30 November 2014

আফসোস থেকেই গেলো

জীবনে প্রথম বিকাল গুলি যে মেয়ের জন্য
নষ্ট করেছি ভাঙ্গা কবরের শ্যাওলা পড়া ইটের
উপর বসে, সে মেয়ের নাকি বিয়ে হয়ে গেছে কিছু
দিন আগে ভর দুপুরে ।

আফসুস একটা ,বুকের ভিতর ডিম্বাকৃতির
হৃদয়ে রয়ে গেল ,মেয়েটাকে ভালোবাসি বলা হল
না । আর বলব ও না ।

ব্যক্তিগত কথাকাব্য-৩

গভীর নি:শ্বাসে পুড়িয়েছি
বুক পকেটে রাখা হিসেব গুলো।
অপরাহ্নে ঘামে ভেজা জামা
ভেজাব বলে
মুহুর্তের আলোয় দেখা
রাত হরিণের চোখে উদাসীনতা
আর বাস থেকে নেমে একই
বাড়ি ফেরা...

আমার সেই বন্ধুটি

প্রায়ই আমরা চার বন্ধু মিলে খোলা আসমানের
নিচে গল্পগুজব করতাম। পাশে দাঁড়িয়ে থাকত
একটা সাদা তিনতলা বাড়ি। মাঝেমাঝে বাড়ির
রং আর আসমানের রঙ মিলেমিশে একাকার
করে বৃষ্টি নিচে নেমে আসত।
আমরা খোলা আসমানের নিচে ঠায়
দাঁড়িয়ে থাকতাম অথচ কেউই ভিজতাম না। কারণ
বৃষ্টি ছিল সাদা রঙ তিনতলা বাড়ির তিনতলার
মেয়েটির নাম। একদিন দেখলাম বাড়িটা লাল
করে সাজানো হয়েছে। লাল রং বাতিরা চোখ লাল
করে আমাদের দিকে তাকিয়ে অনবরত চোখ টিপছে।
সেদিনও বৃষ্টি নিচে নেমে এলো, আমরা ঠিক
আগের মত
করে খোলা আসমানে নিচে দাঁড়িয়ে রইলাম।
কিন্তু আমরা চারজন সেদিন ভিজে গেলাম। একটু
বেশি ভিজলো আমার সেই
খাটো করে কুকড়া চুলওয়ালা বন্ধুটি,
যে তিনতলা বাড়ির দিকে মুখ করে সবসময় দাঁড়াত।

সেই গল্পটা

একদিন এক ইউক্যালিপ্টাস
গাছ এর
গল্প বলেছিলাম তোমাকে।

জ্যেছোনার সমুদ্রে ভিজে দীর্ঘ এক
রাত্রিতে
আরো কত কথাই
তো বলেছিলাম।

ঝিকিমিকি,তপোবন,
মালাকাইটের
ঝাঁপি,ইস্পাত,
মা,অন্ধ সুরকার এর মত
প্রিয়
বইরাও ছিলো আমাদের
গল্পে।

ছিলো জোনাকি।
ছিলো প্রথম ভালোবাসা।
প্রথম দুঃখ
প্রথম চুমুর গল্প।

সেই তুমিটাও কোথায় যেনো
হারিয়ে গেছো।
যখন হাত বাড়ালেই তোমার
উত্তাপ এ
ভিজবার কথা।
যখন চোখ মেললেই তুমিময়
আলো।

নাহ অনেকদিন হয়ে গেলো
গল্পবলা রাত আর আসেনা।
প্রিয় বই, প্রিয় পাখি,
প্রিয় গাছ এর
গল্পবলা আর হয়না আমার।

এখন আমার দীর্ঘরাত
জুড়ে দেয়ালের সাদা।
বালিশটাকে উল্টেপাল্টে
দেই বহুবার।
যদি স্বপ্ন
বেয়ে আসো কোনদিন।
আমি তোমাকে ছুঁয়ে দেখবো।

তোমার চোখের তারায়
এখনো কি এক
কাঠবিড়ালী উচ্ছল হয়?
তোমার বুকের
কাছে দাঁড়িয়ে
এখনো কি পাড়ি দেয়া যায়
অনেক শহর ?
তোমার হাতে হাত রেখে কি
ঘুরে আসা যায় পৃথিবীর
সবকটা মহাদেশ?

জানালার কাঁচ
দিয়ে যতটুকু আকাশ
দেখা যায়
শহরের জ্বলতে থাকা আলোর
সমাহারে
খুব
ইচ্ছে করে তোমাকে দেখি।

দুরের পাহাড়টার কোল
ঘেষে নদীটার
পাশের কোন বার এ
কখনো কি আসো তুমি
বিয়ার খাবে বলে?
তোমাকে খুঁজতে খুঁজতে কি
ফুরিয়ে যাবে
বাকি জীবনটা আমার?

হলুদ পাতা আর বরফ
ছুঁয়ে দিতে
একবার ও কি আসবেনা তুমি?
আমার ঘরের
দেয়ালে ঝুলানো আয়নাতে
পাশাপাশি দাঁড়িয়ে দুজনে
আবার কখনো কি
ভালোবাসা হবে?
হবে কি পৃথিবীর এ
যাবতকালের
সবচেয়ে দীর্ঘ এক
আলিঙ্গন?

