18 December 2014

সেই ঘুড়িটা

হে সুদুরের বন্ধু পরবাসী,
তুমি যখন মেঘের ফাঁকে ফাঁকে
খোঁজ কোনো রঙীন সুতোর ঘুড়ি,

আমি তখন দুহাতে চোখ ঢেকে
সেই ঘুড়িটার
বিদায় ভালোবাসি।।

যে শহরে আমি নেই

যে শহরে আমি নেই
আমি থাকবো না সে শহরে যুদ্ধ শেষের
ভাঙা-পোড়ো একটা এয়ারপোর্টের
মতো বেঁচে থাকবে তুমি,

তোমাকে ঘিরে সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে স্কার্ট
পরা বুড়ি-
বার্মিজ মহিলার মতো ভৌতিক নির্জনতা;
তোমাকে ঘিরে সারাক্ষণ ঝুলে থাকবে তছনছ
তারের জটিলতা
লতাগুল্মময় ক্রেনের কংকাল,

জং পড়া লোহালক্কর আর হিংস্র
ঘাসের মধ্যে ধু-ধু করবে তোমার জীবন
ভয়ার্ত সব মিলিটারী ভ্যান আর
উল্টে থাকা ট্রলির পাশে ক্ষত-বিক্ষত
একটা চাঁদ ওঠা রানওয়ের মতো
তুমি মুখ লুকিয়ে রাখবে গা ছম-ছম
করা জ্যোৎস্নায় ।

যে শহরে আমি নেই
আমি থাকবো না সে শহরে জনহীন কোন
পেট্রোল পাম্পের দেয়াল ঘেঁষে
একটা মরা শিউলি গাছের
মতো বেঁচে থাকবে তুমি,

তোমাকে ঘিরে হা- হা করবে নিদাঘ রাত
দেখবে পর্যুদস্ত একটা হেলমেটের ফাটল
দিয়ে দিয়ে মাথা
তুলছে একগুচ্ছ সবুজ তৃণ,

শুনবে ধ্বংস্তুপের মধ্যে অর্ধডোবা সূর্যাস্তের
মতো
আগুনলাগা বিলুপ্তপ্রায় লাউঞ্জ
থেকে ভেসে আসছে
প্রেত হাসির শব্দ
তোমাকে ঘিরে নামবে এক জোড়া জনশূন্য বুটের
স্তব্ধতা ।

যে শহরে আমি নেই
আমি থাকবো না সে শহরে প্রতিদিন
দুর্ঘটনা দিয়ে শুরু হবে তোমার ভোর
সকাল সাতটা থেকে অনবরত টেলিফোন
আসতে থাকবে
‘সান স্ট্রোকে’র সংবাদ
তোমার পাশের
সাততলা জানলা থেকে লাফিয়ে পড়বে
কোঁকড়া চুলের যুবক
একদিন গলায় খুর চালাতে চালাতে ঘুমিয়ে পড়বেন
সেই বুড়ো
সবুজ রঙ্গের গলাবন্ধ পরে স্টিক
হাতে যিনি মর্নিংওয়াকে
বেরুতেন রোজ
একটি কিশোরী তার আব্বার রেজর
থেকে লুকিয়ে নেবে ব্লেড
গভীর জ্যোৎস্নাঙ্কিত স্ট্রীটের মাথায় হঠাৎ
দাঁড়িয়ে পড়বে
কালো রঙ্গের একটি গাড়ি
একজন মানুষ শিরিষ গাছের
ভিতরে টিপে ধরবে আরেকজন মানুষের গলা
পার্কের ঝরাপাতার উপর সারারাত
ধরে শিশিরে ভিজে যাবে
মৃত তরুণীর হাঁটুর ভাঁজ ।

যে শহরে আমি নাই
আমি থাকবো না সে শহরে চরম
দুর্বোধ্যতম হয়ে বেড়ে ওঠবে তোমার বিষন্ন
সন্তান।

বার বার ক’রে বদলাতে হবে তার ঝাপসা চোখের
চশমার গ্লাস
তুমি তাকে পৌঁছে দিয়ে আসবে ভোরের ইস্কুলে
কিন্তু কাঁধে ব্যাগ নিয়ে আর কোনদিন
ফিরে আসবে না।

নীল হাফ পযান্ট পরা তোমার ছেলে,
আসবে না , আসবে না
তুমি দাঁড়িয়ে থাকবে ইস্কুল বাড়ির সামনে,
রাস্তার ওপারে ।

যে শহরে আমি নেই
আমি থাকবো না সে শহরে নিয়মিত
দুধের বোতল দিয়ে যাবে গাড়ি
কিন্তু সে দুধে মেশানো থাকবে গুঁড়ো বিষ
তোমার ফ্রিজের
ভিতরে মরে পরে থাকবে শাদা ইঁদুর।

তোমার ড্রেসিং টেবিলের আয়নায়
বসে থাকবে একটা তেলাপোকা
তার রঙ হবে মারাত্মক রকম লাল
তোমার ওয়ারড্রোবের ভিতর থেকে হ্যাঙ্গার
শুদ্ধ ঝাঁপিয়ে পড়বে মধ্য রাতে কাপড়-চোপড় ।

তুমি পালাতে চাইবে পালাতে চাইবে পালাতে চাইবে
ছুটে পালাবে
ছুটবে
ছুটতে ছুটতে ছুটতে তুমি নিচতলার জানালার
একখন্ড পর্দার
মতো আটকে যাবে বারবার
তুমি উদ্র্ধশ্বাসে ছুটে পালাবে ঘুমেরভিতর
কিন্তু মৃতশহর শাণিত করে রাখবে তার সমস্ত
রাস্তার বালি
তারার ভিতর থেকে সারারাত ধরে খ’সে পড়বে চূন
হঠাৎ লক্ষ লক্ষ হাতের
করতালি বেজে উঠবে আতংকিত মোড়ে মোড়ে
দেখেব শাদা ট্রাফিক দাঁড়িয়ে আছে বাজপড়া তাল
গাছের মতো
তার হাত দু’টো ঝুলছে চাঁদহীন মরা ডালের
মতো
চোখে লোমহর্ষক দুটো গর্তের ভিতর
দিয়ে চলেছে
বিষাক্ত পিঁপড়ের বাহিনী
তার মাথার ফাটলে গজিয়েচে একটা বটচারা
তোমার ভয়ার্ত চিৎকারে শুধু সেই মৃত
ট্রাফিকের লাল
হা-এর ভিতর থেকে উড়ে যাবে একটা বনটিয়া।

যে শহরে আমি থাকবো না সে শহরে
লিফট তোমাকে নিয়ে নেমে যাবে পাতালে
তোমাকে নিয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মতো
পার্কের ধারের খাদে ছিটকে পড়বে বাস
লেকের হাঁসগুলি গুগলির
মতো ঠুকরে খাবে মানুষের চোখ
আর খুব বিকাল বেলায় তুমি ক্লান্ত হ’য়ে
ক্লান্ত হ’য়ে
ক্লান্ত হ’য়ে
ফিরবে ঘরে
কিন্তু তোমার ঘরের নিঃসঙ্গ দরোজা
তোমাকে খুলে দিবে হু -হু শীতার্ত প্রান্তর
তোমার সোফা তোমাকে বসতে দিবে না
পাঠিয়ে দেবে বিছানায়
কিন্তু বিছানা তোমাকে শুতে দেবেনা
দাঁড় করিয়ে রাখবে হিমশীতল জানালায়।

তুমি বাথরুমে যাবে, শাওয়ার
খুলে দিলে ঝরবে রক্ত
তুমি বেসিনে নুয়ে পড়বে, পানির ঝাপ্টা দিতেই
মনে হবে
কার গলা যেন পাটিয়ে দিচ্ছে যক্ষার ফুল
তুমি ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে,
দেখবে বিভৎস চিড় ধ’রে আছে আয়নায় ।
সেই চিড় ধরা আয়নার ভিতরে তারপর ক্রমশঃ
হারিয়ে যাবে তোমার আর্তনাদ
আর তোমার মনে হবে , আমি নেই ।

শুধু একদিন মাত্র♥

আমার জন্য একদিনও কাঁদলেনা তুমি,
কেউ না কেউ কাঁদিয়েছে আগে।

আমার জন্য একদিনও ভাবলেনা তুমি,
কেউ না কেউ ভাবিয়েছে আগে।

একদিনও সেজে এসে বললেনা
‘দেখ তো, কেমন লাগে?

একদিনও দেখালেনা তোমার কবিতাগুলো,
কেউ না কেউ দেখেছে আগে।

একদিনও ফিরে এসে বললে না ভ্রমণ-বৃত্তান্ত,
কেউ না কেউ শোনেছে আগে।

কালো টিপ, নীল শাড়ী, পরিপাটি চুলের বাঁধন,
গোলাপ হাতে মিষ্টি হাসি।
আহা, যদি আমার জন্য হতো এতোসব!

হাত ধরে পাশাপাশি হাটতে যদি একদিন…
আমাকে সামনে বসিয়ে, শুধু আমার জন্য,
পড়ে শোনাতে তোমার প্রিয় কবিতাগুলো...

শুধু একদিন, শুধু একদিন মাত্র,

অপেক্ষায় থেকে থেকে

অজানা বিরহে

এক চিলতে কেঁদে উঠতে যদি পাগলি,

শুধু আমার
জন্য!!!

তোকে লেখা এই চিঠি

নীল আকাশের ওপারে খুব দুরে
নক্ষত্রের পাশে নক্ষত্র হয়ে
কেমন আছিস তুই?

মানুষের বিশ্বাসের স্বর্গে তোর বসবাস, আর
আমি বলেছিলাম
তোর বসবাস সময়ের আর এক পৃষ্ঠায়।

আর তাই ওরা আমাকে নাস্তিক বলেছিলো।

যুঁথি,
তোদের ওখানেও কি মেঘের দালান
কোঠা ভেঙ্গে তুমুল বৃষ্টি হয়?

তোদের ওখানেওকি
কৃষ্ণচূড়া গাছের সাথে পাল্লা দিয়ে
বেড়ে ওঠে মনের ডালপালা?

ওখানেও কি মনের শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা
জোছোনা হয়ে পাড়ি দেয় দিগন্ত সমুদ্র?

ওখানেও কি ভাঙ্গে মানুষের ইচ্ছেমত সাধ-সংসার আর
তাসের তাজমহল?

ওই ভুবনে তুই কি এখনো উড়তে পারিস,
অথবা হাসতে?

কিংবা হাঁসের মত পা দুলিয়ে ভাসতে?

আমার এখানে কেবল
খিটখিটে রোদ।

আমি এখোনো সেই ইন্দিরা রোডের
এগারো নম্বর বাসায় থাকি,
রোজ ছাদে উঠি,
পাখিদের উড়ে যাওয়া দেখি।

অথচ বদলে গেছে আর সব,
তোর অভাবে,
তোর বোনা গোলাপ গাছটিও আজ
বড় বেশি কাতর।

বদলে গেছে অনেক কিছুই,
বদলে গেছে রাস্তা ঘাট,স্বপ্নের চারিপাশ,
রৌদ্রের রঙটাও আজ বড্ড বেশি চুপ করে থাকে।

আর আমি,

এখোনো সেই নষ্ট পাড়ার খামখেয়ালি ছেলে।

যুঁথি,
আমি এখনো গলির মোড়ে বখাটে ছেলেদের
সাথে দাঁড়িয়ে
গলা ছেড়ে গান গাই।

জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখি
তোর জানালায় পর্দাটা আজও নামানো।

না, তোকে দেখিনি,
আজকে,
কালকে,
অগনিত গতকাল ধরে।

এই ঠিকানা বিহীন স্বপ্নের শহরে
দু-একটা শুন্যস্থান নিয়ে
কেটে যাচ্ছে জীবন।

যুঁথি,
জোছোনা রাতে,
ছাদের আঙিনায় এসে
নিয়ে যাস
তোকে লেখা এই চিঠি।

জীবন

ভেঙ্গে গেছে খেলাঘর,
অবসরে চলে গেছে কৈশোর ।

প্রতিদিন ছুটির
তাগাদা দিয়ে যাচ্ছে যৌবন ।

স্বপ্নগুলো সিগারেটের ধোঁয়ার সাথে
কোথায় যেন মিলিয়ে যাচ্ছে ।

ভালোবাসার রঙ হয়ে গেছে ধূসর ।

আর আমি নিয়ত ব্যস্ত শুধু
আমাকে নিয়েই ।

আমাকে নিয়েই কী ?

কই এত আমি নই !

আমার মাঝে ঢুকে গেছে কতজন,
ভোর হতে সুখ কুড়িয়ে এনে তাদের দেই,
এই হলো জীবন, এক চিরন্তন
নাট্যশালা,
বিরতিহীন নাটক Image result for জীবন

অভিনেতার মৃত্যু যেখানে সম্ভব,
কিন্তু নাটক শেষ হবার নয়, কোনদিন
নয় !!!

তোমাকে দেখতে বড় সাধ হয়

তার ছেড়া জামার
ভাঁজে রেখে দেয়া একটি চিঠি,
তাতে লেখা, 'তোমাকে দেখতে বড়
সাধ হয়'।

একটাবার এসে দেখে যাও,
শুকনো পাতার মতন
ঝড়ে পড়ছে বিশ্বাস
যদি তুমি না আস,
এ বিশ্বাস টুকু হারিয়ে যাবে।'

চিঠিতে আরো লেখা ছিল,
'আমার মনের গভীর ছুয়েছিলে সেই
কতকাল আগে,
কতটা পথ পেরুলাম তারপর,
কত রাজপথ, অস্পষ্ট
ধুলোমাখা শহর...।

তবু তুমি গান হয়ে ভেসে আস,
কোন এক বৃষ্টিমাখা আদ্র সন্ধ্যায়।

অথবা চায়ের কাপে বাবার কথায়,
ছেলেটা কবে ফিরবে?

