এর বেশি পারেনি মানুষ

 
পৃথক পাহাড়
আমি আর কতোটুকু পারি ?
কতোটুকু দিলে বলো মনে হবে দিয়েছি তোমায়,
আপাতত তাই নাও যতোটুকু তোমাকে মানায়।
ওইটুকু নিয়ে তুমি বড় হও,
বড় হতে হতে কিছু নত হও
নত হতে হতে হবে পৃথক পাহাড়,
মাটি ও মানুষ পাবে, পেয়ে যাবে ধ্রুপদী আকাশ।
আমি আর কতোটুকু পারি ?
এর বেশি পারেনি মানুষ।

ইচ্ছে ছিলো



ইচ্ছে ছিলো তোমাকে সম্রাজ্ঞী করে সাম্রাজ্য বাড়াবো
ইচ্ছে ছিলো তোমাকেই সুখের পতাকা করে
শান্তির কপোত করে হৃদয়ে উড়াবো।
ইচ্ছে ছিলো সুনিপূণ মেকআপ-ম্যানের মতো
সূর্যালোকে কেবল সাজাবো তিমিরের সারাবেলা
পৌরুষের প্রেম দিয়ে তোমাকে বাজাবো, আহা তুমুল বাজাবো।
ইচ্ছে ছিলো নদীর বক্ষ থেকে জলে জলে শব্দ তুলে
রাখবো তোমার লাজুক চঞ্চুতে,
জন্মাবধি আমার শীতল চোখ
তাপ নেবে তোমার দু’চোখে।
ইচ্ছে ছিল রাজা হবো
তোমাকে সাম্রাজ্ঞী করে সাম্রাজ্য বাড়াবো,
আজ দেখি রাজ্য আছে
রাজা আছে
ইচ্ছে আছে,
শুধু তুমি অন্য ঘরে।

অভিমানী বন্ধু হারিয়ে যাবার আগে এবং পরে


ব্ল্যাকবোর্ডে সাদা চক দিয়ে অভিমানী বন্ধুর নাম লিখে-
যে তার দুই ঠোঁট হালকা ফাঁক করে ফুঁ দেয়,
সে অভিমানের ভাষা খুব ভালো বুঝে।
সে তার ব্যক্তিগত বেহালার চোখে ধারণ করে
বন্ধু হারিয়ে যাওয়ার বিষাক্ত মনোরম দৃশ্য,
সে দৃশ্য চকের সাদাসাদা উড়ন্ত দানায় মিশে যায়।
সে তার প্রার্থনার ধরণ বদল করে, এবং
পৃথিবীর সব প্রার্থনা জড়ো করে এক বাক্যে-
“বন্ধু, প্লিজ তুই হারিয়ে যাস নে”।
তারপরেও অভিমানী বন্ধু হারিয়ে যায়,
আর সেই হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে নিয়ে-
সায়ান শ্রুতিমধুর গান গেয়ে জনপ্রিয় হয়!

অভিমানী জোনাকের সহযাত্রী

ফিরতি ট্রেনে আমার সাথে যাদের দেখা হয়
তাদের অধিকাংশই ভাইটেলগো রোগাক্রান্ত,
মাঝেমাঝে দুই একজন রাতপ্রহরীরও দেখা মিলে।
একজন পিয়ানো বাদক টুংটাং করে বলে যায়
ঝড়ে পড়া তারাদের গল্প,
একজন হকার বিলি করে ফিরে
শহরের সব চাপা বিষণ্ণতা-
এক ছন্নছাড়া যুবক এক এলোকেশী যুবতীকে বলে -
তুমি তোমার ডানা মেলে দিলেই
তোমার সবুজে পেঁচিয়ে নিবো আমার সবুজ।
দিনশেষে যুবতী তার ডানা মেলে দেয়
দিনশেষে যুবক অভিমানী জোনাক হয়।
দিনশেষে আমি তাদের একজন সহযাত্রী।

টেবিলে তোমার গল্পেরা

তোমাকে নিয়ে লিখতে হয় না,
 বোকারা মাঝে মাঝেই তোমাকে নিয়ে লিখতে বসে,
 তোমাকে নিয়ে লেখার কিছু নেই।

 ভয়ংকর একটা আড্ডা যখন নেতিয়ে পড়ে, যখন 
 ক্ষনিকের জন্য কিছুই করার থাকে না, যখন
 মানুষ শুদ্ধতম চেতনার খুব কাছে চলে যায় 
তখন কেউ একজন ঠিকই টেবিল থেকে তোমার একটা বই তুলে নেয়,
 দুটো লাইন পড়ে শোনায়।

