ সিনেমার তালিকায় এটি ছিল ৫৪

নম্বরে। এটি এ্যাকাডেমী এ্য্ওায়ার্ড ও জিতে নেয়।

মহাজাগতিক ইতিহাসে আমাদের এপিটাফের গল্প

কোন সন্ধ্যে সন্ধ্যে রাতে রাস্তারা বুঝি অদ্ভুত প্রনয়ে খুন হয়! খুন হয় কতশত খেয়ালের অগোচরে আটকে পড়া দীর্ঘ নি:শ্বাসেরা! ইশ! আমাদের খেয়ালগুলো য...