'আজ তোমায় পড়ছে মনে
তোমাকে দেখতে বড় সাধ হয়'

একদিন ঠিক হেঁটে যাবো

তোমার চলে যাওয়াটা বড্ড সাবলীল ছিলো
একবারটিও পেছন ফিরে দ্যাখোনি।

আর তোমার সাথে সব অক্সিজেন গুলোও,

আজ সেই একাকিত্ব বড় বেশী কাটে,
তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়, লোকান্তরে ।।

মাঝরাতে হঠাৎ গলা টিপে ধরতে আসে,
ডুবিয়ে দেয় জলের নিচে, অনেক গভীরে;
বৃথা চেষ্টায় শ্বাস নয় কেবল কষ্ট ঢুকে যায়
ফুসফুসে।।

হঠাৎ,
এলে দেবদূত , প্রতীক্ষার অযুত প্রহর আমার,
কি অসাধারন রোশনাই খেলা করে কপোলে ;
ঠিক যেনো বাতিঘর, দূর থেকেই দিয়েছো যতটা
আমার এক জনমের নৈকট্যের আশে লাগে গ্রহণ
পাওয়া যায় যতটা জীবন , তাও বড় কম মনে হয়;

তবুও এক জনমেই আমি চাই প্রানপণ ততটাই
চাই জীবনের সব অপূর্ণ আশা পুরন,
ছেলেমানুষির !!

একদিন,
ঠিক হেঁটে যাবো সেই রাঙ্গামাটির পথ খালিপায়ে
তোমার আঁকড়ে ধরা হাতে রাখব হাত।

তারপর সেই তেপান্তরের মাঠে সবুজ ঘাসের
গালিচায়
শুয়ে থাকা পাশাপাশি, আর আকাশের ক্যানভাসে
উড়ে যাওয়া ধবল বক দেখে উল্লাসিত আমায়
পরম আদরে তোমার সেই ডাক, "পাগল "।।

জানো !! অমন একটা শ্বাস আর ডাকের জন্যই
জীবনটা বড়ো বেশী বোহেমিয়ান হয়ে ছিলো ।

অতল তোমার সাক্ষ্য



গ্রাম্য বালিকার মত পৃথিবী যখন
ধানক্ষেতের আল দিয়ে
নাচতে নাচতে হারিয়ে যায়,
ফেসবুক থেকে উঠে আসে তার
লালটিপ পরা মুখ,
আমার বুকের মধ্যে ঢুকেছিলো
গত এপ্রিলে।



একপশলা বৃষ্টি খেয়ে
বেড়াতে বেরুলো
ছটফটে কিশোরী নদীটি,
সামনে অনন্ত কিংবা দিগন্ত থাকার কথা ছিলো,
অথচ কিছুটা গিয়ে দেখি
কানাগলি।।



সিঁড়ির ওপারে সেই দেখা,
তখন তো বলনি কিছু?
আমার নি:সঙ্গ দিন,আমার অবেলা
আমারই নিজস্ব-
শৈশবের হাওয়া শুধু জানে।

কবিতার খাতা খুলে
চুপচাপ লিখে রাখি
গতকাল- পরশুর কিছু পাগলামি।।

ডেস্কটপ ওয়ালপেপার

তোমাদের ছাদ আজ আর আমায় ডাকেনা,
অথচ ওখানে রোজ থম মেরে বসে থাকতো
চৈত্রের বিকেল।

যতীনের স্কুলভ্যান,
সাদা-নীল ইউনিফর্ম,
চারগুছি বিনুনি,
ভয় ভয় টানা চোখ,
কপালের চারপাশে বিব্দু বিন্দু ঘাম।

কাজনেই, তবু বাইসাইকেলে চেপে
পঞ্চার দোকান থেকে ইউটার্ন দিয়ে
ক্রিং ক্রিং বেল দিই,
বিকেল চারটে, তবু
গনগনে রোদ মুখে ঝলসানি মারে।

বাঁহাতে বুকের সঙ্গে বইগুলো চেপে
ডানহাতে রোদ্দুর আড়াল করে হেঁটে যায়,
মুখ নিচু, আড়চোখে দেখি
হাঁটুর ওপরে থেমে আছে
সাদা স্কার্ট, নীলের বর্ডার,
সাদা স্কেডস,হাফ মোজা,
মাঝখানে থেমে আছে চৈত্রের বিকেল।

কতদিন আগেকার ছাতামাথা রিলছেঁড়া ছবি
আগাপাশতলা নেই,
থেকে থেকে ভেংচি কেটে যায়।

তোমাদের ছাদে এক্কা-দোক্কা খেলা টেলা আর হয়
না,
বাড়িটাই আছে কিনা তাই বা কে জানে।

হলুদ ইস্কুল ভ্যান,সাদা-নীল ইউনিফর্ম
চারগুছি বিনুনি
থেকে থেকে ভেসে ওঠে
ল্যাপটপ ওয়ালপেপারে।

মৌনতার দস্তাবেজ

এবার এই শীত গেলে ফিরিয়ে দিও,
মান-অভিমান আর রাগ-অনুরাগ
গত বর্ষায় যা দিয়েছি সবটুকু তোমায়।

হয়ত
আমার একটা চিঠি ছিল না পড়া,
তাও রেখেছিলে ফেলে।

খামটুকু ও হয়ত খোলার সময়
হয়ে ওঠে নি কখনো।

হয়ত
বুকশেল্ফে একাকী একটা বই ছিল, না পড়া।

ফিরে আসার সময় জানতে পারিনি
পড়েছিলে কী না;
জেনেছিলে কী গল্প লেখা ছিলো তাতে?

হয়ত
বারান্দায় পড়ে থাকা কোন টবে
আমার ছুঁয়ে দেয়া কোন চারা গাছ
অযতনে কিছুদিন বেড়েছিল আনমনে।

কী ফুল হতো জানিনা তাতো
তুমিও জানোনি,
তার আগেই যে শুকিয়েছে তার ডালপালা।

হয়ত
একটা কবিতা জন্মেছিলো
একাকী হয়ে থাকা চার দেয়ালে
কোন একদিন তুমি পড়বে বলে।

কুয়াশায় মগ্ন রাতে – ভিজেছে রাতভর
বাতাসে উড়ে যাওয়া সেই কবিতাও
পড়া হয়নি ।

এত কিছু হয়ত হয়ে, একদিন
পাতাঝরা শীত ফিরে গেলে
যা-ই গত বর্ষায়
পাশাপাশি হেঁটে কুড়িয়েছি
দুজনে হাতে হাত রেখে।

গত বর্ষায় যতটা ভিজেছিল
আমাদের সর্বস্ব অশ্রুজলে – তার সবটুকু হয়ে
বর্ষার পরে শরৎ পেরিয়ে কিংবা
হেমন্তের খোলা আকাশে -
সেখানেই হয়তটা কিছু রেখেছিলে।

যদি পারো ফিরিয়ে দিও তাও-
শুদ্ধ ভালো বাসার ডাকটিকেট
লাগানো খামে মৌনতার দস্তাবেজ ভেবে।

আমি বুঝে নেবো ….
একদিন এখানেই তুমি ছিলে -
কোন এক আড্ডায় ;
গানের আসরে কিংবা
মিতবাক হয়ে থাকা জোছনায় -


আমি একটা সকাল খুঁজে বেড়াই

শৈশবের দুরন্তপনায় ছিঁড়ে যাওয়া
একজোড়া সাদা জুতোয় তোশক পেতে
অভিমানী অযুত সকাল ঘুম দিয়েছে আর সূর্য
দেখবে না বলে,

চারচাকার ব্রেকবিহীন সাইকেলে চড়ে
ছুটির ঘন্টার বেল বাজিয়ে খুঁজেছি সেই সকাল।

টাইয়ের ভাঁজে, আলমারিতে সমাহিত স্কুলের
ময়লা শার্টের আস্তিনে
আর প্রেমিকার রঙ্গিন চুলের ফিতায়
হাতড়ে মরেছি।

নৈশপ্রহরীর টর্চের আলো ছিনিয়ে ঘুমন্ত
রাতকে ডেকে খুঁজেছি সকাল,
পাইনি, কুৎসিত
স্বান্ত্বনা দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে আমায়।

আরাধ্য সকাল আমার
আড়মোড়া ভাঙ্গা কামিনী গাছের দুটি বুলবুলির
লাল ডানা হয়ে
আবার ফিরে এসো,

আমি তোমার আঙ্গুল ধরব।

প্রতারক তালা ভেঙ্গে আমি আবার
পুরোনো স্কুলব্যাগটি বয়ে নিয়ে যেতে চাই।

17 December 2014

তোমার খোলা হাওয়া

আজ প্রবাসের বিজন বেলায় একটা কথা বারবারই মনে পড়ে…
আমি চাইনা তোমার ইউরোপ, আমেরিকা,
ফিরিয়ে দে আমার বাংলা …

অমল ধবল পালে লেগেছে মন্দ
মধুর হাওয়া ।
দেখি নাই কভু দেখি নাই এমন
তরণী-বাওয়া ।।
কোন্ সাগরের পার
হতে আনে কোন্ সুদুরের ধন
ভেসে যেতে চায় মন,
ফেলে যেতে চায় এই কিনারায় সব
চাওয়া পাওয়া ।
দেখি নাই কভু দেখি নাই এমন
তরুণী-বাওয়া ।।
পিছনে ঝরিছে ঝরঝর জল, গুরুগুরু
দেয়া ডাকে,
মুখে এসে পড়ে অরুণকিরণ ছিন্ন
মেঘের ফাঁকে ।
ওগো কান্ডারী, কে গো তুমি,
কার হাসিকান্নার ধন
ভেবে মরে মোর মন -
কোন্ সুরে আজ বাঁধিবে যন্ত্র,
কী মন্ত্র হবে গাওয়া ।
দেখি নাই কভু দেখি নাই এমন
তরণী-বাওয়া ।।

শুধু তোমারই নাম

সেদিন অনেক আয়োজন করে বসেছিলাম
কবিতা লিখতে।

কতদিন হয়ে গেলো কবিতা লেখা হয় না..

টেবিল চেয়ারে ধুলোবালির রাজত্ব আর
কাগজ কলমে অবহেলার রেখাপাত ছিল।

মনে মনে ভেবেছিলাম
আজ জীবনের শ্রেষ্ট কবিতাটি লিখব।

ভাবতে ভাবতে কিছু কিছু সুন্দর শব্দ সম্ভার গড়লাম
পাতাজুড়ে তা লিখতে গিয়ে
আমার সময়ের ভারে নুয়ে পড়া বৃদ্ধ কলমটা
হঠাৎ চঞ্চলতা ফিরে পেলো
কাগজ হয়ে উঠলো মসৃণ।

আমি কবিতা লিখতে থাকলাম…

লেখা শেষ হলে দেখি

একি !

সমস্ত পাতাজুড়ে শুধু তোমারই নাম।♥

ঘাসফুল♥

একদিন এক যুবকের হাত
ধরে তুমি হেঁটে যাচ্ছিলে সেই পথ ধরে।

হঠাৎ
যুবকটি হেঁটে যেতে যেতে দু’পায়ে মাড়িয়ে যেতে লাগলো
ফুটে থাকা ঘাসফুলগুলো।

তুমি চীৎকার করে উঠলে। একি করছো!
যুবকটিকে নিষেধ করলে ঘাসফুল মাড়িয়ে যেতে।

যুবকটি হো হো করে হেসে উঠলো। পথের
ধারে অযত্নে বেড়ে ওঠা ফুলগুলোর জন্য তোমার
কষ্টের কারণ জিজ্ঞেস করলো।

তুমি বললে,
"ওগুলো আমার অবহেলায় ফুটে থাকা বিশেষ এক
অহংকার"”। যুবকটি অবাক হলো! তোমার
চোখের কোণ বেয়ে ততক্ষণে একফোঁটা অশ্রুজল
গড়িয়ে ঠিক যেন নাকফুলের জায়গায়
এসে জমে থাকলো।

সূর্যের
আলো এসে ঠিকরে পড়লো তোমার নাকের
কোণে জমে থাকা সেই একফোঁটা চোখের জলের
উপর। হঠাৎ যেন হীরের
দ্যুতি ছড়িয়ে পড়লো যুবকের চোখে।

যুবকটি চমকে উঠলো! বিষ্ময়ে হতবাক
হয়ে সে বলে উঠলো, “একি! তোমার নাকে হীরের
নাকফুল এলো কোথা থেকে?” তুমি তখন নিশ্চুপ।

আলতো পায়ে এগিয়ে এসে খুব যত্ন
করে কুড়িয়ে নিলে পথের ধূলোয়
পড়ে থাকা দুমরানো, থেঁতলে যাওয়া কিছু
ঘাসফুল। যুবকের চোখে মুখে তখনো বিষ্ময়ের
ঘোর।

জানতে চেয়েছিলে...জানতে পারোনি

জানতে চেয়েছিলে
এখনো কীভাবে পাই এমন অমিয়
তেজ,

কীভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে ওড়াই-শব্দের
বাগানে আজো
কবিতার চকচকে ঘুড়ি,

জানতে পারোনি হায়, সব হয়,

সব পারি, সে শুধু
তোমার জন্যই,

যখন শুদ্ধ ভোরে
শুধু তোমার
'মুগ্ধ দুচোখ' মনে করি !