 তখনও কিছু বলার থাকে না, যখন
 নষ্ট হতে হতে হাতে পায়ে পচন ধ‌রে যায় 
তখন শেষ পর্যন্ত তোমাকে স্মরণ করে মানুষ।

কোথাও কোন পালক রেখে যায় না

প্রায়ই ভাবি কেউ চলে গেলে হয়ত কিছু একটা বদল হয়
আপন ইচ্ছায় জলাঞ্জলি দেয় ভিতরের সব না বলা কথা ।

সাজানো কুড়েঘরের সেই বধুয়া বারান্দায়
এক চিলতে উল্লাসী টেউ নিরন্তর বয়ে চলে
আঁচল ঢাকা মুখখানির হাটুজল স্মৃতি নিয়ে ।

যে গাংচিল একদিন পালকি হয়েছিল
সে সবার আগোচরে হঠাৎ উড়াল দেয়
কোথাও কোন পালক পড়ে থাকে না ।

কেউ চলে গেলে হয়ত কিছু একটা বদল হয়
আগের মত করে হাতছানি দিয়ে ডাকেনা
আমাদের সেই পুরানো সুন্দরী সুখগুলো ।

বৃষ্টি

           


গ্রীষ্মের কোন এক পড়ন্ত বিকেল।
বাসভর্তি কিছু তরুণ-তরুণীর
বাধভাঙ্গা হইহুল্ল্রোড়।
আমিও বাসের যাত্রী।তাদেরই অংশ।
বসেছি একেবারে পেছনের দিকের আগের সিটে।
পাশের সিটটি ফাঁকা নেই।তাতে এক
তরুণী বসেছে।কিছুক্ষণ বাস চলার পর
হইহুল্ল্রোড় যেন আরো বেড়ে গেলো।নিঃসঙ্গ
আমি আর চুপ করে থাকতে পারলাম না।
নিরবতা ভাঙলাম।পাশে বসা মেয়েটিকে উদ্দেশ্য
করে তার নাম জানতে চাইলাম।উত্তরে লাজুক
ভঙ্গিতে নাম জানালো।আমি বিজ্ঞের মত
মাথা নেড়ে বললাম, বাহ বেশ সুন্দর নাম তো!
বাস যতই সামনের
দিকে এগোতে লাগলো বাতাস যেন
ঠান্ডা হয়ে আসতে লাগলো।আরো বেশ কিছুদুর
যাবার পর টিপটিপ বৃষ্টির দেখা পাওয়া গেলো।
ক্রমেই তা বেশ জোরালো আকার ধারন
করলো।বৃষ্টি আমার ভালো লাগে।তন্ময়
হয়ে বৃষ্টি দেখছি জানালার ফাঁক দিয়ে।এবার
মেয়েটিই নিরবতা ভাঙল।আমার নাম
জানতে চাইলো।বললাম।প্রত্তুত্যরে সেও
জানালো আমার নামটা নাকি সুন্দর।
বাস একটা ব্রিজ পার হচ্ছে।
নিচে পানিতে একটা নৌকা।পানিতে বৃষ্টির
ফোটা আর নৌকার
ভেসে চলা দেখে মেয়েটা বলে উঠলো কি সুন্দর!
আমিও সায় জানালাম।আসলেই অপার্থিব সুন্দর
লাগছিলো।মেয়েটা হঠাৎ বলে উঠলো একদিন
সে তার মনের মানুষের সাথে এরকম
সময়ে একসাথে বৃষ্টিতে ভিজবে।
আমি কিছুটা অবাক হই।কি অবলীলায়
কথাটা অপরিচিত একজন মানুষকে বলে ফেলল।
আবার ভালো লাগার একটা অনুভূতিও খেলে গেল
আমার মাঝে।যেখানে আমার মাঝে কোন স্বপ্ন
কাজ করে না,সেখানে একটা মেয়ে কি সুন্দর
অবলীলায় তার স্বপ্নের কথা বলল।
খোলামনের মানুষ মনে হওয়ায় মেয়েটাকে ওর
নিজের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম।
জানালো কয় ভাইবোন।কোথায় পড়াশুনা করে।
কি কি তার ভালো লাগে।মাঝে মাঝে আমাকেও
জিজ্ঞেস করে আমার সম্পর্কে জেনে নিলো।
ইতিউতি কথা জানতে জানতে চলমান ট্রাফিকের
শব্দে কিছুটা বিরক্ত নিয়ে বাইরে তাকালাম।বাস
আমিন বাজার ব্রীজ পার হচ্ছে।
মেয়েটা জিজ্ঞেস করলো এটা কোন জায়গা?
উত্তর পেতেই সপ্রসন্ন হয়ে বলল
আসাদগেটে নেমে যাবে।বাসা কোথায়
জানতে চাইতেই বললো মোহাম্মদপুর।
মেয়েটা বলল,আচ্ছা!তারপর কবে পাশ
করে বেরোলেন?কই পড়ছেন
ইত্যাদি ইত্যাদি আর মোহাম্মদপুর এর একাল
সেকাল।
জ্যাম না থাকায় প্রায় মিনিট দশেকের মাথায়ই
বাস গন্তব্যে পৌছুলো।মেয়েটা গুছিয়ে নিতে শুরু
করলো।বাস থামতেই ভুবন
ভোলানো হাসি উপহার দিয়ে বললো, ঠিক
আছে চলি।আপনার সাথে কথা বলে অনেক
ভালো লাগলো।আমিও মৃদু হেসে বললাম
আমারও সময়টা বেশ কেটেছে।কেন জানি বিদেয়
দিতে ইচ্ছে করছিলো না।ভালোইতো উচ্ছল।
নেমে গেল মেয়েটা।জানালা দিয়ে মাথা বের
করে দিয়ে বললাম,ভালো থাকবেন।আবার
একটা স্নিগ্ধ হাসি উপহার পেলাম।
বেশ কতগুলো যাত্রী নামিয়ে বাস আবার
চলা শুরু করলো।পাশের সিটটি এখন ফাকা।
খেয়াল করলাম বৃষ্টি শেষ হয়ে গিয়েছে।শেষ
বিকেলের পড়ন্ত
রোদে এট্টুসখানি ভালো লাগা আর কিছু
বিচ্ছিন্ন আবেগ নিয়ে শহরের কোলাহল আর
চলন্ত ট্রাফিকের ভীড়ে হারিয়ে গেলাম।