ছোট্ট আকাশের সাথে আমার বিচ্ছেদের মুহুর্ত

পৌনঃপুনিকতার তালিকায় অনেকদিন
আগে নাম লিখিয়ে ফেলা জীবনের এই
ছোট্ট
ঠিকানায় তাও আকাশ ছিলো,
ছিলো জানলা খুলে দিলে ওপারে
দাড়িয়ে থাকা
কয়েকটা অচিন বৃক্ষ।
আমার এই বসার
জায়গাটুকুর পেছনে তাকালে দেখতাম
কখনো আকাশ নীল, কখনো কালো।
কখনো আকাশের মন ভালো,
কখনো কটমটে রাগ
করা মা মেঘেরা বাচ্চা মেঘেদের
নিয়ে উড়ে যেতো ওই অচিন বৃক্ষের
ওপর
দিয়ে।
পাখি। টিয়া। ঝাঁকে ঝাঁকে,
সন্ধ্যায় ওদের
ডানা ঝাপটানি ওই অচিন বৃক্ষের
পাতায়-
ডালে।
সব হারিয়ে যাবে, খুব
তাড়াতাড়ি হলে কাল,
অথবা সামনের সপ্তায়।
বাড়ছে কনক্রিটের
কাঠামো, হয়ে গেছে একতলা।
আমার
বিদ্যালয় বানাচ্ছে নতুন ভবন,
যেনো ফুঁড়ে উঠছে অশ্লীলভাবে।
একেবারে আমার জানলা ঘেঁষে।
পুরনো কিছু
ভবন ভেঙে ফেলা হবে, তার
প্রস্তুতি হিসেবে এখানে গড়ে উঠছে
নতুন।
আমাদের আকাশকে বিসর্জন দেবার
বিনিময়ে প্রতিষ্ঠান
দেবে চকচকে নতুন ল্যাব,
শ্রেনীকক্ষ এমনকি একতলায়
কনভেনিয়েন্স
স্টোর। বেচবে প্যাকেট লাঞ্চ
থেকে শুরু
করে স্লিপিং পিল।
আমি জানলা দিয়ে তাকালে আর আকাশ
আমায় ডাকবে না।
মায়াভরা বৃষ্টিমাখা আকাশ
অথবা দুধ-সাদা মেঘ মাখানো আকাশ।
দেখবো সেখানে কনক্রিটের
কালো অথবা ধূসর দেয়াল।
অথবা এয়ারকুলারের
বেড়ে যাওয়া বাইরে থাকা অংশ।
স্ট্রেসময়
জীবনের বন্ধু এই ছোট্ট আকাশটুকু,
তোমার
সাথে বিদায়ের এই বেলায় নাগরিক
মানুষ হবার
দায় ও দুঃখে আমি বিব্রত। অসহায়।

ব্যক্তিগত কথাকাব্য-২


স্বপ্ন ডানায় উড়ে চলা এ জীবন। অথচ
সবার
অগোচরে একজনের টেনে ধরায়
থেমে যেতে হয়।
তবুও স্বপ্ন দেখে যাই - সবুজের
শুভ্রতা ছাড়িয়ে অসীম
আকাশে হারিয়ে যাওয়ার।

ব্যক্তিগত কথাকাব্য-১

শত ক্লান্তিতে আমি চোখ বন্ধ করে তোর
জমিনে নিজেকে সমর্পণ করি।
ক্লান্তির
আড়ালে ও যে তোর প্রতি আমার নির্ভরতা,।
তোর মাটির গন্ধ শুঁকতে গিয়ে তোর সবুজ
চাদরটাকেও ভালোবেসে ফেলি, আনমনে।

একটা বিস্ফারণ, একটা কবিতা

আজ সকালের ডাকে একলা হেঁটে এলো -
ভালোবাসার
সীলমোহরে জড়ানো একটা খাম;
ভিতরে পেলাম ফেলে আসা অভিমানের
মোড়কে
শুকিয়ে যাওয়া একটা লাল গোলাপ, হয়তো
কোনদিন তোমার আগের লেখাগুলোর মতই
সতেজ ছিল,
রাতের পাহারাদারের মতই চিৎকার
করে বলতো
সব ঝুট্ হ্যায়, সব ঝুট্, মুখোশের আড়ালেই
যত মিল ...
আর কতদিন তুষার ঢাকা তুঁষের আগুন
হয়ে জ্বলবে
তোমার সেই কলঙ্কিনী বিরহিনী ব্যাথা ?
বসেই থাকি, ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির বুকে কান
পেতে -
একটা বিস্ফোরণ
যদি হয়ে ওঠে কবিতা ।

ঘাসফুলেদের সাথে

তুমি সারাক্ষন খুঁজে গেছো দুপুর সন্ধ্যে বেলায়, সময় দাওনি ঘাস ফুলেদের। লিলুয়া বাতাস হয়ে ছুয়ে গেছো দূর আরো দূর বেপাড়ায়… ফিরে গেছে সে নদী...