একটা চিঠির খোঁজে

সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালাবার সময় হয়ে এলো বুঝি,
কোথায়ে ডাক পিয়ন, কোথায়ে চিঠি?

পথের ধুলো উড়িয়ে ফিরে আসছে একদল
ছেলে পুলে,
কর্ম ব্যাস্ত দিনের
শেষে ফিরে আসছে কর্মজীবী মানুষ,
আমিও ফিরেছি,,
তবুও ডাক পিয়নটার কোন দেখা নেই!

ও কি ছুটি নিয়েছে, যদি তা না হয় তবে কেন
আসছে না,
কেন ভাঙ্গছে না মৌনতার দেয়াল,

হাপিত্যেশ করে কাটছে না সময়,
পাখিদের কোলাহলে আমার ধ্যান ভাঙ্গে,
ওরাও ফিরে যাচ্ছে নীড়ে,
তবে কি আজও আসবে না তোমার চিঠি?

সেই কবে উত্তর
দিয়েছিলে এনেছিলে সপ্নে বিভোর দিন,
তারপর কেটে গেছে কত বিনিদ্র রাত,
গাঢ় অন্ধকারে আমি কত দূর ছুটে গেছি রাতের
অতন্দ্র প্রহরী হয়ে,

তুমি বলেছিলে আমি নিষ্ঠুর-
আমি তোমাকে ছাড়া চাঁদের আলোয়
জ্যোৎস্না স্নান করি,
তাই আমি চাঁদ দেখাই ছেড়ে দিয়েছি,

অশ্বথ গাছের ডালে যখন নিসঙ্গ প্যাঁচা ডেকে উঠে,
তখন বুকের পাঁজর ছিঁড়ে বের হয়ে আসা দীর্ঘশ্বাস
বাতাসে শিস দিয়ে দূরে হারিয়ে যায়,
রাত চলে যায় আসে নতুন দিন,
নতুন প্রতিক্ষা, তোমার চিঠি হয়ত আজ আসবে!

এই তো সেদিনের কথা,
কাঠফাটা রোদে রাস্তার পিচ গলে গলে যাচ্ছিল,
তার মাঝেই আমি ছুটে গেছি পোস্ট অফিসে,
চিঠির খোঁজে,
পোস্ট মাস্টার খুব বিরক্ত হোল,

চিঠি আসে নি,

ভারি হয়ে আসলো আমার নিঃশ্বাস,
জীবনের স্বাদ তিতা হয়ে আসছে,
কত কিছুই না তোমাকে বলার আছে....

ঐ যে পুকুরের ধারে তুমি একটা গোলাপের গাছ
লাগিয়েছিলে,
সেই গাছে ফুল ফুটেছে,
সেই ফুলের পাপড়িই তো নীল
খামে করে পাঠিয়েছিলাম।

আমি চিঠি লিখি- প্রতিটা ক্ষণে – মনের
আনাচে কানাচে,
চিঠি লিখি সন্তর্পণে,
চিঠি লিখি তোমার তরে,
নীল খামে করে পাঠাই সে চিঠি অজানার উদ্দেশে,
সে চিঠিতে লুকিয়ে থাকে কত অভিমান,
ভালোবাসা!

আমি আর আমার সেই বন্ধুটি, যে জোনাকি ভালবাসতো

প্রিয় রংপেন্সিল,
আছিস কেমন রে ?

অনেকদিন পর
তোকে লিখলাম।

জানিস আমাদের বাড়ির
পাশে সেই ডোবাটা আজো আছে।
কিন্তু বছরের বেশিরভাগ সময় তার
অস্তিত্ব বোঝা যায় না,শুধুমাত্র
বর্ষাকাল ছাড়া।

বর্ষা এলেই এটা হয়ে যায়
ব্যাঙ্গের অভয়ারন্য।
সারারাত ব্যাঙ্গের ডাকাডাকি।ভালই
লাগে রাতে ঝিঁ ঝিঁ পোকা ও শেয়ালের
ডাকের
সাথে ব্যঙ্গের এই ঐকতান।

তুই আসিস আমি তোকে শোনাব।জানিস
বাড়ির পাশের ঝোপটা নাকি পরিস্কার
করে ফেলবে।শুনে আমি কি যে মন খারাপ
করেছি তা তুই ভাবতেও পারবি না।কারন
তুই ভাল করে জানিস
আমি জোনাকি ভিষন পছন্দ করি।

তোর
কি মনে আছে আমি একবার
জোনাকি ধরে ছোট্ট
শিশিতে বন্দি করে রেখেছিলাম
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তার
আলো দেখব বলে, কিন্তু সকালে সেই
জোনাকিটা মরে গিয়েছিল,আর আমি ভিষন
মন খারাপ করে ছিলাম।তারপর তুই এক
রাতে অনেক
গুলো জোনাকি পোকা পলথিনে বন্দি করে
এনে দিয়েছিলি, তাপর দুজন
সেগুলো আবার ছেড়ে দিয়ে খুব
মজা করে ছিলাম।

এখনো ঝোপটা আছে,
এখনো সেখানে রাতের বেলায় অনেক
জোনাকি জ্বলে।তুই আসিস আবার দুজন
মিলে জোনাকি পোকার আলো খেলা দেখব।

তাড়াতাড়ি আসতে হবে তা না হলে ঝোপটা
হয়ত কেটে ফেলবে।
তখন দুজন মিলে জোনাকির
আলোখেলা দেখতে পারব না।তুই
এলে আমাদের কোনের জমিটায়
নিয়ে যাবো , যেখানে বর্ষায় জল
আসে এবং অনেক মাছের ঝাঁক আসে।

অনেকদিন যাবত বর্ষা এলেও মাছের
ঝাক আসে না।সম্ভবত তুই নেই তাই
মাছের ঝাক আর আসে না।তুই আসিস দুজন
মিলে আবার
গামছা দিয়ে মাছের ঝাক ধরব।তুই
আসবি তো?

তোর প্রতিক্ষায় রইল অন্ধকার রাতের
জোনাকি,শীতে ক্ষেতের আইলের ঘাসের
উপর জমা শিশির, কোলা ব্যঙ্গের
ডাক,মাছের ঝাক,বৃষ্টির পর
মাটির সোদা গন্ধের সাথে খড়ের গাদার
এক অদ্ভুত গন্ধ আর প্রতিক্ষায় থাকব
আমি।

আমি আর আমার সেই বন্ধুটি, যে জোনাকি ভালবাসতো

প্রিয় রংপেন্সিল,
আছিস কেমন রে ?

অনেকদিন পর
তোকে লিখলাম।

জানিস আমাদের বাড়ির
পাশে সেই ডোবাটা আজো আছে।
কিন্তু বছরের বেশিরভাগ সময় তার
অস্তিত্ব বোঝা যায় না,শুধুমাত্র
বর্ষাকাল ছাড়া।

বর্ষা এলেই এটা হয়ে যায়
ব্যাঙ্গের অভয়ারন্য।
সারারাত ব্যাঙ্গের ডাকাডাকি।ভালই
লাগে রাতে ঝিঁ ঝিঁ পোকা ও শেয়ালের
ডাকের
সাথে ব্যঙ্গের এই ঐকতান।

তুই আসিস আমি তোকে শোনাব।জানিস
বাড়ির পাশের ঝোপটা নাকি পরিস্কার
করে ফেলবে।শুনে আমি কি যে মন খারাপ
করেছি তা তুই ভাবতেও পারবি না।কারন
তুই ভাল করে জানিস
আমি জোনাকি ভিষন পছন্দ করি।

তোর
কি মনে আছে আমি একবার
জোনাকি ধরে ছোট্ট
শিশিতে বন্দি করে রেখেছিলাম
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তার
আলো দেখব বলে, কিন্তু সকালে সেই
জোনাকিটা মরে গিয়েছিল,আর আমি ভিষন
মন খারাপ করে ছিলাম।তারপর তুই এক
রাতে অনেক
গুলো জোনাকি পোকা পলথিনে বন্দি করে
এনে দিয়েছিলি, তাপর দুজন
সেগুলো আবার ছেড়ে দিয়ে খুব
মজা করে ছিলাম।

এখনো ঝোপটা আছে,
এখনো সেখানে রাতের বেলায় অনেক
জোনাকি জ্বলে।তুই আসিস আবার দুজন
মিলে জোনাকি পোকার আলো খেলা দেখব।

তাড়াতাড়ি আসতে হবে তা না হলে ঝোপটা
হয়ত কেটে ফেলবে।
তখন দুজন মিলে জোনাকির
আলোখেলা দেখতে পারব না।তুই
এলে আমাদের কোনের জমিটায়
নিয়ে যাবো , যেখানে বর্ষায় জল
আসে এবং অনেক মাছের ঝাঁক আসে।

অনেকদিন যাবত বর্ষা এলেও মাছের
ঝাক আসে না।সম্ভবত তুই নেই তাই
মাছের ঝাক আর আসে না।তুই আসিস দুজন
মিলে আবার
গামছা দিয়ে মাছের ঝাক ধরব।তুই
আসবি তো?

তোর প্রতিক্ষায় রইল অন্ধকার রাতের
জোনাকি,শীতে ক্ষেতের আইলের ঘাসের
উপর জমা শিশির, কোলা ব্যঙ্গের
ডাক,মাছের ঝাক,বৃষ্টির পর
মাটির সোদা গন্ধের সাথে খড়ের গাদার
এক অদ্ভুত গন্ধ আর প্রতিক্ষায় থাকব
আমি।

জোছোনা মেখে হেঁটেই যাবো

আজীবন হেঁটে যাব জোছনা মাখা এ
রাস্তায়।

সময় হলে একটু তাকিয়ে থেকো
দু’চোখে অশ্রু নিয়ে আমার
চলে যাওয়া দেখো,

হেঁটে গেছি কতো সহস্র বিকেল
তোমার জানালায়
দৃষ্টি রেখে ক্ষয়ে গেছে কতো স্বপ্ন।

তুমি তাকাওনি। খুঁজে নাওনি প্রিয়
সে স্পর্শ, তবুও
শেষ শীতে একবার তাকিয়ো।

গায়ে জড়িয়ে থাকা শীত জোছনায়
ক্ষণিকের হাওয়ায় হাহাকার মেখো।

আমি দাঁড়াব না, তবু
তুমি চেয়ে থেকো
কাছে পাবার
ব্যাকুলতাকে হৃদয়ে রেখো।

পথ ভুলেছি আমি, ভুলেই গেছি স্বপ্ন
দেখা,
জোছনা গায়ে শিখেছি পথ চলা
তোমার প্রিয় জানালার পাশে
আটপৌরে মলিন রাস্তায়
আমি জোছনা মেখে হেঁটেই যাব।

অবসর হলে তুমি চেয়ে থেকো
অশ্রু চোখে আমায় দেখো।

স্বপ্ন আর কবিতা


জীবনের একটা দিন
শুধু আমার মত করে ভালোবাসিস,
কথা দিচ্ছি
বাকি দিনগুলো
তুই আমার মতই পাগল হবি।



উপলব্ধি একা করে দিলো
একাকিত্ব দুরে ঠেলে দিলো ,
দুরত্ব নিয়ে এলো নিরবতা, তবু
নিঃস্ব হওয়ার পরেও বলছি
আরো দিতে পারি...



ছিনিয়ে নিলি
একটা আস্ত বিকেল
একটা অর্ধেক রাতে,
একটা গোটা সোনালী সকাল
দিয়ে গেলি শুধু
স্বপ্ন আর কবিতা।।।



ভিজে লাল মেঠো পথ ধরে
হাঁটতে হাঁটতে
মহুয়া গাছের তলা থেকে
দুহাত ভরে
জীবন কুড়োলাম।

16 December 2014

হয়তো অন্য কেউ

এই তীব্র স্থিতির মাঝেগতিটাকেই কেমন
বেখাপ্পা লাগে।

ভেবে দ্যাখো, আমার শব্দগুলোও
কি বেখাপ্পা আর অদ্ভুত?

আমার শত-সহস্র বাক্যগুলো, অনুভূতিদের
ছড়িয়ে থাকা কত!

তবু আমার গভীরতম কথা নাকি প্রকাশিত হয়
না।

আমার আবেগের গহীনতম শব্দগুলো নাকি অর্থ
বয়ে নেয় না।

ছোট্ট এই জীবনের যেখানেই হাত বাড়াই,
আমি হেরে যাই।

এই তো কতবার বদলেছি দেখার বাতায়ন,
বদলেছি দৃশ্যপট,
অথচ কেন বারবার লজ্জায় নুয়ে পড়তে বাধ্য হই
অসহায় হয়ে?

অদৃশ্য পিঞ্জরের এপাশে আমার একলা বসবাস
অহর্নিশ।

জানি এই ফেলে যাওয়া দুপুর আর কোনদিন
আসবে না।

জানি এই কার্তিকের সন্ধ্যার বিষাদের কবর
এখানেই।

জীবন খুবই ক্ষুদ্র, যে যায়, যারা যায়; চিরতরেই
যায়।

হাজারবার ভেবেছি জীবনে এই তো শেষ, এই
তো!

এই মহাকাব্যের যেন শেষ নেই। প্রতিটি শব্দ
বয়ে যায়
তপ্ত অশ্রুধারা আর বক্ষপিঞ্জরের
ভেতরে অগ্ন্যুৎপাতের পর।

এ আমার অনুভূতিমালা, আমার নিঃশব্দ বচন,
নিশ্চুপ কোলাহল।


বলো তো, বছরের পর বছর ধরে বলা আমার
শব্দগুলো
কেমন করে এতটা অর্থহীন বোধ হতে পারে?