মনে কি রাখবে আমায়?

ঐ যে রাস্তায় বাস- ট্রাকগুলো চলছে
ঐ যে দোকানীটা বসে আছে......
পথ চেয়ে কোন এক ক্রেতার,
ঐ যে ঝিরি ঝিরি হিমেল বাতাস বইছে......
চেয়ে দেখ- রক্তিম আভা বিলিয়ে
সূর্যটা মেঘের আড়ালে চলে যাচ্ছে...
দেখছিস, পাখিরা দল বেঁধে নীড়ে ফিরে যাচ্ছে ...
দেখ, আকাশে মিটিমিটি তারারা জ্বলছে
ঐ যে এক টুকরো চাঁদের
আলো ছড়িয়ে পড়ছে ...
ঘুমিয়ে আছিস ? দেখ -
সকালের সূর্যটা আবার ...
মেঘ থেকে বেড়িয়ে এসেছে ...
এভাবেই চলবে সব কিছু নিয়ম মত
শুধু থেমে যাবে আমার বুকের হৃদস্পন্দন ...
তখনও কি তুই রাখবি মনে আমাকে......?

একদিন ফিরে যাবো

একদিন আমি আবার ফিরে যাবো। আমার শহরে, আমার গ্রামে। তখন হয়তো পরিচিত অনেকগুলো মুখ সেখানে থাকবে না। তাদের আর দেখতে পাবো না আমি। যাদের পাবো তাদের প্রাণ ভরে ভালোবাসবো। যার নেই কিন্তু একদিন ছিলো তাদের গল্প আমি শোনাবো ওদের। সেই ছেলেটার গল্প, বুকে মাইন বেঁধে যে ট্যাঙ্কের সামনে ঝাপিয়ে পড়েছিলো। কিংবা, সেই বুড়ো কৃষক। রাইফেলটা হাতে তুলে নিয়ে যে মৃদু হেসে বলেছিলো, চললাম। আর ফিরে আসেনি। অথবা উদ্বাস্তু শিবিরের পাঁচলক্ষ মৃত শিশু। দশ হাজার গ্রামের আনাচে কানাচে এক কোটি মৃতদেহ। না এককোটি নয়, হয়তো হিসেবের অঙ্কটা তখন তিন কোটিতে গিয়ে পৌছেছে। এক হাজার এক রাত কেটে যাবে……