কী গভীর যন্ত্রণা সে প্রতিটি শৃঙ্খলাবদ্ধ
আবেগের প্রকাশে
তার হিসেব হবে কোন খাতায়? কবে, কোথায়,
কেমন করে?

শূণ্য দিয়ে পূর্ণ করি আমার রিক্ততার ডালা।

অঘ্রাণে সেই মেঠো পথের গন্ধে আমার
জীবনটা,
পরাবাস্তব জগতের স্বপ্নগুলো, তিক্ত আর কটু
স্বাদ;
অনবরত মুচড়ে ওঠা বুক, হেসে ভুলে যাওয়া।

এমনি করে ভুলে যেতে যেতে ক্লান্ত হই, তবু
উন্মত্ত হতে পারিনা।

হাসিমুখ পথ চলি, কিছুমিছু জোগাড় করার
ন্যুনতম প্রচেষ্টা।

আমি রিক্ত ছিলাম, আছি, থাকবো হয়ত।

আমার রিক্ততা
আমাকে করেছে পড়ে থাকা মেরুদন্ডহীন কেঁচোর
মতন।


হয়ত একদিন মানুষ হবো, একজন সত্যিকার
মানুষ।
ক্ষতবিক্ষত দেহ-প্রাণের আমি নই, সেই
শৈশবের আমি।

মেঠোপথে ভেজা শিশিরে পা গলিয়ে ধনেপাতার
ক্ষেতে পাশে
মায়ের
আঙ্গুল ধরে আনন্দে কেঁদে ফেলা সেই
আমার মতন কেউ…

হয়ত সে কেবলই স্মৃতি, অথবা বিভ্রম?
অথবা আমি নই! সে হয়ত অন্য কেউ…

তোমার কাছেই যাবো

বহুদিন যাইনি কোথাও,

বুনো গন্ধ গায়ে মেখে, করিনি সবুজ স্নান-
বহুদিন।

পায়ে পায়ে খয়েরী পথেরা হারিয়েছে, কোন
বাঁকে?

খুঁজিনি আর.....

শরীরের থাকে থাকে, কুয়াশার মত
ক্লান্তি জমে আছে
সারাদিনের, আগুনে-জলে সেগুলোকে ভাঁজ
করে রাখি-

ভেবেছিলাম, ক্লান্তিগুলোকে করে দেব সবুজ
টিয়া
উড়ে উড়ে ছুঁয়ে যাবে তোমার সবুজ আঁচল--

যাওয়া হয়না,


বহুদিন যাইনি কোথাও।

ও পথে শেষ কবে গিয়েছিলাম, মনে নেই।

কোন কি গান গেয়েছিলাম, ঠিক মনে নেই-
একটু কি বসে ছিলাম? আজ আর কিছুই
মনে পড়েনা।

মাঝে মাঝে অকারণ ঝিমুনি এলে,
চোখের ত্রিসীমানায় চঞ্চল কাঠবেড়ালীর
মত,এক টুকরো সবুজ মায়া
তড়িঘড়ি করে-দূরে সরে যায়।

লাল ঠোঁট টিয়া গুলো, পেয়ারা খেতে খেতে
অযথাই করে, ঢলো ঢলো কাব্যবিলাস-----

বহুদিন যাইনি কোথাও।

যাবার মত নেই কোথাও,
শুধু স্বপ্ন জাগরণে আমি বুকের ভেতর লাল
সবুজের একটা ছবিই আঁকি।

যদি যাই কখনও দূরে কোথাও

তোমর কাছেই যাব।

আমার শহর

এক মোহ আছে এই শহরের যা সবাইকে নিজের
দিকে টানে এক অচিন মাদকতায় ,আমিও
পারিনি সেই সেই মাদকতা থেকে দুরে সরে যেতে|

এই শহরে আর সবার মতো নিজের মালপত্রের
সাথে সাথে কতগুলো স্বপ্ন
নিয়ে এসেছিলাম ,জানিনা তার কতটুকু পূর্ণ
হয়েছে বা পূর্ণ করতে পেরেছি, শুধু জানি এ শহর
দিয়েছে আমায় অনেক যা আমি কখনো চাইনি....

এই শহর শিখিয়েছে আমায় কি করে বাঁচতে হয়,
এত মানুষের
ভিড়ে কি করে মিশে যেতে হয় ,কিভাবে একলা
হাঁটতে হয় জীবনের বিরল পথ ধরে ,

কিভাবে হাজার মানুষের ভীড়ে খুঁজে নিতে হয়
নিজের একান্ত আপনজনকে।

এই শহর শিখিয়েছে আপনজন
ছেড়ে চলে গেলে আবার একা হাঁটতে নিজের
ছায়াকে সঙ্গী করে।

এ শহর সব দিয়েছে ,সব ..

ক্ষনিকের
মাঝে দিয়েছে অনেক কিছু ,শুধু

কেড়ে নিয়েছে আমার একান্ত সময়গুলো ...

আজ তোমার মেঘে মেঘে রংধনু

“যদি কোনদিন মনে হয়
আমাকে ভালবাসা তোর খুব উচিত
ছিলো ,তবে সেদিন একদম কাঁদিস না,
তুই
কাঁদলে যে আমি ভালো থাকিনা ”


বহুদিন তুমি জানতে চাওনি ,বহুদিন !

বিমর্ষ বৃক্ষেরা কতটা সবুজ ,
কষ্টের গোলাপগুলো কতটা লাল !!!

পাথরের দিন গেছে খরায়, বন্যায়,

ডায়রির পৃষ্ঠা ভিজেছে অবসাদে,

একটি কুয়াশার চাঁদ সরিয়ে তবুও
দেখতে চাওনি কোনোদিন

পড়ে আছে কী না শীতের শেফালী
অনাদৃত ভোরের বাগানে ….

একটা ভায়োলিন তোমার জন্য কতবার
সুরে সুরে রাত্রি গড়েছে,

একটা গীটার তোমার জন্য কতবার
কেঁদে কেঁদে দুপুর ছুয়েছে ,

জানতে চাওনি ,তবু
রোদের
দুপুরে বৃষ্টি নামে কী না ভেতরে হটাত

,
বিপুল জনারন্যে ও
কেউ খুব একা হয়ে যায় কী না

সাজাতে শব্দমালা
কবিতায় …..

আজ তোমার মেঘে মেঘে রংধনু

“যদি কোনদিন মনে হয়
আমাকে ভালবাসা তোর খুব উচিত
ছিলো ,তবে সেদিন একদম কাঁদিস না,
তুই
কাঁদলে যে আমি ভালো থাকিনা ”


বহুদিন তুমি জানতে চাওনি ,বহুদিন !

বিমর্ষ বৃক্ষেরা কতটা সবুজ ,
কষ্টের গোলাপগুলো কতটা লাল !!!

পাথরের দিন গেছে খরায়, বন্যায়,

ডায়রির পৃষ্ঠা ভিজেছে অবসাদে,

একটি কুয়াশার চাঁদ সরিয়ে তবুও
দেখতে চাওনি কোনোদিন

পড়ে আছে কী না শীতের শেফালী
অনাদৃত ভোরের বাগানে ….

একটা ভায়োলিন তোমার জন্য কতবার
সুরে সুরে রাত্রি গড়েছে,

একটা গীটার তোমার জন্য কতবার
কেঁদে কেঁদে দুপুর ছুয়েছে ,

জানতে চাওনি ,তবু
রোদের
দুপুরে বৃষ্টি নামে কী না ভেতরে হটাত

,
বিপুল জনারন্যে ও
কেউ খুব একা হয়ে যায় কী না

সাজাতে শব্দমালা
কবিতায় …..

জানি, একদিন চলে যাবো

জানি একদিন চলে যাবো।

এই সকালের ঘাসগুলো আর আমার
পায়ের স্পর্শ পাবেনা।

জানি সেদিন ঝরে যাওয়া পাতাদের
আর কেউ মাড়িয়ে ঝুরঝুর
করে দেবেনা।

জানি আটকে পড়া চড়ুইটাকে আর
আমার মতন করে কেউ
জানালা দিয়ে বের করে দেবেনা।

এই আমার আর পথ
চলতে চলতে থেমে যাওয়া
ঠেলাগাড়িটাকে ঠেলে দেয়া
হবেনা।

সেদিন যেমন মায়ের কপালে হাত
বুলিয়ে দিচ্ছিলাম তখন
মনে হচ্ছিলো-- কতদিন আমার
মামণিকে এভাবে পাবো জানিনা!

এই
মায়ের কোলে কোলেই বড়
হয়েছি কতগুলো বছর! এই ছোট
শরীরটার উপর কতনা পরিশ্রম
বাড়িয়েছি সেই ছোট্টবেলায়।

মামনির কত রাত যে ঘুম
হয়নি আমার জন্য তা তো গুণেও
হয়ত শেষ করা যাবেনা!

আজ আদরের ছোট বোনটার
সাথে অভিমান
করে কথা বলছি না দুপুর থেকে,

হয়ত সে এখনো বুঝেনি আমাকে ফেলে
রেখে বাসায়
চলে এলো বলে এতটা পথ
হেঁটে ফিরেছি নিজেকে কষ্ট
দিতেই।

তবু ওর উপর রাগ করবো না,
ভালোবাসা একটুও কমবে না। কালই
হয়ত ও চাইবে বলে সন্ধ্যাবেলায়
বাইরে ছুটে যাবো সিংগাড়া নিয়ে
আসতে ।

কারণ, মাঝে মাঝেই মনে হয়--
একদিন হয়ত চাইলেও আর এত
কাছে পাবো না,
এভাবে করে ভালোবাসতে পারবো না।

মাঝে মাঝে অনেকের উপর অনেক রাগ
হয়। অনেক মানুষের উপর! কেন
তারা এত কষ্ট
দিতে পারে অন্যদেরকে?

প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলি না।

খানিকক্ষণ নিজেকে বুঝাই, রাগ
অন্যায়ের জন্ম দেয়...
এই যালিম মানুষদের বেশিরভাগের
জন্যই করুণা হয়-- হায়!

যদি তোমরাও একটু অনুধাবন করার
ক্ষমতা হতো-- এই ছন্নছাড়া অল্প
ক'দিনের বেড়াতে আসাটা খুব
দম্ভের কিছু নয়।

ইদানিং কারো উপর রাগ করিনা,
আক্রোশ দেখাই না। হয়ত কিছুদিন
পরেই চলে যাবো একদম
সবাইকে ছেড়ে-- এই মাঠ-ঘাট-
প্রান্তর আর প্রিয়জনদের ছেড়ে।
সকালের স্নিগ্ধ আলোর পরশ হয়ত
সেদিন চলে যাওয়া অনেকের মতন
আমিও পাবো না।

রাতের এই জোছনার
আলোতে পথে আমার
ছায়াটাকে আলাদা করে দেখতে পাবো
না। ছায়ার
মাথাটাকে পা দিয়ে চেপে দেয়ার
চেষ্টা করতে করতে বাসার
গেটে চলে আসা হবেনা।

একদিন হয়ত চাইলেও কিছুই
বলতে পারবো না, শুধু অনুভব
করে যাবো। হয়ত সেদিন সব বুঝেও
না বলতে পারার
আক্ষেপে যন্ত্রণাদগ্ধ হবো।

অথবা হয়ত একদিন

কেবলি ভালোবাসা পাবো।

যে ভালোবাসা পেলে আর কিছু
লাগেনা! আনন্দে আর স্মিত
হাসিতে কেটে যাবে অনন্তকাল।
একদিন......... কতদূরেই
না চলে যাবো!!

না বলা কথা(The UnToLd sToRy)

এইরকম মাঝেমাঝেই এসে পড়ি এই নদীর পারে।

এইরকম মানে, যখন নিজের সাথে নিজেই
পেরে উঠি না।

কান থেকে গান খুলে রাখি পকেটে।

হাতে যথেষ্ট টাকা ছিলো না এরকম
সময়ে কিনেছিলাম নোকিয়ার
একটা কমদামী ভার্সন ।

এখন আর ইচ্ছেটা নেই
কোনো ভালো ভার্সন
কেনার, তাই
কেনা হয় না।

ক্ষুদে বাচ্চা টাই পকেটে পুরে আর
কানে যোগ করে চলি।
পিছনে লিখে নিয়েছিলাম প্রিয় রবীন্দ্র সংগীত
এর লাইন - তোমায় নতুন করে পাবো বলে ।

মাঝেমধ্যে নচিকেতা।

"সঞ্চয়ে ছিল সেই ফেলে আসা
ভাবনার জোছনায় ঘোর অমানিশা।
সঞ্চয়ে ছিল সেই ছেলেবেলা, মনে নীল রঙের
নেশা কোন ঘন মেঘের ভেলা।
...
সঞ্চয়ে ছিলো কতো অভিমান,
হারিয়ে যাওয়া গান, পুরনো সম্মান।
এসময় - অসময়, ফুরালো সঞ্চয়।"

কিংবা
...
"হাজার মানুষের ভীড়ে মিশে ......
ভোরের কোলাহল ঘুমের শেষে, দুচোখ
আজো খুঁজে ফেরে
ফেলে আসা ছেলেবেলা।"

মানুষের ভীড়ে থেকেও মানুষ খুঁজে ফেরা।

একা একা পথ চলা, সিংহল সমুদ্র
থেকে নিশীথের অন্ধকারে - মালয় সাগরে।

আশার নিঃস্বতায় স্মৃতিজাগানিয়া শৈশব
এসে নিয়ে যায় মেঘভ্রমণে।

সন্ধ্যা নয়, অলস ও মন খারাপ করা বিকেল -
সপ্তাহশেষের ছুটির দিনের।
কতো স্বপ্ন - ঈর্ষা হয়!

চোখ বন্ধ করে হেঁটে চলা জীবনে স্বপ্ন
না থাকার ঈর্ষা।

কিশোরী ও বাবা - দুজনে দুটো দ্বিচক্রযানে,
গল্প করতে করতে চলে যাওয়া পাশ কাটিয়ে।

আমিও একটা চক্রযানে। হালকা গতি, নিঃশব্দ
চলা। দূরে, প্রিয় পোষা প্রাণীদের
নিয়ে ফ্রিজবি খেলায় কোন দম্পতি। অথবা,
বারবিকিউতে একটা দল - পোড়া গন্ধ ও ধোঁয়া।

বিয়ারের ক্যান ছড়ানো এদিক ওদিক।

এইসব বিচ্ছিরি বাস্তবতার মাঝেও পোড়ে মন।
স্মৃতিদের মুছে ফেলা যেত যদি কোনওভাবে -

অনেক দিন ভেবেছি।

আজও ভাবি আর কষ্ট পাই।

সেই কষ্টে তাই কিছু লেখা হয় না,
লিখতে পারি না এখন আর।

এখন শুধু দৌড়ুই, দৌড়ুতে থাকি এই
মরা নদীটার ধার ঘেঁষে,
টেনে ধরতে না পারা মনকে কোথাও থিতু হওয়ার
সুযোগ দেই না, সুযোগ দিলেই
সে পুরনো রং এর ঝাঁপি খুলে বর্তমানের
পটে বৃষ্টি আর মেঘ আঁকতে বসবে।

তাই, দৌড়ুতেই থাকি সময়ের কাছে হেরে যাবার
আগে।

এইতো সেদিন এক বিকেলে

এইতো সেদিন এক বিকেলে
তোদের বাড়ি ঘুরে এলাম ,

যে উঠোনটার ধারে পাটি বিছিয়ে কত সময় গেছে,

কত অঙ্ক, কত ভূগোল পাঠ ....

সবইতো তেমনই আছে ;

কুয়োর ধারে সেই যে গাছ
যার পাতাগুলোতে দারুন গন্ধময়তা ছিল,

বইয়ের পাতার ভাঁজে বহুকাল

জমা পড়ে আছে......


যে রেইল লাইনটা ধরে সোজা এগুলেই তোদের
বাড়ির পথ,

সেই রেইল লাইনটা এখনো তেমনি ,

আমরাই শুধু হারিয়ে গেলাম

সহর থেকে,

সময় থেকে .....


সেই সব দিন তোকেও কি কাঁদায়

ঝাপসা চোখে ধুলো বালি হয়ে ???

তোর ছায়াপথ থেকে দুরে


কিছু ফুল আজ পৌছে যাবে তোমার
দরজায়,

সুনিশ্চিত।

তোমার জন্য জমানো শুভ্র শুভাশীষ
নিয়ে কুয়াশায় অস্পষ্ট, যানজটে জব্দ
নগরীর বাস্ততা শেষে,

পাখিদের সব কলরব
সুনিশ্চিত পৌছে দেব
তোমার উঠোনে …..

শুধু মেঘেরা গোপনে রাখবে অন্য এক
আকাশ …

শুধু শীতের বাতাস জেনে যাবে

তোমার জন্য লেখা
এক কবিতায়

শব্দেরা ডুবেছিল মোহময় প্রেমে।


শুধু রাতের বিরল পথ

একাকী শহর হেঁটে জেনে যাবে

ফুল হাতে ফিরে গেছে কেউ

কিছু না বলেই
তোমার ছায়াপথ থেকে দুরে ….

দেখা হবে আবার, কবিতা বিছানো পথে

তোকে নিয়ে কাঁদব বলে

একটা বর্ষা তুলে রেখেছি,

বৃষ্টির জল কিছূ ই ছুঁয়ে দেখিনি,

স্কুল মাঠে যে দীর্ঘশ্বাস টা ফেলে এসেছিস
তুই ....

আজ বহুদিন পর পৌঁছে গিয়ে দেখি
সেখানে এক পরিনত বটগাছ দাড়িয়ে আছে,

যার ডালে ডালে কেবলই
তোর দীর্ঘশ্বাস বটফল হয়ে ঝুলছে...

হয়ত একদিন তুই আসবি,

দেখা হবে কবিতা বিছানো পথে .....

একদিন ঠিকই পালিয়ে যাবো

একদিন পালিয়ে যাবো।

শহরের কড়া রোদ থেকে ,
অবিরত শোরগোল
বন্ধ ঘরের গুমোট গন্ধ থেকে।

পালিয়ে যাব
দুঃস্বপ্ন দেখানো অন্ধকার থেকে ....

একদিন হটাত করেই দেখবি
তোর বন্ধুতা, ওর
ভালবাসা ছিঁড়ে টুকরো করে নিরুদ্দেশ হয়ে যাব।

কত গল্প বাকি থাকতেই
আসর ভেঙ্গে উঠে চলে আসবো...

হয়ত পথ চলতে চলতে
ধরে থাকা হাতের বাঁধন আলগা করে নেব।

তোর গান সুনার জন্য আর কান পেতে থাকবনা,

পালিয়ে যাব অনেক অনেক দুরে ....
শ্যাওলা পড়া ইঁটের দেওয়াল আর সেই
দেওয়ালে নিয়ত আছড়ে পড়া প্রতিধনী থেকে।

নিঃস্ব হতেই একদিন নিরুদ্দেশ হয়ে যাবো…

ছাই রঙা ফুল

এক এক দিনের রঙ এক এক রকম।

এক এক দিনের ঘ্রাণ এক এক রকম।

এক এক দিনের স্পর্শ এক এক রকম।

জীবন যদি হয় নানারকম দিনের মালা,
তবে তার থেকে আমি বাদ দেব সমস্ত
ছাই-রঙা ফুল...

দেব কি?

ধূসর যে বড় প্রিয়, পরিচিত মনখারাপের
রঙ।
তার ঘ্রাণ, প্রথম বৃষ্টিতে ভেজা মাটির।

তার স্পর্শ, যে আমাকে চিরদিন
ছুঁতে চেয়েছে, তার চোখের।
তার চাইতে বরং
জীবন হোক
ধূসর আর আগুন-রঙা চকমকি পাথরের
হার।

আসুক এক
আধারে স্থবিরতা এবং স্ফুলিঙ্গ।

14 December 2014

ওড়ানো কবিতারা

হাবিজাবি অনেক কথা মাথার
পাশে এসে বসে
হাত বুলিয়ে দেয় মগজের
ভেতরে নীরবে নিভৃতে
তোর কথা মনে হলে,
তোকে ভেবে ভেবে।

কিছু কথা কবিতা হয়ে ভাসে মনের
গভীরে
অলস সময় কেটে যায় আনমনে কবিতার
টুকরোগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে
তোর
কথা মনে হলে তোকে ভেবে ভেবে।

হারিয়ে গিয়েছিস জীবন থেকে,
যাসনি বিস্মৃতির অতলে ডুবে
বইয়ের ভাঁজে শুকনো ফুলের
পাপড়িগুলো এখনো পড়ে আছে এখনো
তোর দেওয়া,
আর ড্রয়ারের ভাজে চা বাগান
থেকে নিয়ে আসা একটি কুঁড়ি দুটি পাতা
তোর দেওয়া
তোর কথা মনে করিয়ে দিতে প্রতিদিন
প্রতিক্ষণ।

সারা রাত ধরে মনের
মাঝে কবিতারা কথা বলে।
কাগজে কলম আঁকি আর
স্মৃতিগুলোকে টুকরো টুকরো করে মালা গাঁথি
তোর ভালোবাসা আর ঘৃণাগুলো মিলিয়ে;

নিকষ কালো আঁধার রাতে স্মৃতিরা সব
খেলা করে নিউরন কোষে,
রয়ে যায় শুধু নির্জনতা আর
আমি পড়ে রই একা।

রাত শেষ হয় কাক ডাকা ভোরে;
ভোরের সূর্যের সাথে সাথে কবিতার
টুকরোগুলোকে দেই
কাকেদের ডানায় বেধে উড়িয়ে…

সূর্যের প্রখর
কিরণে যদি ঘৃণা গুলো গলে গলে পড়ে।

7 December 2014

নিরুদ্দেশ

একদিন পালিয়ে যাবো
শহরের কড়া রোদ থেকে ,
অবিরত শোরগোল
বন্ধ ঘরের গুমোট গন্ধ থেকে ,

পালিয়ে যাব
দুঃস্বপ্ন দেখানো অন্ধকার থেকে ....

একদিন হটাত করেই দেখবি
তোর বন্ধুতা, ওর
ভালবাসা ছিঁড়ে টুকরো করে নিরুদ্দেশ
হয়ে যাব,

কত গল্প বাকি থাকতেই
আসর ভেঙ্গে উঠে চলে আসবো...

হয়ত পথ চলতে চলতে
ধরে থাকা হাতের বাঁধন
আলগা করে নেব ,

তোর গান সুনার জন্য আর কান
পেতে থাকবনা
পালিয়ে যাব অনেক অনেক দুরে ....

শ্যাওলা পড়া ইঁটের দেওয়াল আর সেই
দেওয়ালে নিয়ত
আছড়ে পড়া প্রতিধনী থেকে ,

নিঃস্ব হতেই একদিন নিরুদ্দেশ
হয়ে যাবো।

কবিতা বিছানো পথে

তোকে নিয়ে কাঁদব বলে
একটা বর্ষা তুলে রেখেছি,
বৃষ্টির জল কিছূ ই ছুঁয়ে দেখিনি।

স্কুল মাঠে যে দীর্ঘশ্বাস টা ফেলে এসেছিস
তুই ....
আজ বহুদিন পর পৌঁছে গিয়ে দেখি
সেখানে এক পরিনত বটগাছ দাড়িয়ে আছে
যার ডালে ডালে কেবলই
তোর দীর্ঘশ্বাস বটফল হয়ে ঝুলছে...

হয়ত একদিন তুই আসবি
দেখা হবে কবিতা বিছানো পথে .....

অন্য পৃথিবীর অন্য কবিতা

যতবারই তোমার কাছে যাই
হাত বাড়ালে যা দাও
তা হলো হলুদ কষ্ট
আর সবুজ বেদনা।
একথা বলতেই তুমি হেসে লুটোপুটি,
কারন জানিয়ে বললে
কষ্ট,সে তো নীল ,
আর বেদনা ,
সে তো নীল আকাশের মত।
আমি বললাম জানি মেয়ে,
পৃথিবীর সব নিয়মের কথা জানি,
কিন্তু পৃথিবীময যখন যুদ্ধ , অশান্তি শোক আর
অবিশ্বাস
তখন কষ্ট
হতে পারে হলুদাভো জন্ডিসে ভুগে আর সবুজ
বেদনা ,
সেতো সেইসব যুবকদের হৃতপিন্ডের রঙ ,
যারা ভালবাসে
তুমি বললে ....
হৃতপিন্ডের রং আবার সবুজ হয় নাকি?
আমি বললাম হয়,
কারো কারো হয়
যাদের জীবন জুড়ে
নীল স্বপ্নেরা রুমাল উড়ায় .......

তোর ছায়াপথ থেকে দুরে

কিছু ফুল আজ পৌছে যাবে তোমার
দরজায়
সুনিশ্চিত।

তোমার জন্য জমানো শুভ্র শুভাশীষ
নিয়ে কুয়াশায় অস্পষ্ট, যানজটে জব্দ
নগরীর বাস্ততা শেষে,
পাখিদের সব কলরব
সুনিশ্চিত পৌছে দেব
তোমার উঠোনে …..

শুধু মেঘেরা গোপনে রাখবে অন্য এক
আকাশ …

শুধু শীতের বাতাস জেনে যাবে
তোমার জন্য লেখা
এক কবিতায়
শব্দেরা ডুবেছিল মোহময় প্রেমে।

শুধু রাতের বিরল পথ
একাকী শহর হেঁটে জেনে যাবে
ফুল হাতে ফিরে গেছে কেউ
কিছু না বলেই
তোমার ছায়াপথ থেকে দুরে ….

ফেরারি বৃষ্টির সাথে রাত-সাথি ছিল কিছু স্মৃতি

আর কি পারছিস না?
ভালবাসতে?
তবে বিশ্বাসঘাতকতা কর,
আমিও তোকে রক্ত ক্ষরণের স্বাধীনতা দিই
তোর সেনসিটিভ গলায়
দক্ষ অস্ত্রের কার্যকলাপে
মুক্তি দিই ভীতু ভালবাসা…
ভয় পাচ্ছিস?
বোকা, এটাতো কবিতা
কবিতারা এমনই হয়
তুই যা ইচ্ছে তাই কর,
আমি শুধু তোর কষ্টের সময় তোকে দেখতে চাই
তুই একা, প্রতারিত…
তুই যদি আবার ফিরে আসিস
আমার বুকে আরেকবার মাথা রেখে দুঃখ
ঝরাতে চাস
বুক পেতে আমায় ভালবাসতে চাস
তবে সেদিন, আমি তোকে ফিরিয়ে দেব।
.

বৃষ্টি তোকে মিস করছি ভীষন

আকাশ তোমায় খুব কষ্ট দেয়? তবু
তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাও বার বার
আকাশেরই
কাছে।পরিশুদ্ধ হতে কি?