ফিরবো না আর

যতই থাকুক,
আমায় পিছুটান
আমি ফিরবো না আর, চলছি উজান হাওয়া ঠেলে
মাথার উপর যতই ডাকুক মেঘবালিকা;
সুবর্ণ মায়া ঢেলে !
আমি ফিরবো না আর…

পিছন ফিরে,
দেখবো না আর রঙধনু রুঙ্গিন
মেঘ উড়ে যায় হাওয়ার ডানায় নীলের ছোঁয়া মেখে
পরশ বুলায, আমায় ছুঁয়ে
হূদয় করে ব্যথায় লীল !
আমি ফিরবো না আর।।

এক চিমটে উদাস

যদি কখনো কোন এক উদাস দুপুরে যদি
হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে মনে পড়ে যায়
আমাকে ভুলক্রমে
মিস করছিস বলে,
যখন ফোন কিংবা মেসেজ
দিতে গিয়েও দিতে পারবি না,
তখন জানালা দিয়ে এক ফালি আকাশের
দিকে তাকাস।

যে মেঘটা সে সময় ভেসে যাবে কিংবা
দেখা যাবে,
মনে করিস আমি সেখানেই
আছি,
পারলে খুঁজে নিস আমাকে সেখানে।

যদি কখনো কোন এক বিষণ্ণ বিকেলে
অফিসে কিংবা দোকানে বসে
একাকী মনে হয়,
কিংবা মনে পরে যায় আমার
কথা
অনুভব করিস --সে সময়ে বয়ে যাওয়া
ঝিরিঝিরি বাতাসের মধ্য দিয়ে--
তোকে আলতো করে ছুঁয়ে যাচ্ছি--আমি।
দেখবি তোর
চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গেছে…

পারবি তো ----?

মৌনতার দস্তাবেজ

এবার এই শীত গেলে ফিরিয়ে দিও, মান-অভিমান আর রাগ-অনুরাগ গত বর্ষায় যা দিয়েছি সবটুকু তোমায় - হয়তো আমার একটা চিঠি ছিল না পড়া- তাও রেখেছিলে ফেলে খামটুকু ও হয়ত খোলার সময় হয়ে ওঠে নি কখনো। হয়তো বুকশেল্ফে একাকী একটা বই ছিল, না পড়া- ফিরে আসার সময় জানতে পারিনি পড়েছিলে কী না; জেনেছিলে কী গল্প লেখা ছিলো তাতে । হয়তো বারান্দায় পড়ে থাকা কোন টবে- আমার ছুঁয়ে দেয়া কোন চারা গাছ অযতনে কিছুদিন বেড়েছিল আনমনে, কী ফুল হতো জানিনা তাতো তুমিও জানোনি - তার আগেই যে শুকিয়েছে তার ডালপালা। হয়তো একটা কবিতা জন্মেছিলো একাকী হয়ে থাকা চার দেয়ালে কোন একদিন তুমি পড়বে বলে কুয়াশায় মগ্ন রাতে– ভিজেছে রাতভর বাতাসে উড়ে যাওয়া সেই কবিতাও পড়া হয়নি । এত কিছু হয়ত হয়ে, একদিন পাতাঝরা শীত ফিরে গেলে - যা-ই গত বর্ষায় পাশাপাশি হেঁটে কুড়িয়েছি দুজনে হাতে হাত রেখে, গত বর্ষায় যতটা ভিজেছিল আমাদের সর্বস্ব অশ্রুজলে– তার সবটুকু হয়ে বর্ষার পরে শরৎ পেরিয়ে কিংবা হেমন্তের খোলা আকাশে - সেখানেই হয়তটা কিছু রেখেছিলে যদি পারো ফিরিয়ে দিও তাও- শুদ্ধ ভালো বাসার ডাকটিকেট লাগানো খামে মৌনতার দস্তাবেজ ভেবে আমি বুঝে নেবো …. একদিন এখানেই তুমি ছিলে - কোন এক আড্ডায় ; গানের আসরে কিংবা মিতবাক হয়ে থাকা জোছনায়।

মহাজাগতিক ইতিহাসে আমাদের এপিটাফের গল্প

কোন সন্ধ্যে সন্ধ্যে রাতে রাস্তারা বুঝি অদ্ভুত প্রনয়ে খুন হয়! খুন হয় কতশত খেয়ালের অগোচরে আটকে পড়া দীর্ঘ নি:শ্বাসেরা! ইশ! আমাদের খেয়ালগুলো য...