আজ প্রবাসের বিজন বেলায় মেঘের
আনাগুনা দেখে হঠাৎ তোমার কথা মনে পড়ল।

মনে পড়ল
সেই গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে যখন স্কুল
থেকে ফিরতাম, তুমি প্রায় আমার বই খাতা
ভিজিয়ে দিতে। সেই খাতা উনুনের
কাছে দিয়ে কত শুকিয়েছি। বৃষ্টি সে সব
স্মৃতি এখন
থাক।

ইঠ পাথরের পরবাসে তোমার নরম
স্পর্শ কমই পাই বলতে গেলে।

কেমন আছো বৃস্টি? নিশ্চয় তুমি তেমন ভাল
নেই।, জলবায়ু পরিবর্তনের হাওয়ায় তুমি ও
এখন মত পালটিয়েছ। আষাঢের দিন তারিখ
মেপে নাকি তুমি আর আসনা আমার সুজলা
বদ্বীপে? যখন তখন নাকি তুমি আর
হেসে লুটোপুটি খাওনা? শ্রাবনের ভর যৌবনেও
তুমি
নাকি মাঝে মাঝে নিরুদ্দেশ?

হ্যাঁ বৃষ্টি তোমাকে মিস করছি খুব।

তোর আর আমার এই শহরে

এই শহরে যত্ত গুলো বাড়ী আছে,
যত্তকটা রাস্তা আছে,
সবচে' প্রিয় আমার কাছে কোন বাড়ীটা
-জানিস কি তুই???

যে বাড়ীটায়
আমার প্রিয় তুইটা থাকিস,
যে পথ দিয়ে,
আমার প্রিয় তুইটা চলিস।
সে বাড়ীটাই
সবচে' প্রিয় আমার কাছে।

কত্তটা বার
ঢের ভেবেছি, আর যাবোনা ওপথ দিয়ে
কত্তটাবার
ফের ভেবেছি আর চা'বোনা ওবাড়ীর দিকে।
তবুও আমি
বারংবারি ইচ্ছাকৃত ভুলটা করি।
গোলোকধাঁধার মতন,
তোরঐ পথের ফাঁদে ঘুরেই মরি।

আচ্ছা কি তুই
একটা কথা বলতে পারিস?
হয়না কেনো
আরেকটাবার, ক্ষনিক দেখা তোরি সাথে?
সবটা সময়
শঙ্কে থাকি, এই বুঝিবা পেলাম দেখা
তোরি দেখা
পথের ধারে, গলির মুখে
অথবা কোন, হয়তো কোনো দোকান ঘরে ।

একি শহর,
এইটুকু দূর
তবুও হঠাৎ
হয়না দেখা-
আচ্ছা, কেনো বলতে পারিস?

জবাব, আমার আছেই জানা,
নিখোঁজ তাদের খোঁজ পাওয়া যায়-
কিন্তু যারা ইচ্ছে করে হারিয়ে থাকে-
তাদের দেখা যায়না পাওয়া
আর কখনও।

বেঁচে থাকার জন্য

বেঁচে থাকতে হলে খুব বেশি কিছুর প্রয়োজন
নেই....
নীল রঙে আঁকা কয়েকটা স্বপ্ন ,
বাস্তবতাকে এড়িয়ে চলার ব্যর্থ চেষ্টা আর
অতি আপন মানুষদের কাছ
থেকে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি মেনে নেয়ার
ক্ষমতা থাকলেই যথেষ্ট। ওহ হ্যা,
প্রতিটা নির্ঘুম
রাতকে সঙ্গী হিসেবে নিতে পারেন ,
এই রাতগুলা মানব জাতির মত স্বার্থপর
না ,আপনিচাইলেও
এরা আপনাকে ছেড়ে যাবে না.......

2 December 2014

হারিয়ে গেলো সেই ছেলেটি

গোলাপি রঙা গেঞ্জি আর
খয়েরী লুঙ্গি পরা ছেলেটারে আর
হাঁটতে দেখা যায় না শহরের
অলিগলিতে ।

নদীর ঘাটের শেষ
দিকটাতে যেখানে বাতাসে ভেজা বাঁশের
পঁচা গন্ধে মাথা ধরে যায়, সে দিকের
আড্ডাতে আর
বিড়ি হাতে চশমা ওয়ালা কাউরে খুঁজে পাওয়া যায়
না।

ঝুম বৃষ্টিতে এবারান্দায়-
সে বারান্দায়
ঝাপসা দৃষ্টি খুঁজে ফিরে না লম্বাটে এক
পরিচিত মুখ।

সন্ধ্যার পরে ফ্ল্যাটবাড়ির দরজার
সামনে জুতার উপর জুতা জমে না,বিরক্ত
হয় না আশেপাশের শান্তি প্রিয় মানুষ
গুলো। খুব ভোরে চা খাবে বলে কেউ
দারোয়ানের শেষ রাতের
তন্দ্রা ভাঙাতে যায় না খায়েশ করে।

সব তবুও আগেরই মতো চলছে মসৃণতার
আবরণ মেখে!
শুধু রিক্সার
হাতলে লেগে ছিঁড়ে যাওয়া খয়েরী লুঙির
মতোই নতুন লাগানো ল্যাম্পোস্টার
আলোতে দাঁড়িয়ে থাকা কারও
ভেতরটা ছিঁড়তে থাকে।

আলোতে,অন্ধকারে ছিঁড়ে যাওয়ার শব্দ
মিশে যায় নীরবে।
শত বছর
পেড়িয়ে যাওয়া বুড়ি অপেক্ষা করে না সাইকেলের
ঘন্টার,গাছের অপরিপক্ব
পেয়ারা তোলে রাখে না সিলভারের
পাতিলে।

ব্যাকপ্যাক থেকে বের
হবে না রহস্যময় কোন পুঁটলি, তবে ছাই
অপেক্ষা কিসের?

বিকেল গড়িয়ে যায়,ফুচকার টকে আজ আর
মাখামাখি হবে না আলুভর্তা,জেনে গেছে ছোট্ট
ছেলেটা!

ভ্যাবলা মেয়েটাও আগ্রহ
নিয়ে বসে থাকে না,শুনতে কারও চুল
টেনে দেওয়ার আবদার।

সব তবুও আগের মতোই
চলছে নিয়মমাফিক রুটিনে।
শুধু শত বছর পেড়িয়ে আসা বুড়ির চোখ
দুটোর মতোই জ্বলজ্বল
করতে থাকা কারও চোখে কিলবিল
করে নয়নতারার রূপ!

চোখের মুগ্ধতা ভেসে যায়
বাতাসে হাহাকারের আলোড়ন তোলে।

আমার ভিনদেশি তারা- চন্দ্রবিন্দু

কিছু কিছু গান মনকে এমন ভাবে ছুঁয়ে যায়…


আমার ভিনদেশী তারা
একা রাতেরই আকাশে...
তুমি বাজালে একতারা
আমার চিলেকোঠার পাশে,
ঠিক সন্ধ্যে নামার মুখে
তোমার নাম ধরে কেউ ডাকে,
মুখ লুকিয়ে কার বুকে
তোমার গল্প বলো কাকে?

আমার রাত জাগা তারা
তোমার অন্য পাড়ায় বাড়ি,
আমার ভয় পাওয়া চেহারা
আমি আদতে আনাড়ি।

আমার আকাশ দেখা ঘুড়ি
কিছু মিথ্যে বাহাদুরী,
আমার চোখ বেঁধে দেও আলো
দাও শান্ত শীতল পাটি...
তুমি মায়ের মতোই ভাল
আমি একলাটি পথ হাঁটি।

আমার বিচ্ছিরি এক তারা
তুমি নাও না কথা কানে,
তোমার কিসের এতো তাড়া?
এ রাস্তা পার হবে সাবধানে...

তোমার গায়ে লাগে না ধূলো
আমার দুমুঠো চাল-চুলো,
রাখো শরীরে হাত যদি
আর জল মাখো দুই হাত...
প্লিজ ঘুম হয়ে যাও চোখে
আমার মন খারাপের রাতে।

আমার রাত জাগা তারা
তোমার আকাশ ছোঁয়া বাড়ি...
আমি পাই না ছুঁতে তোমায়
আমার একলা লাগে ভারী
আমি পাই না ছুঁতে.. তোমায়..
আমার একলা লাগে ভারী .. .. ..

1 December 2014

ব্যক্তিগত কথাকাব্য-৩

পাঠ্য বই আর ড্রয়িং রুমের
টিভিতে যখন বন্ধী হয়ে যাচ্ছিল
আমার শৈশব,তখন এক সন্ধ্যায় কেউ
একজন শুনিয়েছিলও আমায়
"চলতে শিখতে চাও?

চাইলে মানুষ
দেখ ,মানুষ । কেননা একেকটা মানুষ
যে একেকটা মহাকাব্য। "

তারপর থেকে কেমন জানি এই মানুষ
দেখার প্রেমে পড়ে গেলাম।মানুষ
দেখতে শুরু করলাম। মন খারাপ হলেই
ষ্টেশন রোড চলে যেতাম,মানুষ দেখার
জন্যে।

অদ্ভুত হলেও সত্যি মানুষ
দেখতে দেখতে এক সময় ভুলেই যেতাম
'মনটা খারাপ ছিল কি জন্যে'।


আমি খুব
অল্পবয়সে বাস্তবতা দেখে ফেলেছি,তাই
ইঁচড়েপাকা ট্যাগ পেয়েছি। অপ্রিয়
সত্য বলে ফেলতাম তাই
বখাটে হয়ে গেছি।

আর আমি মানুষ দেখেছি,তাঁদের
বুঝতে চেষ্টা করেছি , এখনও করেই
যাচ্ছি । তবে মহাকাব্য বুঝার
ক্ষমতা অর্জন করতে পারি নি।

প্রতিদিন ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার
পথে ভূগর্ভস্থ রেলওয়ের
প্ল্যাটফর্মে এক কোণে আমি ভিন্ন-
দুটি মানুষ দেখি।

-"gucci"ব্যাগ কাঁধে ঝুলানো,আইফোন
হাতে ফর্মাল ড্রেসে এক তিরিশ ঊর্ধ্ব
পুরুষ। এক দেখাতেই
মেয়েরা যাকে আদর্শ পুরুষ
বলে লালা ঝরাবে।সে একটু পর পর
কাঁধে,পেটে হাত দিয়ে অদৃশ্য ময়লা দূর
করার চেষ্টা করে।
- ময়লা ফিতা ঝুলানো এ্যাকোস্টিক
হাতে জীর্ণ শরীরের এক বৃদ্ধ। হ্যাঁ,
সে ভিক্ষা করে।গীটারের ছয়
তারে বারো রকমের সুর
উঠিয়ে ট্রেনের এক বগি থেকে অন্য
বগিতে হেঁটে চলে এ্যাকোস্টিক
হাতে হাসি মুখে............

আমি হলফ করে বলতে পারি অর্থের
অভাবে হাতপাতা বৃদ্ধ, ঐ সুট
পরা সুপুরুষের চেয়ে বহু গুনে সুখে আছে।
সে তার মত করে বেঁচে আছে আনন্দ
নিয়ে।

মানুষের ভিড়ের
ভাপসা গরমে যে গন্ধ তৈরি হয়
তা থেকে বাঁচার জন্যে সুট,টাই
লাগানো নাক চেপে ধরা তাঁদের
দেখলেই আমার হাসি লাগে,
আহারে কি কষ্টেই না বেঁচে আছে ২,৫
কোটি মানুষের এই শহরে পরিচ্ছন্ন
মানুষ গুলো।

ভিড়
ঠেলে সামনে এগিয়ে যাওয়া কিংবা মেট্রো-
ট্রেনের এক
কোনে ট্যাটুতে ভরা শরীরের
মেয়েটা যখন লেপটে বসে চকলেট বার
চিবাতে থাকে তাঁরে দেখলে মনটা ভরে উঠে।

সুখ তো মনে হয় তারেই বলে, শত মানুষ
মাঝে যে নিজেকে নিয়ে নিজের মত
বেঁচে থাকে।

F**k সোসাইটি, F**k মরালিটি :-)

আমি, তুমি এবং আমরা

সব ফিরে ফিরে আসে।
শুধু ভিন্ন মানুষে, ভিন্ন সময়ে , সেই
পুরানো স্বাদ নিয়ে বার বার
ফিরে আসে।
আপনি থেকে তুমি-তুই'য়ে,
ভালোলাগা,নতুন সম্পর্ক,
তুমি-আমি মিলে আমাদের 'আমরা'
হয়ে যাওয়া, বন্ধুত্ব।
আমাদের গুটুর গুটুর
সন্ধ্যা পেড়িয়ে রাত-ভোর।
ভুল বানানে বকবকানি, পরিষ্কার
করে গলাটারে গ্রাম্যতা কাটিয়ে
একটু সুন্দর করে আরও একটা ভয়েজ
মেসেজ পাঠানোর চেষ্টা,
না দেখা কটা ছবি, পছন্দের
গান ,খাবারের গল্পে
হতাশা আর অতীতের কান্নাতে সব
ফিরে আসে, নতুন কারো কোলে চেপে
আবার ফিরে আসে।
শুধু একটা কৈ জানি "কিন্তু" রয়ে যায়।
নতুন করে হারিয়ে ফেলার ভয়ে,
পুরানো স্মৃতি, চেনা মুখ, ফ্ল্যাশব্যাক
কিছুটা বিষণ্ণ করে দেওয়ার
সাথে সাথে কি কাঁদিয়েও যায় না
কচি শীতের বরফ গলা বৃষ্টি মতো ?
আমি কি কেঁপে উঠি না অতশত ভেবে?
কত ঠুনকো হচ্ছে অনুভূতি গুলো,নিজেও
জানছি না!
হুট-হাট ভেঙে যাই,কেউ
জানি ছিঁড়ে দিয়ে যায় কলিজা খানি।
তখনই আবার নেচে উঠি, আনন্দে কাঁপি।
সেই ফিরে আসা, সব ফিরে আসে।
নতুন করে,নতুন মুখে খুব
যত্নে বুকে আলগে পুরানো সবেরে নিয়ে সে ফিরে আসে

30 November 2014

আফসোস থেকেই গেলো

জীবনে প্রথম বিকাল গুলি যে মেয়ের জন্য
নষ্ট করেছি ভাঙ্গা কবরের শ্যাওলা পড়া ইটের
উপর বসে, সে মেয়ের নাকি বিয়ে হয়ে গেছে কিছু
দিন আগে ভর দুপুরে ।

আফসুস একটা ,বুকের ভিতর ডিম্বাকৃতির
হৃদয়ে রয়ে গেল ,মেয়েটাকে ভালোবাসি বলা হল
না । আর বলব ও না ।

ব্যক্তিগত কথাকাব্য-৩

গভীর নি:শ্বাসে পুড়িয়েছি
বুক পকেটে রাখা হিসেব গুলো।
অপরাহ্নে ঘামে ভেজা জামা
ভেজাব বলে
মুহুর্তের আলোয় দেখা
রাত হরিণের চোখে উদাসীনতা
আর বাস থেকে নেমে একই
বাড়ি ফেরা...

আমার সেই বন্ধুটি

প্রায়ই আমরা চার বন্ধু মিলে খোলা আসমানের
নিচে গল্পগুজব করতাম। পাশে দাঁড়িয়ে থাকত
একটা সাদা তিনতলা বাড়ি। মাঝেমাঝে বাড়ির
রং আর আসমানের রঙ মিলেমিশে একাকার
করে বৃষ্টি নিচে নেমে আসত।
আমরা খোলা আসমানের নিচে ঠায়
দাঁড়িয়ে থাকতাম অথচ কেউই ভিজতাম না। কারণ
বৃষ্টি ছিল সাদা রঙ তিনতলা বাড়ির তিনতলার
মেয়েটির নাম। একদিন দেখলাম বাড়িটা লাল
করে সাজানো হয়েছে। লাল রং বাতিরা চোখ লাল
করে আমাদের দিকে তাকিয়ে অনবরত চোখ টিপছে।
সেদিনও বৃষ্টি নিচে নেমে এলো, আমরা ঠিক
আগের মত
করে খোলা আসমানে নিচে দাঁড়িয়ে রইলাম।
কিন্তু আমরা চারজন সেদিন ভিজে গেলাম। একটু
বেশি ভিজলো আমার সেই
খাটো করে কুকড়া চুলওয়ালা বন্ধুটি,
যে তিনতলা বাড়ির দিকে মুখ করে সবসময় দাঁড়াত।

সেই গল্পটা

একদিন এক ইউক্যালিপ্টাস
গাছ এর
গল্প বলেছিলাম তোমাকে।

জ্যেছোনার সমুদ্রে ভিজে দীর্ঘ এক
রাত্রিতে
আরো কত কথাই
তো বলেছিলাম।

ঝিকিমিকি,তপোবন,
মালাকাইটের
ঝাঁপি,ইস্পাত,
মা,অন্ধ সুরকার এর মত
প্রিয়
বইরাও ছিলো আমাদের
গল্পে।

ছিলো জোনাকি।
ছিলো প্রথম ভালোবাসা।
প্রথম দুঃখ
প্রথম চুমুর গল্প।

সেই তুমিটাও কোথায় যেনো
হারিয়ে গেছো।
যখন হাত বাড়ালেই তোমার
উত্তাপ এ
ভিজবার কথা।
যখন চোখ মেললেই তুমিময়
আলো।

নাহ অনেকদিন হয়ে গেলো
গল্পবলা রাত আর আসেনা।
প্রিয় বই, প্রিয় পাখি,
প্রিয় গাছ এর
গল্পবলা আর হয়না আমার।

এখন আমার দীর্ঘরাত
জুড়ে দেয়ালের সাদা।
বালিশটাকে উল্টেপাল্টে
দেই বহুবার।
যদি স্বপ্ন
বেয়ে আসো কোনদিন।
আমি তোমাকে ছুঁয়ে দেখবো।

তোমার চোখের তারায়
এখনো কি এক
কাঠবিড়ালী উচ্ছল হয়?
তোমার বুকের
কাছে দাঁড়িয়ে
এখনো কি পাড়ি দেয়া যায়
অনেক শহর ?
তোমার হাতে হাত রেখে কি
ঘুরে আসা যায় পৃথিবীর
সবকটা মহাদেশ?

জানালার কাঁচ
দিয়ে যতটুকু আকাশ
দেখা যায়
শহরের জ্বলতে থাকা আলোর
সমাহারে
খুব
ইচ্ছে করে তোমাকে দেখি।

দুরের পাহাড়টার কোল
ঘেষে নদীটার
পাশের কোন বার এ
কখনো কি আসো তুমি
বিয়ার খাবে বলে?
তোমাকে খুঁজতে খুঁজতে কি
ফুরিয়ে যাবে
বাকি জীবনটা আমার?

হলুদ পাতা আর বরফ
ছুঁয়ে দিতে
একবার ও কি আসবেনা তুমি?
আমার ঘরের
দেয়ালে ঝুলানো আয়নাতে
পাশাপাশি দাঁড়িয়ে দুজনে
আবার কখনো কি
ভালোবাসা হবে?
হবে কি পৃথিবীর এ
যাবতকালের
সবচেয়ে দীর্ঘ এক
আলিঙ্গন?

ছোট্ট আকাশের সাথে আমার বিচ্ছেদের মুহুর্ত

পৌনঃপুনিকতার তালিকায় অনেকদিন
আগে নাম লিখিয়ে ফেলা জীবনের এই
ছোট্ট
ঠিকানায় তাও আকাশ ছিলো,
ছিলো জানলা খুলে দিলে ওপারে
দাড়িয়ে থাকা
কয়েকটা অচিন বৃক্ষ।
আমার এই বসার
জায়গাটুকুর পেছনে তাকালে দেখতাম
কখনো আকাশ নীল, কখনো কালো।
কখনো আকাশের মন ভালো,
কখনো কটমটে রাগ
করা মা মেঘেরা বাচ্চা মেঘেদের
নিয়ে উড়ে যেতো ওই অচিন বৃক্ষের
ওপর
দিয়ে।
পাখি। টিয়া। ঝাঁকে ঝাঁকে,
সন্ধ্যায় ওদের
ডানা ঝাপটানি ওই অচিন বৃক্ষের
পাতায়-
ডালে।
সব হারিয়ে যাবে, খুব
তাড়াতাড়ি হলে কাল,
অথবা সামনের সপ্তায়।
বাড়ছে কনক্রিটের
কাঠামো, হয়ে গেছে একতলা।
আমার
বিদ্যালয় বানাচ্ছে নতুন ভবন,
যেনো ফুঁড়ে উঠছে অশ্লীলভাবে।
একেবারে আমার জানলা ঘেঁষে।
পুরনো কিছু
ভবন ভেঙে ফেলা হবে, তার
প্রস্তুতি হিসেবে এখানে গড়ে উঠছে
নতুন।
আমাদের আকাশকে বিসর্জন দেবার
বিনিময়ে প্রতিষ্ঠান
দেবে চকচকে নতুন ল্যাব,
শ্রেনীকক্ষ এমনকি একতলায়
কনভেনিয়েন্স
স্টোর। বেচবে প্যাকেট লাঞ্চ
থেকে শুরু
করে স্লিপিং পিল।
আমি জানলা দিয়ে তাকালে আর আকাশ
আমায় ডাকবে না।
মায়াভরা বৃষ্টিমাখা আকাশ
অথবা দুধ-সাদা মেঘ মাখানো আকাশ।
দেখবো সেখানে কনক্রিটের
কালো অথবা ধূসর দেয়াল।
অথবা এয়ারকুলারের
বেড়ে যাওয়া বাইরে থাকা অংশ।
স্ট্রেসময়
জীবনের বন্ধু এই ছোট্ট আকাশটুকু,
তোমার
সাথে বিদায়ের এই বেলায় নাগরিক
মানুষ হবার
দায় ও দুঃখে আমি বিব্রত। অসহায়।

ব্যক্তিগত কথাকাব্য-২


স্বপ্ন ডানায় উড়ে চলা এ জীবন। অথচ
সবার
অগোচরে একজনের টেনে ধরায়
থেমে যেতে হয়।
তবুও স্বপ্ন দেখে যাই - সবুজের
শুভ্রতা ছাড়িয়ে অসীম
আকাশে হারিয়ে যাওয়ার।

ব্যক্তিগত কথাকাব্য-১

শত ক্লান্তিতে আমি চোখ বন্ধ করে তোর
জমিনে নিজেকে সমর্পণ করি।
ক্লান্তির
আড়ালে ও যে তোর প্রতি আমার নির্ভরতা,।
তোর মাটির গন্ধ শুঁকতে গিয়ে তোর সবুজ
চাদরটাকেও ভালোবেসে ফেলি, আনমনে।

একটা বিস্ফারণ, একটা কবিতা

আজ সকালের ডাকে একলা হেঁটে এলো -
ভালোবাসার
সীলমোহরে জড়ানো একটা খাম;
ভিতরে পেলাম ফেলে আসা অভিমানের
মোড়কে
শুকিয়ে যাওয়া একটা লাল গোলাপ, হয়তো
কোনদিন তোমার আগের লেখাগুলোর মতই
সতেজ ছিল,
রাতের পাহারাদারের মতই চিৎকার
করে বলতো
সব ঝুট্ হ্যায়, সব ঝুট্, মুখোশের আড়ালেই
যত মিল ...
আর কতদিন তুষার ঢাকা তুঁষের আগুন
হয়ে জ্বলবে
তোমার সেই কলঙ্কিনী বিরহিনী ব্যাথা ?
বসেই থাকি, ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির বুকে কান
পেতে -
একটা বিস্ফোরণ
যদি হয়ে ওঠে কবিতা ।

25 June 2014

এর বেশি পারেনি মানুষ

 
পৃথক পাহাড়
আমি আর কতোটুকু পারি ?
কতোটুকু দিলে বলো মনে হবে দিয়েছি তোমায়,
আপাতত তাই নাও যতোটুকু তোমাকে মানায়।
ওইটুকু নিয়ে তুমি বড় হও,
বড় হতে হতে কিছু নত হও
নত হতে হতে হবে পৃথক পাহাড়,
মাটি ও মানুষ পাবে, পেয়ে যাবে ধ্রুপদী আকাশ।
আমি আর কতোটুকু পারি ?
এর বেশি পারেনি মানুষ।

ইচ্ছে ছিলো



ইচ্ছে ছিলো তোমাকে সম্রাজ্ঞী করে সাম্রাজ্য বাড়াবো
ইচ্ছে ছিলো তোমাকেই সুখের পতাকা করে
শান্তির কপোত করে হৃদয়ে উড়াবো।
ইচ্ছে ছিলো সুনিপূণ মেকআপ-ম্যানের মতো
সূর্যালোকে কেবল সাজাবো তিমিরের সারাবেলা
পৌরুষের প্রেম দিয়ে তোমাকে বাজাবো, আহা তুমুল বাজাবো।
ইচ্ছে ছিলো নদীর বক্ষ থেকে জলে জলে শব্দ তুলে
রাখবো তোমার লাজুক চঞ্চুতে,
জন্মাবধি আমার শীতল চোখ
তাপ নেবে তোমার দু’চোখে।
ইচ্ছে ছিল রাজা হবো
তোমাকে সাম্রাজ্ঞী করে সাম্রাজ্য বাড়াবো,
আজ দেখি রাজ্য আছে
রাজা আছে
ইচ্ছে আছে,
শুধু তুমি অন্য ঘরে।

অভিমানী বন্ধু হারিয়ে যাবার আগে এবং পরে


ব্ল্যাকবোর্ডে সাদা চক দিয়ে অভিমানী বন্ধুর নাম লিখে-
যে তার দুই ঠোঁট হালকা ফাঁক করে ফুঁ দেয়,
সে অভিমানের ভাষা খুব ভালো বুঝে।
সে তার ব্যক্তিগত বেহালার চোখে ধারণ করে
বন্ধু হারিয়ে যাওয়ার বিষাক্ত মনোরম দৃশ্য,
সে দৃশ্য চকের সাদাসাদা উড়ন্ত দানায় মিশে যায়।
সে তার প্রার্থনার ধরণ বদল করে, এবং
পৃথিবীর সব প্রার্থনা জড়ো করে এক বাক্যে-
“বন্ধু, প্লিজ তুই হারিয়ে যাস নে”।
তারপরেও অভিমানী বন্ধু হারিয়ে যায়,
আর সেই হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে নিয়ে-
সায়ান শ্রুতিমধুর গান গেয়ে জনপ্রিয় হয়!

অভিমানী জোনাকের সহযাত্রী

ফিরতি ট্রেনে আমার সাথে যাদের দেখা হয়
তাদের অধিকাংশই ভাইটেলগো রোগাক্রান্ত,
মাঝেমাঝে দুই একজন রাতপ্রহরীরও দেখা মিলে।
একজন পিয়ানো বাদক টুংটাং করে বলে যায়
ঝড়ে পড়া তারাদের গল্প,
একজন হকার বিলি করে ফিরে
শহরের সব চাপা বিষণ্ণতা-
এক ছন্নছাড়া যুবক এক এলোকেশী যুবতীকে বলে -
তুমি তোমার ডানা মেলে দিলেই
তোমার সবুজে পেঁচিয়ে নিবো আমার সবুজ।
দিনশেষে যুবতী তার ডানা মেলে দেয়
দিনশেষে যুবক অভিমানী জোনাক হয়।
দিনশেষে আমি তাদের একজন সহযাত্রী।

23 June 2014

টেবিলে তোমার গল্পেরা

তোমাকে নিয়ে লিখতে হয় না,
 বোকারা মাঝে মাঝেই তোমাকে নিয়ে লিখতে বসে,
 তোমাকে নিয়ে লেখার কিছু নেই।

 ভয়ংকর একটা আড্ডা যখন নেতিয়ে পড়ে, যখন 
 ক্ষনিকের জন্য কিছুই করার থাকে না, যখন
 মানুষ শুদ্ধতম চেতনার খুব কাছে চলে যায় 
তখন কেউ একজন ঠিকই টেবিল থেকে তোমার একটা বই তুলে নেয়,
 দুটো লাইন পড়ে শোনায়।

 তখনও কিছু বলার থাকে না, যখন
 নষ্ট হতে হতে হাতে পায়ে পচন ধ‌রে যায় 
তখন শেষ পর্যন্ত তোমাকে স্মরণ করে মানুষ।

কোথাও কোন পালক রেখে যায় না

প্রায়ই ভাবি কেউ চলে গেলে হয়ত কিছু একটা বদল হয়
আপন ইচ্ছায় জলাঞ্জলি দেয় ভিতরের সব না বলা কথা ।

সাজানো কুড়েঘরের সেই বধুয়া বারান্দায়
এক চিলতে উল্লাসী টেউ নিরন্তর বয়ে চলে
আঁচল ঢাকা মুখখানির হাটুজল স্মৃতি নিয়ে ।

যে গাংচিল একদিন পালকি হয়েছিল
সে সবার আগোচরে হঠাৎ উড়াল দেয়
কোথাও কোন পালক পড়ে থাকে না ।

কেউ চলে গেলে হয়ত কিছু একটা বদল হয়
আগের মত করে হাতছানি দিয়ে ডাকেনা
আমাদের সেই পুরানো সুন্দরী সুখগুলো ।

বৃষ্টি

           


গ্রীষ্মের কোন এক পড়ন্ত বিকেল।
বাসভর্তি কিছু তরুণ-তরুণীর
বাধভাঙ্গা হইহুল্ল্রোড়।
আমিও বাসের যাত্রী।তাদেরই অংশ।
বসেছি একেবারে পেছনের দিকের আগের সিটে।
পাশের সিটটি ফাঁকা নেই।তাতে এক
তরুণী বসেছে।কিছুক্ষণ বাস চলার পর
হইহুল্ল্রোড় যেন আরো বেড়ে গেলো।নিঃসঙ্গ
আমি আর চুপ করে থাকতে পারলাম না।
নিরবতা ভাঙলাম।পাশে বসা মেয়েটিকে উদ্দেশ্য
করে তার নাম জানতে চাইলাম।উত্তরে লাজুক
ভঙ্গিতে নাম জানালো।আমি বিজ্ঞের মত
মাথা নেড়ে বললাম, বাহ বেশ সুন্দর নাম তো!
বাস যতই সামনের
দিকে এগোতে লাগলো বাতাস যেন
ঠান্ডা হয়ে আসতে লাগলো।আরো বেশ কিছুদুর
যাবার পর টিপটিপ বৃষ্টির দেখা পাওয়া গেলো।
ক্রমেই তা বেশ জোরালো আকার ধারন
করলো।বৃষ্টি আমার ভালো লাগে।তন্ময়
হয়ে বৃষ্টি দেখছি জানালার ফাঁক দিয়ে।এবার
মেয়েটিই নিরবতা ভাঙল।আমার নাম
জানতে চাইলো।বললাম।প্রত্তুত্যরে সেও
জানালো আমার নামটা নাকি সুন্দর।
বাস একটা ব্রিজ পার হচ্ছে।
নিচে পানিতে একটা নৌকা।পানিতে বৃষ্টির
ফোটা আর নৌকার
ভেসে চলা দেখে মেয়েটা বলে উঠলো কি সুন্দর!
আমিও সায় জানালাম।আসলেই অপার্থিব সুন্দর
লাগছিলো।মেয়েটা হঠাৎ বলে উঠলো একদিন
সে তার মনের মানুষের সাথে এরকম
সময়ে একসাথে বৃষ্টিতে ভিজবে।
আমি কিছুটা অবাক হই।কি অবলীলায়
কথাটা অপরিচিত একজন মানুষকে বলে ফেলল।
আবার ভালো লাগার একটা অনুভূতিও খেলে গেল
আমার মাঝে।যেখানে আমার মাঝে কোন স্বপ্ন
কাজ করে না,সেখানে একটা মেয়ে কি সুন্দর
অবলীলায় তার স্বপ্নের কথা বলল।
খোলামনের মানুষ মনে হওয়ায় মেয়েটাকে ওর
নিজের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম।
জানালো কয় ভাইবোন।কোথায় পড়াশুনা করে।
কি কি তার ভালো লাগে।মাঝে মাঝে আমাকেও
জিজ্ঞেস করে আমার সম্পর্কে জেনে নিলো।
ইতিউতি কথা জানতে জানতে চলমান ট্রাফিকের
শব্দে কিছুটা বিরক্ত নিয়ে বাইরে তাকালাম।বাস
আমিন বাজার ব্রীজ পার হচ্ছে।
মেয়েটা জিজ্ঞেস করলো এটা কোন জায়গা?
উত্তর পেতেই সপ্রসন্ন হয়ে বলল
আসাদগেটে নেমে যাবে।বাসা কোথায়
জানতে চাইতেই বললো মোহাম্মদপুর।
মেয়েটা বলল,আচ্ছা!তারপর কবে পাশ
করে বেরোলেন?কই পড়ছেন
ইত্যাদি ইত্যাদি আর মোহাম্মদপুর এর একাল
সেকাল।
জ্যাম না থাকায় প্রায় মিনিট দশেকের মাথায়ই
বাস গন্তব্যে পৌছুলো।মেয়েটা গুছিয়ে নিতে শুরু
করলো।বাস থামতেই ভুবন
ভোলানো হাসি উপহার দিয়ে বললো, ঠিক
আছে চলি।আপনার সাথে কথা বলে অনেক
ভালো লাগলো।আমিও মৃদু হেসে বললাম
আমারও সময়টা বেশ কেটেছে।কেন জানি বিদেয়
দিতে ইচ্ছে করছিলো না।ভালোইতো উচ্ছল।
নেমে গেল মেয়েটা।জানালা দিয়ে মাথা বের
করে দিয়ে বললাম,ভালো থাকবেন।আবার
একটা স্নিগ্ধ হাসি উপহার পেলাম।
বেশ কতগুলো যাত্রী নামিয়ে বাস আবার
চলা শুরু করলো।পাশের সিটটি এখন ফাকা।
খেয়াল করলাম বৃষ্টি শেষ হয়ে গিয়েছে।শেষ
বিকেলের পড়ন্ত
রোদে এট্টুসখানি ভালো লাগা আর কিছু
বিচ্ছিন্ন আবেগ নিয়ে শহরের কোলাহল আর
চলন্ত ট্রাফিকের ভীড়ে হারিয়ে গেলাম।

7 June 2014

মনে কি রাখবে আমায়?

ঐ যে রাস্তায় বাস- ট্রাকগুলো চলছে
ঐ যে দোকানীটা বসে আছে......
পথ চেয়ে কোন এক ক্রেতার,
ঐ যে ঝিরি ঝিরি হিমেল বাতাস বইছে......
চেয়ে দেখ- রক্তিম আভা বিলিয়ে
সূর্যটা মেঘের আড়ালে চলে যাচ্ছে...
দেখছিস, পাখিরা দল বেঁধে নীড়ে ফিরে যাচ্ছে ...
দেখ, আকাশে মিটিমিটি তারারা জ্বলছে
ঐ যে এক টুকরো চাঁদের
আলো ছড়িয়ে পড়ছে ...
ঘুমিয়ে আছিস ? দেখ -
সকালের সূর্যটা আবার ...
মেঘ থেকে বেড়িয়ে এসেছে ...
এভাবেই চলবে সব কিছু নিয়ম মত
শুধু থেমে যাবে আমার বুকের হৃদস্পন্দন ...
তখনও কি তুই রাখবি মনে আমাকে......?

5 June 2014

একদিন ফিরে যাবো

একদিন আমি আবার ফিরে যাবো। আমার শহরে, আমার গ্রামে। তখন হয়তো পরিচিত অনেকগুলো মুখ সেখানে থাকবে না। তাদের আর দেখতে পাবো না আমি। যাদের পাবো তাদের প্রাণ ভরে ভালোবাসবো। যার নেই কিন্তু একদিন ছিলো তাদের গল্প আমি শোনাবো ওদের। সেই ছেলেটার গল্প, বুকে মাইন বেঁধে যে ট্যাঙ্কের সামনে ঝাপিয়ে পড়েছিলো। কিংবা, সেই বুড়ো কৃষক। রাইফেলটা হাতে তুলে নিয়ে যে মৃদু হেসে বলেছিলো, চললাম। আর ফিরে আসেনি। অথবা উদ্বাস্তু শিবিরের পাঁচলক্ষ মৃত শিশু। দশ হাজার গ্রামের আনাচে কানাচে এক কোটি মৃতদেহ। না এককোটি নয়, হয়তো হিসেবের অঙ্কটা তখন তিন কোটিতে গিয়ে পৌছেছে। এক হাজার এক রাত কেটে যাবে……

ফিরবো না আর

যতই থাকুক,
আমায় পিছুটান
আমি ফিরবো না আর, চলছি উজান হাওয়া ঠেলে
মাথার উপর যতই ডাকুক মেঘবালিকা;
সুবর্ণ মায়া ঢেলে !
আমি ফিরবো না আর…

পিছন ফিরে,
দেখবো না আর রঙধনু রুঙ্গিন
মেঘ উড়ে যায় হাওয়ার ডানায় নীলের ছোঁয়া মেখে
পরশ বুলায, আমায় ছুঁয়ে
হূদয় করে ব্যথায় লীল !
আমি ফিরবো না আর।।

এক চিমটে উদাস

যদি কখনো কোন এক উদাস দুপুরে যদি
হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে মনে পড়ে যায়
আমাকে ভুলক্রমে
মিস করছিস বলে,
যখন ফোন কিংবা মেসেজ
দিতে গিয়েও দিতে পারবি না,
তখন জানালা দিয়ে এক ফালি আকাশের
দিকে তাকাস।

যে মেঘটা সে সময় ভেসে যাবে কিংবা
দেখা যাবে,
মনে করিস আমি সেখানেই
আছি,
পারলে খুঁজে নিস আমাকে সেখানে।

যদি কখনো কোন এক বিষণ্ণ বিকেলে
অফিসে কিংবা দোকানে বসে
একাকী মনে হয়,
কিংবা মনে পরে যায় আমার
কথা
অনুভব করিস --সে সময়ে বয়ে যাওয়া
ঝিরিঝিরি বাতাসের মধ্য দিয়ে--
তোকে আলতো করে ছুঁয়ে যাচ্ছি--আমি।
দেখবি তোর
চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গেছে…

পারবি তো ----?

1 June 2014

মৌনতার দস্তাবেজ

এবার এই শীত গেলে ফিরিয়ে দিও, মান-অভিমান আর রাগ-অনুরাগ গত বর্ষায় যা দিয়েছি সবটুকু তোমায় - হয়তো আমার একটা চিঠি ছিল না পড়া- তাও রেখেছিলে ফেলে খামটুকু ও হয়ত খোলার সময় হয়ে ওঠে নি কখনো। হয়তো বুকশেল্ফে একাকী একটা বই ছিল, না পড়া- ফিরে আসার সময় জানতে পারিনি পড়েছিলে কী না; জেনেছিলে কী গল্প লেখা ছিলো তাতে । হয়তো বারান্দায় পড়ে থাকা কোন টবে- আমার ছুঁয়ে দেয়া কোন চারা গাছ অযতনে কিছুদিন বেড়েছিল আনমনে, কী ফুল হতো জানিনা তাতো তুমিও জানোনি - তার আগেই যে শুকিয়েছে তার ডালপালা। হয়তো একটা কবিতা জন্মেছিলো একাকী হয়ে থাকা চার দেয়ালে কোন একদিন তুমি পড়বে বলে কুয়াশায় মগ্ন রাতে– ভিজেছে রাতভর বাতাসে উড়ে যাওয়া সেই কবিতাও পড়া হয়নি । এত কিছু হয়ত হয়ে, একদিন পাতাঝরা শীত ফিরে গেলে - যা-ই গত বর্ষায় পাশাপাশি হেঁটে কুড়িয়েছি দুজনে হাতে হাত রেখে, গত বর্ষায় যতটা ভিজেছিল আমাদের সর্বস্ব অশ্রুজলে– তার সবটুকু হয়ে বর্ষার পরে শরৎ পেরিয়ে কিংবা হেমন্তের খোলা আকাশে - সেখানেই হয়তটা কিছু রেখেছিলে যদি পারো ফিরিয়ে দিও তাও- শুদ্ধ ভালো বাসার ডাকটিকেট লাগানো খামে মৌনতার দস্তাবেজ ভেবে আমি বুঝে নেবো …. একদিন এখানেই তুমি ছিলে - কোন এক আড্ডায় ; গানের আসরে কিংবা মিতবাক হয়ে থাকা জোছনায়।

ঘাসফুলেদের সাথে

তুমি সারাক্ষন খুঁজে গেছো দুপুর সন্ধ্যে বেলায়, সময় দাওনি ঘাস ফুলেদের। লিলুয়া বাতাস হয়ে ছুয়ে গেছো দূর আরো দূর বেপাড়ায়… ফিরে গেছে সে নদী...